সেদিন মটরসাইকেলটা বিক্রি হয়ে গেছিলো!
ক্লাস এইটে পড়ি। বাবার মটরসাইকেলের দিকে ঝোঁক। সুযোগ হয় না চালাবার। চুরি করে চালাতে হয়। একদিন জানলাম বিক্রি করে দেবে। যেদিন সন্ধ্যায় মটরসাইকেলটা নিয়ে যাবে, সেদিন আর বাবা মটরসাইকেল চালাননি। রিকশায় অফিসে গেছেন।
দুপুরের দিকে সুযোগ পেয়ে মায়ের চোখ ফাকি দিয়ে চাবিটা হস্তগত করলাম। তারপরে চুপিসারে মটরসাইকেল বের করে স্টার্ট দিলাম। শব্দে মায়ের ঘুম গেলো ভেঙে। তিনি বাইরে নামার আগেই ভো করে মটরসাইকেল চালিয়ে পাশের কলেজের মাঠে চলে এলাম। মা জানতেন না যে আমি চালাতে পারি। দেখলেন এসে উল্কার মত মটরসাইকেলের ছুটে যাওয়া। ভীষণ ভয় পেয়ে তিনি দৌড়াতে দৌড়াতে কলেজের মাঠে এসে উপস্থিত হলেন।
ভুলেই গেছিলাম। একটু আগে মা ফোন করলেন। বললেন, তোর মনে আছে সেই ঘটনাটার কথা? কিভাবে আমি দৌড়ে গেছিলাম তোর পেছনে পেছনে?
মনে আমার পড়লো বটে। ভীষণ কষ্টের ছিলো মটরসাইকেল বিক্রির ঘটনাটা। কোনভাবে মেনে নিতে পারছিলাম না। বললাম, মনে আবার থাকবে না! তোমরা ষড়যন্ত্র করে মটরসাইকেল বিক্রি করে দিয়েছিলে, আমি যেনো চালাতে না পারি!
মা একটু হাসলেন। বললেন, আজকে তোর ছোটভাইকে ফোন করলাম, সে বললো, মটরসাইকেলে আছে, পরে ফোন ব্যাক করবে। আর সাথে সাথে তোর ঐ ঘটনাটা মনে পড়লো। তোর ছোটভাইয়ের জন্য টেনশন হচ্ছে, ও ঠিকমতো চালাতে পারে তো?





মা-বাবা মটরসাইকেলটা বিক্রি করে দিয়ে ভালোই করেছেন। মটরসাইকেল বিপদজ্বনক, মা'কে বলেন, ছোটভাই ভালো চালাতে পারে না, তাহলে তাকে এইটা বিক্রি করে দিতে বলবে
মধুর আমার মায়ের হাসি ---
হেলমেট পইরা চালাইতেন বেয়াই ?
কোনো বাবা-মাই মোটরসাইকেল পছন্দ করেন না। বাবা নিজে চালালেও ছেলেকে দেন না।
সাইকেলের কথা শুনে হাই তুললেন মনে হৈল
বাবা আমাকে বেশ ভালো ভাবেই মটরসাইকেলটা দেন। এখনো কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি। ঘটলে হয়তো...
মধুর আমার মায়ের হাসি ---
মধুর আমার মায়ের হাসি ---
মন্তব্য করুন