এলোমেলো ঈদ ভাবনা
তোর সাথে যে নদীর অনেক মিল !
নদীর নামে তোকে তো তাই ডাকি।
রোদ পড়লেই নদীটা ঝিলমিল,
তোকে ভেবেই নদীর ছবি আঁকি। ছবি আঁকি।।
শ্রীকান্ত আচার্যের কন্ঠে যখনি এই গানটা শুনি-চোখের সামনে ভেসে ওঠে আমার চার বছরের মেয়ে রিয়াসা’র মুখ। আমাদের গাঁয়ের নদীটা কলকল শব্দে বয়ে চলে। উচ্ছল, চঞ্চল স্রোতস্বিনী ছোট্ট নদীটা। অবিরাম ছুটে চলা কোন এক আজানা গন্তব্যে। আমার মেয়ে রিয়াসা যেন ঠিক ঐ নদীটার মতই। সারাদিন মুখে খই ফুটছে, নদীর কলকল ধারার মতই বিরামহীনভাবে কথা বলে চলেছে, কখনো আমার সাথে, আমাকে না পেলে মায়ের সাথে কিংবা ঘরের কাজে সারাক্ষণ ব্যাস্ত থাকা লিমা’র সাথে। কাউকে না পেলে একা একাই চলে এই শব্দ কথন। সারা ঘরময় ছুটে চলেছে, এ রুম থেকে ও রুমে, ঘরের সবচেয়ে ব্যাস্ত সে ! মাকে ক্ষেপিয়ে তুলছে ঘরের জিনিসপত্র নষ্ট করে। মা’র কাছে বকা খেলেই শুরু হয় গাল ফুলিয়ে বসে থাকা আর মাকে হুমকি-বাবাকে বলে দিব, তুমি আমাকে বকেছ। আচ্ছা বলে দিস ! তোর বাবা আমার কি করে দেখি ! বাবা তোমাকে বকে দিবে, তুমি একটা পঁচা মেয়ে ! আমি ঘরে ঢুকতেই শুরু হয় নালিশের ফুলঝুরি ! বাবা, মামনি আমাকে বকেছে, মামনিকে বকে দিতে হবে। আচ্ছা ঠিক আছে, তুমি কি করেছিলে মা? আমিতো খেলছিলাম ! মামনি তো আমাকে এমনি এমনিই বকলো ! মামনি পচা! হ্যাঁ, তোরা বাপ-বেটি ভাল মানুষ ! এই, কাল থেকে তোমার মেয়েকে অফিসে নিয়ে যাবে, আমি আর তোমার মেয়েকে সামলাতে পারব না ! যাবোই তো ! আমি বাবার সাথে অফিসে চলে যাব, তখন কালো কুকুর তোমাকে ধরে নিয়ে যাবে ! আমি বেশ মজাই পাই মা-মেয়ের এই অভিমানী কথামালায়।
দিন যতই যাচ্ছে ঘনিয়ে আসছে ঈদ, বেড়ে যাচ্ছে কেনা কাটার ব্যাস্ততা। নগরীর ছোট বড় শপিং মলগুলোতে লোকজনের ভীড়ে দাঁড়ানোর জায়গা নেই। ছুটির দিনগুলির অবস্থা আরও ভয়াবহ ! গিন্নীর লম্বা লিস্ট দেখে তো আমার অবস্থা খারাপ ! এত্তো কেনাকাটা ! তাও আবার এই ছুটির দিনে ! সারাদিন কয়েকটা মার্কেট ঘুরে লিস্টের প্রায় অর্ধেক শেষ করে আমি ভীষণ ক্লান্ত। কেনাকাটাতে মহিলাদের যেন কোন ক্লান্তি নেই ! লম্বা লিস্টের অনেক খানিই শেষ করে বাসায় ফিরতে বিকাল হয়ে গেল ! ঘরে ঢুকতেই মেয়ের বায়না বাবা আমার জুতা এনেছ ! এই যাহ! হইছে না কাম ! এতকিছু আনা হল আর আসল জিনিসটাই আনা হল না! সরি মামনি, কাল কিনে দিব। না না না ! তুমি আননি কেন ! আমাকে এখন দিতে হবে, বলে শুরু হল কান্না। মেয়ের বায়না বলে কথা ! অগ্যতা আমাকে আবার বেরুতে হল। মেয়ের জুতা নিয়ে ফিরতে ফিরতে প্রায় সন্ধ্যা। মেয়ে নতুন জুতা পড়ে সারা ঘরময় ছুটে বেড়াচ্ছে আর একা একা নাচছে, গান করছে, দেখে সারা দিনের ক্লান্তি ঘুচে যায় অনেকটাই।
এখনকার বাচ্চাদের খুশি করা এত সহজ না ! তারা নিজেদের পছন্দ খুব সহজেই প্রকাশ করে ফেলে ! ছোট বেলায় কত অল্পতেই আমরা খুশি হতাম ! এক সেট প্যান্ট-শার্ট পেলেই মহা খুশি, আর সাথে জুতা পেলে তো কথাই নেই ! মনে পড়ে, ছেলেবেলার কোন এক ঈদে প্যান্ট-শার্ট টেইলার এর দোকান থেকে তখনো আসেনি, কেবল বাটার জুতা জোড়া হাতে পেয়েছি ! তাতেই অনেক আনন্দ ! কিছুক্ষণ পর পর জুতাটা নামিয়ে দেখি, একটু গন্ধ শুকি, কখনো একটু পায়ে দিয়ে ঘরময় হাঁটাহাটি করি ! কাজিনরা সব এক জায়গায় হলেই কার ড্রেস কত ভাল তাই নিয়ে শুরু হত প্রতিযোগিতা ! সেই দিনগুলো কত আনন্দময় ছিল ! ঈদ এলেই সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে, খুব মনে পড়ে!
সবাইকে আগাম ঈদের শুভেচ্ছা !!





ছোটাকালে ছিল পাওয়ার ঈদ

আর বড় কালে সেই পাওনা শোধের
ঠিকই বলেছেন। এখন দিতেই আনন্দ !
কিন্তু ছেলেবেলার আনন্দটাকে মিস করি খুব।
হু, মিস করি ছেলেবেলা...

আবার দারুন ইনজয় করি এই বড়বেলাও...
দুই ক্ষেত্রে দুই রকম অনুভূতি !
আনন্দে কাটুক আপনার ঈদ।
ঈদ মোবারক।
ঈদ আমার কাছে খুব সাধারন।
ঈদ আমাদের কাছে যেমনই হোক ছোটদের কাছে কিন্তু অনেক আনন্দের !
ঈদ মোবারক।
লেখাটা পড়ে খুব ভাল লাগলো।
অনেক ভাল কাটুক আপনার ঈদ, শুভকামনা রইল।
আপনার জন্যেও শুভকামনা।
সুইট লেখা। কিউট বাচ্চাটা আর তার বাপের জন্যে শুভকামনা! ঈদ ভালো কাটুক!
শুভ কামনা
আপনাকেও ঈদের শুভেচ্ছা। আর মিষ্টি মেয়েটার জন্য অনেক অনেক আদর। ভালো থাকেন আপনারা।
ইফতার পার্টি তো ভালই এঞ্জয় করেছেন দেখলাম !
ভাল কাটুক ঈদও।
আপনাকেও আগাম ঈদের শুভেচ্ছা
আপনাকেও শুভেচ্ছা।
মন্তব্য করুন