বন্ধু 'প্রিয়'র জন্মদিন 'রিটার্নস'
পাক্কা ৩৬ দিন পর পোষ্ট লিখছি। এই ৩৬ দিনেই আমার লেখার মতো ৩৬টা পোষ্ট ছিল, আমি যেমন লিখি তেমন ভাবে অনেক কথা বলা যেত সেই সব পোষ্টে। কিন্তু লিখি না, লিখতে ভালো লাগে না। আর ব্লগে লেখাও ভালো লাগে না আর। অনেক তো লিখলাম আর কত? ধারনা করি এই লেখাগুলো আমার এই ব্লগের শেষ কিছু লেখা। সকাল সন্ধ্যে ব্যস্ত থাকি, আর রাতে মুভি দেখি। লেখার কথা মনেই আসে না। বই পড়ছি সমানে। ঘুমিয়ে পড়ি দুটো বাজলেই তাই মিস আসলে করছি না লেখাকে। এই ব্লগেও আসা হয় না। জীবন আসলে এমনই, হুট করেই সবার সব কিছু বদলে যায়, চেনা অভ্যাস গুলো বদলে যায়, তখন মনে হয় আগে এমন ছিলাম, মনেই তো পড়ছে না। আমি লেখা ভুলি নি, শুধু এই ব্লগে লিখছি না, অন্য কোথাও না। শুধু নিজের এক ওয়ার্ড ফাইল আছে তাতে লিখে যাই অনবরত, যা মনে আসে সব কিছু, ডায়রী বলতে এখন সেটাই। আজ লিখতে বসেছি, মনে হলো লেখাটা লেখা উচিত। এই ব্লগে তো আমরা কাউকেই মনে রাখি না, একবার চলে গেলে এই ব্লগে কেউ ফিরেও তাকায় না, তাঁর কথা কেউ মনেও রাখে না। আমি সেই মন থেকেই লিখছি, আজ বন্ধু 'প্রিয়'র জন্মদিন। আমি যে ভুলি নি তাঁর কথা সেই সুত্রেই এই ব্লগ লেখা। নয়তো বিশ্বাস করেন বন্ধুগন, আমার ব্লগ লেখা তো দূরে থাক পড়াই হয় না। রাসেল ভাই ফেসবুকে শেয়ার করে লেখা তখন পড়া হয়, তখন মনে হয় এবির কথা। আবার সামনে কবে লিখবো তা জানি না, তবে তা খুব জলদি নিশ্চয় নয়।
'প্রিয়' আমার খুব বেশী কাছের বন্ধু না। কেন জানি ব্লগের বন্ধুরা কখনোই খুব কাছের হয় না। একটা দূরত্ব থাকে, অনেকদিন পর পর কথা হয়, খুদে বার্তা বিনিময় হয় নিয়মিত বিরতিতে, দেখা হয় না বললেই চলে। তাই বলে কি তারা দূরের বন্ধু- তেমন মোটেও না। সব সময় মনেই থাকে। ব্লগের কথা, লেখার কথা মনে আসলেই বন্ধুদের কথা মনে আসে। ব্লগে লেখা ও মন্তব্য করা যেমন আপন, তার চেয়েও আপন ব্লগের কাছের মানুষরা। বাস্তব জীবনেও দেখবেন আপনার কিছু বন্ধু থাকবে যাদের সাথে আপনার তেমন যোগাযোগ হয় না, নিয়ম করে খোজও নেয়া হয় না, কিন্তু যখন যে মাধ্যমেই হোক কথা বার্তা হয় তখন মনে হয়- আহ আমার কত কাছের বন্ধু। কিন্তু সেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা থেকেই যায় সমান্তরালে সে আপনার ভালো বন্ধুও থাকে। প্রিয় আমার সেরকম বন্ধু। এই ব্লগের কাছেই আমি কৃতজ্ঞ। এই ব্লগ না থাকলে প্রিয় র সাথে আমার পরিচয়ই হতো না কোনোদিন। এই ব্লগের কারনেই আমি যে লিখতে পারি কিছু- সেই ব্যাপারটা সবাই জানতে পারে। আর সেই সুত্রেই কিছু অসাধারণ মানুষের সাথে বন্ধুত্ব। এদের মধ্যে প্রিয় নিঃসন্দেহে লিষ্টের শুরুতেই থাকবে। যদিও সে এই ব্লগে ছেড়ে গেছে এ্ক নিম্নরুচির ও নিম্নমানের লোকের সাথে রাগ করে। আমরা কেউই সেই সময়ে প্রতিবাদ করি নি, মজার কথা তিনিও ব্লগে আসেন না আর। আমি প্রিয়কে কখনোই ফেরানোর চেষ্টা করি নাই। কারন জোর করে লেখাঝোকা হয় না, মন না চাইলে লিখবে না। এজ প্লেইন এস সিম্পল ম্যাটার। ব্লগে না লেখার কারনে তাঁর সাথে সম্পর্কের কোনো অবনতি হয় নাই। খালি ব্লগে তার অসাধারণ লেখাগুলো পড়তে পারি না এইটাই বড় ক্ষতি। জবের সুত্রে যত ট্রাভেল সে করে তা নিয়ে যত গল্প আছে তা যদি লিখে আমার ধারনা এই ব্লগ তো ব্লগই, যেকোনও ব্লগে সেরা লেখা হবে সেগুলো। আর অন্য যেই সব ব্লগ সে লিখতো তা আমার কাছে খুবই সুখপাঠ্য লাগতো। খুবই দারুণ ছিল সেই পোষ্ট গুলো। আমি ডকুমেন্ট করে পিসিতে জমিয়ে রেখেছি সেইসব। লীনাপুর মতো যেন মিস না হয়, লেখা মুছে ফেললেই যেন সব গায়েব না হয়ে যায় লেখাগুলো। অন্তত আমার জন্য জরুরী লেখাগুলো পুনঃপাঠ। খালি এই ব্লগে মানুষ নাই- আর যারা আছে তারা অনুপ্রেরনা দেয় না বাস্তবিকভাবেই- এই কারনেই লেখার প্রতি আগ্রহ হারায় সবাই। লেখায় আগ্রহ হারায় ফালানোর জন্য এই ব্লগের চেয়ে সেরা কিছু নাই। আমার মতো সেলফ মোটিভেটেড লোক আর কয়জন আছে? তাও তো আমারও মোটিভেশন হারিয়ে ফেললাম।
যাক অন্য কথা। জন্মের সাথে নাকি মৃত্যু ফ্রী। এই মৃত্যু নিয়েই বাংলাদেশের মানুষ কি যে রসিকতা করতে পারে, আমি অবাক হয়ে যাই। বন্ধু পুলকের নানী মারা গেছে, বারেক মামা যে মশকারিটা করলো ওর সাথে। বললো 'পুলক ভাই নানী মারা গেছে দুঃখের, কিন্তু আজরাইল যে বাড়ী চিনে ফেললো এখনই তো বিপদ, এখন তো সিরিয়াল মানবে না আর, সাবধানে থাইকেন'। আমি চাই আমার বন্ধুরা বেঁচে থাক আজীবন। অন্তত বেঁচে থাকতে যেন তাঁদের মৃত্যু না দেখতে হয়। সেই উসিলায় প্রিয় বেঁচে থাক আজীবন ভালো বন্ধু হয়েই। শরীর, মন ভালো রাখুক। শুক্রবারে তাঁর জন্মদিনের গিফট হিসেবে আসছে, ইমরান কঙ্গনা অভিনীত- নিখিল আদভানীর 'কাট্টি বাট্টী' সিনেমা। সেই সিনেমার হলপ্রিন্ট সময় পেলে তা দেখে মন ভালো রাখুক। বোন ও বন্ধুদের সাথে মাস্তিতে কাটুক কাল সারা বেলা। গতবারের আর এইবারের দুবারের ট্রিট জমা হলো। খানাদানা নিয়ে আমার আজকাল তেমন প্যারা থাকে না। খেতেও ভালো লাগে না তেমন। দুপুরে ও রাতে খুবই সামান্য ভাত খাই এখন শুধু। মুভি যা দেখতে চাই সব দেখা শেষ, মালায়লাম- বাংলা- পুরোনো হিন্দি- তামিল- তেলেগু- কোরিয়ান- ফ্রেঞ্চ লাতিন কত ধরণের মুভি যে সমানে দেখেই যাচ্ছি ডেইলি। এইসব নিয়ে বলতে এখন আর ভালো লাগে না। হিন্দি সিনেমা দেখি না। মাসখানেক আগে বন্ধু প্রিয় এই বছরের ফেভারিট হিন্দি সিনেমা কোনটা তা নিয়ে বলতে গিয়ে বলেছিলো, তনু ওয়েডস মনু রিটার্নস, প্রিয় র সম্মানে আগামী কাল তা দেখবো, সার্ভার থেকে নামিয়ে রেখেছি। আর কি বলার আছে, সবাই ভালো থাকবেন। প্রিয় র জন্মদিনে উইশ করবেন। প্রিয় র জন্য দোয়া করবেন। অবশ্য দোয়া খায়েরের খুব একটা পরোয়া করার লোক আমার বন্ধু না। আমি কামনা করি, সে ভালো থাকুক- বেঁচে থাকুক, মন যা চায় তাই করুক, যেমন আছে তেমনই থাকুক। আর মানুষ যেহেতু সেলফিস জন্মসুত্রে তাই আমিও চাইবো তার অজস্র বন্ধুদের তালিকায় আমি সবার শেষে হলেও যেন থাকতে পারি, বন্ধুত্ব টিকে থাকুক আজীবন। এই দুর্মূল্যের বাজারে বন্ধুত্ব বজায় থাকা ও রাখাটাও ভাগ্যের ব্যাপার। আর অনেক কথাই বলা যায়, অনেক কিছুই পোষ্টে লিখতে চেয়েছিলাম। লিখলাম না ইচ্ছে করেই, অনেক বকবক করেছি আর নয়। খুব সুন্দর কাটুক জন্মদিন। আমি চাই না দোস্ত, এই পোষ্ট দেখে তুমি লগইন করো আর এই আমাকে ধন্যবাদ জানাও। 'সরি থ্যাঙ্ক ইউ- এক্সকিউস মি' বন্ধুদের জন্য নয়।





এই ব্লগে আমি যখন আমার পথচলা শুরু করি তখন সবার প্রথমে যে দুজন মানুষের লেখা পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম তারা হলেন আপনি এবং প্রিয় আপু। সেই আপনারা দুজনই এখন এখানে আসেন না। হয়ত আমরা শুধুই ব্লগে বন্ধু তবু আমি যখন আসি তখন আপনাদের লেখা খুঁজি। ব্যস্ততা বা পুরনোদের শূন্যতা যাই হোক না কেন আমাকেও এখন আর আগের মত নিয়মিত হতে উৎসাহ দেয় না তবু আমি অনুরোধ করব আপনি এবং প্রিয় আপু ফিরে আসুন। আসুন আবার আগের মত লিখি। আসুন কিছুটা সুন্দর সময় কাটাই
যাক শুভ জন্মদিন প্রিয় আপু। দোয়া করি এই জন্মদিনে আপনি যা চান তাই যেন পান
প্রিয়'র সাথে কে কি করছিলো? মিস করেছি নাকি কিছু?
জন্মদিনের শুভেচ্ছা প্রিয়!! ভালো থাকুন সবসময়।
শুভ জন্মদিন প্রিয় ! ভালো থাকুন, আনন্দে থাকুন, লিখতে থাকুন।
কথা সত্য .........
আরাফাত আপনি নিয়মিত লিখছেন না কেন ভাই?
শুভ জন্মদিন প্রিয় আপু । ভালো থাকেন সব সময়।
তোমার অই "ওয়ার্ড ফাইলটা" পড়তে দেওয়া যায়?
মন্তব্য করুন