ইউজার লগইন

হাতুড়ে রুপকথা (পান্না চৌখি জল ফরিং আর নারিকোলিয়া চন্দ্রহার)

রইদের পাহাড়ে পান্না চৌখি জল ফরিঙের ঘর |

অন্ধ সোলেমান সদাগর জীবনের শ্যাষ সদাগরী করতে গিয়াছিল রইদের পাহাড়ে। সতের শহর আর দশটা মহাশহর পাড়ি দিয়া। পান্না চৌখি জল ফরিঙের খোঁজে, এইবার তার লগে আছিল তার জওয়ান পোলা আমিরজান।

জবরদস্ত জমিদার সাব কইয়া দিসিলেন তার মাইয়ার বিবাহের লাগিয়া অলংকার আননের কথা। মাইয়ার নাম ছালেহা গুণবতী। আমিরজানের মনের ভিতর আছিল ছালেহা গুনবতির লাগিয়া ভাব-ভালবাসা। ছালেহা গুনবতিও আমিরজানের লাগিয়া দিলের ভিতর হাহাকার শুনিতে পাইত |

জবরদস্ত জমিদার সাবের একই কথা আমার কন্যার লাগিয়া নিজেরে প্রমান করিতে হইব আমিরজানেরে। আনিতে হইব নানান কিসিমের অলংকার |

নারিকোলিয়া চন্দ্রহার, কালা রুপার পায়ের খারু, লাল স্বর্ণের কাঁকন, সাদা স্বর্ণের টিকলি, হইলদা হীরার কানপাশা যদি আনিতে না পারো তবে তোমার বদন আর আমার সম্মুখে আনিব না। গোপনে আমিরজানরে ডাকিয়া বইলা দিসিলো জবরদস্ত জমিদার |

জওয়ান আমিরজান। কোনো বিপদরেই সে বিপদ মনে করে না। বাপের লাহানই হইছে। গলায়ও বাপের চাইতে বেশি সুর খেলে তার। ছালেহা গুনবতিরে লইয়া গান বান্ধে মনের হুতাশ তাড়ানোর লাগিয়া। রাইতে যখন ঝকমক চান্দ আকাশের সমুদ্দুরে ভাইসা বেড়ে আমিরজানের ভরাট স্বরের গান তার কানে সুধার ভান্ড উপচায়া দেয় |

গুণবতীর কথা আমি কি বলিব আর
সারা দেহ ভরা কেবল গুণেরই আধার
গুনভরা হাত ও রে তার গুণভরা মন
তাহার গুনের কথা করিব বর্ণন
হাতের মাঝে আছে যে তার রন্ধনের ফুল
চোখের মাঝে আছে য্যানো সকল সুখের মূল...

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

রইদের পাহাড়ে হাজারে-বিজারে পান্না চৌখি জল ফরিং। সোলেমান সদাগরের নির্দেশ পাইয়া আমিরজান হাতে মিহি জাল লইয়া পান্না চৌখি ফরিঙের পিছনে দৌরঝাঁপে নামে। নিমেষেই খাঁচায় পুইরা ফেলে শ'য়ে শ'য়ে পান্না চৌখি ফরিং |

এই যাত্রায় মহাশহর গুলাতে পান্না চৌখি জল ফরিংয়ের চাহিদা অনেক আছিল। সদাগরি করিয়া জওয়ান আমিরজান সদাগরের লাভের অংক আশার দরজা পার হইয়া যায়। সোলেমান সদাগর এইবেলা নামে পোলার বিবাহের সওদায়। নাম ধরিয়া ধরিয়া সকল কিছুই খরিদ করে সোলেমান সদাগর। কেবল খুঁজিয়া পায়না নারকোলিয়া চন্দ্রহার।

খোঁজ লাগায় এই শহরে
খোঁজ লাগায় ওই মহাশহরে
খোঁজ লাগায় কালাপানিয়ায়
খোঁজ লাগায় ধলাদরিয়ায়
খোঁজ খোঁজ খোঁজ...

শেষতক খোঁজ মেলে সরু নদের গাঁওয়ে।
খোঁজ দেয় নারাণ কোবরেজ। ছয় পহরের তপ্ত মরু পার হইয়া, তিন রাতের নারকোল বন। সেই বনের নারকোলের পাতায় চুঁইয়া পড়ে চান্দের জোছনা। আর গাছের তলায় জমে নারিকোলিয়া চন্দ্রমধু। এই মধু, তুলিতে হইব যেই কন্যা চন্দ্রহার পড়িবে তাহার নামে। রাখিতে হইবে নারকোল বনের পাতার তৈরি মধু ভান্ডে। এইবেলা মধু লইয়া যাইতে হইব নয় আঙ্গুলের সোনারুর কাছে। সে কেবলমাত্র সেই পারে নারিকোলিয়া চন্দ্রহার বানাইতে।
খবরদার মধু সংগ্রহের কালে জানি দুলা একা থাকে। আর কন্যার নাম ছাড়া অইন্য কারো নাম জানি দুলার মনে না থাকে। বাপের কতা মনে আছিল আমিরজানের। কানে তুলা গুইজা, চক্ষু চেককাটা গামছায় বাইন্দা রওয়ানা হইল সে। নারিকোলিয়া বনে গিয়া চক্ষুর বান্ধন খুইলা, কানের তুলা ফেলাইয়া আমিরজানে নারকোলের পাতার ভান্ড তৈয়ার করে। সেই ভান্ডে জমা করে নারিকোলিয়া চন্দ্রমধু। এরপর পৌছায়া যায় নয় আঙ্গুলের সোনারুর দরোজায়। শব্দ করতেই দরোজা খুলতে আসে নয় আঙ্গুলের সোনারুর মাইয়া।

< কে গা আপনে?
> অন্ধ সোলেমান সদাগরের পোলা আমিরজান। আপনের পরিচয়?
< নয় আঙ্গুলের সোনারুর কইন্যা আমি, নাম স্বর্ণা রাণী সোনারু। বাপজানের কাছে কি কাম?
> নারিকোলিয়া চন্দ্রহার তৈরীর লাগিয়া নারিকোলিয়া চন্দ্রমধু নিয়া আসছি।

নয় আঙ্গুলের সোনারুর হাতে নারিকোলিয়া চন্দ্রমধু তুলে দিবার কালে আমিরজান জপ করতেছিলো ছালেহা গুণবতীর নাম। একবার খালি মনের ভুলে তাকায়া ফেলছিলো স্বর্ণা রাণী সোনারুর পানে। ঐ একবারই। নয় আঙ্গুলের সোনারু চক্ষু রক্তবর্ণ হইয়া উঠল। দাঁড়ির জঙ্গল থিকা জানি রাগী বাঘ ডাইকা উঠল।

- এই হার তৈয়ার হইবে না। তুমি জানোনা হারের মালকীন ছাড়া অন্য কারো নাম লইলে হার তৈয়ার অসম্ভব?
= সোনারু হুজুর এমন কথা বইলেন না। ছালেহা গুণবতী আমার পথ চাইয়া দিন গুনতেছে।
- নারিকোলিয়া চন্দ্রমধু শুদ্ধ করতে হইবো। তবেই সম্ভব হার তইয়ার।
= কেমনে শুদ্ধ করিব?
- তোমার হৃদয় ছিদ্র কইরা পঞ্চ ফোঁটা রক্ত আর তোমার ডাহিন হস্তের কবজি।

~~~~~~~~~~~~~~
ছালেহা গুণবতীর দিলে আমিরজানের লাগিয়া হাহাকার আছিল। ভাব-ভালবাসা নহে।
~~~~~~~~~~~~~~

লুলা আমিরজান নয় আঙ্গুলের সোনারুর কাছে ফিরিয়া তাহারে ওস্তাদ মানিয়া কর্ম শিখিতে লাগিল। আর অন্ধ সোলেমান সদাগর তাহার স্ত্রী শরীফা সুন্দরীরে লইয়া অজানার উদ্দেশ্যে নাও ভাসাইয়া দিল।

পোস্টটি ৬ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

সাঈদ's picture


ভালই লাগলো কিন্তু বুঝলাম না।

রায়েহাত শুভ's picture


না বুঝার কি আছে? :( এটা খুবই সাধারণ একটা রুপকথা...

সোহেল কাজী's picture


স্যাটায়ার নাকি ইউনিক ধরতে পারিনাই
উপস্থাপনা সেইরাম হৈছে, হৃদয় বড়ই জটিল জিনিষ
ভালোবাসার সঙ্গাটা যে কি Undecided
লেখা ভালা পাইছি Smile

রায়েহাত শুভ's picture


স্যাটায়ার না... সাধারণ একটা রূপকথা

টুটুল's picture


চমৎকার
চমৎকার
চমৎকার

রায়েহাত শুভ's picture


থেংকু...
ধইন্যা...
শুকরিয়া...

টুটুল's picture


রায়েহাত শুভ's picture


আত্তদ্বিপ's picture


দুঃক্ষিত মাথার একশ হাত উফ্রে দিয়ে গেছে

১০

রায়েহাত শুভ's picture


কই যে যাই :( রূপকথাও বলে মাথার উপরে দিয়া জে :(

১১

নজরুল ইসলাম's picture


আরেকটু জমাইলে পারতেন

১২

রায়েহাত শুভ's picture


পাবলিশের পর নিজে পরে মনে হিল জে আসলেই আরেকটু জমানো যাইত...
থাঙ্কস পরার জন্য...

১৩

নুশেরা's picture


কাউয়ার এই স্টাইলের কা-কা আগে শুনি নাই। জটিল লাগলো।

শেষে আইসা সোলেমান সওদাগর সস্ত্রীক অগস্ত্যযাত্রা করলেন কেন, কারণটা বুঝি নাই। তয় একখান বিষয়... লুলার যদি হার্টে পাঁচ ছেন্দা আর কবজি কবজ করতে হয়, তাইলে তার নামে(লুলা) আ-কারটা না থাকলে কী করা লাগতো ভাবতেই আথমকে আমার হাতপা...

১৪

রায়েহাত শুভ's picture


এই জায়গাতে আরেকটু মনে হয় এলাবরেত করা উচিত ছিল :(
আমার অতম্খে হাত পা ;)

১৫

শাওন৩৫০৪'s picture


তোমার বয়স কি ১৭৬?

দাদীর মায়ের মুখে শুনতো, আমাদের মা-খালারা...দাদীর মায়ের চোখেও পানি আসতো, বড় খালার চোখেও..

 

একদম সেই আদি টোনে...কেম্নে লেখলা?

জোশিলা হৈছে রে..

১৬

রায়েহাত শুভ's picture


ওই গালি দিলা না প্রশংসা করলা বুঝি নাই তো ;)

থেংকু থেংকু...

১৭

লোকেন বোস's picture


লেখাটা চোখ এড়িয়ে গিয়েছিলো। খুব সুন্দর একটা লেখা। কিন্তু খুব তাড়াহুড়া চোখে পড়লো। একটু সময় নিয়ে লিখতে পারেন।

ধন্যবাদ

১৮

রায়েহাত শুভ's picture


আমার একটা সমস্যা আছে, বড় লেখা লিখতে গেলে কিছুক্ষণ পর আগ্রহ হারায়ে ফেলি | যার জন্য লেখায় তাড়াহুড়ার ছাপ দেখা যায় :(

১৯

তানবীরা's picture


এটার অন্য পর্ব কবে আসবে? আমিরজান কি ছালেহাকে পেলো নাকি না সেটা আমাদেরকে অবশ্যই জানতে হবে।

২০

রায়েহাত শুভ's picture


আমিরজানের লাগিয়া ছালেহা গুনবতির মনে হাহাকার আছিল, ভাব-ভালবাসা নহে...

তবে এটার অন্য পর্ব আসতেই পারে...

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

রায়েহাত শুভ's picture

নিজের সম্পর্কে

©
সকল লেখালেখি ও হাবিজাবির সর্বসত্ব সংরক্ষিত...