সে পর্যন্ত সবাই যেন ভাল থাকি আমরা
লেখার কিছু পাচ্ছি না। অথচ কিছু একটা লিখতেও হবে। দিনলিপি তো প্রায়ই লিখি। দিনলিপি কিংবা ছাইপাশ টাইপের কিছু ছাড়া অন্যকিছু লিখতে ইচ্ছে হয় না এখন আর। গল্পের আইডিয়া নিয়ে ভাবতে ইচ্ছে করে না হাঁটতে হাঁটতে। জীবনটা বড় দ্রুতগতিতে পানসে হয়ে যাচ্ছে।
আজকাল যেটা করা হয় সেটা হচ্ছে খুব সামান্য পরিমাণ কাজ আর প্রচুর পরিমাণ চিন্তা-ভাবনা, যার বিশাল একটা অংশ আবার সবসময় ভাবনা হিসেবেই রয়ে যায়। কাজে পরিণত হয় না। আর ইদানীং বৈষয়িক চিন্তাও মাথায় ঢোকার জন্য প্রাণপনে চেষ্টা চালাচ্ছে। সব মিলিয়ে একটা বেশ বেড়াছেড়া অবস্থা বলা যায়। আই মীন ঠিক বেড়াছেড়া না। একটু শক্ত হাতে হাল ধরলেই অনেককিছুকে লাইনে এনে ফেলা যায়। যেমন আজকে সকালে যদি একটু নিজেকে মোটিভেট করতে পারতাম, তাহলে একজন সাহায্যপ্রত্যাশীকে ফিরিয়ে দেয়ার গ্লানি মনের ভেতরে বিঁধে থাকতে পারতো না, যেমনটা এখন বিঁধে আছে। গতকাল রাতে এক বন্ধু পায়ের গোড়ালিতে ব্যাথা পেয়েছে। রোববার সাধারণত সব থাকে বন্ধ। তাই ব্যাথার উপশমে কিছু করার ব্যবস্থা নেয়া সহজ ছিল না। আমার হাতের নাগালে একটা ব্যাথা কমানো ক্রিম ছিল। অথচ কোনমতেই নিজেকে কাউচ থেকে টেনে তুলতেই পারলাম না। কম্বল মুড়ি দিয়ে দিনে-দুপুরে কাউচ পটেটো হয়ে থাকাটা আসলে বিপদজনক। কম্বলের তল থেকে বের হওয়ার জন্য যে পরিমাণ মোটিভেশন লাগে, তা দিয়ে গোটা পাঁচেক চাকুরীর আবেদন করে ফেলা যায়।
নতুন বন্ধুদের মাঝে ইরাকে ভাল লেগেছে সবচেয়ে বেশি। অনেকগুলো নতুন ছেলেমেয়ের সাথে চেনাজানা হলো টিউটর হওয়ার সুবাদে। ওদেরকে সাথে করে ঘুরে বেড়াতে খারাপ লাগে নি একবারের জন্যও। সবাই খুব স্মুথ, কোনো জড়তা নেই। অকওয়ার্ডনেসের তো প্রশ্নই আসে না। বেশ অবাক করা ব্যাপার। এতগুলো নতুন নতুন মানুষ, সবাই একে অপরকে প্রথমবারের মতো দেখছে, জানছে; অথচ তাদের সাবলীলতা দেখলে মনেই হয় না সেটা। ইরার মনটা অনেক পরিচ্ছন্ন। এখনও পৃথিবীর কুটিল বিষয়বস্তুর অনেককিছুই দেখে নি। ওর সাথে কথা বললে সেটা বুঝতে অসুবিধা হয় না।
আমি মাঝে মাঝে ভাবি, বাংলাদেশে একটা মানুষের জীবন যতোটা কঠিন, ততোটা বোধহয় আর কোথাওই নয়। পেপার-পত্রিকা থেকে আজকাল আর তথ্য নেয়া হয় না। প্রথম ফিল্টারিংটা করে দেয় ফেসবুক। সেখান থেকে যেটায় নজর পড়ে, সেটাকে গিয়ে পত্রিকা থেকে খুঁজে বের করি। আমাদের দেশের যতো সমস্যা, তার সিকিভাগও যদি পশ্চিমা বিশ্বে থাকতো; তাহলে মানবপ্রজাতির খবরই ছিল। এতদিনে বিলুপ্তি ঘটে যেতো নিশ্চিত।
এনিওয়ে, বিলুপ্তও হই নি, মারাও যাই নি; বেঁচে আছি সবাই এক নিকষ কালো অন্ধকার সময়ে। বড় আশা করে আছি, একদিন বিপ্লবীদের দঙ্গলে ভিড়ে যাবো। শুভবুদ্ধির সুনামিতে একদিন ভেসে যাবে সব হায়েনার উল্লাস। আমরা নিয়ে আসবো এক নতুন প্রভাত। সে পর্যন্ত সবাই যেন ভাল থাকি। শুভকামনা।
---





মন্তব্য করুন