দিন প্রতিদিন বইমেলায়-- (৪)
থমথমে এই শহরে বের হওয়াটাই এখন দুশ্চিন্তার। আমি আমাকে নিয়ে চিন্তা করি না, আমাকে নিয়ে যারা চিন্তা করে- তাঁদের চিন্তায় চিন্তিত হয়ে নিজেকে চিন্তার গভীরে আবদ্ধ রাখি। কাল সেই চিন্তায় মেলাই যাইনি, ভাবলাম ফাইনাল খেলাটা দেখি বঙ্গবন্ধু কাপের, বাসায় বসে আরাম আয়েশে। কিন্তু সত্যিকারে কুফা মাষ্টার যে আমি তা আরেকবার প্রমান মিললো। খেলা দেখতে বসলাম, ফার্ষ্ট হাফেই গোল খেলো দুটো। মেজাজটা এত খারাপ। তাঁর ভেতরে আশেপাশে কোনো বিহারী ছেলে বাংলাদেশ গোল খেলেই চিল্লান দিয়ে বলে, গোওওওল! মনে চায়- প্রহার করি সেই শ্যালক পুত্রকে কিছুক্ষণ। পরের হাফে দেখলাম এক অসাধারণ খেলা। শেষ কবে টিভিতে বাংলাদেশের এত ভালো খেলা দেখেছি তা বলতে গেলে সেই ২০০৩ কিংবা ৯৯ তে ফিরতে হবে। শেষ মিনিটে একটা গোল খেয়েই সব ভালো খেলা পন্ড হয়ে গেল। মনের দুঃখে বাসা থেক বের হলাম। এইভাবে আর কতদিন সামান্য ব্যবধানে হারবো, আর খেলাশেষে এক পাহাড় দুঃখ আমাদের সবার মনে জমাট বাঁধবে। মামুনুলের কান্না আর আমাদের মন খারাপ পার্থক্য অতি সামান্য। মোবাইলে ফ্লেক্সি করার সময় দোকানদার ফারুক আমাকে বাংলাদেশ হারার দুঃখ শেয়ার করছে। আমি মনোযোগ দিয়ে শুনছি। এক লোক আসলো আমি চিনি হালকা পাতলা, উনি বললেন, দেশের অশান্তিতে- আপনারা আছেন ফুটবল লইয়া। আমি আর পারলাম না, মুখের উপর বলে দিলাম-- 'গত সপ্তাহে যে নিজের ভাগ্নের বিয়েতে বিরাট আয়োজন করলেন, সবাইকে খাওয়ালেন চায়নিজে, সেইসব দিনে দেশের অশান্তির চিন্তা কোথায় ছিল? তিনি আমার এরূপ ব্যাক্তি আক্রমনে উত্তর দিলেন-- শান্ত ভাই আপনি পরিস্থিতি বুঝেন না!
তবে এই বাংলাদেশ ফুটবল দলটাকে নিয়ে আমি আশাবাদী। প্রোপার কোচিং আর স্কুল ফুটবল, জেলা ফুটবল ঠিকঠাক কাজ করলে পাইপলাইনে আরো ভালো নতুন প্লেয়ার আসবে। ঢাকার লীগ গুলোতে একটু দেশী প্লেয়ার বেশী খেলাতে পারলেই, এশিয়ার সেরা দশ দলে থাকা খুব একটা দূরের কিছু না। এখন সবাই ইপিএল- লা লীগা দেখে বড় হয়ে উঠা মানুষ। যারা খেলা পারে সবাই চায় স্টার হতে। পরিশ্রমী এক ঝাক তরুন পেলেই দেশের ফুটবল পাল্টাতে সময় লাগে আর কত? এক সাবেক জাতীয় দলের হকি প্লেয়ার এক ইন্টারভিউতে বলেছিলেন প্রথম আলোতে, যে আগের দিনে নিজেকে ফিট রাখতে প্রতিদিন সকালে পাঁচ চারবার রমনায় চক্কর মারতাম। সেই কমিটমেন্টের দরকার আমাদের। এরকম কমিটেড প্লেয়ার দিয়েই গড়তে হবে আমাদের আগামীর ফুটবল। আমি ফুটবল খেলা খুব কম দেখি, এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা হারের পর এই প্রথম একটা ম্যাচ দেখলাম ফুল, তাও নিজের দেশের খেলা বলে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা এই জন্যই আমার ভালো লাগে, টেনশনহীণ দেখতে পারি। বাংলাদেশ হারলেও ধরে নিই হারারই কথা ছিল তো।
বইমেলায় না গিয়ে কাল যে কি মেজাজ খারাপ লেগেছে। মনে হলো গেলেই পারতাম। শুধু শুধু গেলাম না। মেলায় উপস্থিত থাকাটাও আনন্দের। তাই আজ ভেবেছি যাই হোক মেলাতে যাবোই। বিকেলে ঘুমিয়েছি। ঘুম থেকে উঠে দেখি সন্ধায়। তড়িগড়ি করে, জামাকাপড় না বদলিয়েই বের হলাম। বাসে গেলাম, বাসে লোক নেই। আস্তে আস্তে চলে বাস। মেলায় আসতে আসতে সাড়ে সাতটা বাজালাম। সবাই ফিরছে, পুলকের সাথে দেখা, বললাম টিএসসির বারেকের দোকানে বসেন আমি কামাল ভাইয়ের বইটা কিনেই আসবো। সে আর হলো কই, কামাল ভাইয়ের সাথে দেখা। এরকম স্বর্গীয় সঙ্গ কে ত্যাগ করতে চায়। খোজখবর নিলেন। বই কিনলাম, অটোগ্রাফ নিলাম। খুবই সস্তা বইটার দাম, কমিশন বাদ দিলে ১১০। জেমসকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম মার্কেজের 'বেঁচে আছি গল্পটা বলবো বলে' তাঁর দাম ৪১০। ৫০০ টাকার প্যাকেজে নান্দনিক থেকে দুটোই কিনে ফেললাম। আহমাদ মোস্তফা কামালের 'একদিন সব কিছু গল্প হয়ে যায়'। মুক্তগদ্যের বই। স্মৃতিকথা ও লেখকের নিজের নানান উপলব্ধিতে ভরপুর। আংশিক আগেই পড়া, আজ রাতেই নিয়ে বসবো আরেকটু পর। খুব আনন্দ হচ্ছে। একদিকে বন্ধুকে বই উপহার দিবো কাল, আর আজ রাতে বই পড়বো সময়টাকে স্বর্নালী বলে মনে হচ্ছে। আমাদের যাদের টাকায় টানাটানি তাও বই কিনি সব উজাড় করে তাঁদের চেয়ে বই কেনার আনন্দ এই ভুবনে আর কেউ পায় না। চাইলেই যদি বই কেনা যায় তা আর থ্রিলিং হলো কই? ভাগ্যিস পুলক ছিল। তাই তাঁর উপর দিয়ে রিকশায় করে বাসায় ফিরলাম এক সাথে গল্প করতে করতে। নয়তো বাস ভাড়াও ছিল না পকেটে!





বইয়ের রিভি্উ এর অপেক্ষায় রইলাম
চেষ্টা করবো আশা পূরণের!
আপ্নে বেশি ফাঁকিবাজি করতাছেন আজকাল!
এইবার গোল্ডকাপে বাংলাদেশের খেলা দেইখা সিরিয়াসলি ভালো লাগছে। জটলা ছাড়াও যে গোল দিতে পারে বাংলাদেশ, এটাই তো দেখিনাই আগে। অনেক কিছুই হয়তো ঠিকঠাক হয় না কিন্তু এখন অন্তত ভালো খেলার চেষ্টাটা দেখা যায়। ভালোই তো!
ফাকিবাজি করা ভালো
মেলায় আসো না কেন?
শান্ত ভাই আপনি পরিস্থিতি বুঝেন না!


কামাল ভাই তো আমাকে অটোগ্রাফ দেয় না। দুনিয়াতে গরীবের কুনু দাম নাই
মন্তব্য করুন