কষ্ট ও বেদনার কাব্য
কাল শ্রাবণের জন্মদিন। গত ৩ বছর ঠিক রাত ১২ টায় শ্রাবণের ফোনে একটি কল আসতো , কোন আকাঙ্খা ছাড়া।
ওপাশ থেকে বলতো শুভ জন্মদিন পাখি । আমার বিল্লি একবার মিউ বল, মিউ বললে তোমাকে অনেক কিউট লাগে।
শ্রাবণ বলতো কি যে বলনা তুমি, আজ আমার জন্মদিন তাই বলে কি আমি শিশু হয়ে গেছি নাকি?
না, পাখি শুধু আজ না, তুমি আমার কাছে সবসময়ই শিশু।
কাল তোমার জন্মদিন উপলক্ষে আমরা সারাদিন ঘুরবো।
আচ্ছা।
পাখি তোমার গিফটটা কি পছন্দ হয়েছে?
হ্যা, অনেক সুন্দর ।
দেখতে হবে না, কে কিনেছে? তুমি কিন্তু কাল ওইটা পরে বের হবে। আর আমি পরবো সবুজ শাড়ী। তোমার সাথে মিলিয়ে ।
আচ্ছা।
ওই তোমার কি খুব দাম বাড়ছে নাকি? গুনে গুনে কথা বলছো ?
কই না তো । তুমি বলছো তাই আমি কম বলছি ।
আচ্ছা যা ই হোক, তোমার জন্য তোমার পছন্দের গরুর গোস আর খিচুরি রান্না করে পাঠিয়েছি , পেয়েছো ? গোস্তে ঝাল একটু বেশি দিয়েছি, খেয়ে নিও, আর খাওয়া শেষে আমাকে কল কোরো । তাহলে এখন রাখি পাখিটা ।
আচ্ছা ঠিক আছে, আমি খেয়েই তোমাকে কল করবো ।
এইছিলো শ্রাবণের জন্মদিনের প্রথম ১৫ মিনিট। ফোন রাখার পর শ্রাবণ শুধু ভাবতো, এই পাগলীটা আছে বলেই হয়তো বাচতে ইচ্ছা করে। নাহলে আমার মতো মধ্যবিত্যের জীবনে এত উচ্ছাস আসতো কোথা থেকে?
শ্রাবণ একটি মধ্যবিত্য পরিবারের ছেলে। সে শিক্ষিত একটি ভালো চাকুরী করে। কোন অভাব নেই । জীবন নিশ্চিত, নির্ভার, কোন সমস্যা নেই। প্রেম করছে, একটি ভালো মেয়ের সাথে, একটু পাগলী, কিন্তু অনেক ভালোবাসে । ওকেই বিয়ে করবে শ্রাবণ । হবে ওদের টোনাটুনির সংসার ।
পরদিন সকাল শ্রাবণ দাড়িয়ে আছে শ্রেয়ার প্রতিক্ষায় । ওরা ঘুরতে যাবে। একটা ক্যামেরা জোগার করেছে । অনেক ছবি তুলবে । আজকের দিনটাকে ফ্রেমে বন্দি করে রাখবে। আজকের স্মৃতি ওরা হারাতে দিবে না । ওদের অনেক স্বপ্ন ভবিষ্যত নিয়ে । এইসব ভাবতে ভাবতেই শ্রেয়া এসে পরেছে । ওকে পরীর মত লাগছে । দেখেই আদর করতে ইচ্ছা করছে । এসেই বললো হ্যাপি বার্থ ডে পাখি। বলেই ফিক করেই হেসে উঠলো। তারপর ওরা রিক্সায় উঠলো, আজ গন্তব্য মিরপুর । ওরা আজ ঘুরবে ঠিক যেমন দুটি পাখি উড়ে বেড়ায় খোলা আকাশে। সারাদিন ঘুরলো, তারপর বিকেলে বার্থ ডে পার্টি । ওখানে সব বন্ধুরা থাকবে। ফেরার পথে শ্রেয়া বললো আমাকে হোস্টেলে নামিয়ে দিয়ে যাও আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি । শ্রাবণ ওকে নামিয়ে দিয়ে ফিরলো পার্টি ভেন্যুতে । সেখানে ওর বন্ধুরা অপেক্ষা করছে । ওরা বসে বসে অপেক্ষা করতে থাকলো শ্রেয়ার জন্য । কিছুক্ষন পর শ্রেয়া আসলো, ওর হাতে কুপার্স এর কেকের প্যাকেট। সবাই খুব আনন্দিত কেক কাটা হচ্ছে । অনেক মজায় কাটলো দিনটা। সবাই খুশি । এটিই ছিলো শ্রাবণের গত জন্মদিনের গল্প।
আজ শ্রাবণ এই স্মৃতিগুলো মনে করছে । আর তাতে ওর চোখের কোনায় জমে উঠছে পানির বহর । শ্রেয়া আজ তাকে ছেড়ে চলে গেছে অনেক দূরে । সে একা যায়নি যাওয়ার সময় সাথে নিয়ে গেছে শ্রাবণের সমস্ত সুখ। শ্রাবণ এখন নি:স্ব । আর তাইতো সে পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করছে, আর ভাবছে শ্রেয়া কি আজও কল দিবে গত তিন বছরের ন্যায় নাকি আজ সত্যিই ভুলে গিয়েছে শ্রাবণকে?
আজ আর আসবে না গরু ভুনা, আসবে না খিচুড়ী । হঠাত করে কেউ দিবে না অবাক করে এনে কুপার্স এর ডিলিশাস কেক । তাইতো জীবনের সবচেয়ে সুখের দিনে শ্রাবণের চোখে জল। জন্মদিন তার কাছে এখন বোঝা ।
তাদের সম্পর্ক অপূর্ণ থেকে গেলেও, ভালোবাসাটুকু ঠিকই রয়েগেছে আগের মত। আসলেই ভালোবাসা কক্ষনও শেষ হয় না শুধু প্রকৃতি পরিবর্তন করে ।





---- আসলেই।
গল্প সুন্দর!
ধন্যবাদ
সিনসিয়ারলি সেন্সিবল লেখা!
সিনসিয়ারলি সেন্সিবল লেখা!
অনেক ধন্যবাদ
মন্তব্য করুন