মৃতপ্রায় দিগন্তজোড়া
বলা হতো যখন দিগন্ত ঢেকে যেতো তীব্র শীতের সাদা বরফে, তখন রাতের আধারে নেমে আসতো বর্বরতার দেবতা। লুটে নিতো লুটেরা, হত্যা করতো গ্রামের পর গ্রাম, তরুনী কিশোরী নির্বিশেষে হতো ধর্ষিত নিজের আপনজনের সামনে। এভাবে যখন প্রতিটা শীতে একের পর এক গ্রাম জ্বলে ন গরীর লোকালয়ে পা রাখে তখন ছোট রাজকন্যা বিমর্ষ রাজার কানে একটা বুদ্ধি এটে দেয়। বলে এমন একটা দূর্গ বানাতে যার মধ্যে ঢুকলে শত্রুরা পথ হারিয়ে ফেলবে, হীতাহীত জ্ঞান হারিয়ে যুদ্ধ করার সমর্থ খোয়াবে। পাহাড়ের ওপর বিশাল এক গোলকধাঁধার দূর্গ।
এভাবেই শতকের পর শতক প্রাগের দূর্গ সুরক্ষিত করে আপন লোকালয়, জনমনে এনে দেয় স্বস্তি। প্রবল শীত গুটিগুটি পায়ে এগুচ্ছে আমার জানালার শার্ষিতে আর আমি ঢুলুঢুলু চোখে আকিবুকি করি কুয়াশা ঢাকা কাচে। অবিচ্ছন্ন অবসর আমার, তাই বাসায় ফোন করবার ভুলটি করে বসি।
: সকালে খেয়েছিস?
: হ্যা।
: ঠান্ডা কেমন পড়েছে?
: এখনও তেমন না।
: হাতে টাকা পয়সা আছে? ভালো জ্যাকেট?
মায়ের মন সব জানে, তবু জিজ্ঞেস করবে। তার কন্ঠভরা অসীম আকুতি, ভালোবাসা যা যেকোনো মানুষকে আবেগতাড়িত করবেই। আমি সবসময় ফোনের মাঝে "হ্যালো হ্যালো, শুনতে পাচ্ছি না...নেট এ ডিস্টার্ব.." বলে ফোনটা রেখে দেই। কিন্তু আজ রাখলাম না।
: চিন্তা করিস না। আর মাত্র ক'টা মাস। নির্বাচনে নতুন সরকার আসবে। তুই তখন দেশে আসলেও সমস্যা নাই। কটা মাস স হ্য কর।
: বুঝতে পারছি।
: গতমাসে পুলিশ এসেছিলো। তোর বাবাকে দু'দিন আটকে রেখেছিলো। হাইকোর্ট থেকে কাগজ পাঠিয়েছে, আমাদের সবকিছু নাকি নিলামে ওঠাবে। তোর বাবা কত জায়গায় যে দৌড়াদৌড়ি করেছে। এখন সব ঠিক। এখন আর পুলিশ আসে না।
: হুমমম
: তোর বাবা বাজারে গেছে। কাল ফোন দিস এ সময়ে, কথা বলতে পারবি।
আমি জানি বাবা বাজারে যায়নি। বিছানায় শুয়ে আছে। পুলিশ তাকে দু'দিন হাজতে রেখে জামাই আদর করেনি নিশ্চয়ই।
কি করা যায় ভাবি প্রতিদিন। দেশ নিয়ে ভাবি না, একুল ওকুল কোনো কুলের আশা নাই। সবাই সুখী হলেও আমার সুখটা পাওয়া হবে না। নিশ্চয়ই ঈশ্বরের হাতে আমার জন্য কোনো সুখ নেই। ঠান্ডা ঠান্ডা হাওয়া খেতে ক্যাম্পের খাতা সাইন করে ৩ দিন পর আবার বের হলাম স্টক হোম ঘুরতে। ওজনটা মনে হয় কিছুটা বেড়েছে। হাটতে হাটতে কষ্ট হয়। বাস কার্ডটা নিয়ে হাতের সামনে থাকা প্রথম বাসটায় উঠে গেলাম। জনাকীর্ণ বাসে লোকজন দাড়িয়ে। আমি তবু সিট খুজছিলাম। বাসের মাঝখানটায় দেখি এক সুন্দরী পাশের সীটে ব্যাগ রেখে কানে হেডফোনে কথা বলছে।
: এক্সকিউজ মি, আমি কি বসতে পারি?
মেয়েটা কানের হেডফোন খুলে অনেকক্ষন তাকিয়ে থাকলো। তারপর ব্যাগটা নিজের কোলের ওপর রাখলো। আমি বসে পড়লা। বকর বকর তার কিছু ক্ষন পরেই শেষ।
: কটা বাজে বলতে পারো?
: ১২:১৬
: একটা কথা বলবো যদি কিছু মনে না করো?
: ওকে।
: আমি বুঝতে পারছি না এটা ফ্যাশন কিনা কিন্তু তোমার বুকের ক্লিভেজের ওপরের বোতাম দুটো খোলা।
মেয়েটা নিজের ক্লিভেজের দিকে তাকালো, তারপর কি যেনো ভাবলো, তারপর আমার দিকে চোখ চোখ দুটো চোখা করে বললো,"কেন সুন্দর লাগছে না?"
আমি একটু হেসে বললাম,"আমি চোখ সরাতে পারছি না। এনি ওয়ে, আমি শফিক। তোমাদের দেশে থাকবার চেষ্টা করছি, তার সাথে তোমাদের দেশের সুন্দর সুন্দর সব জিনিস উপভোগ করতে এসেছি।"
মেয়েটি মুখে চোখে মুচকি হেসে বললো,"তুমি খুব স্মার্ট। রাস্তায় এরকম মেয়ে মানুষ দেখলেই তুমি পটাও তাই না? আমি সামান্হা। আমার বয়স কিন্তু ১৬।"
আমি মাথার চুল ঠিক করে বললাম,"১৫ হলেও কোনো সমস্যা নাই। স্কুল শেষ?"
বাসটা এমন সময় তার স্টপেজে থামলো। মেয়েটি ব্যাগটা হাতে নিয়ে বললো,"স্কুল খোলা থাকলেও সমস্যা নেই। আমি এখানেই নামছি!"
আমি সামান্হাকে মন্ত্রমুগ্ধের মতো অনুসরন করলাম। ও যেন হ্যামিলনের বাশিওয়ালা।





আসলেই
শুরুতে মন খারাপ হলেও শেষটায় এসে মজা পেলাম বেশ।
মন খারাপ করে লাভ কি সবসময়?
আপনে আসলেই স্মার্ট!
শুরুতে মন খারাপ হলেও শেষটায় এসে মজা পেলাম বেশ।
সুখ দুঃখ মিলিয়েই জীবন
মন্তব্য করুন