জলপাই বনের আখ্যান
*
ধুসর গুবরেপোকাটা সেজেছিলো ফিরোজা সোনালী ডোরাকাটা রঙের সাজে।
**
জলপাই বনের স্নিগ্ধ সবুজে ঘুরতে এসেছিলো একটা নীল প্রজাপতি। সবুজগুলো আরো বেশী সবুজ হয়ছিলো সেই নীল প্রজাপতির আগমনী গানে। জলপাই বনের পাখিরা, কেউই দেখেনি গুবরেপোকার আনন্দ। শুধু রঙ মাতাল বসন্ত তার দারুচিনিগন্ধী হাওয়া ছড়িয়ে দিয়েছিলো এদিক ওদিক।
***
কৃষ্ণপক্ষের ক্ষয়াটে চাঁদের আলো ঈর্ষায় খয়েরী হয়ে যায়। জলপাই পাতাগুলি জড়োসড়ো হয়ে ওঠে সেই খয়েরী চাঁদের ঈর্ষায়। মৃদু আলোমাখা পথ ধরে ফিরে যেতে থাকে আনন্দের দল, আর অস্ত্র সজ্জিত বিষাদেরা এক এক করে দখল নিতে থাকে দারুচিনীগন্ধী হাওয়ার।
****
কাঠবাদামের হাল্কা সবুজ পাতাগুলোয় জমা হওয়া শিশিরবিন্দুরা একটা দু'টো করে ঝরে পড়তে থাকে লালচে ধুসর মেঠোপথে। বিষাদের দল শিশিরবিন্দুর ছোঁয়ায় বদলে যায় বিষণ্ণতায়। চাঁদের খয়েরী আলো ধীরে ধীরে গাঢ় থেকে গাঢ়তর হয়। গাঢ়তর থেকে গাঢ়তম হয়। একসময় বুকভরা ঘনঘোর খয়েরী ঈর্ষা নিয়ে ডুবে যায় চাঁদ। রাত ঢেকে যায় অন্ধকারে।
*****
ঠিক, রাত তিনটা বেজে চব্বিশ মিনিটে খয়েরী ঈর্ষান্বিত চাঁদ চেপে ধরে গুবরেপোকার নাকমুখ।
******
জলপাই বনের আখ্যান, সমাপ্ত হবার একটা অনিবার্য কারণ আঁকা হয়ে গিয়েছিলো সেই সময়ের অনেক আগে থেকেই...





প্রকৃতি বদলে যাচ্ছে, অনুভবেও অন্যসুর...
কেমন সুর?
রঙ বদলের
প্রকৃতির রঙতো নিরবিচ্ছিন্ন ভাবেই বদলে চলেছে...
প্রকৃতিতো বদলাবেই... কিন্তু মানুষ! কি জানি!
মানুষের বদলানোটা কী আপনি নিতে পারতেছেন না?
আমি পুরনো দিনের মানুষ, আমার চাওয়া পুরনো।
কতো পুরানা? হোমো সেপিয়েন্স নিয়ানডার্থালেনসিস গোত্রের?
ওইটা হৈলেতো ভালই হৈতো। পাথরে পাথর ঘষে আগুন ধরানোর ফর্মুলাও জানতাম। আফসুস, এক্টু আধুনিক জড় পদার্থই হলাম
তারমানে মানুষ পাল্টায়...
ভাস্করদা রক্স

পাল্টায়তো! আমি পাল্টানো মানতে পারিনা, এইযা।
আমার চাওয়াগুলো কিন্তু নতুন না, শুধু পরিবেশনের স্টাইলটা নতুন
এতো এটেম্প্টটু মার্ডার কেইস!
কবিতা বাংলার চিরায়ত কাঠামোয় ক্ষমতার দাপট হইলেও আপনে যেই ইউরোপিয়ান ট্র্যাজেডি তৈরী করছেন তাতে আন্তর্জাতিক হইয়া উঠছে কাঠামোটা। তয় আপনের এই পরাজিত ভঙ্গীটা আমার পড়তে বেশি সুবিধার লাগে না। আমার বিষণ্নতায় পরাজয়ের চাইতে আকুতি মনে হয় বেশি থাকে। তারেও লিখতে বসলে ছুটি দিয়া দিতেছি আজকাল। আপনে পরাজিত বোধের বিষয়টা নিয়া আমার সাথে বইসেন আজকে মেলায়...আমার কিছু উপলব্ধি শেয়ার করুমনে।
ওকে বস মেলায় বসুমনে আইজকা...
গুবরেপোকাটাকে এতো মনমরা হওয়া মানায় না!
কি করবে বেচারা? শেষ পর্যন্ত সে তো একটা গুবরেপোকাই নাকী?
দুই নম্বর প্যারাটা ভাল লেগেছে বেশি
এটা কবিতা? ওহ
এইটারে কবিতাও বলতে পারেন, মুক্তগদ্যও বলতে পারেন
টানা গদ্যে কবিতা লেখার ধরণটা নতুন কোনো বিষয় না। ফরাসী দাদাবাদী কবিরা বা উনবিংশ শতকের অনেকেই এই কাঠামোয় কবিতা লিখছেন। মালার্মে, এ্যাপোলিনেয়ার এরা হরহামেশা লিখছে। মুক্তগদ্য কইতে যদি মুক্তক ছন্দ বুঝাইয়া থাকেন তাইলে সেইটারও চর্চা হইছে উনবিংশ শতকেই। মালার্মে তো নির্বেদেও কবিতা দেখছে। ঐসময়ে টাইপোগ্রাফিকাল পোয়েট্রিও লিখতো এই লোক।
তানবীরার কবিতা মনে না হওয়ার কারণ কি?
মন্তব্য করুন