এইসব দিনরাত্রি (একটি হাজিরা পোষ্ট)
আজকের সকালটা শুরু হল একটু অন্যরকমভাবে। ছুটির দিনে সাধারণত সকালে একটু দেরী করে ঘুম ভাঙ্গে কিন্তু আজকে অন্যদিনের মতই সকাল সকালই ঘুম থেকে উঠতে হল। প্রতিদিন সকালে একটা তাড়া থাকে অফিসে যাবার জন্যে তবে আজকের তাড়াহুড়াটা অফিসে যাবার জন্যে নয়, আমার মেয়ে রিয়াসা’র নতুন স্কুলে যাওয়ার জন্য। আজ তার স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা ছিল। সে খুব খুশি, গত পনের দিন ধরে শুধু প্রশ্ন করে যাচ্ছিল কবে সে স্কুলে যাবে। স্কুলে গিয়ে দেখি পরীক্ষার জন্যে অপেক্ষমান বাচ্চা ও অভিভাবকদের সংখ্যাটা নিতান্ত নগন্য না । ভাবতে অবাক লাগে মাত্র চার বছরের একটা বাচ্চাকে ভর্তির জন্যে পরীক্ষা দিতে হয়, এই বয়সে আমরা লেখাপড়ার কথা চিন্তাও করি নাই!
বাবার হাত ধরে প্রথম স্কুলে যাবার দিনটির কথা এখনও আমার মনে আছে। বাবা আমাকে হেড স্যারের কাছে নিয়ে গেলেন, স্যার আমায় কিছু প্রশ্ন করে সরাসরি ক্লাস টু’তে ভর্তি করে নিয়েছিলেন! আজকের শিশুদের কথা ভাবলে মনে হয় আমরা অনেক সৌভাগ্যবান ছিলাম! সময় কত বদলে গেছে! সেই সাথে বদলে গেছে মানুষের মানসিকতাও। বাচ্চা একটু বড় হলে বাবা-মার চিন্তা বেড়ে যায়, ছুটতে হয় ভাল স্কুলে ভর্তির প্রতিযোগিতায়! ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার চাপ এত বেশি যে কেবলই মনে হয় বাচ্চাগুলোকে আমরা যেন গিনিপিগের মত বড় করছি। ওদের জগতটাকে আমরা অনেক ছোট করে ফেলছি, বাসা-স্কুল-কোচিং এই ওদের জগত! এতে কি একটা বাচ্চা পুরোপুরিভাবে বিকশিত হতে পারে?
দেখতে দেখতে বছর শেষ হয়ে এল। শীতের আমেজ বেশ টের পাওয়া যাচ্ছে! একসময় শীত আমার খুব প্রিয় ঋতু ছিল! শীতের সকালের প্রথম রোদের ছোঁয়া অন্যরকম অনুভূতি জাগাত! ঘরের দাওয়ায় রোদ পোহানো কিংবা সকালের রোদে মাদুর বিছিয়ে ধোয়া ওঠা গরম ভাতের স্বাদ এখন কেবলই স্মৃতি! মজার মজার পিঠা, খেজুরের রস আর টাটকা শাক-সব্জি সব মিলিয়ে শীত ছিল আমার অনেক প্রত্যাশিত। এখন সেই প্রত্যাশায় যেন অনেক ভাটা পরেছে! ভেজালযুক্ত শাক-সব্জি কিংবা খেজুরের রসে নিপা ভাইরাসের কথা মনে পড়লে শীতের আনন্দ উবে যায় অনেকটাই।
গত কিছুদিন ধরেই দেখা যাচ্ছে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। সময়টা খুব খারাপ যাচ্ছে আমাদের। রামুতে শান্তিপ্রিয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উপর বর্বরোচিত হামলার রেশ শেষ হতে না হতেই শুরু জামাত-শিবিরের ক্রমাগত পুলিশের উপর হামলা, ভাঙচুর, হরতাল, গাড়িতে আগুন- সব মিলিয়ে যেন একটা অস্থির পরিবেশ! একের পর এক গার্মেন্টসে আগুন! নিরীহ গার্মেন্টস কর্মীদের নির্মম মৃত্যূ! আর কত?
আসছে নতুন বছর, নতুন আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সামনে এগুতে চাই। জানিনা আগামী সময়গুলো আমাদের জন্যে কোন আশার আলো বয়ে নিয়ে আসবে কিনা। সামনের বছরটি এই সরকারের শেষ বছর, অস্থিতিশীল রাজনীতি আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে তাও জানিনা তবে অতীত অভিজ্ঞতায় এটুকু বুঝতে পারি অস্থিরতায় কাটবে সামনের সময়গুলো। তবুও প্রত্যাশা অনেক! অন্ততঃ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারটা যেন সময়মত শেষ হয়। আমি বার বার আশাহত হই তবুও নতুন দিনের অপেক্ষায় থাকি। একদিন সুবাতাস বইবেই, সুদিন আসবেই...





জাতি গঠন হচ্ছে আমাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে।
ঠিক বলেছেন মীর ভাই।
কেমন আছেন?
ভালো আছি। আপনি কেমন?
চলে যাচ্ছে দিন ব্রো, দৌড়ের উপর আছি। ভাল থাকেন।
হাওয়াবদল হোক। সুদিন আসুক।
সুদিন আসুক।
হাওয়াবদল হোক। সুদিন আসুক।
অন্ধকার কেটে যাক।
উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ অথবা এ যেন, স্বপ্নের হাত ধরে কৃষ্ণপক্ষের রাত্রির অন্ধকারে অনন্তের পথে চলেছি আমরা। এ পথের যেন শেষ নেই...।
'...তবুও প্রত্যাশা অনেক! অন্ততঃ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারটা যেন সময়মত শেষ হয়। আমি বার বার আশাহত হই তবুও নতুন দিনের অপেক্ষায় থাকি। একদিন সুবাতাস বইবেই, সুদিন আসবেই...'
মানুষ তার আশার সমান বড়! আমিও আশায় আশায়...
কাল থেকে শুরু হচ্ছে আবার হরতাল! এ অস্থির অবস্থা থেকে আমরা কবে মুক্তি পাব?
সবাই সুন্দর দিনের প্রত্যাশায় আছে। সেই সুদিন যদি সত্যি আসত!
আমিও নতুন দিনের অপেক্ষায় আছি।
আজকাল শৈশব বিক্রয় হয়ে যায় জন্মের আগেই, ভবিষ্যতের খোঁড়া দোঁহাই দিয়ে।
ভবিষ্যতে বাচ্চাদের শৈশব বলে আর কিছু থাকবে না ! যান্ত্রিক সব্যতা ওদের শৈশব কেড়ে নিচ্ছে।
দিন যত
দুঃখ ততো!
মন্তব্য করুন