আবোল তাবোল - ১১
মন ভাল নেই, মন ভাল হয় না।
আমি নিজেই কবে কোথায় যেন বলেছিলাম, এই মুহূর্তে ঠিক এমনটাই মনে হচ্ছে।
রাতের শেষে দিন আসে এটাই স্বাভাবিক,
কিন্তু খুব ভাল কোন দিনের শেষে যখন রাতটা একটু বেশি অন্ধকার হয়ে নেমে আসে তখন খুব খারাপ লাগে।
মনে হয়, এ আঁধার কিছুতেই ফিকে হয়ে আসার নয়। খুব অসহায় লাগে।
আমি খুব দুষ্টু প্রকৃতির একটা ছেলে। ছোটবেলা থেকেই অভ্রাস, আশেপাশের মানুষজন কে না জ্বালালে আমার সময়ই কাটেনা!
স্কুল আর কলেজ বেলায় সমস্যা হয়নি কোন,
নানাবাসায় জ্বালানোর জন্য মানুষের অভাব ছিল না কখনো।
প্রাণের শহর ব্রাক্ষণবাড়িয়া ছেড়ে ঢাকা আসলাম আট এর শুরুতে।এতদিন কোনই সমস্যা হয়নি।
আব্বু আম্মু আর ভাইয়া তো আছেই, সাথে আরো থাকেন ছোটমামা আর নানু।
আর যেখানে আছি সেই একই বিল্ডিং এর আমাদের নিচের তালায় থাকে মেঝ খালারা। বড় দুই ভাই চাকরী করে। তার ছোট জন দুষ্টামিতে আমার নমস্য, সারাদিন ওর সাথেই চলি বলা চলে। আর একটা ছোট বোন, তা সেও আমার যন্ত্রনার হাত থেকে রেহাই পায় না কখনো। ছোটবোন তো কি হইছে, আমাদের কাজিনদের মাঝে তো সবার বড় বোণ; সবার আপুমনি।
এই শুক্রবারেই ওরা ফার্মগেট ছেড়ে চলে যাচ্ছে নতুন ঠিকানায়, ঢাকার সুদুরে[!] উত্তরায়।
ভাল লাগতেছে না একদম, অস্থির লাগতেছে খুব।
এতদিন আসলে নিজস্ব গন্ডিতেই সুখে ছিলাম, এখন আসল ঢাকা লাইফের শুরু।
মেঝ মামা থাকেন মিরপুর, শুক্রবারে আসেন আড্ডা দিতে। সেজ খালা থাকেন গোড়ান, কালে কদাচিত্ দেখা হয়। প্রধান প্রতিবন্ধকতা ট্রাফিক জ্যাম!
মেঝ খালারাও হয়তো ওই কাতারেই পড়ে যাবে কয়েকদিনেই।
বন্ধুদের মাঝে আমিই সবচাইতে ব্যাকডেটেড। সবাই পড়াশোনায় বেশ ভাল, সাথে কাজও করে একটা না একটা কিছু।
আর আছি আমি। পড়াশোনায় তো লাড্ডুগুড্ডুই, আর সবকিছুতেই যে কে সেই।
ভাইয়া তো সারাদিনই থাকে অফিস। আব্বু আম্মু আছে তাদের মত।
বন্ধুরা সব হয়ে পড়ছে ব্যাস্ত থেকে ব্যাস্ততর,
নিজ নিজ জীবনের পথচলায়।
সামনের দিনগুলোতে আমার মত আকামের ঢেকির সময় কাটবে কী সে, এটা ভেবে একটু ভয়ই করতেছে।
মনে হচ্ছে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে বা যাচ্ছে। অনেক কিছুই একেবারে শুরু থেকে নতুন করে শুরু করার দরকার।
আরও একবার, ফিনিক্স পাখির উড়াণ..!
..
কাউকে সারপ্রাইজ দিতে যতটা ভাল লাগে, পেতেও ঠিক ততটাই ভাল লাগে। কখনো কখনো ভালোলাগাটা আরো বেড়ে যায়,
ট্রিটের সাথে যখন মিশে আসে
তীব্র খরার দিনের শেষে বিকেল সাঁঝের মন মাতানো হাওয়া।
বিদায়ের সুর বড় বাজে জিনিস। আনন্দমাখা একেকটা সময়ের গায়েও দিব্যি আঁচড় কেটে দেয় বিষাদের সুর।
মন ভালই ছিল।
একটা বন্ধু একটা গান শুনতে বলল। আমির খানের 'সত্যমভে জয়েতে 'র 'ও রে ছোড়িয়া ' না কি যেন।
শিশুকণ্যাভ্রুণ হত্যা নিয়ে গাওয়া।
সচলে আশালতা নামের একজনের একটা লেখা মনে পড়ে গেল, 'মৃত্যু না হত্যা'। ভ্রুণহত্যা বিষয়ক ভয়ংকর কষ্টের একটা লেখা। তারপর আরেকটা নির্মম কঠিন বাস্তবতার পরশ দেয়া লেখা পড়লাম। আগেও অসংখ্যবার পড়া, আমাদের রুনা আপা'র লেখা 'অঞ্জলী পেতেছি,জল দাও'।
মাঝে মাঝে মনে হয়, ছেলেদের লাইফটা আসলে লাইফই না। কেবলি ফাইট আর আর ফাইট।
আবার মনে হয়। একেকটা স্টেপে এসে মেয়েদের লাইফ বোধহয় একটু বেশিই বদলে যায়।
জন্মের পরমুহূর্ত থেকে মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত নানান আঘাত সহ্য করে টিকে থাকা। কতটুকু শক্তি লাগে এই পথ চলতে, সত্যিই অবাক লাগে ভাবতে।
কত ছোট ছোট বিষয় নিয়ে ঘাবড়ে যাই।
আর, ওরা ক্যামনে পারে এতসব?! অদ্ভুত!
মনে হয়; এত্ত বাধা বিপত্তির পরও এই পথ চলার যে আকাঙ্খা, এজন্যই হয়তো আমাদের বেঁচে থাকা! এইটাই মনে হয়, লাইফ!
..
দিনে দিনে আজকাল আমরা কেমন জানি না-মানুষ হয়ে যাচ্ছি।
দেখে ও কিছু দেখি না;
শুনে ও কিছু শুনি না,
যেখানে যা বলার তার কিছুই বলি না।
টিপাইমুখ নিয়ে কথা বলে মানুষ ক্লান্ত, কিছুই হয় না। বরং সিলেটের অপার্থিব সৌন্দর্যের লালাখালের জননী সারি নদীর উত্পত্তিস্থলে জন্ম নেয় আরেক টিপাইমুখ।
অনেক ভেবেও কোন কুলকিনারা পাইনা। আমাদের মানচিত্রের বিশাল একটা অংশ জলশুন্য করে দেওয়ার আশংকায় ঠেলে দিয়ে আমাদের বন্ধু(!)রাষ্ট্র ভারতের লাভ টা কি?
ওরা কয়েকদিন পর পর বর্ডারে আমাদের ছেলেপেলেদের মেরে যায়,
আর আমাদের ছেলেরা ওদের মিরাক্কেলে গিয়ে হাসিয়ে আসে।
ওরা বিপিএল-এ ওদের ক্রিকেটারদের না পাঠিয়ে কিছু সিনেমার এক্সট্রা পাঠায়, আর আমাদের সেরা খেলোয়ারেরা ওদের আইপিএল এর বেঞ্চিতে বসে বসে জীবন ধন্য করে আসে।
আর আমরা বসে বসে মুড়ি চিবাই,
ঢাকের বাড়ি শুনে বানর নাচি।
সব বাচ্চা কাচ্চাদের ডোরেমনের সাথে হিন্দি গুলিয়ে খাইয়ে আমাদের সংস্কৃতির চৌদ্দটা বাজুক, কি যায় আসে তাতে।
আমাদের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি ওরা নাইবা নিল।
আমাদের প্রাণপ্রিয় দেশটাকে ওদের পন্যের বাজারে পরিনত করতে সময়ের সাথে না এগুলে কিভাবে হবে?!
আমাদের রাজধানীর অদুরে ওরা যদি নিজেদের মনোমত কোন উপশহর করতে চায়, তা নিয়ে উল্টোপাল্টা ভাবার সময় আছে না কী কোন!
অপেক্ষায় আছি, নেক্সট কি হয়।
কোন একদিন হয়তো,
খাবার পানিটাও ওপার থেকেই কিনে খেতে হবে!আল্লাহ না করুক।
এত কিছু ভেবে কি লাভ?!
এই তো বেশ ভাল আছি।
রাস্তায় নামলেই দুর্ঘটনা আর অপঘাতে মৃত্যুর সুবর্ণ সুযোগ।
জ্বালাও পোড়াও হত্যার হরতাল বনাম গুম খুনের কথকতা। চুলোচুলি, হানাহানি আর পরস্পর দোষারোপ ছাড়া রাজনীতি জমে নাকি!
এসব না থাকলে,
চায়ের কাপে ঝড় উঠবে কিভাবে?!
হাজার হোক,
একটা গনতান্ত্রিক দেশের নাগরিক আমরা।
কিছু না দেখা;
কিছু না শোনা,
কিছু না বলা ই -
আমাদের গনতাণ্ত্রিক অধিকার!
দিনকাল ভাল ঠেকছে না,
দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে বা যাচ্ছে।
আরেকটা যুদ্ধের আহ্বান ঘুরছে বাতাসে,
আরও একটা স্বাধীনতা খুব দরকার।
ভাল থাকুন সবাই। সৃষ্টিকর্তা আমাদের সহায় হোক।





এটাই জীবন এর নামই পথচলা। সময় গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে মানে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন।
সবকিছু ঠিক হইয়া গেলে ঠিক আছে,
কিন্তু সবকিছুতেই অভ্যস্ত হইয়া যাওয়াও কিন্তু কোন কাজের কথা না!
এরই নাম জীবন।
হয়ো..
আহ জীবন।
ভাই এতদিন কই ডুব দিয়া আছিলেন?!ভাল আছেন তো?
আছিরে ভাই .... জীবন আর জীবিকা নিয়া কিছূটা ব্যস্ত ...... তবে আছি সবসময়...

আরেকটু বেশি বেশি আসার চেষ্টা কইরেন। ভাল থাকেন ভাই।
এইসব নিয়েই আমাদের এইসব দিনরাত্রি ।
সেটাই..
বেচারা সব কিছুতেই দু:খ পাচছে। বিয়ে করা দরকার মনে হচছে
ও আফা,
আমি আপনের কি করছি শুনি?!
এমুন বদ দোয়া দেন ক্যান?!
আসলে পলিটিক্যাল বিষয়গুলো অনেকরকম ক্যালকুলেশন রিলেটেড। সরকার চেঞ্জ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর অনেক হিসাবই আজকের মতো থাকবে না। তাই ভারত ইস্যূ নিয়ে বেশি চিন্তা না করে বরং, বাংলাদেশের পলিটিক্যাল সাসটেইনেবিলিটি নিয়ে ভাবা ভালো।
আর ব্যক্তিগত সমস্যাদি আসলে থাকবেই। ট্র্রাই টু ওভারকাম।
সরকার চেঞ্জ আদৌ হবে বলে কি মনে হয়?!
নির্বাচনে বিরোধী দল হিসেবে অংশ নিতে কেউ জেলের বাইরে থাকতে পারবে বলেই তো মনে হচ্ছে না!!
হতাশ হৈয়োনা, যদি মুমিন হও.... ইরাম একটা কথা ধর্মে চালু আছে
মুমিন হওয়া অনেক কঠিন..
এই জীবনের মানে তবুও এক আনন্দময় যাত্রা!
আপ্নে মুনেলয় শান্ত'র মত ... কোলন ডি
আল্লাহ মনে হয় আমরারে কাছাকাছি ছাঁচে বানাইছে!
মন্তব্য করুন