কেয়া পাতাদের দঙ্গলে এক নামধামহীন নীল পিচ্চিপিঁপড়া
গভীর রাত। এ সময় চড়াই ঠিকই মায়-দিন-মান মাঠ, ঘাট, বন, বাদাড় চষা শেষে ঘাসফড়িঙ বা আরো সুস্বাদু কোনো খাদ্যযোগে ডিনার সেরে নিজের নীড়ে ফিরে গেছে। হয়তো গভীর নিদ্রায় ডুবেও আছে। অথচ আমি টুইটারে বসে চড়াইয়ের ডাক দেবার অক্ষম চেষ্টা চালাচ্ছি!
ড. সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্য চুরি-টুরি করে দু'টো দিন বের করেছিলাম মহাকালের ভেতর থেকে। জলে-ডাঙ্গায় বইটা পড়লাম। অসাধারণ ভ্রমণকাহিনী। রবীঠাকুরের একটা লাইন পেলাম সেখানে। মৃত্যূ বিষয়ক লাইন। মাথায় গেঁথে গেলো।
কেন রে এই দুয়ারটুকু পার হতে সংশয়
জয় অজানার জয়।
আচ্ছা আমি যদি সব ট্র্যাক মুছে একদিন কোনো একটা হোটেল কক্ষে গিয়ে আত্মগোপন করি, তাহলে কি তুমি পেনির মতো আমাকে খুঁজে বের করতে পারবে? দরজার আড়ে মাথা ঠেকিয়ে পারবে বারবার আমাকে ফিরে আসার অনুরোধ করতে? পারবে না ক্রিস্টেন। সত্যি যদি ভালোবাসতে, তাহলে পারতে। জেনে রেখো ব্যক্তিস্বাতন্ত্রের জয়গান কাউকে স্বেচ্ছাচারী হবার সুযোগ দেয় না। তোমাকে ভালোবাসার মানুষের প্রতি সৎ থাকতেই হবে, যদি তুমি সত্যি তাকে ভালোবেসে থাকো। আর এখনো তুমি সৎ কিনা সেটা বোঝার একমাত্র উপায় হচ্ছে, তার প্রতি তোমার ভালোবাসা কমছে কিনা। যেদিন সেটা কমে যেতে দেখবে, জানবে তোমার ভেতরে অসততা প্রবেশ করেছে।
সেদিন ইয়াহুর পাতায় হলুদ রংয়ের সাপের ছবিটা দেখে মনে হয়েছিলো, একটা ধারালো চাকু নিয়ে ওদের সিইও'র সঙ্গে গিয়ে দেখা করি। মেয়েটির হাতে চাকুটা দিয়ে বলি, বিচ্ছিরি সাপটাকে কেটে দু'টুকরো করুন এবং আপনাদের পাতা থেকে সরান। বলা হয় নি। নতুন সুপারসনিক জেট বিমানটা প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় ফেল করেছিলো তো, তাই।
তখন ছোট্ট করে নিজের আরেকটা ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেছিলাম। কার কাছে ব্যক্ত করেছি কে জানে। হয়তো মহাকালের কাছে। ওর কাছেই আমার যত আব্দার। আবার ওর সঙ্গেই যত ছলচাতুরি।
শরৎ এসে গেছে, তাও আর ক'টা দিন বর্ষা চাই
তোমার হাতে আমার আঙ্গুল গছিয়ে দিয়ে ঘুরতে চাই।
স্বপ্নগুলো বুনবো বলে আর ক'টা দিন খুব করে সেই
অঝোরধারায় বৃষ্টি পড়া দেখতে চাই দেখতে চাই।
---
(আক্ষরিক অর্থেও পিচ্চিপিঁপড়া আকৃতির এই লেখাটি শাতিল মোঃ ইউসুফ হাবিব তথা শাতিল্ভাইরে উৎসর্গিত। তারে ম্যালাদিন ব্লগে দেখি না। খোঁজ-খবর নিতে পারি না। ভালোবাসাও জানাইতে পারি না! সেটাই জানালাম। আর অন্য যারা লেখাটি পড়লেন, তাদেরকে শুভেচ্ছা
)





আরেট্টু বড় হইলে কি দুষ হৈত?! :@
বয়স হৈলে ঠিকই বড় হবে
ভালবাসার মানুষদেরকে এইভাবে পরীক্ষা করার কোন মানে নাই আমি অন্তত তাই মনে করি।
বর্ন'র সাথে একমত পোস্ট বড় হওয়া উচিৎ ছিলো।
ঐটা একটা সিনেমার দৃশ্য জান্টু।
ঝরঝরে লেখা, বরাবরের মতন । আপনার ছোট লেখা পড়ে মন ভরে না আসলে ।
আচ্ছা। আপনের জন্য তাহলে তো একটা বড় লেখার ব্যবস্থা করতে হয়
সৈয়দ মুজতবা আলী আমার একজন অতি প্রিয় লেখক । অনেক আগে প্রায় বাচ্চাবেলায় তাঁর জলে ডাঙ্গায় বইটি পড়েছিলাম।
লেখাটি ভাল লেগেছে
আপনাকেও আমার ভালো লেগেছে
ছুটো মরিচে ঝাল বেশি...
জ্বি না। বোম্বাই মরিচে ঝাল বেশি
শাতিল মনে হয় বিবাহ করছে।
ঠিকাসে শাতিল ভাই বিয়া করসে। কিন্তু তুমার বিয়া কবে সুন্দরী?
ইয়ে মানে আমি কি জানি!
হুমম, বুঝছি; আপ্নেরও দেরি নাই
শিরোনামটা অসাধারন তেমনি এই লেখাটাও!
তবে সবচে' অসাধারণ এই কমেন্টটা। আর কোনোটাই না।
পরের লাইনটা মনে পড়ছেঃ
"এইদিকে তোর ভরসা যত, ওইদিকে তোর ভয়
জয় অজানার জয়"
পিচ্চিপিঁপড়া ভালো লাগলো; একটা গভীরতা আছে। "ব্যক্তিস্বাতন্ত্রের জয়গান কাউকে স্বেচ্ছাচারী হবার সুযোগ দেয় না" বেশ সুন্দর একটা কথা। ভাবালো... সাপের কথা বলছিলেন... কুৎসিত বলে সত্যি কি কিছু আছে? শুনি সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিতে নাকি অসুন্দর বলে কিছু নেই। ভয়ংকর সুন্দর আছে। একবার 'অ্যানিম্যাল প্লেনেটে দেখেছিলাম আগে নাকি মেলা-টেলা করে এইসব সাপ-টাপ কাটা হতো; লোকে উপভোগ করতো। এটাকে বর্বরতা দাবী করে সাপদের বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসে কিছু মানুষ। আমি সাপ দেখতে পারিনা ঠিকই কিন্তু ভাবি স্বেচ্ছাচারী হবার সুযোগ না থাকাই ভালো...
যাক সে কথা। শুরুতে যেভাবে নামটা, শেষে এসে কবিতার লাইনগুলো অন্যরকম করে দিল... আচ্ছা কেয়া পাতা দেখতে কেমন?
আরে বাপ্রে!!! কি সৌভাগ্য, কি সৌভাগ্য!! থ্যাংক য়ু ভেরি মাচ কবি, আমার লেখায় কমেন্ট করার জন্য!
আসলে ওই সাপটা সেদিন এমন একটা গুরুগম্ভীর ভাব ধরে বুকের ওপর দুই হাত আড়াআড়ি ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে বা বসে বা কি যে ছাই ভঙ্গি একটা করে ছিলো, সেটা না দেখলে বুঝতে পারবেন না। দেখেই খুব গা গুলালো। তাই কমপ্লেন করার কথা ভেবেছিলাম।
কেয়া পাতা আমি নিজেও চোখে দেখি নি। ছবিতে দেখেছি। লম্বা, চিকন, সবুজ আর একসঙ্গে অনেকগুলো হয়। ঝোপের মতো। সুন্দর।
যাই হোক, আবারো আপনার মন্তব্য পাবো, এই আশায় থাকলাম।
ওরে সর্বনাশ আমারে উৎসর্গ করে লেখা
। ব্যস্ততার মাঝে নেটে আসা হয় খুব কম। এইভাবে ডাকলে আর মানা করা যায় কিভাবে? চেষ্টা করব নিয়মিত হওয়ার জন্য। সুন্ডর একটা লেখার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ মীর ভাই। ঈদ মুবারক 
বিয়া করছেন বলে? ঘটনা কী সত্য? মেয়ে কী মেমসাহেব?
আপনে বিয়া করার আগে আমি কেমনে করি
তার মানে জয়িতা ফুপুজানের কথা ঠিক। আপনের বিবাহ ঠিক হয়েসে।
শাতিল ভাইয়ে বিয়া কবে? দাওয়াত না দিলে খপর আছে। লাগলে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে বিয়া খাবো।
আর চিটাগাংয়ে হইলে তো কথাই নাই। বড় বড় আলু দিয়ে ঝাল ঝাল বিফ, ভাবতেই জিভ সক সক করছে
এই ছোট্ট লেখাই ভালো লাগছে,
এত্তো আদর দেখায়ে দেখায়ে লেখা, আর অদ্ভুত মায়াকাড়া শিরোনাম মইর কই যে পান, মাঝে মাঝে অবাক হয়ে যাই, ভালো লাগে বেশ
হ! দা ইয়েস!
মাথা ঘুরাচ্ছে। পানি চাই।
কি হ দ্যা ইয়েস? সততা-টততা এইসব এখন কেবলমাত্র বাল্যশিক্ষার বইয়ে পাবেন। খাও-দাও-ফূর্তি করো হচ্ছে গিয়া এখনকার ট্যাগলাইন। এর সঙ্গে তাল মিলাইতে পারলে ভালো, নাইলে জায়গা খুঁজতে হবে মেইনরোডের সাইডে গিয়া। বুঝলেন?
হাহাহহাহা... শোকর করেন মীর লিখতে গিয়া কেবল মইর লিখছি, মাইর লিখি নাই!!.।

নাহ, এমন টাইপোর জন্যে মাফ কইরেন! সেসময় অভ্র ছিলো না, কি জানি দিয়া লিখছি তাতেই এহেন হাল!!
সুন্দর হইছে লেখা।
মন্তব্য করুন