বাপ ছেলের বই মেলা ভ্রমন।
মাস ব্যাপী কার্নিভাল পড়ে পড়ে প্রায় একটা সিদান্ত নিয়েই ফেলেছিলাম, এবার বইমেলায় যাব না! মোটামুটি চোখের সামনে রাসেল ভাই একটা ছবি তুলেই দিচ্ছেন। রেডিওতে নাটক শুনার মত অবস্থা! তারোপরি টাকা পয়সার একটা চরম টানাটানিতে আছি। শেয়ার মার্কেটে টাকা হারানো সহ নানা অর্থ কষ্টে আছি। (দ্রব্য মুল্যের লাগাম না ধরলে আমার মত লোক ঢাকা থাকতে পারবে কিনা সন্দেহ! করল্লার কেজি ১০০ টাকা।) আজকাল ভাবছি নূতন কোন শহরে চলে যাব! বিদেশ নয়, দেশেই অন্য কোন বিভাগীয় শহরে! যেখানে কেহ আমাকে চিনবে না! আর কয়েক মাস দেখি। (ওয়াইফকে রাজী করাতে হবে!)
এমন একটা অবস্থায় ছেলেটা এসে কানের কাছে গত কদিন ধরে বলেই চলছে, বই মেলায় না গেলে নাকি মান সন্মান থাকবে না! আশে পাশের সবাই সহ স্কুলের অনেক বন্ধু গেছে, তারও যেতে হবে। কয়েকটা গল্পের বই না কিনলে ওদের আলাপে তাল মিলাবে কি করে! আসলেই কথা মন্দ নয়। জাতেই আমাদের খেল! চোহারা, পেট দেখেতো বুঝা যায় না "বাপের হাতে মাল নাই!" শারিরিক আসুস্থ্যতার অজুহাতে ছেলের মা যেতে রাজী নয়, আমি মনে মনে বলি - আলহামদুল্লিলাহে! রিক্সায় বাপ ছেলে ভাল করে বসতে পারব!
বাসা থেকে কিছুদুর যেতেই ছেলে বলল, জান বাবা, আম্মু কেন আসে নাই! আমি খুশি মনে বলি, কেন! আজ টিভিতে ট্রাইনেশন শো লাইভ দেখাবে। সালমান, অক্ষয়, ক্যাটরিনা কাইফ। আমরা যখন বই মেলায় থাকব, তখনই শুরু হবে। হা, আমিও কিছুদিন ধরে প্রত্রিকার পাতায় এমন দেখছিলাম। ব্লগে ব্লগে ঈভা রহমান দেখছিলাম। স্টেডিয়ামে যাবার সমর্থ না থাকলেও টিভিতে দেখার আমার ইচ্ছা ছিল। ছেলের ইচ্ছায় সেটা বাদ দিলাম। ছেলেকে বললাম, বই মেলায় একটু তাড়াতাড়ি করবে - আমরাও দেখব!
নিম্ন বিত্তের (!) পরিবহন বাস সার্ভিস। রিক্সা নিতে গিয়ে দেখলাম অনেক সময় চলে যাবে। সব রাস্তায় রিক্সা চলেও না, অনেক ঘুরে হাইকোর্টের মাজার সালাম করে ২ ঘণ্টা লাগাবে। আর সেজন্য বাপ ছেলে ফাল্গুনে উঠে গেলাম! বাসে উঠার ব্যাপারে ছেলের ঘোরতোর আপত্তি! ভাগ্যিস লাইনে অনেকগুলো মেয়ে ছিল। ওদের দেখিয়ে বললাম, দেখ কত সুন্দর সুন্দর মেয়েরাও বাসে যাচ্ছে! এতে বিরাট কাজ হল! একটানে শাহবাগ এসে পড়লাম।
শাহবাগ নেমে আমরা বই মেলার দিকে হাটতে থাকি। শাহবাগের ফুলের দোকান দেখিয়ে ছেলেকে বললাম, তোর বিয়েতে ফুল দিয়ে বাসর সাজিয়ে দিব। ওরে বাবা, আর যাই কই! পুরা বেকে বসল ছেলে আমার! এজন্যই তোমার সাথে কোথায়ও যেতে চাই না! তুমি শুধু উলটা পালটা কথা ভাব! আমি যাব না, তুমি যাও! আমাকে বাসায় রেখে আস। প্রসঙ্গ পাল্টে নিয়ে বললাম, আজ শুধু বই মেলা নয়, আরো অনেক কিছু দেখাবো, খাওয়াব। চারুকলার কথা মনে হল। অবশ্যই কোন না কোন প্রদশর্নী চলবেই! বললাম - চল বাবা, প্রথমে যাই চারুকলাতে! বর্ননার চেয়ে আসুন ছবি দেখি। যথারীতি মেবাইলে লো কোয়ালিটি!

ছবি ১ - পেন্সিলের কাজ দেখে অবাক। পেন্সিল দিয়ে এত সুন্দুর ছবি আঁকা।

ছবি ২ - হাতের কাজ। কাপড় কেটে সুই সুতা দিয়ে কি দারুন ছবি।

ছবি ৩ - জলরঙ ছবি আঁকা। এই ছবিটাতে সে আমাকে কয়টা ভুল দেখাল। জলরঙ্গে আমার ছেলেও ছবি আকতে পারে। গত চার বছর আর্ট ক্লাসে ভাল করে আসছে।

ছবি ৪ - হুতম পেঁচা, শিল্প সাহিত্যে বিরাট একটা স্থান দখল করে আছে। ছবিটা আমার কাছে অসাধারন মনে হয়েছে।

ছবি ৫ - কৃষানী

ছবি ৬ - গ্রামের মেয়ে

ছবি ৭ - অনেক কষ্টে একটা ছবি তুলতে রাজী করিয়ে ছিলাম। এভাবে দাড়করিয়ে মোবাইলে ছবি তোলা নাকি দেখতে ভাল লাগে না! পাবলিক নাকি লজ্জা দেয়! কর্নিভালে রাসেল ভাই মোবাইলে ছবি তোলা নিয়ে বলেছেন! কিন্তু যাদের ক্যামেরা নাই, তারা কি ছবি তুলবে না! হা হা হা...

ছবি ৮ - ছেলের কথায় লজ্জা পেয়ে মোবাইলটা পকেটে রেখে দিয়েছিলাম। বই মেলার প্রবেশ পথেই (রাসেল ভাই জায়গাটা আশা করি চিনেছেন) দেখলাম কবি আসাদ চৌধুরী টিভিতে কথা বলছেন। ছবি না নিয়ে কি পারি! আমার ছেলে হাসে।

ছবি ৯ - ঠিক এখানেই নূতন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয়। সাদা-কালোর অর্থনীতি কিংবা চন্দ্রাবতীর চোখে কাজল রঙ। বই দূটা কিনতেই হবে। এটা আমার ছেলের নয় সরাসরি আমার মান সন্মান ইজ্জত।

ছবি ১০ - পকেটে মোবাইল রাখলে চলে কি? ফেইসবুকে সাইদ ভাই তার তোলা ছবি ক্যাপশনে লিখেছেন, বইমেলা নাকি সুটিং স্পট! আমিও তা মনে হয়েছে। রাসেল ভাইয়ের মত করে আমিও ভাবি, সাহিত্যে রিটনের অবদান কোথায় কোথায়!

ছবি ১১ - লেখক আড্ডা! এখানেই কি ব্লাগাররা আড্ডা মারেন। কই পরিচিত কাউকেতো দেখলাম না। মনে হয় ব্লগাররা সবাই ‘ট্রাইনেশন শো’ দেখতে গিয়েছে। না দেখলে ব্লগে লিখবে কি করে? শিলা কি যোয়ানী!

ছবি ১২ - ছেলের আপত্তিতে আবারো মোবাইল পকেটে রেখে দিয়েছিলাম। বই প্রত্র কিনে বর্ধমান হাঊসের পিছিনে গিয়ে আবার দেখি সুটিং! মোবাইল না বের করে পারি নাই! মেয়েটা কোন চ্যানেলের হবে (আজ প্রকাশিত বইয়ের নাম বলছিলো, এক শব্দে এক টেক)

ছবি ১৩ - হাটতে হাটতে হয়রান হয়ে সংগীতানুষ্ঠানে প্রথম সারিতে বসে ছিলাম বাপ বেটা! ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা...।। গান শুনে মনটা চাঙ্গা হয়ে গিয়েছিল। ছবিটা আমার ছেলের তোলা।
বই প্রত্র কেনা শেষ। বাপ ছেলের একটা চমৎকার সন্ধ্যা কাটলো। অনেক গুলো বড় ফন্টের ছাপার গল্পের বই কিনল। সাইন্সফিকশান! (বলে রাখা ভাল এখনো আমার ছেলে ‘আঊট বই’ পড়া ধরে নাই তবুও কিনল, পল্লীকবি জসিম উদ্দিনের কবিতার বই সহ) বাপ ছেলে দুটা কোনইগলু আইসক্রিম খেলাম। হটাত মনে পড়লো এখনো সময় আছে, আমরা চাইলেই টিভিতে ‘ট্রাইনেশন শো লাইভ’ দেখতে পারি। সবচেয়ে কাছে বেইলী রোড়ের আমার বন্ধু শ্যামলের বাড়ী। ওর বাসায় যাই। ব্যস, যেই কথা সেই কাজ। এক টানে রিক্সায় নাভানা বেইলী স্টারে!
বেইলী ষ্টারে বন্ধুর বাড়ীতে গিয়ে দেখলাম, বন্ধু তার স্ত্রী সহ ‘ট্রাইনেশন শো লাইভ’ দেখছে। কথা না বলে আমিও সরিক হয়ে গেলাম। আমার ছেলে অনেক দিন পর আমার বন্ধুর মেয়েকে দেখেছে। ওরা অন্য রুমে কম্পিউটার এ গেইম খেলতে বসে গেল। সবে মাত্র তিনি স্টেজে এসেছেন। মঞ্চে এসে তিনি ধন্যবাদ জানালেন দুইজন ডক্টরেটকে - একজন আমাদের দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ড. শেখ হাসিনা ও অন্যজন তার স্বামী ড. মাহফুজুর রহমান। স্বামীর বাড়ী বগুড়া জানলাম। বগুড়া ও দিনাজপুরের নিয়ে গান গাইলেন আমাদের দেশের 'বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী ঈভা রহমান'।

মোবাইল আবারো ছবি তোলার কাজে ব্যবহার করলাম। আমার ছেলে দেখলে খবর করে ফেলত! মোবাইলে ঈভা রহমানের ছবি তোলা!





আশ্রাফুলের খেলা দেখে মন খারাপ। বংলাদেশ এত কম রান নিয়ে জিতবে কি করে! তাই বসে বসে পোষ্টটা লিখে ফেললাম। নাই কাম তো খই ভাজ!!
মন খারাপ নিয়ে খেলা দেখতে ভালো লাগছিলো না । লগ ইন করে আপনার পোস্ট পেয়ে গেলাম। পড়ে আর সুন্দর ছবিগুলো দেখে মন এখন একটু ভালো। লেখা হয়েছে সেইরম, আর ছবি মোবাইলে তোলা হলেও অত্যন্ত মূল্যবান। যাই, আবার খেলা দেখি!
[আমার জন্মদিনের পোস্ট দেবার জন্য
]
হুদা ভাই, ঈভা রহমানের গান কেমন লাগে না বলে যেতে পারবেন না! খেলার অবস্থা ভাল ৭৯/৩, ২০ ওভারে। ওরা আমাদের মতই লাগছে!
জন্মদিনে কি কি করলেন! আমাদের খাওয়া কই!
ঈভা রহমানের সাথে আমার কখনো সাক্ষাৎ হয়েছে বলে মনে পড়ছেনা। আমাকে সে কোন গান কস্মিনকালেও শুনায় নাই । তাই ভাল বা মন্দ কিছুই বলতে পারছি না।




বাংলাদেশ আজকের খেলায় জিতেছে, এই আনন্দে আমি এখন আনন্দিত।
আমার বাসায় বা স্বজনেরা কেউ ('আমরা বন্ধু'র বন্ধুরা, এবং আমেরিকা প্রবাসী এক নাতি ছাড়া) আমার জন্মদিনের কথা মনেও করেনি, আমিও কাউকে মনে করিয়ে দিইনি। দিনটি কেটেছে আর সব দিনের মত গতানুগতিকভাবে।
আমার কথা মনে করে কিছু খেয়ে নেবেন।
"আমার কথা মনে করে কিছু খেয়ে নেবেন।" - আবার টাকা খরচের কথা!
কেমন আছেন?
বন্ধুর জন্য না-হয় হলই কিছু খরচ! দু'দিনের দুনিয়া !
ভালো থাকবেন।
আশরাফুল বল হাতে উইকেট পেলো মাত্র। দেখা যাক।
বইমেলা ভ্রমণকাহিনী ভালো লেগেছে। ছবির জন্য ধন্যবাদ।
রিটনের অবদান বিষয়ে: অস্বীকার করি কেম্নে? যে কালে রাজাকার পাকিস্তানী, স্বৈরাচার-- এসব শব্দ মিডিয়ায় নিষিদ্ধ ছিলো সেই কালে তিনি ছড়ায় ছড়ায় ধরে রেখেছিলেন কতোকিছু। হু্আ'র বহুব্রীহির বিখ্যাত সংলাপ 'তু্ই রাজাকার' তাঁর ছড়া/ছড়ার বই থেকে নেয়া। ছেলের জন্য অতি অবশ্যই রিটনের ছড়ার বই কিনে দেবেন, দুর্দান্ত বুদ্ধিদীপ্ত ছড়াগুলো নিজেও পড়বেন আশা করি।
সিষ্টার নুশেরা, ধন্যবাদ আপনাকে। আমি রিটন প্রসঙ্গে জানি। কথাটা লিখেছিলাম মজা করার জন্য। রিয়েক্ট দেখার জন্য। আপনি অনেক ভাল জানেন। শুভ কামনা।
বাপ-বেটার মেলাদর্শন ভালো লাগলো ।
ছবিগুলোও দারুণ সুন্দর !
মাফুজিভা মঞ্চে আসার সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছসিত জনতা তাকে স্বাগত জানালো যে শব্দটি দিয়ে, তা ছিলো - ভুঁয়া ভুঁয়া ভুঁয়া ভুঁয়া !!!
খেলায় জিতছে দেশ । খুবই আপ্লুত হইছিলাম । মনের ভিতর অন্যরকম এক প্রশান্তি অনুভব করছি ।
ধন্যবাদ শিপন ভাই, আপনার বইটা কিনেছি। পড়ব।
ছবি গুলা সেইরম হ্ইছে, আমিও আমার বউ-মেয়ে নিয়া গেছিলাম মেয়ে কিনছে দেশি-বিদেশী রূপকথার বই, আমি কিনছি 'প্রেম-পৃথিবীর পাঁচালী' , 'চন্দ্রাবতীর চোখে কাজল রং' আর কবিতার বই 'আমাকে নিশ্চয়তা দাও'। বউ কিছুই কেনে নাই...।
ঈশান, 'আমাকে নিশ্চয়তা দাও' কবিতার বইটা পড়ে আমাকে ধার দিও। নামটা হিট মনে হচ্ছে! কার লেখা।
ছবিগুলো দুর্দান্ত। বাবা - ছেলের এমন আরো আনন্দঘন সন্ধ্যা আসুক।
বোন তানবীরা, ধন্যবাদ। ছেলেটা বড় হচ্ছে আর আমি আনন্দিত হচ্ছি। কিন্তু বুঝতে পারছি না, কথায় কথায় কেন রাগ করে! তেলের বাটি হাতে নিয়ে আমাকে ওর সাথে থাকতে হয়!
ভালো লাগলো আপনের বইমেলা ভ্রমণ
রিটন ভাইয়ের অবদান কিছু থাকুক না থাকুক, সুকুমার রায় আর সুকুমার বড়ুয়ার পরে ছড়ার পতাকাটা তিনিই ধরে রাখছেন। যখন শিশু কিশোরদের জন্য দেশে কোনো ভালো পত্রিকা ছিলো না, রিটন ভাই প্রচুর টাকা লস দিয়েও শিশু কিশোরদের জন্য পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন।
প্রবাসী হলেও প্রতিবছর শুধু বইমেলার টানে দেশে আসেন এই ফেব্রুয়ারি মাসে
আর বাকী কথাগুলো নুশেরা আপা সুন্দর করে বলে গেছে
তবে শেষ বাকী কথাটা হইলো এবার মেলায় রিটন ভাই একটা বই উৎসর্গ করছে আমার, নূপুর আর নিধিকে
নজু ভাই, আপনি তো ব্যপক হিট। আপনার জন্য খাছ দিলে দোয়া করি। কিন্তু এত কিছু ম্যানেজ করেন কি করে (বাসায় যেয়ে আবার রান্নাও - হা হা)! যদি কিছু উপদেশ দেন, মাথা পেতে নিব।
আপনার জন্য ভালবাসা থাকল।
বাপ ছেলে দুইজনকে শুভেচ্ছা জানাই। কেমন আছেন?
আশরাফ, সচিবালয়।
আপনে আমার জানা সব ধরণের বিভ্রান্তকারি একজন মানুষ। কিছু লেখা পড়ে মনে হয় এতো ভাল লেখেন, কিছু মন্তব্য পড়ে মনে হয় দারুন। আবার কিছু ব্লগ ও মন্তব্য পড়লে মনে হয়........থাক আর না কই।
লেখা ভাল লাগছে। ছবিও।
আপনাকে ভয় পাই! হা হা হা.।।। আমি নিরীহ.।.।
আপনাকে ভয় পাই! হা হা হা.।।। আমি নিরীহ.।.।
মন্তব্য করুন