শীর্ণ শীতের লতা... আমার মনের কথা...
খুব বড় কিছু হয় নি। জীবনের বিশালতার তুলনায় কোন কিছুকেই ইদানীং আর খুব বেশী বড় বলে মনে হয় না।
তারপরও কিছু প্রাপ্তি আর এর পিছনে ফেলে আসা বহু অপ্রাপ্তির হিসাব মিলানোর সময় মাঝে মাঝে অনেক ছোট বিষয়গুলো বড় হয়ে সামনে চলে আসে।
আজ আমার বিসিএস এর চূড়ান্ত ফলাফল দিলো পিএসসি। আমাকে প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড অফিসার হিসাবে বাংলাদেশ রেলওয়েতে নিয়োগ দেওয়ার জন্যে সুপারিশ করা হয়েছে।
এই ঘটনাটাকেই বললাম তেমন বড় কিছু নয়। আবার বড় কিছুও।
এর পিছনে আমার অনেক দিনের সাধনা রয়েছে। রয়েছে অনেক ত্যাগের ইতিহাস। এভাবে বলছি শুনে কেউ যদি উপহাস করে বলেন, "মনে হচ্ছে যেন রাজ্যজয় করসো মিয়া" তো বলতেই পারেন কিন্তু আমি জানি আমি দীর্ঘ আটটা বছর ধরে কতখানি যন্ত্রণা বুকে চেপে এই একটি দিনের জন্যে অপেক্ষা করে এসেছি।
অপেক্ষার যাতনা বড় ভয়ংকর। আর সেই অপেক্ষা যদি বছরের পর বছর ধরে করতে হয় আর তার শেষে যদি মোটামুটি একটা সুসংবাদ পাওয়া যায়, তাহলে রাজ্যজয়ের অনুভূতিটাই হয়। আমার বিশ্বাস জীবনের কোন না কোন সময়ে প্রত্যেকেই এরকম অনুভূতির স্বাদ পেয়েছেন।
আজ আমি অনেক খুশী।
আমি আমার বাবা-মাকে সবথেকে বড় ধন্যবাদটা দিতে চাই। তাঁরা আমার জন্যে অনেক বেশীই করেছেন। তাঁদের অনেক সিদ্ধান্ত আমার জীবনে ব্যুমেরাং হয়ে আসলেও এই পর্যন্ত আসার পিছনে তাঁদের ভূমিকাই সর্বাধিক।
এরপর আমি বলবো আমার দিদা'র কথা। শুধুমাত্র যার মুখ মনে পড়লেই আমি অসাড় হয়ে যাই। "কিছু করতেই হবে" এরকম বাসনা অবিরাম মনের মাঝে কাজ করতে থাকে।
আমার স্কুলের স্যারদেরকেও ধন্যবাদ দিতে হবে। তাঁদের তৈরি করে দেওয়া ভিতটা না থাকলে আমার অনেক মুশকিল হতো। আমার মনে হয় না, আমার থেকে কম পড়ে কেউ বিসিএসে কোয়ালিফাই করেছে। আমার বেজটা তাঁদের হাতে তৈরি বলেই আমাকে খুব বেশী পড়াশুনার করার পেইনটা নিতে হয় নাই।
অগ্রজপ্রতিম রায়হান সাঈদ আমার প্রতিটা পদক্ষেপে আমার হাতটা শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন, রেখেছেন। তাঁর মতন পোড়খাওয়া ও হৃদয়বান মানুষের সান্নিধ্য আমাকে বড় হতে সাহায্য করেছে ব্যাপকভাবে। আমার জীবনদৃষ্টির উন্মোচনটা তাঁর হাতেই। তাঁর প্রতি আমি অশেষ কৃতজ্ঞ।
আর, আমার দুইটা বন্ধু, ফাহিম আর শাহী।
ফাহিম এখন সারদা পুলিশ একাডেমীতে ট্রেনিং করছে। সে এখন একজন এএসপি।
বিসিএসের পড়াশুনা শুরু করার এক্কেবারে প্রথমদিন থেকে আমি ওর উপরে নির্ভরশীল ছিলাম। আমার শত যন্ত্রণা হাসিমুখে সহ্য করে সে নিজেও একটা ভালো অবস্থানে গিয়েছে। আমাকেও পথটা দেখিয়ে দিয়েছে।
আর আমার হতাশার সময়গুলোতে যে বন্ধুটির কাছ থেকে সবচেয়ে বেশী সাপোর্ট পেয়েছি সে হলো শাহী। তার ঋণ আমি কোনদিনও শোধ করতে পারবো না।
আমি ঘুমানোর জন্যে শুয়ে পড়েছিলাম। শুয়ে শুয়ে ছটফট করছিলাম। কত কথা, কত কিছু যে মনে পড়ছে। সেগুলো না বলে ঘুমাতে পারছিলাম না। তাই ল্যাপ্পি খুলে এই লেখাটা লিখতে বসে গেলাম।
এরকম অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ পোস্ট সবার মনেই বিরক্তি তৈরি করে। কিন্তু আসলেই এই কথা গুলো না লিখে শান্তি পাচ্ছিলাম না। আরো কত কিছু তো বলা বাকি।
সবাই আমার জন্যে দোয়া করবেন যাতে নিয়োগ পাওয়ার পর রেলের কালো বেড়াল ডেইলি একটা করে মারতে পারি।






আপনার বর্তমান আনন্দ অনুভূতি গুলো জেনে অনেক ভাল লাগলো! শুভ কামনা রইলো!
ধন্যবাদ

সকাল বিকাল কালো বিড়াল মারো সেই কামনা রইলো।
আবারো অভিনন্দন।
কেলাচ্ছো কেন? পাকশী পোস্টিং নিবা। জটিল একটা জায়গা।
পোস্টিং তো আমার হাতে না।

অভিনন্দন!
অনেক অনেক শুভকামনা যেন নিয়োগ পাওয়ার পর রেলের কালো বেড়াল ডেইলি একটা করে মারতে পারেন
ধন্যবাদ

অ ভি ন ন্দ ন
~
ধন্যবাদ।
শুভকামনা আপনার জন্য।
ধন্যবাদ জ্যোতি'পু। আপনার জন্যেও অনেক শুভকামনা।
অভিনন্দন, শুভকামনা সবসময়
। লক্ষ্যে স্থির থাকুন সর্বদা।
আমি চেষ্টা করে যাবো।
অভিনন্দন। অসংখ্য শভকামনা আপনার জন্য।
অসংখ্য ধন্যবাদ !!
ধন্যবাদ !!
সত্য কথনের জন্য।
ইনশাল্লাহ বিলাই মারতে পারবেন। বিলাই রেডী আছে-শুধু মারা শুরু করেন। তারপরে চাকুরী থেইক্কা রিটায়ার্ড কইরা এম পি হইবেন। ভাগ্য ভালো হইলে মন্ত্রী।
তবে তেলের ব্যবহার জায়গামত কইরেন।
উপরের কথাগুলো যেনো আপনার ক্ষেত্রে মিথ্যা হয়।
ভালো থাকবেন।
অনেক ভালো।
শুভ কামনা।
আমি বিড়াল ও মারতে চাই, রিটায়ার করার পর এম্পিও হতে চাই। মিনিস্টারও হইতে চাই।
তেলবাজি টা শুধু করতে চাই না।
আপনার বর্তমান আনন্দ অনুভূতি গুলো জেনে অনেক ভাল লাগলো! শুভ কামনা রইলো!
মন্তব্য করুন