মুক্তগদ্যঃ বর্ষানগর
*
বর্ষানগরের কৃষ্ণচুড়ারা একে একে ফুটে চলেছে।
**
দুপুরের ঝলমলে রোদ ভেঙ্গে ছুটে যাওয়া রিকশার টুনটুন শুনে বুকের ভেতর চাপচাপ ব্যাথা জমা হতে থাকে। এমনই টুনটুন রিকশা ছুটে গিয়েছিলো যেদিন তুমি চলে গিয়েছিলে শহর থেকে। আমার নিজস্ব নগর থেকে। ভাঙা চুড়ির মত ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলো শব্দগুলো এসফল্টের রাস্তা জুড়ে।
***
দূর আকাশের কোনে, একপাল কাফ্রী মেঘের মিটিং জমায়েত ছিলো সেদিন। তাই বুঝি বিদ্যুতের চাবুক হাতে নেমেছিলো সোনালী সন্ধ্যা। নিঃশব্দ চাবুক চমকাচ্ছিলো সুর্যকে ঘিরতে উদ্যত মেঘেদের পিঠে। নির্যাতনে অভ্যস্ত কাফ্রী মেঘেরা আনন্দে খলখল হেসে উঠছিলো থেকে থেকেই। আর বেড়ে চলছিলো সংখ্যায়।
****
শোঁশোঁ করে কাফ্রী মেঘদলের বন্ধু, বাউল বাতাস ছুটে এসেছিলো তখন। গাছের পাতায় কাঁপন তুলে উপস্থিতি জানান দিচ্ছিলো তারা। মেঘদলের সাথে সংগত তুলছিলো রাস্তায় নানা শব্দের ওড়াওড়ি। বাউল বাতাসের বাঁশি শুনে চারদিক থেকেই দলে দলে ছুটে আসছিলো কাফ্রী মেঘের ঝাঁক। সুর্যের বিদায় নেবার আগেই তাকে ঘিরে ফেলেছিলো। স্বৈরাচারী সুর্যের দাপট কমিয়ে দিয়েছিলো এক লহমায়। শুধু সুর্যের বরকন্দাজেরা রয়ে গিয়েছিলো চাবুকের বিদ্যুৎ হাতে নিয়েই।
*****
চাবুকের আঘাত বেড়েই চলছিলো সময়ের সাথে সাথে। মেঘেদেরও ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে পড়ছিলো একটু একটু করে। তাই তারা মৃদু লয়ের গান শুরু করেছিলো বৃষ্টিছন্দের আড়ালে। বিদ্যুতের শপাং শপাং চাবুকের সাথে সাথে বাতাসের বাঁশি বেজেই চলেছিলো, আর জোর গলায় নামছিলো মেঘেদের উত্তাল গান।
******
কৃষ্ণচুড়ারা কাফ্রী মেঘদলের গান শুনে বদলে নিয়েছিলো নিজেদের চরিত্র। আর ঝুম বৃষ্টি নেমেছিলো সেদিন। এই বর্ষানগরের রোদজ্বলা পথ গুলো নিমেষেই হয়ে উঠেছিলো থই থই নদী...





লাইক লাইক লাইক।
জীবনে প্রথম তোমার মুক্তগদ্য বুঝতে পেরেছি
দুইনম্বরটা সবচেয়ে বেশি মিষ্টি লেগেছে
আপনারা বোঝেননা, তাই লেখালেখি কমায়া দিতেছি
লেখালেখি চালায়া যাও। যে বুঝার সে বুঝে নিবে
আপনার লেখা টা পড়ে লগ ইন করতে হল।
পুরো লেখায় ফুঁটে উঠা দৃশ্যকল্প টা অসাধারণ। একরাশ মুগ্ধতা ছুঁয়ে গেল।
এই লেখাটার জন্য ইস্পিশাল থ্যাঙ্কস!
এত্তগুলা ধইন্যা আপনার জন্যে...
কিছু কিছু লেখা পড়লে মনে হয় সেই দৃশ্যের সাথেই আছি।এই লেখাটা পড়ে আমার সেই রকম অনুভুতি হচ্ছে।
=====================
একটা প্রশ্ন কাফ্রী কী?
আফ্রিকান দাসদের হেয় কইরা কাফ্রী বলা হইতো একসময়...
শেষেরটার জন্য সব গুলা ভালো লেগে গেলো ।
বৃষ্টিটে ভেজা কৃষ্ণচুড়া কতদিন দেখি না।
বাকীগুলা প্রথমে ভালো লাগে নাই???
প্রথম গুলা পড়ে চোখের মধ্যে পুরাপুরি ছবি আকতে পরছিলাম না যেটা শেষের টা পড়ে ছবিটা পুরাপুরি চোখের মধ্যে ভেসে উঠছে

শেষ ভালো তার সব ভালো
মর্নিং তাইলে ডে শো করতে পারে নাই
jottil!prothom ta ridoye baje tuntun.
Pore comnt debo pc te bosle.
পরের কমেন্টের অপেক্ষায়...
বর্ষা নিয়ে এত দূর্দান্ত লেখা কমই পড়ছি আমি শুভ ভাই।
আপনার কমেন্ট গুলায় মাঝে মাঝেই লজ্জা পাইয়া যাই
বর্ষার বৃষ্টি থেমে যাবার পরপরই কৃষ্ণচূড়া চুইয়ে পড়ে পানির ফোটাঁ দেখতে কি যে দারুন লাগে! তুমি ছবি তোলার সাথে সাথে ছবিও আকঁতে পারো, কথা দিয়ে!
বর্ষার ফুলের ছবি তুলছো না, দিও।
২য় প্যারাটা
এত প্রশংসা করলা? এগুলা রাখি কই?
বৃষ্টিভেজা ফুলের ছবি তোলা হয়নাই এখনো। তুললে দিমুনে...
সেকেন্ড প্যারাটা আমারো
শেষ লাইনটা বড়ই মনোরম।
ধইন্যা
বৃত্ত অনেক ভালো লিখে... একথাটা কি এর আগে বলেছিলাম ?
না বললে অপরাধ করেছি।
ধইন্যা ভাইজান
মন্তব্য করুন