থ্রি হান্ড্রেড এন্ড মোর!
কালকেই আবিষ্কার করলাম আমার পোষ্ট সংখ্যা ২৯৯, অবাক হচ্ছিলাম। কিভাবে সম্ভব হলো এই জিনিস? আজ যে পোষ্ট লিখবো তা আমার ত্রিপল সেঞ্চুরীর পোষ্ট। সেই ঢালী- আলী- মিসকল- প্রচ্যেত্যদের দেখতাম সামহ্যোয়ারের সর্বাধিক পোষ্ট দাতার তালিকায় নাম, নামের সাথে থাকতো নানান শয়ের সংখ্যা ৮৩৪, ৭৩৫, ৬৮৫ এরকম আর কি। আমি ভাবতাম যাই লিখুক না কেন, এত ব্লগ লেখা কিভাবে সম্ভব। আমার মনে হয় সামহ্যোয়ারের তিন বছরে পোষ্ট গোটা পচিশেকের বেশী দেয়া হয় নাই। তাও কিছু আছে গান সংক্রান্ত। বিমা ভাইয়ের মতো। সেই গানের লিরিক, গানটা কেমন লাগে তা নিয়ে স্মৃতি আর ইস্নিপ্সের লিঙ্ক। তখন ইস্নিপ্সে গান শোনাই আমাদের একমাত্র অনলাইন মাল্টিমিডিয়া বিনোদন। রাশেদ ভাই, রন্টি ভাই যখন ইস্নিপ্স থেকে গান নামানোর ওয়ে জানালেন। তখন মনে হতো স্বর্গ হাতের মুঠোয়। তখন অবশ্য ফেসবুককে আমার সিরিয়াস লেইম জিনিস মনে হতো। যাই হোক তখন আমার মনে প্রানে স্বপ্ন বিখ্যাত ব্লগারদের মতো পনেরো হাজার কমেন্ট করবো, নামের সাথে লেখা থাকবে সংখ্যা। কিন্তু তা আর হলো কই, দশ হাজার কমেন্ট করেই সে ব্লগ ছেড়েছি কারন পরিচিত কাউকে পেতাম না আর। আর ব্লগের পরিবেশটাও যাচ্ছে তাই ছিল। এই ব্লগে আসতাম মাঝে মাঝে। নরাধম- জেবিন আপু, কামাল ভাই, লীনাপু আর বিমা ভাইয়ের লেখা পড়ার জন্য। একদিন নরাধমের পোষ্টে এক কমেন্ট করে গেলাম ফেঁসে। সেই উসিলায় লিখলাম পোষ্ট। তাও ব্লগে আসতাম কম। আস্তে আস্তে লেখা শুরু, নিজের বাড়ী যাওয়া, ঢাকার জীবন, দিন যাপন, কাজ কর্ম নিয়ে লেখা শুরু করলাম। সবার সেই উৎসাহ, আমিও অতি উৎসাহে চালু রাখতে রাখতে সমানে লিখতে থাকলাম। সাধারণ কিপ্যাড নকিয়া সেটে, মুরাদ ভাইয়ের পাঠানো ল্যাপটপে, নিজের ডেক্সটপে, এমনকি সাইবার ক্যাফেতে বসেও সমানে লিখে গেছি। চিটাগাংয়ে একটা পোষ্ট লিখেছি বড়ই অদ্ভুত অবস্থায়, ক্যাফেতে বসে, তখনও দেশে পর্ণযুগ, চারিপাশে হালকা সাউন্ড ভেসে আসছে আর আমি পোষ্ট লিখছি। সেই উদ্দীপনায় এখনো পোষ্ট লিখি, যখন কেউ লিখে না বন্ধুরা, পড়ার জন্যেও লগইন করে না। যারাও লিখতে আবার শুরু করে তারাও চলে যায়। ব্যাক্তিগত জীবনেও আমি খুব একটা চালাক মানুষ না, তাই বোকার মত এই ব্লগে একা একা লিখতে লিখতে ত্রিপল সেঞ্চুরী করে ফেললাম।
কি লিখবো আজ তাই ভেবে পাচ্ছি না। ৩০০, মোটেও কম না। বলা যায় অনেক বেশী। এর ভেতরে বেশীর ভাগ পোষ্টেই একই কথা বারবার লেখা। একই রকম দিন যাপন, বারেক- দেলোয়ার- নান্নুর চায়ের দোকানের গল্প, সেই একই বন্ধু পুলক- আবীর- জেমস -কামরুল -ফখরুদ্দিন- পরাগ-রুপা-তুলি- এহতেশামদের গল্প। সেই পরিচিত নানা ছোটোভাইকে নিয়ে আলাপ। বুয়া আসে না, মন ভালো না, টাকা নাই, চাকরী নাই, নেটের স্পিড নাই, কারো সময় নাই- এইসব নিয়ে আহাজারি। মা বাবাকে কে মিস করছি, আগে কি করতাম, ভাই ভাবী কিংবা মামা কত অসাধারণ, তা নিয়ে প্যানপ্যান করে যাওয়া। সস্তা হিন্দি সিনেমা দেখা নিয়ে যত্ন অযত্নে লিখে যাওয়া, কোন বই পড়লাম তা নিয়ে কপচানো, কোথায় গেলাম তা নিয়ে ফিরিস্থি দেয়া এইতো। এইসব ভুলচুল লিখে লিখেই বানিয়ে ফেললাম, ৩০০। লোকজন কিংবা বন্ধুরা তা পড়ে বলে- ভালোই তো। আমি অবশ্য নিজের লেখা গোপনে রাখার সব চেষ্টাই করি। বন্ধুরা যাতে আমার লেখা না পড়তে পারে তাই সবাইকে পুরানো সামহ্যোয়ারের লিঙ্কটাই দেই। যেখানে ২০ ডিসেম্বর,২০১০ এই শেষ লেখা জেবীন আপুর জন্মদিনে উইশ পোষ্ট লিখে। তাও কেউ কেউ এই ব্লগ বুকমার্ক করে রাখে, শুধু আমার লেখাই পড়ে বন্ধুতার খাতিরে। সেটাতো আর আমি আটকাতে পারবো না। কিছুদিন আগেও মাঝেমাঝে ফেসবুকে লেখা শেয়ার দিতাম, দেখি বিপদ অনেকেই সেসব পড়ে আমাকে নিয়ে রিয়েল লাইফে করে ঠাট্টা মশকরা। তাই ফেসবুকে শেয়ার বন্ধ, শুধু কয়েকজন বন্ধুকে ইনবক্স করি, যাও চার পাচের বেশী না। বিন্দুমাত্র উচ্চধারনা আমার মনে কখনোই আসে না। তবে দু একজন মানুষের প্রশংসা শুনলে মনে হয় কিছু লেখা নেহায়েত মন্দ না। তবে বেশির ভাগ লেখাই, টাইপো আর বানান ভুলে ঠাসা আমার অতি সাধারণ দিনলিপি। এইসব লেখা নিয়ে ভাব নিবো এত বড় গাধা আমি না।
আমার সামাজিক সমঝোতাও তেমন বেশি কিছু নাই। তাই কেউই আমার কথা খুব শুনে না। তাতে অবশ্য আমি ইউসড টু। কারন আমার আম্মু বলতো, 'তুই বেশী মায়া করোছ মানুষকে, এত মায়ার কোনো দাম নাই'। তাই কত বিখ্যাত মানুষদেরই বললাম, ব্লগে থাকেন, ব্লগে লিখেন, এখানেই থাকেন। সবাই চলে গেল। সর্বশেষ ট্রাই করছি একজনকেই, সে এখনো জানায় নাই কিছু, কিন্তু ধারণা করি সেও আর লিখবে না। আমি আর কি করতে পারি না লিখলে। নোয়াখালীর এক হুজুর আছে পাঁচ হাজার টাকা দিলে, এমন তাবীজ দেয় যাতে মানুষকে বশে আনা যায়। আমার কাছে সেরকম তাবীজ নাই। আমি অনেককে বলি ফিরে আসতে, তারা হয়তো কেউ কেউ বন্ধ সীম চালু করলেও আর ফিরে আসবে না। তাই বাদ,সবাই থাকুক যার মতো। আমার হাতে যতদিন সময় আছে ততদিন চেষ্টা করবো লিখে যাওয়ার। নিজের জন্যই লেখা। আগামীতে নিজেই স্মৃতির পাতা উল্টাবো, তাই লিখে যাচ্ছি অবিরত। কারো পড়ে যদি ভালো লাগে, লাগুক। বোরিং লাগলে দুটো গালি দিক। লোকজনের খুশী- আমার কি?
এই পোষ্ট বেশি লম্বা করার ইচ্ছে আমার নাই। এই লম্বা ত্রিপল হানড্রেড জার্নিতে যারা যারা আমার পোষ্টে কমেন্ট করছেন, লাইক করছেন কিংবা অতিথি হিসেবে পড়েছেন তাঁদের সবাইকে আমার লাল সালাম ও ধন্যবাদ। সময় পেলে মোহাম্মদী হাউজিং সোসাইটি আট নাম্বার রোডের বারেকের দোকানে আসবেন, চা খাওয়াবো, যদি মিষ্টি খেতে চান, পাশেই হক বেকারী আছে, সোলনা সুইটষ্টে- খাওয়ানো যাবে ইনশাল্লাহ। তার কারন আমি কম ফেমাস মানুষ নই, এখনো এলাকায় কোনো দোকান চালু হলে স্পেশাল তবারক খাওয়ার দাওয়াত আমি আর পুলক পাই। বর্ণ, প্রিয়, তানবীরাপু আর জ্যোতি আপা, উচ্ছল ভাই এরকম আরো দুইতিনজন যারা নিয়ম করে কমেন্ট দেন, তাঁদেরকে অনেক অনেক ভালোবাসা। যদি বন্ধু প্রিয়কে দেখছিনা কদিন ধরে, জ্যোতিপুও আসে না কমেন্ট করতে, তাও আশা করি তারা ফিরবে। আর না ফিরলে কিছু করার নাই আমার। কারন আমার আবদার কেউ রাখবে- এমন আশায় থাকি না। আরো অনেক- প্রিয় বড় ভাই বোন আছে, যারা আমার ৩০০ পোষ্টে নাম আসার মতো। কিন্তু কারো নামও বলছি না, কারন আপনাদের সবার নামই এই মনে সব সময় থাকে। যে নাম মনেই থাকে তা সেখানেই থাক। সবাই ভালো থাকবেন। শুভেচ্ছা রাশি রাশি।





শুভেচছা - অভিননদন .............
এটাই বড় কথা
৩,০০০ কেন নয় শান্ত ভাই ? আমি বেঁচে থেকে আপনার ৩,০০০ পোষ্ট পড়তে চাই ! আজ দেশে ফিরছি । আপনার চা খেতে বড্ড মন চায় ! যদি ঢাকা আসি কিভাবে আপনাকে পাবো ? ভাল থাইকেন ।
শুভ হোক পথ চলা যার সীমানা নেই.
চলুক অবিরত।
অনেক শুভকামনা শান্ত ভাই।
৩০০ তম এর জন্য প্রানঢালা শুভেচ্ছা। আপনার কলম চলুক নিয়মিত। ব্যস্ততা আছে-থাকবে, তবে এরমাঝেই প্রয়োজনীয় সময়টুকু বের করতে হবে।

আর হাঁ, আপনার দাওয়াত গ্রহন করলাম। এই যান্ত্রিক ব্যস্ত জীবনকে ফাকিঁ দিয়ে মোহাম্মদী হাউজিং সোসাইটি আট নাম্বার রোডের বারেকের দোকানে চা খেতে আসবো একদিন সময়-সুযোগ পেলেই।
ভালো থাকবেন আরাফাত। সাথেই আছি।
অসংখ্য অভিনন্দন, সুপ্রিয় শান্ত ভাই।
আপনার পথচলা দীর্ঘজীবী হোক।
ঢালীর রেকর্ড মনে হয় না কেঊ ভাঙ্গতে পারবে!! সে আলী আর সামুর উর্পে বিলা হইয়া তিনশ প্লাস পোষ্ট করছে ৪৫ মিনিটের মধ্যে। নিয়মিত লেখে ৩০০ পোষ্টের জন্য তোমারে অভিনন্দন। ব্লগে এত ডেডিকেশন খুব কম লোকেরই আছে। তোমার লেখা ডিজিটাল ডায়েরীর মত করে লেখা বলে ভালো লাগে।
শুভেচ্ছার অজস্রতায়
মন্তব্য করুন