সেইযে আমার নানা রঙ্গের দিনগুলি...
আমাদের বাসায় (যার নাম ছিলো " যন্ত্রণা ") ছিলো বন্ধুদের যখোন তখোন আড্ডার স্থান। আমার বাবা ছিলেন মাই ডিয়ার টাইপের মানুষ। ছোট ৩ ভাই-বোন ছিলো বজ্জাতের হাঁড়ি। ওদের বন্ধু-বান্ধবীরা সবসময় আমাদের বাসা ভরে থাকতো। ছেলে-মেয়েগুলো হোস্টেলে থাকতো। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়তো ওরা। ভালো-মন্দ খেতে মন চাইলেই আমাদের বাসায় চলে আসতো। চেটে-পুটে ফ্রিজের সব খাবার নিজেরাই রান্না করে, খেয়ে তারপর হলে ফিরে যেতো। ভাই-বোনদের ছেলে বন্ধুর চেয়ে মেয়ে বন্ধু ছিলো আনুপাতিক হারে অনেক বেশি।
আমি প্রায় ছুটিতে কুমিল্লা চলে যেতাম। তখন জমিয়ে আড্ডা হতো বাসায়। ছোটবোন শিপলুর ছিলো ম্যালা বান্ধবী। যেহেতু শিপলু আমাকে মেজদা ডাকতো, সেহেতু আমি ছিলাম ওর বন্ধু-বান্ধবীদের কমন মেজদা। ও তখন বাংলায় অনার্স পড়ছে। প্রতি সপ্তাহে তাকে চিঠি না লিখলে আমার খবর ছিলো। কোনো বিষয় ছিলো না, তবুও শিপলুকে ফি হপ্তায় আমি লিখতাম। ছোট চিঠি হলে ওর মেজাজ খারাপ হয়ে যেতো। বড় চিঠি লিখার মত বিষয় সবসময় আমার মাথায় আসতো না। ফলে অফিসে কী করেছি, কার কার সাথে আমার সম্পর্ক ভালো, অফিসের কোন মেয়েটা রুপবতী, ওর বান্ধবীদের কার নাক বোঁচা, কার গানের গলা সুন্দর ইত্যাদি হরেক রকমের বিষয় ছিলো আমার লেখার বিষয়বস্তু। শিপলুর বান্ধবীদের মধ্যে মিতু. পারভীন, মায়া, লাইলী, রীনা, শিরিন, বেবি, আসমাদের সাথে আমারও ছিলো দারুন সখ্যতা।
আমার বিয়ে নিয়ে ওর বান্ধবী মহলে ছিলো ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। বিয়েতে কে কী পরবে, কীভাবে সেই জামা/শাড়ির টাকা আমার কাছ থেকে খসাবে- সেটা আমাকে আগাম জানিয়ে দিতো ছোটবোন শিপলু। হলুদের শাড়ি আর সাজগোজ বাবদ টাকাটা ওদেরকে আগাম দিয়ে দিতে বললো। কুমিল্লা শহরে রেন্ট-এ কারে একটাই মাত্র হলুদ মাইক্রো ছিলো। আমার হলুদের দিন সেটা নিয়ে ওরা কুমিল্লা থেকে নারায়ণগঞ্জ আসবে- কন্যার গায়ে হলুদ দিতে। বলাবাহুল্য, সেই মাইক্রো ভাড়াও আমাকে দিতে হবে। এহেন হাজারটা ছেলেমানুষী আব্দার ছিলো আমার কাছে। তো, আমার এনগেজমেন্ট হয়েছিলো আগস্ট মাসে। বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হয়েছে- নভেম্বরে। সেটা ১৯৯৬ সাল।
সেপ্টেম্বর মাসে আমার জন্মদিন। শিপলুর সবচেয়ে প্রিয় বান্ধবী মিতু (ও এখন ঢাকার কোনো এক কলেজে অপদার্থদের পদার্থবিজ্ঞান পড়ায়)। আমার জন্মদিনে আমাকে একটা ক্যাসেট গিফট করলো। তখন সিডির যুগ ছিলো না। সনি, সিএইচএফ, ৯০ মিনিটের ক্যাসেট। বাসায় এসে ক্যাসেটটা ছেড়ে দিলাম। শিবাজীর গান...। আমার অসম্ভব প্রিয় শিল্পী। তিনি গাইছেন, " তুমি অপরের, আমি জানতাম। ভালোবাসলাম তবু তোমাকে। আমার ফেরার উপায় নেই...।" এরপরের গানটাও একই। তারপর এবং তারপরও...। ফরোয়ার্ড করে শুনলাম, ওমা একই গান ! ক্যাসেট উল্টে দিলাম। সব্বোনাশ ! এই পিঠেও একই গান! ছোটবোনকে ডাকলাম...। ঘটনা কীরে ? ও নির্বিকার গলায় বললো- " মেজদা তুমি জানোনা, মিতু তোমাকে কী পরিমান ভালোবাসে...!!! "
শুনে আমি তব্দা মেরে যাই...।
বলাবাহুল্য, শিপলুর সব বান্ধবীরা এলেও মিতু আমার বিয়েতে আসেনি...।





মিতুর কি বিয়ে হয়ে গেছে?
হ, করছে। ওর গোটা দুয়েক পোলাপাইন অাছে
স্যাড
আপনাদের 'যন্ত্রনা' বাসাটা এখন আর নাই?
না, নাই। কুমিল্লার মাইনসের যন্ত্রণা থেইক্কা মুক্তি পাইতে আমরা আমাদের গোটা পরিবার লৈয়া এখন ঢাকায়
আহারে...অপদার্থদের কেউ এই ব্লগ পড়লে ম্যাডামের সারছে
ভালো কতা কৈছেনতো ! এইডাতো মাথায় আসে নাই...
কেনো অপদার্থদের কি প্রেম ভালোবাসা হবে না নাকি আজকের পদার্থরা কোনকালে অপদার্থ ছিল না?
সবাই নিজের নিজের বিজ্ঞাপন দিতেছে, ঘ্টনা কি? এবি কি পাখি ভাইয়ের কার্যালয় হতে যাচ্ছে নাকি অবশেষে?
লেখা ভালা পাইলাম কিন্তু ব্লগার সূবর্ণা এই নামেই একটা সিরিজ লিখছে, আমি তো পত্থমে ওর লেখাই মনে করেছি।
শ্লার জীবনে প্রেম আসলো না! আপনার তো দেখি প্রেমের ছড়াছড়ি!
জীবনে প্রেম আসেনাই এইটা হইতে পারে না প্রেম যখন আসছে আপ্নে টের পান নাই
@ কাঁকন, নাহ্! আমারে কেউ ভালোবাসে নাই। এই দু:খ আমার মরলেও যাবে না।
আমি তোমারি, প্রেম ভিখারী... ভালোবেসে ঠাঁই দিও পরানে গোওওও....
ভালোবেসে ঠাঁই দিও পরানে...... চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা সিনেমার এই
গানটা আমি মুক্লার নামে উৎসর্গ করনের জন্য সবতের পারিমশন
কামনা করতেছি। এইটা পিকনিকে মুক্লা সংগীত হিসাবে ব্যবহার করা হৈবে ...
humm
নামগুলো একসময় দেখতাম শিপলুর লেখায়...
মিতু ম্যাডাম পুরুষকণ্ঠের গান দিলেন কেন বুঝলাম না
মিতুর জীবনের লগে মিল্যা যাওয়া ইরাম খাপে খাপ গান হাতের কাছে পায় নাই, মনে অয়...
প্রেমিক সম্রাট!!!
ইরাম রাক্ষসের হাসি মার্কা ইমো দিলেন ক্যান ?
lul
আপ্নারে মাইনাস!! সকালে কাঁকন আপা, এখন আপ্নি...আমার মন খারাপ করায়ে দিলেন...ধুর মরণ!!!
ধুর, মন খারাপ করেন ক্যান ? এইডা হৈলো- জীবন থেকে নেয়া গল্প...
একেবারে নামধাম ঠিকানা (ফোন নামবারটা দেন নাই অবশ্য) দিয়া দিলেন। প্রািভেসী বলে একটা ব্যাপার আছে না?
ভালো লাগলো না। এমনকি শত্রুর প্রাইভেসীকেও সম্মান করা উচিত।
ব্যাপার টা আমার ভাল লাগলে না ...এমন কইরে প্রাইভেসি নষ্ট করা ঠিক না ...।যদি পারেন তো ব্লগ টা ডিলিট মারেন অতি সত্তর...কারন আমরা মানুস তো।।বেশি সুবিধার না ...নতুন কোনো পুলাপাইন দেখলে কাজ টা ভালা হইবে না...জদি পুংটা হয়... দয়া কইরা হয় ডিলিট দেন না হয় এডিত মারেন...
এডিট কৈরা দিছি... থ্যাংকু
মন্তব্য করুন