ইউজার লগইন

ফাসিঁর দাবি নিয়ে এসেছি...

আমি উন্মুক্ত প্রাঙ্গনে ঐ অমানুষ শিক্ষকের ফাসিঁ দাবি করছি। আমি তার মৃত্যদন্ড চাইছি। কোন সুযোগ নেই ছলচাতুরির। এ ধরনের অপকর্ম করে আইনের সীমাবদ্ধতার সুযোগে কোনভাবেই বেঁচে থাকতে পারেনা পরিমলের মত পশুরা।

আসুন নারী-পুরুষের সমতার সমাজ গড়ি, যেখানে নারীকে শুধু জৈবিক কারণে নীপিড়নের শিকার হতে হবেনা। আসুন আওয়াজ তুলি, এইসব পরিমলদের নির্মমভাবে মৃত্যুর শাস্তি নিশ্চিত করার। আসুন এক হই, মানুষ-মানবতা-সততার পৃথিবী গড়ে তুলতে।

এ মূহুর্তে কিছুই বলার শক্তি নেই, শুধু পরাজিত হবার বেদনা...

জানোয়ারের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষকে দেয়া ছোট বোনের অভিযোগপত্রটি :

সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি (নাম)। জন্ম ১৮/১১/১৯৯৬। আমি ভিকারুন নিসা নূন স্কুলের বসুন্ধরা দিবা শাখার একজন নিয়মিত ছাত্রী। আমি ছাত্রী হিসেবে ভাল ফলাফলের জন্য প্রতি বিষয়েই স্কুলের শিক্ষকদের কাছে কোচিং করি। যেমন লুৎফর রহমান স্যারের কাছে গণিত, মাহবুবুল হক স্যারের কাছে ইংরেজি, জাহাঙ্গীর আলম স্যারের কাছে পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন, জিনাতুন্নেছা আপার কাছে জীববিজ্ঞান এবং পরিমল জয়ধর স্যারের কাছে বাংলা। অত্র স্কুলে আমি চতুর্থ শ্রেণী থেকেই পড়ে আসছি। পরিমল জয়ধর স্যার স্কুলে বাংলা বিষয় পড়ান বলে আমি তার কোচিংয়ে গত মে ২০১১ থেকে ১০ জনের ব্যাচে পড়া শুরু করি। আনুমানিক ২০-২৫ দিন পরে কোচিং ক্লাসে পড়তে যাওয়ায় আমার একটু বিলম্ব হয়। দেরিতে যাওয়ায় যেটুকু পড়ায় আমি অনুপস্থিত ছিলাম সেটুকু পড়া স্যার আমাকে বুঝিয়ে দেবেন বলে দেরি করতে বলেন। সবাই চলে যায় কিন্তু আমি রয়ে যাই। সবাই চলে গেলে আমি আগের পড়াটুকু পড়তে থাকি। স্যার মূল দরজা বন্ধ করে রুমে এসে রুমের দরজা বন্ধ করে দেন এবং আমি কিছু বুঝার আগেই আমার মুখ বেঁধে ফেলেন। মুখ বাঁধা থাকায় আমি কিছু বলতে পারিনি। হাত ছোড়াছুড়ি করতে যাওয়ায় তিনি আমার ওড়না দিয়ে আমার হাত পেছনে বেঁধে ফেলেন। হাত বেঁধে সে আমাকে ভীষণ মারধর করে। মারধর করে সে আমাকে উলঙ্গ করে ফেলে এবং আমার ছবি তোলে। ছবি তোলার পর সে আমাকে শারীরিক নির্যাতন করে। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি হতভম্ব হয়ে যাই এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। এরপর সে আমার বাঁধন খুলে দেয় এবং সাবধান করে দেয় যে ঘটনা কাউকে বললে, নিয়মিত তার ক্লাস না করলে সে আমার ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবে এবং আমাকে মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দেয়। এতে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি এবং দিশাহারা হয়ে যাই। এরপর জুন ১৭ তারিখ লুৎফর স্যারের ব্যাচ থেকে পড়ে আমি পরিমল স্যারের ব্যাচে পড়তে যাই। তখন অন্য ব্যাচ পড়ছিল। স্যার আমাকে পাশের রুমে বসতে বলেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যাচ ছুটি দিয়ে সদর দরজা বন্ধ করতে যান। তখন আমি দৌঁড়ে গিয়ে তাকে দরজা বন্ধ করতে বারণ করি। তখন সে আমাকে ধাক্কা দেয় এবং মাথা দেয়ালে লাগায় আমি মাথায় ব্যথা পাই। তখন সে আমাকে ধমক দেয় যে, ‘তোকে বলেছি আমার ইচ্ছার বাইরে যাবি তো তোকে জানে মেরে ফেলবো’। এরপর সে আমাকে শারীরিক নির্যাতন করে। জুন ১৮ তারিখ সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ১৯ জুন তারিখে ঘটনাটি আমার সহপাঠীদের অবহিত করি। তারা আমাকে ঘটনাটি শাখা প্রধানকে (লুৎফর রহমান) জানাতে বলে। তারা আমাকে পরামর্শ দেয় যে, শাখাপ্রধান এ বিষয়টির সুষ্ঠু বিচার করতে পারবেন। সেদিন আমি আমাদের শাখাপ্রধান লুৎফর রহমান স্যারকে ব্যাপারটি বলতে যাই। কিন্তু তিনি ব্যক্তিগত বা স্কুলের কাজে স্কুলে ছিলেন না বিধায় তাকে ওইদিন ঘটনাটি জানাতে পারিনি। জুন ২০ তারিখ স্যার স্কুলে অনুপস্থিত ছিলেন। জুন ২১ তারিখে তিনি স্কুলে আসেন এবং আমি তাকে সুযোগ বুঝে ব্যাপারটি জানাই। তিনি আমাকে বললেন যে, তিনি ঘটনাটি দেখবেন। লুৎফর রহমান স্যারকে ঘটনা জানানোর পরও ২২শে জুন পরিমল স্যার স্কুলে এলে আমি লুৎফর স্যারকে পুনরায় ব্যাপারটি বলি। তিনি আমাকে ব্যাপারটি ভেবে দেখছেন বলে আশ্বস্ত করেন। জুন ২৩ তারিখে স্কুলে অভিভাবক মিটিং ছিল যেখানে আমাদের স্কুলের অধ্যক্ষ হোসনে আরা বেগমও উপস্থিত ছিলেন। সেদিন পরিমল স্যারকে আমরা স্কুলে দেখিনি। এরপর ২৬ ও ২৭শে জুন তারিখ অসুস্থতার কারণে আমি স্কুলে উপস্থিত হতে পারিনি। জুন ২৮ তারিখে স্কুলে গেলে আমাদের দশম শ্রেণীর সব ছাত্রী পরিমল স্যারের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় আমরা আলোচনায় বসি। আলোচনায় তার সম্পর্কে আরও কিছু কুরুচিপূর্ণ কথা উঠে আসে। তখন আমরা সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেই যে, আমরা অধ্যক্ষকে এ ব্যাপারে অবহিত করবো। তাই আমরা পরিমল স্যারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে আবেদনপত্র তৈরি করি। আবেদনপত্রটি ক্লাসে পড়ে শোনালে স্বেচ্ছায় সবাই এতে নিজ নিজ নাম স্বাক্ষর করে। এরপর আবেদনপত্রটি শাখা প্রধান জনাব লুৎফর রহমান স্যারের মাধ্যমে অধ্যক্ষ বরাবর পৌঁছে দেয়ার অনুরোধ জানাই। উল্লেখ্য যে, আমি স্কুলে অনুপস্থিত থাকাকালীন ২৭শে জুন ঘটনাটি স্কুলে জানাজানি হয়ে যায়। অতএব, এ ব্যাপারটি আপনার সুবিবেচনায় এনে আমার ওপর পরিমল স্যার যে বর্বরোচিত, অমানবিক, অনৈতিক, ঘৃণিত আচরণ করেছেন তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

পোস্টটি ৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

সামছা আকিদা জাহান's picture


আমির প্রকাশ্যে পাথর ছুড়ে ছুড়ে হত্যা করা উচিত। যাতে অন্য একজন এই ধরনের অপরাধ করার আগে ২য়বার ভাবে। ওই স্কুলের যে সকল শিক্ষক পরিমলকে সাহায্য করছে তাদের কে ও প্রকাশ্যে চাবুক পেটা করা উচিত।আর যারা বিষয়টি নিয়ে বারবার ভেবে দেখব বলছে তাদের কে কাপুরুষতার জন্য স্কুল থেকে রাজটিকা দিয়ে বের করে দেয়া উচিত।

রাসেল আশরাফ's picture


আমি উন্মুক্ত প্রাঙ্গনে ঐ অমানুষ শিক্ষকের ফাসিঁ দাবি করছি। আমি তার মৃত্যদন্ড চাইছি। কোন সুযোগ নেই ছলচাতুরির। এ ধরনের অপকর্ম করে আইনের সীমাবদ্ধতার সুযোগে কোনভাবেই বেঁচে থাকতে পারেনা পরিমলের মত পশুরা।

জ্যোতি's picture


এরা এসব কুকর্ম করে পার পেয়ে যাচ্ছে। এদের প্রকাশ্যে গুলি করে মারা উচিত।

রিজওয়ানা এ.আর.'s picture


রাঘব-বোয়াল আত্বীয় স্বজনের দোহাই দিয়ে এরা যেন কোনভাবেই পার না পায়।

রশীদা আফরোজ's picture


এমন শাস্তি তাকে দেয়া উচিত যেন ভবিষ্যতে আর কেউ এরকম কিছু করার সাহস না পায়।
আর আমি অভিভাবকদের বলবো, এ সমাজ আমাদের কন্যা শিশুদের জন্য নিরাপদ নয়, তাই ওদের যতোটা সম্ভব দেখে রাখুন।

একজন মায়াবতী's picture


এমন শাস্তি তাকে দেয়া উচিত যেন ভবিষ্যতে আর কেউ এরকম কিছু করার সাহস না পায়

শাস্তি পেয়েও পার পেয়ে যায় পরিমল'রা।

ভোর হয় নি, আজ হলো না
কাল হবে কি না তাও জানা নেই Sad

শওকত মাসুম's picture


ফাসিঁর দাবি নিয়ে এসেছি...

তানবীরা's picture


স্টোনিং অফ পরিমল এর দাবী জানাই

সেই সাথে মেয়েটিকে শ্রদ্ধা জানাই যে প্রতিবাদের সাহসটুকু করেছে

মাহবুব সুমন's picture


তালেবানী স্টাইলের শাস্তি চাই না, উত্তরাধোনিক শাস্তি চাই।
পরিমল ও এ জাতীয় কু মানবকে নপুংসক বানিয়ে, বছর খানেক ইস্টোজেন হরমোন ইন্জেকশন দিয়ে তার পর চিটাগাং জেল এর মেল ওয়ার্ডে রেখে যাবজ্জীবন শাস্তি দেয়া হোক।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.