বিদ্রোহ করিবার চাহে এ মন।
গতকালের চরম দুঃখবোধ ও ভীষণতা কেটে উঠেছে সারাদেশ। আজ সকালের নুতন সুর্য্য ইংগিত দিচ্ছে আগামীকালের, আগামীকাল আমাদের মহান বিজয় দিবস। আমাদের স্বাধীনতা, আমাদের বিজয়। এই ধরনের খুশিমাখা দিন এলে আপনাদের সবার মত আমিও আবেগে ভরে যাই। তবে আমার ভিতরে একটা শুন্যতা কাজ করে - মুক্তিযুদ্বে যে পরিবারের সদস্য হারিয়ে গেছে, তার কথা মনে পড়ে সর্বাগ্রে। মনে পড়ে সেই সব পরিবারের কথা। পিতা, সন্তান, ভাই, বোন, স্বামী হারিয়ে এ পরিবার গুলো কি করে এতটা বছর পার করে এলো। ক্ষনে ক্ষনে আমার মনে পড়ে, ওরা আসবে মনে করে যারা আজো বসে আছে! বাবা, আর কত দেরী। আর কত সময় লাগবে তোর!
মুক্তিযুদ্বের স্মতি বিজড়িত স্থানে গেলে আমার দুই চোখভরে কান্না এসে যায়। আমি চুপচুপে কাঁদি। এদেশের বিজয়ে, এ দেশের স্বাধীনতায় যারা তাদের নিজ অমুল্য প্রান বিলিয়ে দিয়েছে অকাতরে, তাদের আমরা কি দিয়েছি। দেনা পাওনার হিসাবতো পরে আসবে, আমরা কি তাদের সেই সন্মানটুকু দিতে পেরেছি। আমি হিসেব মিলাতে পারি না, মেলে না।
আজ আমরা আমাদের মাথায়, গাড়িতে, বাড়িতে পতাকা লাগিয়ে বীরদর্পে ঘুরে বেড়াছি কিন্তু যারা আমাদের এই সন্মান এনে দিল, এ সময়ে আমাদের সেই সব সুর্য্য সন্তানেরা কই। সেই সব পরিবার। এইদিনে তারা কি করছেন, কোথায় আছেন। কি করে সময় পার করছেন!
নানা ভাবনায় আমার মাথা গুলিয়ে আসে। রাত পোহাবার আর কত দেরী। কবে আমরা এমন এক কান্ডারী পাব, যে ক্ষমতায় এসে কাঁধে তুলে নেবে আমাদের সুর্য্য সন্তান ও তাদের পরিবারের কস্ট, দুঃখগাথা। যে এসে আমাদের এ সুর্য্য সন্তান ও তাদের পরিবারকে বলবে - আমিই তোমাদের হারিয়ে যাওয়া পিতা, সন্তান, ভাই, বোন, স্বামী। তোমাদের আর ভয় নেই!
নুতন সুর্য্য আমার চোহারা ছুঁয়ে গেলেও মনের কাছে যেতে পারে না। বিদ্রোহ করিবার চাহে এ মন।





ফেসবুক স্ট্যাটাস - মৌসুমী দ্রস্টব্যঃ
সাইদ ভাই, ফেইসবুকে যেতে পারি না অনেকদিন।
১৯৭১ সালে যারা হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছিল তাদের লক্ষ্য ছিল মাত্র একটা । তারা চেয়েছিল একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, যেখানে কোন বৈষম্য থাকবে না, সবাই যেখানে দেশের ও দশের মঙ্গলের উদ্দেশ্যে নিয়োজিত থাকবে । যারা প্রত্যক্ষযুদ্ধে অংশ নেয়নি, কৌশলগত কারণে যাদের দেশের মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে হয়েছিল, তাদের সহযোগিতা ব্যাতীত এ অসম যুদ্ধ যে কত দীর্ঘদিন ধরে চলতো তা কল্পনাতীত । মুক্তিযুদ্ধে কোন না কোন ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি এমন একটি পরিবার খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করলে তা হবে মূর্খতা । গুটি কয়েক স্বার্থান্বেষী দালাল ব্যতীত প্রতিটি মানুষ এ দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছে । কারোর অবদানকে খাটো করে দেখবার সুযোগ নাই ।
আমরা বিজয় পেলাম । মুক্তিযোদ্ধাদের লক্ষ্য অর্জিত হলো । এখন তাদের আকাঙ্খা বৈষম্যহীন একটি সমাজ ব্যাবস্থা । তারা যার যার অবস্থানে ফিরে যাবার জন্য প্রস্তুত, নিজেদের জন্য আলাদাভাবে তাদের কারো কোন চাহিদা ছিল না । কিন্তু ক্ষমতাসীন নেতারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলেন । মুক্তিযোদ্ধা-অমুক্তিযোদ্ধা নামে দু'টি শ্রেণীতে ভাগ করে ফেলা হলো দেশের মানুষকে । এই দু'টি ভাগ থেকে সৃষ্টি হলো আরও অনেক ভাগ । সুফল প্রাপ্তির আশা হয়ে উঠলো সুদূর পরাহত ।
আমাদের সাধের স্বাধীনতা; নিহত, আহত ও নিখোঁজ মুক্তিযোদ্ধাগণ, তাদের পরিবার-পরিজনেরা হতে শুরু করলো নিগৃহীত ও অবহেলিত । ষোড়শ বাহিনী হয়ে উঠলো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু । তাদের চাহিদা হয়ে উঠলো আকাশচুম্বী ।
হুদা ভাই, আপনার মত করে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারি না। আপনি অনেক সুন্দর করে গুছিয়ে লিখতে পারেন। শুভেচ্ছা।
কেন মিছেমিছি লজ্জ্বা দেন ?
সাহাদাত ভাই, লেখা দারুণ হৈসে। ++++++
উদরাজী তোমার ভাবনা যেন সবার ভাবনা হয়। বিজয় টা ভাগাভাগির জন্যই আজকের এই দুরবস্থা।
দু একজন বিদ্রোহ করলে অবশ্য খারাপ হয় না। কেউ শুরু করলে অন্যরা এসে যোগ দিবে।
ভালো লাগছে লেখাটা। চেতনা অটুট থাক।
শুভ ব্লগিং।
বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।
উদরাজী, তোমার বিদ্রোহে আমকেও সংগে নিও...।কিন্তু কথা হইলো সাজানো-গোছানো সংসার থুইয়া এই বয়সে বিদ্রোহ করবা ক্যামনে । ঘর থেইকা বাহির হইতে চাইলেই সবার আগে স্ত্রী-পুত্র বিদ্রোহ করবো। সেই বিদ্রোহ সামাল দিয়া রাস্তায় নামলে জেল-জুলুম, নির্যাতন....। যাইবা কই ! তারচেয়ে ঘরে বইসা বইসা তামাশা দেখ....।
সাহাদাত ভাই, প্রোফাইলে নিজের সম্পর্কে লেখা অংশটার নিচে ঐটা কিসের বিজ্ঞাপন?
হিট কাউন্টার এর এটা সফটওয়্যার মাত্র। এ লেখাটা কোথা থেকে আসছিল, বুঝতে পারছিলাম না। এখন বুঝে ঠিক করে দিলাম।
তাইতো । আগে খেয়াল করিনি কখনও ।মীরের মন্তব্য দেখে আমারও জানতে ইচ্ছা করছে । soma 350mg -এর প্রচারের একটা ব্যাপার আছে মনে হলো। ব্যাথানাশক ওষুধ, আমি তো ভাই ব্যাথায় শয্যাশায়ী হবার উপক্রম । দেখবো নাকি ট্রাই করে ?
না, হুদা ভাই, আপনার জন্য অন্য ওষধ লাগবে। এটা নয়!
আমার মনে হয় আগামী ১০০ বছরেরও বিদ্রোহ করার মত মানুষের জন্ম হলেও তারা নেতিয়ে থাকবে তার পারিপার্শ্বিকতার কারণেই। মানুষ আজকাল তেল্যাচোরার মত হইয়া যাচ্ছে।
জুলিয়ান ভাই, মানুষ একদিন ফুঁসে উঠবেই।
মন্তব্য করুন