কিছু জিজ্ঞাসা
কর্মকান্ড ১: নতুন প্রজন্ম ১৭ দিন টানা বিক্ষোভ সমাবেশ করলো , কিন্তু কোনো সহিংসতা হলোনা। একটি বারের জন্যও অরাজকতার সৃষ্টি হলোনা। লাখো মানুষের জমায়েত , স্লোগান কিন্তু হলোনা কোনো ক্ষয়ক্ষতি।
ফলাফল: এটা নাস্তিকদের আন্দোলন। এরা ইসলাম এর শত্রু। এদেরকে রুখে দিতে হবে।
কর্মকান্ড ২: তথাকথিত মুসলিমরা আজ শাহবাগের আন্দোলনের প্রতিবাদে মিছিল বের করেছিলো। শুরুতেই পুলিশের সাথে সংঘর্ষ, বোমা নিক্ষেপ । কয়েকশত মানুষের জমায়েত , স্লোগানের সাথে সাথে হলো আক্রমন প্রতিআক্রমণ , জ্বললো জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম আর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।
ফলাফল: এটা ইসলামের আন্দোলন। এরা ইসলাম এর প্রতিষ্ঠা চায়।
জিজ্ঞাসা : হিংস্রতা ইসলামের কোথায় আছে? মসজিদ জ্বালিয়ে ইসলাম কিভাবে প্রতিষ্ঠা পাবে? ইসলাম শান্তির ধর্ম ; তাহলে এই অশান্তি সৃষ্টিকারীরা কোন হাদিসের আলোকে ইসলাম এর পক্ষে? ইসলাম ধর্মের ক্ষতি কে বেশি করলো , শাহবাগের তরুনরা নাকি আজকের প্রতিবাদকারীরা?
বিশ্লেষণ :যে ঘুমিয়ে থাকে তাকে জাগানো যায় , কিন্তু যে জেগে ঘুমায় তাকে কিভাবে জাগায়?
যে সকল মানুষ শাহবাগের এই আন্দোলনের মাঝে আস্তিক নাস্তিক , মুসলিম অমুসলিম , ভদ্র বেহায়া ইত্যাদি বিষয় এনে এই আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টায় আছেন তারা নিজের অজান্তেই ধর্ম ব্যাবসায়ীদেরকে সহযোগিতা করছেন।
শাহবাগের আন্দোলন যদি নাস্তিকদের হয় , তাহলে আমার যে বন্ধুটি ৫ ওয়াক্ত নামাজ পরে সে ওখানে এই ১৭ দিনধরে কেনো স্লোগান দিচ্ছে?
একজন রাজিবের ডাকে কতজন শাহবাগে গিয়েছিল যে হঠাৎ করেই সবাই একএকজন নাস্তিক হয়ে উঠলো? এই নাস্তিকতা নির্ণয়ের মাপকাঠি কি ধর্মের বিরোধিতা নাকি জামাতের বিরোধিতা?
শাহবাগের ছেলেরা নাকি ধর্ম নিয়ে ব্যাবসা করছে? ওদের নামাজের সময় দেওয়া যদি ধর্ম ব্যাবসা হয় তাহলে ১৮+ পেজের জুম্মার নামাজের ডাককে কি বলবো?
আমি জানি এই সব কথায় আপনাদের ঘুম ভাংবেনা কারন জেগে ঘুমানো মানুষকে জাগানো যায়না।
তবে একটা শেষ কথা বলে যাই দেশপ্রেম কিন্তু ঈমানের অঙ্গ। আর যারা আগেও দেশের বিপক্ষে ছিলো এবং এখনো দেশে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে তাদেরকে সহায়তা করা কক্ষনোই দেশপ্রেম প্রকাশ করেনা। তাহলে ঈমানের অঙ্গ না থাকলে ঈমান কিভাবে থাকে? আর বেইমানের ইবাদত নিশ্চয়ই সৃষ্টিকর্তা কবুল করেন না।





কে আস্তিক আর নাস্তিক তা নিয়ে খোদার থেকে বানদাদের টেনশান বেশি
(
বান্দা না কাঠমোল্লাদের আগ্রহ বেশি
সহমত।
আপনার বিশ্লেষণ ভাল লাগলো।
মন্তব্য করুন