একখানি ক্রিয়া পদ দিয়ে
আমাদের বাসায় একজন হাফ বিদেশিনী থাকেন। গায়ের রঙ, খাওয়া – দাওয়া সবই দেশি শুধু মুখ খুললে সমস্যা। তার বাবা মায়ের মাতৃভাষা বাংলা হলেও তার জন্য এটি দ্বিতীয় ভাষা। তিনি তার পছন্দের ভাষাতেই কর কর করতে চান কিন্তু মায়ের আবার বাংলা বাংলা বাতিক আছে। তাই বাসায় রফা হয়েছে, বাবার সাথে অন্য ভাষার চর্চা চললেও মায়ের সাথে শুধু বাংলা আর বাংলা। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার চর্চা করতে মা বদ্ধপরিকর। তিনিও কম যান না। একখানা ক্রিয়া পদ ব্যবহার করে তিনি সর্ব ধরনের বাংলা ভাষা ম্যানেজ করে ফেলছেন। তার সাথে থেকে থেকে তার মা, খালা, মামা সবার বাংলা বলার ধরন পালটে যাচ্ছে। নিজে থেকে ডাচকে বাংলায় ভাষান্তর দিয়ে তিনি আজব কিছু বাক্যও গঠন করেন। যেমনঃ স্কুলের বন্ধুর জন্মদিনে গিয়েছেন তিনি। ফিরে এসে বলছেন, মা এভির আম্মু আমাকে অনেক সুন্দর পেলো। কেউ কিছু দিলে, আন্টির জন্য এটা আমি পেতে পারলাম।
তবে বিশেষ সেই ক্রিয়াপদের কিছু নমুনা এখানে। মেঘ তুমি গোসল করেছো? না, তোমাকে আমাকে হেল্প করতে হলো। মেঘ তুমি বই পড়েছো? না তোমাকে লাইব্রেরী থেকে নতুন বই আনতে হলো। দুষ্টামী করলে পিট্টি পরলে, তিনি গম্ভীর মুখে আমাকে বলবেন, সেজন্য তোমাকে আমাকে মারতে হলো না। কি করছো মেঘ? আব্বুর জন্য আমাকে এখন দশটা অঙ্ক করতে হলো। মেঘ কি খাচ্ছো? আম্মির জন্য এখন আমাকে দুধ খেতে হলো। এই জামা পরেছো কেনো? আব্বুর জন্য এখন আমাকে শীতের জামা পরতে হলো। এখন কি করবে? এখন বই পড়তে হলো, আব্বুর জন্য এখন আমাকে টিভি দেখতে হলো না। কার সাথে কথা বলছো? আব্বুর জন্য এখন আমাকে ফোনে কথা বলতে হলো।
সব হলো দিয়ে শুরু আর হলো দিয়ে শেষ।
আর আছে তার যুগান্তকারী ভাব, কিছু না হতেই মুখ কালো করে বলবে, আমার কিছু বালোওওওওও লাগে না।
কিছু কিছু সুমধুর প্রশ্নও আছে, ছোতবেলায় কেনো আমাকে ডিনে ডুইবার ডুদ খেটে হলো? সকালে মুখ ধুতে বললে সে সমানে কুলকুচা করে যায়। আমি বকা দিলেই বলবে তাহলে কেনো দুতোই মুখ হলো বাংলায়। আমি কিচু বুজতে পারি না। তখন আমাকে শুদ্ধ করে বলতে হয়, একবার মুখ ধোও আর একবার চেহারা ধোও।
এখানে কথায় কথায় লোকের প্রচুর “ওকে” শব্দটি ব্যবহার করেন। আমি “ওকে”র বিকল্প হিসেবে “ঠিক আছে” কথাটি বলি। তিনিও বলেন, “থিক” আছে আম্মি, থিক।
বাংলা ভাষার যা হচ্ছে তাতো হচ্ছেই কিন্তু বিদেশিনীর মুখে বাংলা শুনতে খুবই “সুইট” লাগে।
তানবীরা
০৮.১২.২০১০





বাকি জীবনও যেন আম্মির কাছে সুইট থাকে বিদেশিনী।
ধন্যবাদ
মেঘের জন্য এখন আমাকে এই লেখাটা পরতে হলো।

আমাকেও এই কমেন্টের উত্তর দিতে হলো
মেঘের সুইট গল্প আরও চাই।
সুইট মেঘের সুইট গল্প।
সুইট আন্টির সুইট কমেন্ট
এটাতো খুউব মজার পোষ্ট হলো।
আমার এক সাদামাটা চাচাতো বোন বিদেশে থেকে তার বাচ্চাদের সাথে ইংরেজি আর বাংলার যেসব জগাখিচুরী কথা বলতো সেগুলোও আমাদের খুউব উপভোগ্য ছিল। দু একটা নমুনা দিই
রাফি তুমি water খেয়েছ? teeth-এ meat লেগে আছে? Belly-তে pain করছে?
এখনো বলে নাই, মোডের গরব মোডের এশা, এ মরি বেংলা ভেষা?
তবে এটা ঠিক যে বিদেশীনিরা বাংলাদেশের রেডিওগুলার কথাবন্ধুদের তুলনায় শুদ্ধ বাংলা বলে।
হাহাহাহাহা। আমার কিন্তু আলহাদী গলা শুনতে বেশ লাগে
এই মিষ্টি ক্রিয়াপদগুলো আজীবন জেগে থাকুক সেরকম সুইট কামনা!
ধন্যবাদ নীড়দা
একই প্রত্যাশা আমারও। ধন্যবাদ তানবীরা।
আপনাকেও ধন্যবাদ
হাহা , কি সুইট ।
আমার ভাগ্নে , ১৮ মাস বয়স। একটু একটু কথা শিখছে যেমন ক্কাক কও (কাজ করি) বাত কাবা (ভাত খাবো) , এক্কেবায়ে না (একেবারে না) ।
আপনারে কি ডাকে সেইটাতো বললেন না
স্যাড নাকি??
)
আমারে মাম্মমা কয়ে ডাক দেয় ।
আপ্নেরে কি মেয়ে মেয়ে দেখায় নাকি? মা ডাকে ক্যান?
তানবীরা'প্পুর লেখা পড়ে খুশি হতে হলো। এরকম খুশি আরো হতে ইচ্ছে হলো।
সুইটু মেঘের জন্যও আদর বরাদ্দ করা হলো।
এবং আপাতত বিদায় নেয়া হলো।
মীরকে আরো বেশি দেখা যেতে হলো। মন খারাপকে ভালো হতে হলো। একটা সেইরকম গল্প পোষ্ট দিতে হলো।
মিষ্টি মেয়ের মিষ্টি গল্প শুনে ভাল লাগলো । মেঘের আরো গল্প শুনতে আরও ভাল লাগবে ।
ধন্যবাদ আপনাকে
মেঘের আম্মুর লেখা এখন মজা লাগতে হলো...
বৃত্তবন্দীকে আরো ঘন ঘন দেখতে হলো
ভাল্লাগলো খুব, তবুতো বাংলা বলার চেষ্টা করছে, আমি নিজেই সারাদিন ক্ষেতের মত বাংলিশ আউড়াই।
ক্ষেতের মতো নাকি ইস্মার্ট এর মতো বলেন
আপু লেখাটা ভালো লাগতে হলো ..
মেঘের জন্য অনেক আদর দেয়া হলো।
রুমিয়াকে আরো অনেক বেশি কবিতা লিখতে হলো
হলো।
না হতে হলো না
হেব্বী মজা পাইলাম ... আপনার টুকটুকিটা আসলেই "সুইট"
বাদশা ভাই, মেয়ে বড় হচ্ছে, ভালো ছেলের খোঁজ থাকলে জানাইয়েন
পোস্ট পড়ে 'মজারু' লেখতে হলো এবং
দাঁত কেলাতে হলো !
ধন্যবাদ দিতে হলো
ভাষাটা আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে।
মেঘের জন্য শুভকামনা।
অভিজ্ঞতা অবশ্য সেরকম বলে না তবে আশা আর চেষ্টা দুইই রাখছি
ক্যাপ্টেনের পোস্ট মেঘের জন্য পড়তে মজার হল।
মেজরকে ধন্যবাদ দিতে হলো
কবে যে নিজের বাচ্চা কাচ্চা হবে!
বাচ্চাওয়ালা একটা বৌ হৈলে মনে হয় মুকুলের জন্য ভালো হৈবে ...
ইয়াযিদ ভাইয়ের জন্য কমেন্ট লাইক দিতে হল।
আমি তো বলছি আমার বাচ্চা কাচ্চা। এখন আপনে কি কৈতে চাইতেছেন, যারা ইতোমধ্যেই হয়া গেছে, সেগুলা আসলে আমার বাচ্চা কাচ্চা!
আরে না, ওরা তোমার বাচ্চা হৈবো ক্যান ? আমি তোমার কষ্ট কমাইতে চাইছিলাম... দেখোনা, রায়হান ভাইয়ের কত কষ্ট !!!

আমাকে আপনার এই লেখাটা পরতে হলো... এবং আপনাকে লেখা ভালো হলো
আমাকে কেনু এই পোস্ট দেরিতে পড়তে হলো?
মাসুম ভাইকে এর জবাব দিতে হলো
দেশীকে বিদেশিনী বলায় মাইনাস।
তোমার চোখ মাইনাস। হাফ বিদেশিনী বলছি না
আমার এই লেখাটা পড়তেই হলো! এবং ভালোও লাগল!
মামণির জন্য শুভকামনা
মামাকেও শুভ কামনা। পরীক্ষা কেমন হয়েছে?
তানবীরা,
আপনার জন্য আমাকে হাসতে হলো আর এই সাইটে লিখতেও হলো|
দাদা, শুধু কমেন্ট করলে হবে না, পুরো আস্ত লেখা দিতে হলো। আপনাকে দেখে খুবই ভালো লাগতে হলো এখানে।
মেঘ এর কারনেই মজার লেখাটা আপনাকে লিখতে হলো, আর তা পড়ে ভালো লাগতেই হলো...
মন্তব্য করুন