আতঙ্কের নগরী থেকে
১.
বেগুনবাড়ি আর নিমতলী বিভীষিকার পর ঢাকা পরিণত হয়েছে বিভীষিকার নগরীতে। টানা ঝড় বৃষ্টিতে নগর জীবন এমনিতেই বিপর্যস্ত। এরই মধ্যে একের পর এক খবর আসছে ভবন হেলে পড়ার অথবা ভবনে ফাটলের।
রাজধানীর শান্তি নগরস্থিত বহুতল ভবন কনকর্ড টাওয়ারে ইতোমধ্যে ফাটল দেখা গিয়েছে। পুরনো ঢাকার পাঁচটি ভবন হেলে পড়ার কথা শোনা যাচ্ছে, খবর পাওয়া যাচ্ছে তেজগাঁয়ের নাখালপাড়ায় একটি ছয়তলা ভবন হেলে পড়ারও। এর আগেই বেগুনবাড়িতে আরো একটি ভবন হেলে পড়েছে।
ইতোমধ্যে কনকর্ড টাওয়ারকে ত্রুটিপূর্ণ ঘোষণা করে এর পার্শ্ববর্তী ৫০০ ফুটের মধ্যে কাউকে অবস্থান না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। ২২ তলা এ ভবনের চতুর্থ তলায় ফাটল দেখা গেলে দ্রুতই খবর ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ভবনটিকে চারপাশ দিয়ে ঘিরে রেখেছে। দমকল বাহিনী ভবনের বাসিন্দাদেরকে নিরাপদে বাইরে আসতে সহযোগিতা করে। ইতোমধ্যে বিদ্যুত ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন, ঢাকা সিটি করপোরেশন মেয়র সাদেক হোসেন খোকা ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার একেএম শহীদুল হক।
তবে বুয়েটের সাবেক দুই বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী নিয়ে গঠিত তদন্ত রিপোর্টের পরই ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ কিনা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।
একই সঙ্গে কয়েকটি ভবন নিয়ে উদ্বেগজনক খবরে সমগ্র শহরেই ইতোমধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
২.
টানা বর্ষণে এরকম ঘটনা ঘটতেই পারে। এর আগে চট্টগ্রামে টানা বর্ষণে ধারাবাহিক পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটেছিলো। ঢাকার বর্ষণ অতোটা না হলেও এই অপরিকল্পিত নগরে এধরনের ঘটনা অমূলকও না।
প্রয়োজনে বিশেষ পরিস্থিতি ঘোষণা করা উচিত। আমলাদের উপর নির্ভরশীল না থেকে নগর পরিকল্পনায় বিশেষজ্ঞদের নিয়ে জরুরী একটি কমিটি গঠন করে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা হোক। এবং তা জরুরী ভিত্তিতেই করা হোক।
এই সময়ে মিডিয়ার দায়িত্বশীলতা খুব জরুরী। নিমতলী বিভীষিকায় পোড়া বিভৎস লাশের ছবি প্রচার করেছে টিভি চ্যানেলগুলো, যা সুস্থ সাংবাদিকতা না। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার লক্ষণও না। গুজব আর আতঙ্ক না ছড়িয়ে সঠিক সংবাদ পরিবেশন করে নগরবাসীকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়াটা এই মুহূর্তে খুব জরুরী।





সঠিক সংবাদ পরিবেশন খুবই জরুরী। ধন্যবাদ।
আমার কাছে কেন জানি মনে হয় এবার আমরা সবাই ঠিক হইয়ে যাবো।কেও আর বাড়ির নীচে কেমিক্যালের গুদাম বানাবো না।কোন রিয়েল স্টেট কোম্পানী দুই নাম্বারী করবো না।।
কারন আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে.।।।এতে বের হয়ে আসা ছাড়া আর উপায় নাই.।.।.।
সবকিছু ঠিকঠাক করার সুযোগ হয়তো আমরা পাবো না!
নগরবাসীর প্রত্যেকটি কথায় সমর্থন জানিয়ে গেলাম।
মন্তব্য করুন