গভীর ভাবের পোষ্ট
অনেকদিন পরে ব্লগের সকলের মন ভালো তাই আমারো মন ভালো। এমনিতে ব্লগটা ঝিমায় অনেক। “আমরা বন্ধু” বাদ দিয়ে “আমরা ঝিমাই” দেয়ার অবস্থায় চলে যায় মাঝে মাঝে। শীতের আনন্দে অনেকেই ব্লগে ফেরত এসেছেন, ব্লগটা একটু চাঙ্গা হয়েছে এই খুশীতে আমিও একটা পোষ্ট দিতে চাই। পোষ্ট দেয়ার মতো কিছুই নাই তবুও দিবো তাই.........
প্রবাসে আমার দশা অনেকটা “ছাই ফেলতে ভাঙ্গা কুলা”, “নাই বনে শিয়াল রাজা” কিংবা “আলু”র মতো। “আলু” মানে সব তরকারীতেই যায় আর কি। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতে কেউ নেই, ঠিকাছে “ওনি, কাচ্চা বাচ্চাদের নাচ দেখিয়ে দেয়ার কেউ নেই, ঠিকাছে “ওনি”, সেমিনারে বিদেশী গেষ্ট আসবে, ইংরেজী - ডাচ বলতে একজন মেয়ে দরকার, তাইলে “ওনি”, প্রধানমন্ত্রী আসবে মানপত্র পাঠ করতে লাগবে, আচ্ছা আর কাওরে না পেলে “ওনি”তো আছেনই। সবার লাষ্ট চয়েস। এহেন আমি কয়দিন ধরে গভীর ভাবে আছি।
প্রথম ভাব অবশ্য আসার আগেই কেটে গেছে। ঢাকা এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে আছি ফকিরের মতো অসহায় হয়ে নিজের স্যুটকেসের আশায়। এ্যমেরিকানদের ঢাউশ ঢাউশ লাগেজের ভিতরে আমার রোগা পটকা স্যুটকেসের আর দেখা নেই। ঘন্টা পার হয়ে গেলে দেখা যাচ্ছে আমরা অনেক ইউরোপীয়ানই কনভেয়র বেল্টের চারপাশে লাট্টু খাচ্ছি আর ইয়া নফসী ইয়া নফসী করছি। ঐদিকের কাঁচের জানালা পাশ দিয়ে কয়শো টাকার জানি টিকেট কেটে ছোটবোন আর ভাইঝি ঢুকে হাত নেড়ে যাচ্ছে। মেয়ে ষোল ঘন্টার জার্নির শেষে এই কষ্ট আর নিতে পারছে না, এক ঠ্যাঙ্গে ঠাই দাঁড়িয়ে থাকা এক জায়গায় তাও যখন ঐপারে মধুর হাতছানি। কেঁদে কেটে, ঘ্যান ঘ্যানিয়ে চরমভাবে সে প্রতিবাদ করে যাচ্ছে। এমন সময় এক তীক্ষন ভাষিনী কানের পাশে বলে উঠলেন, “আপনাদের স্যুটকেস পাইছেন”? আমি ফিরে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম না ওনি কাকে বলছেন। নিশ্চিত হওয়ার জন্য জানতে চাইলাম আমাকে বলছেন? তিনি মাথা নেড়ে নিশ্চিত করলেন, আমাকেই বলছেন। আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না হঠাত আমাকে কেনো?
তিনি আমার প্রশ্নবোধক মুখভঙ্গী লক্ষ্য করে বললেন, আমাকে চিনতে পারেন নাই, আমি আমষ্টারডাম থাকি। ঐ যে বৈশাখে আপনার সাথে দেখা হলো, আপনি নাচলেন অনুষ্ঠানে। আমি আমার স্মৃতির মনিকোঠায় বারি মেরেও কিছু বের করতে না পেরে, চুপচাপ মাথা নেড়ে সায় দিলাম। মহিলা তাতেও দমলেন না, তিনি বললেন, আপনে না চিনলেও সমস্যা নাই, ভাইয়ের সাথে পাশের বেল্টের কাছে দেখা হইছে, কথা হইছে, ওনি চিনছেন আমাকে। আমি হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। যাক, পরিবারের কেউতো ভদ্রতা রক্ষা করেছে। তখন আমি আমার স্যুটকেস আর ঐ আজাবখানা থেকে বেরোনো ছাড়া কিছু ভাবতে না পারলেও পরে ঘটনাটা মনে পরে বেশ ভাব ভাব ভাব আসলো মনে। “ইষ্টার ইষ্টার” ভাব।
দ্বিতীয় বারের অবস্থা আরো খারাপ। আমরা বড় গ্রোসারী করতে পাশের দেশে বেলজিয়ামে যাই। সেখানে তুলনামূলকভাবে সস্তা প্লাস অনেক বেশি চয়েস থাকে। কিন্তু বাংলা বাজার যেখানে সেখানে গাড়ি পার্কি এর বিরাট সমস্যা। আমরা বিশ কেজির বাশমতি, রুই, কই, ইলিশ, পাবদা, কাকরোল, পটল, আলাদ্দিনের মিষ্টি, প্রানের ঝাল চানাচুর, খেজুরের গুড় ইত্যাদি কিনে দাঁড়িয়ে আছি। তিনি গেছেন গাড়ি আনতে। শনিবার একেতো অনেক ভীড় সাথে ঠোলাদের আনাগোনা। এচাল থেকে বেচাল মানেই জরিমানা, টিকিট। সাধারনতঃ দোকান থেকে কেউ আমাদের বাজার গাড়িতে তুলতে সাহায্য করেন, সেদিন অনেক ভীড় তাই দোকানের কেউ গা করছেন না। আমিই একবার মেয়ে দেখছি, আর একবার প্যাকেট দেখছি ভীড়ের মধ্যে কেউ যেনো আমার লটকে শুটকি না নিয়ে যায় আর একবার দেখছি গাড়ি এলো কি না। এরমধ্যে একজন বেশ গোলগাল ভুড়িওয়ালা ভাইজান এসে বললেন, “স্লামালিকুম আপা, কেমন আছেন, মেয়েতো দেখি মাশাল্লাহ অনেক বড় হয়ে গেছে।“ টাশকিত আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে জিজ্ঞেস্ করলাম, আমাকে বলছেন? তিনি বিমলানন্দে বললেন, “হ আপনারেই। কয়দিন আগে না আপনের নাটক দেখলাম, মনে নাই আমারে?”
আমি আমতা আমতা করছি চরম বিরক্ত নিয়ে। ওনি বিরাট হাসি দিয়া বললেন, অসুবিধা নাই, না চিনলে, পরের প্রোগ্রাম যেনো কবে, আবারতো দেখা হইবো। এবার কি করবেন, নাটক না নাচ? সেই মূহুর্তে গাড়ির টেনশান বিরক্তি আর ইলিশ মাছ পটলের মাঝে আমাকে কেউ “ইষ্টার” হিসেবে সনাক্ত করুক তা আমি কিছুতেই চাইছিলাম না। কিন্তু কিছু বলতেও পারছি না। ফোনে আমার ভাইকে এ গল্পটা এটুকু একদিন বলতেই ভাই বিরক্ত হয়ে বললো, চরম বেকুবতো তুই। তুই বলবি না, হ্যা চিনসি আপনারে, এখন আমার চালের বস্তাটা একটু গাড়িতে উঠায় দেন। কিন্তু তখন সেই বুদ্ধি মাথায় যোগায় নাই। পরে মাছ তরকারী সমেত শান্তিতে গাড়িতে বসার পর আবার আমার মনের মধ্যে ভাব খেলা করতে লাগলো। এই ভাব সহ্য করতে না পেরে এই পোষ্টের অবতারনা।
ডিং ডং
দুটো অতিরিক্ত ভাবমূলক ছড়া
ডুবে আছি বরফের তলে
কষ্ট যন্ত্রনা প্রতি পলে
বাসার ভিতরে হিটিং জ্বলে
এটাকে কি সুখে থাকা বলে?
এটি মেঘলার মুখে
হাট্টিমা টিম টিম
তারা গাছে মারে ডিম
তাদের ঘাড়ে দুটো শিং
তারা হাট্টিমা টিম টিম
তানবীরা
১৯.১২.২০১০





উপদেশ একটাইঃ খ্যাতির বিড়ম্বনাকে শক্তিতে পরিণত করুন।
কি ধরনের শক্তি যদি একটু বিস্তারিত বলতেন
একবার নিউমার্কেটে ঘুরছি, হঠাৎ এক দোকানদার ছুটে এসে হাত জড়িয়ে ধরে বললো, ভাই কেমন আছেন
আমি বলি, জী ভালো।
দোকানী বলে, ভাই আসেন এক কাপ চা খান।
বললাম, না ধন্যবাদ। কাজ আছে।
দোকানী বললো, একটু আসতেই হবে, আমার দোকানে পদধুলি দিতে হবে।
বললাম, না ভাই পারবো না।
দোকানী বললো, আমাকে চিনতে পারছেন না?
বললাম, ইয়ে আসলে ঠিক.........।
দোকানী বললো, আরে সেদিন বোয়ালখালী কলেজে আপনার অনুষ্ঠানে স্টেজে কতো নাচলাম......টিভির চেয়েও আপনাকে দারুণ লাগছিল..........।
আমি আকাশ থেকে প্যারাসুটে নামছি তখন। ভাবের কোন তুলনা নাই।
হ, নীড়দা ভাবের কোন তুলনা নাই যদি ভাবের সময় ভাব হয়। যখন বুয়ার মতো কাপড় প্যাচাইয়া মাছ পটলের হিসাবে ব্যস্ত তখন ভাব আসে? যখন সেজে গুজে বসে থাকি তখন কেউ চিনে না
'ইস্টার' হতে মন চা্য় !
মঞ্চায় আবার কি? আপনিতো সুপার ইষ্টার
তার মানে, তারার চেয়েও আমার অবস্থান আরও-ও উপরে ? তা'হলে আমি মাটি হতে চাই, সকলের কাছাকাছি, সব চেয়ে কাছে ।
হাট্টিমা টিম টিম
তারা গাছে মারে ডিম
মেয়েতো ভালই ছড়া কবিতা শিখতেছে
ইস্টার হৈতে মন্চায়।
আপনে হলেন গোল্ডেন ইষ্টার
আপা আপনের নাচ কিন্তু সেরম।আমিও চিনছি আপনেরে। আমারে চিনছেন তো?
আপনারে না চিনলে চলবে? আপনার লেখা আর ফ্রায়েড রাইসও সেরকম
আপা আপনের নাচ কিন্তু সেরম।

আপনার নাচও মন্দ না মেজর
ওহ হো আপ্নেই তাইলে সেই! আপ্নের নাচের ভিড্যূ তো আমি নেট থিকা নামায় দেখছি। চ্রম।
আমারে চিনছেন? না চিননেরই কথা।
যাউক্গা এর্পরে প্রোগ্রাম কবে? দাওয়াত না দিলেও কিন্তুক যামু কৈলাম।
আইসেন, দর্শক জনার্দন। তারা না আসলে কার জইন্য এই নাচ গান? আইসেন কিন্তু ভাইডি
তারা গাছে মারে ডিম

তাদের ঘাড়ে দুটো শিং
এইটাতো বাংলাদেশের চিত্র.. মেঘলা এখনি চিন্না ফেল্ছে
এইটা কিন্তু ভাবের কমেন্টস

মেঘলার বাংলা শিখা আর আমার আরবী শিখা এক। পড়ে আর ভুলে, পড়ে আর ভুলে। কাঠবিড়ালী ছড়াটা এতো ভালো পারতো এখন তার এক লাইনও মনে নাই।
তাও তিন / চার বছর বয়সে শেখাটা হঠাৎ তার মনে পরে গেলো।
আমিও ভাব ধরলাম কমেন্ট করুম না।
আমিও রিপ্লাই দিবো না
আপা আপনের নাচ কিন্তু সেরম

আপনার ফতুয়াও সেইরকম
এই পোষ্ট থেইকা পাইলাম তানবীরা = আলু
হ! সেটাই... ইষ্টার মানু নিজেরে উইন্টার উইন্টার ভাব্লে কেম্নে হবে!!... সব পালাপার্বন মেনে আমাদের এই ইষ্টারের সাজুগুজু দারুন লাগে আমার...
শুভজন্মদিন মেঘলা...
খালামনিকেও জন্মদিনের শুভেচ্ছা
আফা, আমারে আপনি চিনেন আর নাই চিনেন আমি কিন্তু আপনার চাউলের বস্তা উঠামু না।
আপনারা থাকতে কি আমারেই চাইলের বস্তা উঠাইতে হইবেক? বিবেক নাই আপনেগো? জাতির বিবেক খুঁজতেছি
(
আলু হইলেও আপনি তারকা আলু, যেনতেন আলু না
তানিম আসো, দুইটা ভালো মন্দ গপ সপ করি। টমেটো জুস খাবা টাবাস্কো দিয়ে? কিংবা মজেরেলা দিয়ে টোস্ট?
'ইষ্টার' হইতে মঞ্চায় !
অটোগ্রাফ প্লীজ !
আরশি ভাই, বই ছাপা হোক তারপর অটোগ্রাফ প্র্যাক্টিস করবোনে
'ইষ্টার' হইতে মঞ্চায় !
সুপার ইষ্টাররা ভাব ধরলে আমি কি কমু? আমরা হইলাম পাতি ষ্টার।
আপনি তো ইন্টারন্যাশনাল ইষ্টার..
খ্যাতি তো তাইলে আইসাই পড়ল ... বিখ্যাতিও লাইনে আছে মুনে হয়

অটোগ্রাফ কি দেয়া শুরু করছেন? দিলে পয়লা আমারে দিতে হৈপে। বুকিং।
আইচ্ছা লাইনে দাড়াও
ভাবের অভাব বাঙালীর কোনকালেই হয় নাই, অপনারো না হোক।
ভাবের অভাব বাঙালীর কোনকালেই হয় নাই, অপনারো না হোক।
সেজন্যই বাঙ্গালীর ভেতো স্বভাব ঘুচলো না। আপনার শুভ কামনার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ ঈশান, ভালো থাকবেন।
বেশিক্ষণ ভাব ধইরা থাকলে ভ্যাজালও আছে। নইলে ভাব যদি ভার হইতে থাকে কাইত হইতে দেরি লাগবে না।
ভাঙ্গাকূলা থাইক্যা দুধভাত ভালো। কিঞ্ছিৎ সর্মানেরও
সেইটাই দাদা, সবই কপালের লিখন
মন্তব্য করুন