গল্প: মাঝে মাঝে মানুষের অক্ষমতা পুষিয়ে দিই নীরবে
১
চার ক্যান ডেডিকেটেডলী ব্রু'ড ব্যরন্স সদ্ব্যবহার করার পরও সেদিন রাতে শরীরটা ম্যাজম্যাজ করছিলো। তাই চুলগুলো একটু টানিয়ে নেবার বাসনায় মহল্লার ছেলেটার ডেরায় গিয়ে উঠলাম। এত রাতে ওর খদ্দের খুব বেশি ছিলো না। সে পাকা হাতে পানি মেখে, নিপুণ কারিগরের মতো আমার চুল টেনে দিল। আরামে চোখ মুদে আসছিলো। আয়নায় দেখছিলাম চোখের কোণে লাল একটা আভা তৈরী হচ্ছে। নিজেকে ডিমওয়ালা মাছের মতো লাগছিলো। যে মাছ গভীর পানিতে থাকে। জেলেদের জালে বন্দী হওয়ার দুশ্চিন্তা যাকে ছুঁতে পারে না। অনাগত দিনের কোনো এক অদৃশ্য সুখের স্বপ্ন আমার নিমিলীত চোখে ঝিলিক দিচ্ছিলো। এই বিন্দাস মনোভাবের উৎপত্তি কোথায় ঠিক ধরতে পারছিলাম না। তবে কি ইলোরা ভাবী?
২
বদরুল ভাই আমাদের বাড়িওয়ালা। তার কাজের মধ্যে আছে দুই। খাই আর শুই। তবে খাওয়ার মধ্যে আছে সমস্যা। তিনি ভাত-মাছ-সবজি আর ডাল খান। সবজি মানে প্রকৃত সবজিই, অন্য কিছু নয়। তবে ডাল মানে ডাইল। প্রতিদিন ঐ এক হাজারী বোতলের অর্ধেকটা তাকে খেতেই হয়। নাহলে পারেন না। আগে দৈনিক এক বোতল মারতেন, যতদিন ছয়শ’ টাকা দাম ছিলো। আজ-কাল অতোদূর পর্যন্ত অর্থ জোগাড় করতে পারেন না। পারবেন কিভাবে? কোনো কাজ তো করেন না। বাড়িওয়ালার ছেলে হিসেবে প্রতিদিন বিকেলবেলা মহল্লায় দু’টো চক্কর দেন শুধু। এছাড়া আর কিছু করা লাগে না যদিও; তবু মুগদাপাড়ার গহীনে আখতার মিয়ার ঘরে গিয়ে অর্ধেক বোতল ডাল সাঁটানোর পরিশ্রমটুকু তিনি করেন। এসময় টাটানো চোখে আখতার মিয়ার অল্পবয়েসী বউটির দিকে তাকিয়েও থাকেন। বোতল টানার পরই তার চোখের ক্ষুধা বেড়ে যায়। খাওয়া হলে পর তিনি রাস্তার মেয়ে আর মাঝবয়েসী নারী দেখতে দেখতে মহল্লায় ফিরে আসেন। এসে গলির মুখে বাঁধানো বটের শানে আসন জুড়ে বসেন। গাঢ় দুধ আর প্রচুর চিনি দেয়া চা খান। সঙ্গে চলে বেনসন এন্ড হেজেস্। আর চলে চাপাবাজি।
৩
বদরুল ভাইএর কথাই হোক আরো দু'প্যারা। তার আছে কিছু উদ্ভট নিয়ম। যেমন তিনি কাউকে একবারের বেশি দুইবার ফোন দেন না। কেন? একবারে ফোন না ধরলে নাকি তার আঁতে ঘা লাগে। আমি একদিন বলার চেষ্টা করেছিলাম, আঁতটা এত খোলামেলা ফেলে রাখলে এমন ছোট-খাটো ঘাঁয়ে একসময় কড়া পড়ে যাবে। তিনি সেটা মানতে রাজি না। শক্ত খটখটে হাতের তালু দেখিয়ে বলেন, এই হাতে অনেক কড়া’ই পড়েছে, কড়ায় তাই আমার ভয় নেই। আমি বুঝতে পারি, আজ বিকেল পড়ার আগেই চূড়ায় চলে গেছেন তিনি। নীতিবাক্য আর মাথায় ঢুকবে না।
একদিন দেখলাম মহল্লার মধ্যে নতুন ফিলোসফি বিলিয়ে বেড়াচ্ছেন। লা ইলাহা ইল্লালাহ্ মানে আল্লাহ্ এক ও অদ্বিতীয়। তাই গড বা ভগবান বা ঈশ্বর বলে কেউ নেই। শুধু আল্লাই এক সৃষ্টিকর্তা, মুসল্লীরাই এক জাতি; আর যারা ঐসব ভিনদেশী শব্দে সৃষ্টিকর্তাকে ডাকে এবং ভিনদেশী নিয়মে সৃষ্টিকর্তাকে মানে, তারা সব বাটপার। আমি বোঝাবার চেষ্টা করি; ওস্তাদ নিজের কথা বলেছেন আরবী ভাষায়, তাই নিজেকে পরিচিত করেছেন আল্লাহ নামে। ইংরেজীতে বললেই নামটা গড হয়ে যেতো। তিনি মানতে চান না। তাহলে যে আরো ৯৮ টি নাম আছে সেখানে এগুলোর উল্লেখ নেই কেন?- আমার কাছে জানতে চান। আমি বলি, সেখানেও আরবীর বাইরে আর কোনো ভাষা ব্যবহৃত হয় নি তাই। তিনি যুক্তিতে আসেন না। আমাকে অপরিণামদর্শী হিসেবে আখ্যায়িত করেন। আমার সুমতির উদ্দেশ্যে এই দুর্ম্যূলের বাজারেও তার ফেনারগানের কাপটিতে টৈটম্বুর করে ডাল ভরে এগিয়ে দেন। আমি ইনকার করি। তিনি আরো বেজার হন।
৪
রাতের গভীরতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উচুঁতে উঠতে থাকে বদরুল ভাইএর বাসা থেকে ভেসে আসা চেঁচামেচির শব্দ। এটা এ বাড়ির নিত্যদিনের মঞ্চনাটক। প্রতিরাতে একবার বদরুল ভাই তার স্ত্রী’র সঙ্গে ঝগড়া করেন। সেটা একসময় গালিগালাজের এমন নোংরা পর্যায়ে চলে যায় যে, কোনো উপয়ান্তর না দেখে আমি নিজের কানকে বন্ধ করে ফেলি। মাঝে মাঝে গালিগালাজ প্রহারে পর্যবসিত হয়। আমি ভড়কাই না। বদরুল ভাইএর বউটা শক্ত দেহবল্লরীর অধিকারিণী। ফিটনেস্ ভালো। তার তীক্ষ্ণ অঙ্গে ভোঁতা ডালখোরটা খুব কিছু করতে পারবে বলে বিশ্বাস হয় না। তবু ভাবীর জন্য আমার খারাপ লাগে। মহিলা এক সময় মডেলিং করতেন। যে জমানায় করতেন, সে জমানার মডেলরা এখন খ্যাতির চূড়ান্ত শিখরে আছেন।
৫
রাত সাড়ে তিনটা। আমি আমার ঘরের দরজায় পরিচিত তিনটা টোকা পাই। নিঃশব্দে দরজা খুলে দিই। ঘরটা একদম বাহির-লাগোয়া, স্বাধীন। এখানে আমি অনেক কিছুই করতে পারি। এই যেমন মাঝে মাঝে মানুষের অক্ষমতা পুষিয়ে দিই নীরবে।
---





বাপরে! ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প
কি বলতে চান? গল্প হইসে নাকি হয় নাই?
মহিলাকে চেনা চেনা লাগে!
তাই না? বেশ।
থিক অ্যাজ থিভস্ দেখসেন?
উহু, দেখিনাই। ভাল? কালকে সোফিয়া কপোলার 'সামহোয়্যার' দেখলাম। খুব-ই অপছন্দ হইল। লস্ট ইন ট্রান্সলেশনের ডিরেক্টর এইটা কি বানাইল এই নিয়া হায়হুতাশ করলাম ঘন্টাখানেক। আপনে ডুপ্লিসিটি দেখছেন? গত বছর দেখছিলাম, আজকে দেখলাম এইচবিওতে দেখাইতেছে, মজা পাইছিলাম মুভিটা দেইখা।
লস্ট ইন ট্রান্সলেশন আর ডুপ্লিসিটি দেখি নাই। ধোবি ঘাট দেখসি। অসাম একটা মুভি। এটার রিভিউ লিখে আপনাকে উৎসর্গ করতে ইচ্ছা করতেসে!
উৎসর্গ না করলেও চলবে, তবে লিখেন। ধোবি ঘাট দেখছি, তবে যতটা শুনছিলাম ততো ভাল লাগেনাই। লস্ট ইন ট্রান্সলেশন আর ডুপ্লিসিটি দেখে ফেলেন। প্রথমটা না দেখলে মিস, আর দ্বিতীয়টা দেখলে সময় ভাল কাটবে।
লিখুম কি না জানি না, তয় উৎসর্গ কৈরামই কৈরাম।
লস্ট ইন ট্রান্সস্লেশন দারুণ। কিন্তু পরে সোফিয়া আমারেও হতাস করছে। আর ডুপ্লিসিটি ভাল লাগে নাই।
শুনেন নামনাই ভাই, আপনি যে খালি সবাইরে চেনা চেনা বলেন, আপনারেও তো চেনা দরকার।
ক্যানো শর্মী আপু? আমাকে চিনলেই কি আর না চিনলেই কি বলেন, দুইদিনের দুনিয়া।
ইয়াপ্ দুইদিনের দুনিয়া। কথা ঠিক
দুই দিনের বইলাই তো দ্রুত চেনা-পরিচয় হওয়া ভালো।
বেশীদিন হইলে ধীরে সুস্থে হইলেও সমস্যা ছিল না। নাকি বলেন?
গান শুনেন
থ্যাংকস্
আপনেও শুনেন
গানতো শুনিই ...
আরেকটা শুনেন
এবং তারপর আরেকটা
শুনতেসি।
খুঁজে পাচ্ছি না
শিরোনামটা একটু অন্যরকম হলে ভালো লাগত। এছাড়া পুরো গল্পটাই ভালো লেগেছে। সত্য ঘটনা নাকি? ইলোরা, বুয়েটের টেলিফিল্ম, চেনা চেনা লাগছে। সে যাই হোক,ভালো লাগল
ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম।
আর পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ।
গল্পের প্রথম খসড়ায় বোধহয় ইলোরার প্রসঙ্গে টেলিফিল্ম, বুয়েটের শিক্ষক ইত্যাদি প্রসঙ্গ ছিলো। সবাই চিনে ফেলছেন বলে হয়তো আপনি এডিট করে দিয়েছেন! ভালোই করেছেন, নইলে... মানে সেই ইলোরাই যদি আপনার দরজায় টোকা দেয় তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আমার প্রবল ঈর্ষা হবার কথা। কারণ, টু বি অনেস্ট, আমি একদা- সে বহুকাল আগের কথা - আমি তার প্রেমে পড়েছিলুম!
গল্প ভালো লেগেছে...
কামাল ভাই, জীবিত বা মৃত কোনো মানুষের সঙ্গেই আমার গল্পের কোনো চরিত্রের মিল নাই। কাজেই ঈর্ষাক্রান্ত হওয়ার কারণই নেই কোনো।
গল্প ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম।
ভালো লাগলো।
"ঝিলিমিলি ঝিলিমিলি এ শহরে,মাল্টিকালার চোখ,
কাতরা সে রসনাতে খুঁজি শুধু সুখ
তোমার বুকে মাথা রেখেও স্বভাব গেল না।
লোকে বলে আমার স্বভাব ভালোনা।
এ শহরে ভালোবাসার সাধন হলোনা
"সখী, উপায় বলো না!"
ভালো লাগলো জেনে ভালো লাগলো।
আপনার ভিডিও চ্যানেল দেখে আমার সবচে' ভালো লাগলো।
অনেক আগেই কইছিলাম!!
কমেন্ট দেয়ার আগেই এডিট করে ফেললো মীর? মীরকে

ইয়েস
এবং 
লীনা বললো ভয়ঙ্গকর ভুতের গল্প। আমি কি বলি। পড়ে আরাম পেলাম।
থ্যাংকিউ। তবে আপনার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখাগুলোর মতো আরামদায়ক হয় নি। ওগুলো একেকটা ইউনিক লেখা।
নাজনীন আপু'কে শুভেচ্ছা। ছোটবেলায় আমার প্রিয় চকলেট ছিলো ফাইভ স্টার। সেটার কথা মনে পড়ে গেল।
আপনার বই কবে বেরুবে ?
সাইদ ভাই, আপনাকে কিন্তু বলেছি বই বেরুবে না। বই লেখার মতো যোগ্যতা আমার কোথায়? কি লজ্জার কথা।
================
যেদিন খারাপ লিখবা সেই দিন পইড়া ধুয়ে দিয়া যামু।

তাহলে আপনার জন্য একটা খারাপ লিখা দ্রুত লিখে ফেলি, কি ব্লেন?
গল্পে ১৮+ এর কিছুই তো নাই । আমার কাছে তো মনে হইল এইটাও একটা ভূতের গপ্প । যেমন ৫ নম্বর
।
ডাইলের দাম ১ হাজার হইল কবে থিকা? আমি লাস্ট দেখছিলাম আড়াই'শ তিনশ
গল্প খুবই ভালো হইছে । কিন্তু আপনি তো বড় সাইজের গল্প লেখার লোক । এতো ছোট লিখলে চলপে কেম্নে?
গল্পে এত সুন্দর একটা ১৮+ ট্যাগ আছে, তাও বলছেন কিছু নাই?
কি ডাল? মুগ না মসুর?
শেষ প্রশ্নের উত্তর চাইতে হবে লীনা আপুর কাছে।
৫ নং প্যারা ভালা পাইছি...

সাবাস !!
গল্প ভালো লাগলো, আজ অনেক গল্প পড়লাম এখানে এসে।
সো সাধু সাবধান 
সব টোকায় সাড়া দিলে আবার লীনা ফেরদৌসের জ্বীনের কাজ হয়ে যেতে পারে
বাসাটা সুন্দরতো
সুন্দর
চার!!!! আমিতো এক ক্যানেই....
আয়নায় দেখছিলাম চোখের কোণে লাল একটা আভা তৈরী হচ্ছে। নিজেকে ডিমওয়ালা
মাছের মতো লাগছিলো। যে মাছ গভীর পানিতে থাকে। জেলেদের জালে বন্দী হওয়ার
দুশ্চিন্তা যাকে ছুঁতে পারে না। অনাগত দিনের কোনো এক অদৃশ্য সুখের স্বপ্ন
আমার নিমিলীত চোখে ঝিলিক দিচ্ছিলো।
আপ্নের উপমা দিয়া কথা বুঝানি গুলো দারুন হয়!
ভালো লাগছে বেশ।
গল্পটা এডিটের আগেই পড়ছিলাম, এমন কিছুতো ছিলো না যে পাল্টালেন!!
আনএডিটেট না পড়তে পারলে এই পোস্টে কমেন্ট করুম না
আমি কিন্তু ৫ নম্বরটা পইড়া কিছু বুঝি নাই
নাউজুবিল্লাহ টাইপ গল্প। মীর পুলাডাতো খারাপ দেখছি
বদরুল ভাই কি আল্লাহ হাফেজ গ্রুপের লুক?
মন্তব্য করুন