একটা রাগী মাথার ব্লগ
গত নির্বাচনে আমি প্রথম ভোট দেবার অধিকার অর্জন করি । আমি আওয়ামিলীগকেই ভোট দিতে চাইছিলাম । কিন্তু চোখের ঝাপসা দৃষ্টি নাকি নতুন ভোট দেবার উত্তেজনায় উতফুল্ল হয়ে সিল মারার পরে দেখি সেটা কোন এক পাখা প্রতীকের উপর জ্বলজ্বল করছে । মন খারাপ হয় । পরে অবশ্যই লীগকেই দেব । যতদিন না একটা সত্যিকারের ভালো কোন রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব না হয় লীগকেই দিয়ে যাব ভোট ।
এটা আমার জেদ না , একপেশে দৃষ্টিভঙ্গী না , আওয়ামিলীগের অন্ধভক্তিও না , এটা শুধুমাত্র শেখ মুজিব আর তাজুদ্দিনের মত নেতাদের জন্য । যাদেরকে আমি দেখার সুযোগ পাইনি , যাদের সাথে এককাতারে নেমে আন্দোলন করার সুযোগ পাইনি . তাদেরকে ভালোবেসে এই কাজটুকু করা । আমার এ মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে দেখতেছি ।
এবার আওয়ামিলীগ সরকার হলে লোকজন কত খুশী হয়েছিল ! সবাই ভাবছিল অন্তত তারেক গং এর হাত থেকে নিস্তার পাওয়া যাবে । অনেক জরুরী কাজ এবার হবে । এর ভিতরে অন্যতম হল পদ্মা সেতু । আমরা যারা মাদারীপুর বরিশাল অঞ্চলের মানুষ তাদের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । সেতু হয়ে একটা বড় রাস্তা মাদারীপুরের উপর দিয়ে দক্ষিনে চলে যাবে । সেই রাস্তা খেয়ে নেবে অসংখ্য ঘরবাড়ি , ফসলের জমি , বাগান । লোকজন যদিও ক্ষতিপূরণ পাবে । সেই রাস্তা যাবে আমাদের ছোট্ট একটুকরো বাগান আর পুকুরের অর্ধেকটা মাড়িয়ে । আমাদের সম্বল এই পৃথিবীর বুকে ওই একটুখানি স্বর্গ । তাও শেষ হয়ে যাবে । আমার আব্বু হয়তো ক্ষতিপূরণ পাবে । তাই আমাদের কষ্ট চাপা পড়ে যায় । আমাদেরতো ওইটুকু , অনেক মানুষের পুরো বাড়িই হয়তো একসময় বিশ্বরোড হয়ে দিনমান হা হুতাস করবে । তারপরো মাপজোখ করতে আসা লোকেরা আশ্বাস দিয়েছে , শেষপর্যন্ত হয়তো আমাদের জমি পড়বে না ।
এসবসত্বেও আমরা একটা গুরুত্বপূর্ণ সড়কের জন্য জমি ছাড়তেও রাজি । মনে কষ্ট এত বেশী হচ্ছে না । যতটা হয়েছে , আড়িয়ল বিলের সম্ভাব্য সর্বনাশের কথা শুনে । একটা অ-দরকারী বিমানবন্দর করতে যেয়ে সরকার দরকারী মুল্যবান জলাধারটুকু ধ্বংস করতেও দ্বিধা করছেনা । নতুন বিমানবন্দরের যে দরকার নেই তা আজকের প্রথম আলোতে বিশদ আকারে বলা হয়েছে । সরকারকে কে বোঝাবে ? কার সাধ্য বোঝানোর যে, এই ৫০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে খাদ্য সমস্যার সমাধান করা যায় , বিদ্যুত তৈরী করা যায় , প্রতিটা উপজেলায় একটা করে কোল্ডস্টোরেজ করা যায় , রাস্তাঘাট নির্মান করা যায় , পর্যটন শিল্পের উন্নতি ঘটানো যায় । আরো বহু দরকারী কাজ করা যায় । এসব রেখে কেন সরকার এই কাজ নিয়ে মেতেছে ? কি আছে এর পিছনে ? এরা তো তাইলে ভূমিদস্যুদের থেকেও ভয়ংকর । ভূমিদস্যুদের রোখার জন্য সরকার আছে , সরকারকে রুখতে কে আছে ?
নতুন বিমানবন্দরের নাম দেয়া হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আনর্জাতিক বিমানবন্দর , পাশে বঙ্গবন্ধু সিটি । কি জন্য ? পরেরবার বিএনপি ক্ষমতায় আসলে নাম পরিবর্তন খাতে কোটি কোটি টাকা গচ্চা দেবার জন্য ? এসব ভন্ডামি কি জন্য ? একজন লোক , যে নিজ গুনে মানুষের মনে তাঁর জায়গা করে নিয়েছে , তাকে তার দলের লোকেরাই রাম শ্যাম যদুর কাতারে এনে ফেলে দিচ্ছে । মাথায় যাদের হলুদ পদার্থ কম তারাই এখন রাজনৈতিক দলগুলো চালাচ্ছে ।
মানুষের যখন নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটেনা , তখন মানুষ গৌণ প্রয়োজন নিয়ে মাথা ঘামায় না । যেখানে চাল কিনতে লাগে ৪০ টাকা , সেখানে বিমানবন্দর – যাত্রাবাড়ি উড়াল সেতু মানুষের মনে শান্তি দেয়না , মুখে হাসি ফোটায়না । এইসব সাধারণ অর্থনৈতিক শর্ত জানা নেই এমন একজনো কি নেই সরকারী গদিতে ?
সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশের স্লোগান দেয় । আরে বাপ , যেখানে দেশের রাজধানী শহরেই সকাল থেকে রাত বারোটা পর্যন্ত একঘন্টা অন্তর বিদ্যুত যায় , সেখানে ডিজিটাল স্বপ্ন দেখায় কেম্নে । এখন লোকের হাতে হাতে মোবাইল , মাত্র ১১০০ ১২০০ টাকায় মোবাইল পাওয়া যায় , এইডাই কি ডিজিটাল বাংলাদেশ ? ইয়ার্কি মারে ?
সেতু বানান , সড়ক বানান যাই বানান , মানুষ মনে রাখবে না । কারণ , এইগুলা মানুষরে খুশী করার জন্য বানান লাগে না
। একটা দেশের উন্নয়নের জন্য অবশ্য পালনীয় কর্তব্য এটা আপনাদের । মানুষরে খুশী করতে হইলে , খাদ্যের দাম কমান , যানজট নিরসন করেন , বিদ্যুত দেন ঠিক মত , চোর-ছ্যাচর , খুনী-বদমাইশ নিধন করেন । আইনের শাষন কায়েম করেন । দেখবেন লোকজন খুশী হয়ে আপনাদেরই আবার ভোট দিব ।






বক্তব্য ভালো লাগলো।
আফায় ঠিক কইছে।
আফায় ঠিক কইছে না পুরা ১০০% সঠিক।
বকলম ভাই, আফায় নয়। আমি এখনো এমন একজনকেও পেলাম না, যে এই নূতন বিমান বন্দর বানানোকে সমর্থন করছেন। সবাই বলছেন এটা অপচয়ের চরম উদাহরন, নষ্টের চরপম নিশানা।
মিশরের বর্তমান হালচাল দেখেও একজন সরকার প্রধান কি করে জনগনের মতের বাইরের সিদ্বান্ত নিতে পারে! কেন যে বুঝে না, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়!
মানুষের ভালবাসার কাজ গুলো করা, মানুষের কষ্ট লাগাব করা, মানুষের স্বাভাবিক আনন্দ নষ্ট না করাই তো সরকারের কাজ।
আর বুঝবে কবে!
মাদারীপুর যাইতে বহুত কষ্ট পাইছি টানা দুই বছর। এখনও নদীর ওইপারে যাইতে হয়, তাতেও ব্যাপক কষ্ট। আরো বেশি কষ্ট চাল কিনতে, বুয়া যখন বলে চাল শেষ মাথায় বাজ পড়ে। চাল বলি ক্যান বাজারে গেলে মনে হয় আগুণের মধ্যে পড়লাম, গায়ের চামড়া পুড়ে যায়।
আর নামকরণ নিয়া কি বলি। আমিতো ভয় পাইতেছি জিয়া বিমান বন্দর এর নাম বদলের বদলা নিতে সামনের বার বিএনপি আসলে ৩২ নাম্বার এর বাড়িটারে সরকারের দখলে না নিয়া নেয়
মাথায় যাদের হলুদ পদার্থ কম তারাই এখন রাজনৈতিক দলগুলো চালাচ্ছে ।
..................
দ্বিমত করছি। বেশী হলুদের লোকেরাই দেশ চালায়। কিন্তু ওই হলুদ জিনিসগুলি পাবলিকের পকেট থেকে নিজের পকেটে টাকা ট্রান্সফার করার রাস্তায় খরচ হয়।
যতই চিল্লা-পাল্লা করেন, বিমান বন্দর হবেই এবং তা নির্ধারিত নামেই । আপনার কথা, প্রথম আলোর সমালোচনা কোন কিছু দিয়েই রোধ করতে পারবেন না ।
এই বিমান বন্দর শেষ পর্যন্ত হবে না, এটা ওরাও জানে। কিন্তু জেনেও প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে আরো দুবছর, তার মধ্যে ফিজিবিলিটি টেষ্টের ৪০০ কোটি টাকার শ্রাদ্ধ হবে। হলুদ মগজে এইসব হিসেব ঠিক করা আছে। নইলে ৫০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প যে বাংলাদেশের মতো দেশ ২০ বছরেও শেষ করতে পারবে না, এটা ঘোড়ায়ও বুঝে। পাবলিকরে তো ঘোড়ার চেয়েও নিন্ম প্রজাতির মনে করা হয়।

মোটেই রাগী মাথার না, শতভাগ সুস্থ মাথার যে কেউ লিজার সঙ্গে একমত হবে।
আর ঘন ঘন রাগান্বিত হন এই কামনা
আম্লীগ আর ভুট পাইবো না
এই সরকারই রাজধানীর জলাবদ্ধতা ঠেকাতে ড্যাপ নিয়া লাফালাফি করে, এরাই আবার আড়িয়াল বিল ভরাট করে বিমানবন্দর বানানোর ধান্ধা করে!
লিজা আফা, আফনের কথা ঠিক না। বাংলাদেশের মাইনষেরে যদি জিংগান কেনো মোশারফ কিংবা আনোয়াররে ভুট দিবেন? ক্যান সড়ক বানায় দিছে, বাড়ি পর্যন্ত গাড়ি যায়? এলাকার লাইগ্যা অনেক কাম করছে। কি কাম সড়ক পাকা। তারাতো জানেনা ঐটাযে নির্বাচনী মেনুফেষ্টোতো থাকে না
মন্তব্য করুন