পারব কি ফিরে যেতে
এখন আর কবিতা লেখা হয় না। খুব যে লিখতাম তাও না। মনের এলোমেলো ভাবনাগুলোকে ডায়রির পাতায় সাজিয়ে লেখা পর্যন্তই আমার কবিতা। বন্ধুদেরও দেখাই নি সবগুলো। শুধু তাদের জন্য লেখাগুলো পড়ে শোনাতাম।
বন্ধুদের অনেকেই জীবনানন্দ দাসের কবিতা গুলোকে গলা কাপিয়ে আবৃত্তি করত। বলতাম, তোরা বুঝিছ কবি কি বলতে চেয়েছে? এভাবে হয় না। কবির কথাগুলোকে বুঝতে হবে, চিন্তাটাকে নিজের চিন্তায় আনতে হবে। না বুঝে বলাটাকে পড়া বা মুখস্ত বিদ্যা বলব আবৃত্তি বলব না।
ওরা বলত, তোর একটা কবিতা দে তোর ভাবনা তো বুঝতে পারি , এবার আবৃত্তি হবে।
না, ডায়রির পাতায় বন্দি কথাগুলো আবৃত্তি হয় নি উচ্চস্বরে। লেখাগুলোয় হাত বুলিয়ে শূন্য চোখে তাকিয়ে থাকি। কারো কাছে এগুলো কথা, কারো কাছে কবিতা, কারো কাছে বা ভাবনা।
আমার কাছে সুন্দর মুহূর্ত্ব। সেই সময়টাতে সুন্দর কল্পনার জগতে ঘুরে বেড়ানো মুহূর্ত্ব। প্রতিটা লাইন সেই সুন্দর কল্পনায় টেনে নিয়ে চলে। ফিরে যাই সেই সময়টাতে, যখন চিন্তাগুলোও ছিল সুন্দর আর রঙ্গিণ।
জানি না ক'জন পারে এমন করে ফিরে যেতে। আজ খুব ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে। পেটের দায়ে বলো আর বেঁচে থাকার জন্য বলো , ব্যস্ততার যে শিকল পায়ে বেঁধেছি, তা ছিঁড়ে উড়ে যাওয়ার শক্তি আমার নেই। কানের এয়ারফোনে চলতে থাকা দেশের গান গুলো সকালের পলাশ ফুলের কাছে টেনে নিয়ে যায় ঠিকই। তবে পরমুহূর্তে ট্রেণের হাল্কা ঝাঁকুনি নিয়ে আসে বাস্তবে। চলো, চলো,,,,, সময় নেই সময় নেই,,,,,,, এই ছুটে চলা কোনদিন থামবে কি?





শিরোনামহীনের একটা গান আছে, নিঃসঙ্গ। লেখাটা পড়ার সময় গানটার কথা মনে পড়ে গেল। ছুটে চলার কোনো শেষ আছে বলে মনে হয় না।
মন্তব্য করুন