রাজকন্যার প্রথম জন্মদিনে ভালোবাসা
এমন আধুনিক সময়েও কেন জানি বিবাহবার্ষিকীটা পালন করা হয়ে ওঠেনি আমাদের।আমাদের রাজকন্যার হয়তো বিষয়টি পছন্দ হয়নি।এমন যুগেও তার বাবা-মায়ের এমন বেরসিকের মতো আচরন তার বোধহয় ভালো লাগেনি।আর তাই তো বাবা-মায়ের বিশেষ দিনটিকে আরও বেশি বিশেষ করে তোলার জন্য বাবা-মায়ের চতুর্থ বিবাহবার্ষিকীতে পৃথিবী আলো করে এসেছে আমাদের রাজকন্যা জাইফা।আলোকিত করেছে আমাদের।শুভ জন্মদিন মা।অনেক অনেক ভালোবাসা তোমার জন্য।
সময় কত দ্রুত যায়! দেখতে দেখতে একটা বছর হয়ে গেল।অথচ আমার মনে হয় এইতো সেদিন,ছোট্ট একটা মা এসেছে আমার কোলে।একটু একটু করে বড় হচ্ছে।তার প্রতিটা মুভমেন্টই এত বেশি রোমাঞ্চকর মনে হয়!যখন প্রথম হাসল, আমাদেরকে চিনল ,বসতে পারল, মা বলে ডাকল, হামাগুড়ি দেয়া শিখল সব কিছুই বিস্ময় নিয়ে দেখতাম, এখনো দেখছি আমরা। জাইফা এখন নিজে নিজে দাঁড়ায়, একটু একটু হাঁটার চেষ্টা করে, নিজে নিজে কত শত কথা বলে যায়!দাঁত উঠেছে নিচের মাড়িতে ২টা,উপরের মাড়িতে ১টা।আর এই তিনটা দাঁত দিয়ে ইঁদুর ছানার মতো হাতের কাছে যা পাবে তা নিয়েই কুটি কুটি করবে। কিছু না পেলে আমাদের হাতের আঙ্গুল মুখে ঢুকিয়ে কামড় দিবে।কামড় খেয়েও খুশি আমরা।
রাজকন্যা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে বাবাকে।বাবাকে কাছে পেলে আর কাউকে দরকার হয় না।বাবা আর মেয়ে নিজেদের মতো কিছু কথা বলে,নিজেদের মতো কিছু খেলা খেলে,নিজেদের মতো দুষ্টমি করে।তাদের এই আনন্দযজ্ঞে আমি খুব একটা পাত্তা পাই না। আমি শুধু একটু দূর থেকে তাকিয়ে দেখি। তাদের নিজস্ব ঢং এর এই সব মুহূর্তে আমার মেয়ে প্রাণখুলে শব্দ করে হাসে।মেয়ের হাসির শব্দে মাঝে মাঝে আমি ঘাবড়েও যাই।বেঁচে থাকাটা অনেক বেশি সুখের হয়ে উঠে। অনেক বেশি সুখের...।
আমাদের ছোট্ট বাসাটা আমার কাছে ছোট্ট একটা স্বর্গ মনে হয়।এমন পুরনো জরাজীর্ণ একটা বাসাও স্বর্গের মতো সুন্দর লাগে শুধু ওদের বাপ-বেটির প্রাণখোলা হাসির জন্য। ছুটির দিনগুলো আমার কাছে চাঁদের হাটের মতো লাগে।কারণ সে দিনগুলোতে সারাদিন মেয়েটার সাথে লেপ্টে থাকতে পারি।বাচ্চাদের গায়ে যে এত মিষ্টি ঘ্রাণ থাকে তা আমার জানা ছিল না।অনেক কিছুই জানা ছিল না।রাজকন্যার জন্মের কারণে কত অজানা জিনিস জেনেছি,অজানা কিছু দেখেছি।
অফিস থেকে বাসায় ফিরে জাইফার হাসিমাখা মুখটা দেখলেই মনে হয় জীবন এত সুখের, এত আনন্দের, কখনো কখনো তো তীব্র সুখে চোখে পানিই চলে আসে।পরম করুণাময়ের কাছে আমি অনেক বেশি কৃতজ্ঞ এমন সুখের একটা জীবন দেয়ার জন্য।একটা জীবনে এর চেয়ে বেশি সুখ আর চাই না।আমৃত্যু যেন এই সুখটাই আমার থাকে।
সময়ের গতিতে সময় যাবে।আমাদের রাজকন্যাও হয়তো দেখতে দেখতে এভাবেই একদিন বড় হয়ে যাবে।তুমি ভাল থেকো মা,প্রতিটা মুহূর্তে।তুমি ভালো থেকো,কারণ তোমার ভালো থাকার সাথে আমাদের সবার ভালো থাকা জড়িত।
মাগো, শুধু তোমার জন্মের কারণেই ১৪ আগষ্ট হয়ে উঠেছে আমার জীবনের সেরা দিন।
শুভ জন্মদিন মা,শুভ জন্মদিন..............................





শুভ জন্মদিন রাজকন্যা। শুভ বিয়েবার্ষিকী রাজকন্যার মা-বাবা
রাজকন্যার পক্ষ থেকে
রাজকন্যার মেসবাহ মামার জন্য ।
ধইন্না মেসবাহ ভাই।
রাজকন্যার মা-বাবার পক্ষ থেকে
জন্মদিনের শুভেচ্ছা রাজকন্যা কে

বিবাহ বার্ষিকীর শুভেচ্ছা রাজকন্যার বাবা-মা কে
শুভেচ্ছা রন ভাই আপনাকেও।
কন্যা, কন্যা জননী এবং কন্যা জনকের পক্ষ থেকে।
মন্তব্য করুন