গোল্ডলিফের প্যাকেট এবং শীত
শীতের শুরুর কোনও একটা সন্ধ্যায় চায়ের
কাপে টুংটাং আওয়াজ বলে দেয় , বাহিরের
তাপমান
পাতলা চাদরটা ভালোমতো জড়িয়ে নেবার
মতোই কমছে।
রাস্তা পার
হতে গিয়ে অনিচ্ছুক শীতল
হাতটা অত্যুতসাহী এক তপ্ত মুঠোয়
বাঁধা পড়তে গিয়েও পড়েনা। হেমন্তের এই
শেষপ্রান্তের যাযাবর বাতাসে উষ্ণতার
বড্ড অভাব।
সোডিয়ামের বাতিঘর আর ধোঁয়াশার
বিভ্রমে ঝরাপাতার
দলে মিশে যাওয়া একটা পাতার গান
আলাদা করা যায় না।
এই শহরে মমতাময় কোনও শীত আসে না!
এখানে শীত পাশাপাশি দুই ফ্ল্যাটের
অপরিচিত প্রতিবেশির মতো মুখ
ঘুরিয়ে হাঁটে!
ফুটপাতের শীতবস্ত্রের
মেলার দিকে লোভাতুর
দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা শতছিন্ন পোশাকের
' অভদ্র ' বাচ্চাটাকে " ছিঃ! কী নোংরা!"
বলে পাশ কাটায় শীত , শপিংমলের
পাশে বিএমডব্লুকে পার্কিং লট
ছেড়ে দিতে!
শীত বেঁচে থাকে শুধু ফায়ার প্লেসে , রুফটপ
বারবিকিউ পার্টি আর উইন্টার স্পেশাল
ড্রেসের ডিসপ্লে বোর্ডে!
এই শহুরে শীত
এক চাদরের উষ্ণতার ভাগ দেয়
না কাউকে, পথের
কুড়োনো কাগজে জড়ো করা আগুনের
উত্তাপ দিতে শীত আসে না রে পাগল...
আসে পাশের সব কিছু কেমন যেন সাদাচে ফ্যাকাসে হয়ে যাচ্ছে। সদ্য পুড়ে ছাই হওয়া গোল্ডলিফ এর মত।নিকোটিন থেকে মুক্তির আশায়।আর অন্য পাশে??
একটা বোর্ডে অসমাপ্ত, কিছু লেখনি।
কয়েকটা শাদা পৃষ্ঠা, দুইটা পুরনো
পত্রিকা, একটা কালের খেয়া, একটা নয়া ডায়েরি,
পাশেই একটা গোল্ডলিফের
প্যাকেট, ভিতরে তিনটা সিগারেট, তার
ওপরে একটা দিয়াশলাই, একটা অ্যাস ট্রে।
টং গুলো জমজমাট। থাকবেই না কেন?জীবিকার তাগিদে যারা মুখবাজি করে দিনের পর দিন তাদের ফায়ার প্লেস তো এই টং। কড়া লিকারে আলগা পাতি দিয়ে বানানো চা শীতের ঠোটে ঠোট রেখে আলতো করে চুমু দেয়।
কাঁচের দেওয়ালের সামনে দাঁড়ালে অন্য
প্রান্তের সবকিছু পরিষ্কার
দেখতে পাওয়া যায়.... শুধু হাত
বাড়ালে মধ্যবর্তী ব্যবধানটা বুঝা যায়।
ঠিক তেমনি ফায়ার প্লেস আর রাস্তার পাশে ধরানো আগুন ব্যবধানটা দু চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
আবার কখনো কোন হয়তো রাস্তার পাশে জড়াজীর্ন হয়ে ছেড়া এক টুকরো কাপড় দিয়ে শুয়ে থাকা ভাই বোনের দিকে তাকিয়ে কোন রমণী তার পার্ক করা গাড়িতে চড়তে চড়তে তার আম্মুকে বলে উঠবে-
"আম্মু দেখ বাচ্চা গুলা কি নোংরা "
"তুমি পাঁজরের ভাঁজে
জমা রাখা ভূল,
ছেঁড়া চিরকুটে আমি স্বপ্ন ওড়াই.......
তোমার সুখবাসী মনে
ভেজা মেঘদল,,,,,
আমি অসংকোচেই চৈত্রে পোড়াই..."
সব কিছুই বদলে যাবে,যাচ্ছে। শুধু বদলাবে না টেবিলের উপর পরে থাকা গোল্ডলিফ এর প্যাকেট, আধ খাওয়া সিগারেট আর সদ্য নিকোটিন বিসর্জন দেয়া জ্বলন্ত ছাই...
কুয়াশায় ঢাকা অসহায় সূর্যের দিকে তাকিয়ে ভাবি-
"আমারও আকাঙ্খা ছিল সূর্যের দোসর হবো তিমির
শিকারে
সপ্তাশ্ব রথের রশি টেনে নিয়ে দীপ্ত অঙ্গীকারে।
অথচ সময়াহত আপাত বস্তুর দ্বন্দ্ধে দ্বিধান্বিত মনে
বর্তমান ভীত চক্ষু মাটিতে ঢেকেছি সঙ্গোপনে।"





অসাধারন,
আমার পড়া আপনার সবচাইতে ভালো লেখা।
ভাই আমি এত বড় লিখা লেখতে পারি না।সব ছোট ছোট।তাই ব্লগে দিতে কিছুটা সংকোচ লাগে।দোয়া করবেন।
মন্তব্য করুন