অসমাপ্ত বাস্তবতা... ১
কিছু লিখতে পারছি না কেন? এমন কি জীবন যাপন করছি যেটা লিখে রাখতে বাধা আসছে? নাকি উপস্থাপনা কেমন হবে ভেবে ভেবে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ছি? এ দু'টো সমস্যার কোনোটাই তো আগে ছিল না! এখন কি হলো? ওকে পয়েন্ট ধরে ধরে আগানো যাক। অন্তত বের করা যাবে সমস্যা আসলেই কিছু আছে কিনা। নাকি আলসেমী, নাকি জড়তা, নাকি কিছুই না জাস্ট নিরাশার জালে বন্দি হয়ে পড়া- কোনটা ঘটছে?
প্রথম পয়েন্ট, থিসিস নিবন্ধন করা হয়ে গেছে। দীর্ঘ তিন মাসের ইমেইল চালাচালির পর অবশেষে আমার দ্বারা কাজটা করা সম্ভব হইলো! এবং এর মধ্যে যথারীতি থিসিসের আইডিয়াও বহুবার পরিবর্তিত হয়েছে। শেষতক যে থিম নিয়ে কাজটাকে নিবন্ধন করানো হয়েছে তা হচ্ছে- গতানুগতিক সকল প্রকার শিক্ষা কার্যক্রমে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মতামত।
সুতরাং আইডিয়াটা এখন অনেক জেনারালাইজড্। শিক্ষা কার্যক্রমেরই একটা ছোট অংশ নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা ছিল, যেটা হচ্ছে ফলাফল প্রকাশ। সমস্যা হইলো ওই ধরনের রিসার্চ করার জন্য উপযুক্ত স্যাম্পল আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে পাওয়া সম্ভব না। আমার মত না, প্রফেসরের মত। ঘটনা আসলেই তাই। ভিআর এখনও এতোটাই আতুরঘরে যে, গার্ডিয়ান্স অফ দি গ্যালাক্সি- টুতে যদিও ভিআরের ব্যবহার দেখানো হয়েছে ব্যাপকহারে কিন্তু হাতে হাতে এই প্রযুক্তি পৌঁছাতে আরও ১০-১৫ বছর মিনিমাম লাগবে। প্লাস টেকনোলজি আসলে কোনদিকে যাচ্ছে সেটা খেয়াল করলেও বোঝা যায়। মোবাইল ফোনগুলো এখনও তেমন কোনো আই-ট্র্যাকার টেকনোলজিই আনতে পারলো না। অথচ গন্ডায় গন্ডায় রিসার্চ কিন্তু হচ্ছে। আসলে টাকা যেখানে, মানুষের সব আকর্ষণও বুঝি সেখানেই। আমাদের ছোট্ট ডিপার্টমেন্টে যেকোন পণ্যের মার্কেটিং অ্যাসপেক্ট বোঝার জন্য যতো আই-ট্র্যাকিংভিত্তিক গবেষণা হয়, তার অর্ধেকও আসলে কিভাবে আই-ট্র্যাকিং সংক্রান্ত প্রযুক্তিকে আরও সহজ করে তোলা সম্ভব তা নিয়ে হয় না। সবাই ছুটছে বস্তুর পেছনে। অথচ বস্তুর চেয়ে যে ধারণা বড়, তা নিয়ে কারও একবিন্দু মাথাব্যাথা নেই। এরা জানেও না, তাপিত হৃদয় যেখানে শান্ত হয়, সেখানে বস্তু রবে জেনো নিশ্চই।
আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিন্তু এমনধারা রকমসকম ছিল না। সেখানে দিনে-রাতে সবসময়ই খুঁজলে বৃহত্তর উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে করা চিন্তা-ভাবনার চর্চার দেখা মিলতোই। মধুতে সকালে কিংবা বেলালের দোকানের সামনে সন্ধ্যায় কিংবা অলস দুপুরে হাকিম চত্বরে চায়ের কাপ হাতে তরুণ-তরুণীদের বস্তুবাদ, দ্বন্দ ইত্যাদি নিয়ে তর্ক করতে দেখা যেতো। পুঁজিবাদকে ভেতর থেকে চলমান বিশ্বব্যবস্থাকে কুড়ে কুড়ে খেতে দেখার যন্ত্রণায় বিদ্ধ আত্মার ছটফটানি চোখে পড়তো। মার্কস-অ্যাঙ্গেলস্-লেনিন-মাও সে তুংদের নিয়ে টানাটানি চোখে পড়তো। সারাটা দিন নিজের পড়াশোনা, ক্যারিয়ার, বিচক্র্যাফট্ ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত মানুষের সংখ্যাই বরং কম ছিল অনেক। বিদেশকে যারা দেশের চেয়ে ভাল একটা জায়গা হিসেবে দেখতে অভ্যস্ত তারা ভেবে দেখতে পারেন। বড় পাখির বড় ডিমের মতো এখানে কিন্তু বড় অর্থনীতির বড় সংকট।
যাক্ বোঝা গেছে কেন কিছু লিখতে পারছি না। যেকোন কিছু ভাবতে গেলেই আজকাল জট লেগে যাচ্ছে। অনেক প্রাসঙ্গিক-অপ্রাসঙ্গিক ভাবনার স্রোত এসে মূল ভাবনাটাকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। সাঁতরে পেরে ওঠা সম্ভব না এই খরস্রোতা জলধারায়। তারচেয়ে বরং যা যেমন চলছে তেমন চলতে দেয়াই ভাল। ছেড়ে দিলে সোনার গৌর আর তো পাবো না জানি, কিন্তু একটু সহজভাবে তো সবকিছু নেয়াই যায় তাই না? প্রাণখুলে হাসতে ভুলে গেলে ব্র্যান্ড নিউ মাজদা চালিয়েও যে সুখ নেই, সেটা অন্তত এত তাড়াতাড়ি ভুলে যেতে চাই না।
যে গৌর জীবনে থাকতে চায়, সে ক্লেদনির্মিত হলেও সমস্যা নেই; কিন্তু যে গৌর থাকতে চায় না তার সোনালী বর্ণের গোলকধাঁধায় পড়তে চাই না।
---





অনেক হাই প্রোফাইল গেমস ডেভেলপাররা ভিআর নিয়ে কাজ করছেন। তাদের সাথে কথা বলে দেখতে পারেন। মোবাইল কন্টেন্ট ডেভেলপার কমিউনিটিতে যোগাযোগ করেও ভালো ডাটা পাবেন। তবে বিনোদনের তুলনায় শিক্ষায় ভিআর এর ব্যবহার নগণ্য।
শুভ সকাল শাতিল ভাই। আপনি ঠিকই বলেছেন- বিনোদনের চেয়ে শিক্ষাকাজে ভিআর-এর ব্যবহার নিয়ে গবেষণা তুলনামূলকভাবে কমই হয়েছে। গবেষণার জন্য এই লাইন বেছে নেয়ার মূল কারণই সেটা।
আমাকে গবেষণায় ব্যবহার ও বিশ্লেষণের জন্য তথ্য সংগ্রহ করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে। যারা শিক্ষাব্যবস্থার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত এবং ভিআর সম্পর্কে যেকোন মাত্রায় ওয়াকিবহাল। ওরাই আমার স্যাম্পল। তবে স্টেট-অফ-দি-আর্ট বোঝার জন্য এবং অন্যান্য আরও কাজে আমাকে বিভিন্ন কমিউনিটি থেকে হেল্প নিতে হবে। ধন্যবাদ, গেম ডেভেলপার, মোবাইল কন্টেন্ট ডেভেলপারদের কথা মনে করিয়ে দেয়ার জন্য।
মীর ভাই কমিউনিটিতে ইউনি স্টুডেন্ট পাবেন অনেক। আপনি সার্ভে ক্রিয়েটর দিয়ে একটা সার্ভে ফরম বানিয়ে বেশ কিছু যায়গায় একাউন্ট খুলে ২/৩ টা ইন্ট্রোডাক্টরি পোস্ট দিয়ে হেল্প চান। এরপর সেই সার্ভে ফরম এর লিংক দিয়ে দেন। কমিউনিটিগুলো বেশ হেল্পফুল।
বলেন কি! তাহলে তো মনে হচ্ছে কাজ সহজ হয়ে গেল অনেক অংশে

মন্তব্য করুন