বইমেলা কাহানী...
আমার প্রায় প্রতিদিনই বই মেলায় যাওয়া হয়েছে। কোনো কোনো দিন আড্ডাবাজ কাউকে না পেয়ে শ্রেফ একটা চক্কর মেরেই চলে এসেছি। অফিস থেকে ৬ টা নাগাদ বেরিয়ে নিউমার্কেট, নীলক্ষেত পেরিয়ে টিএসসিতে হিমু মটর সাইকেলটা রেখে মেলায় ঢুকে যাই। নজরুল মঞ্চ পার হয়ে তথ্য কেন্দ্রকে বায়ে রেখে লিটল ম্যাগ চত্বরে ঢু মারি। তারপর আড্ডা উড্ডা মেরে মেলা ঘুরে আটটা নাগাদ ছবির হাঁটে ফিরে আসি। ওখানে আমার বন্ধুরা সরাতে আর কাগজে ছবি আঁকে। সেসব ছবি বিক্রীর টাকাতে ওরা ঘুড়ি উৎসবের যাবতীয় খরচ যোগাবে। কত কর্পোরেট কোম্পানি আমাদের ঘুড়ি উৎসবটাকে স্পন্সর করতে চায়...। আমরা রাজী হই না। কত কষ্ট করে নিজেরা চাঁদা দিয়ে ঘুড়ি উৎসবটা করি আমরা। ঘুড়ি বানানোর সরঞ্জামাদি কেনার টাকা, তারপর নিজেদের যাওয়া-আসা-থাকা-খাওয়া এসবের টাকা যোগাড় করতে যেয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি বন্ধুরা পালা করে কাজ করে যায় ছবির হাঁটে। থাকনা, আমাদের নিজের বলে কিছু জিনিস ! এখন তো বৈশাখ, ভালোবাসা আর ১ ফাল্গুন- সবই এক একটা কর্পোরেট দিবস। এমনকী, বদলে যাবার শপথ নেয় যে পত্রিকা তাদের শপথের সমাপনী অনুষ্ঠানটাও কক্সবাজারে কোনো এক বহুজাতীক কোম্পানির সৌজন্যে হয়...। এসব দেখে আমার আর আমার বন্ধুদের কষ্ট হয়...
যাই হোক, ধান বানতে শীবের গীত গেয়ে ফেল্লাম। মার্জনা চাই। যা বলছিলাম, কাল শুক্কুরবার ঠিক দুপুরের পর পরই ছেলেকে নিয়ে চলে যাই বই মেলায়। যদিও সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১.৩০ পর্যন্ত ছিলো শিশু এবং মহিলাদের জন্য বিশেষ সময়। বিকেলের দিকে বেজায় ভিড় ঠেলে অনেকই যেতে পারেনা। সকালে যাবার ইচ্ছে ছিলো। পারিনি। ফেব্র“য়ারি মাসে যে কটা শুক্কুরবার গেছে- সব কটাতেই আমি ব্যস্ত ছিলাম। অফিসের পিকনিক, এবি’র পিকনিক ইত্যাদি কারনে। তো, আমার স্ত্রী অতীব গম্ভীর স্বরে আমাকে কদিন থেকে বলে আসছেন, ঘরে সব খাদ্যদ্রব্য বাড়ন্ত। আমার সময় থাকলে যেনো আসছে শুক্কুরবার সদাইপাতি করে ফেলি। আপনারা অবগত (অনেকেই) আছেন যে, আমার স্ত্রী ইদানীং ক্যাঙারু হয়েছেন... (বিস্তারিত না বলি)। সে কারনে আমার শ্বাশুড়ী নিজের বাসা ছেড়ে মেয়ের বাসায় অবস্থান করছেন। সুতরাং ছুটির দিনের ঘুমের নিকুচি করে আমি সকাল ৯ টার মধ্যে বাজারে গেলাম। ১১ টা নাগাদ ফিরে আসলাম। মটর সাইকেল পরিস্কার করলাম। ১২ টা বাজলো। ছেলেকে নিয়ে নামাজে গেলাম (জুম্মার নামাজ বলে কথা)। ১.৪৫ মিনিটে বাসায় ফিরে দুপুরের খাবার খেলাম এবং বাপ-ছেলে মিলে মটর সাইকেলে দাবড়িয়ে বই মেলায়।
ছেলের পছন্দের গোটা দশেক বই কিনলাম। জাফর ইকবাল স্যারের একটা উপন্যাস (যা আমার অসম্ভব পছন্দের) আমার বাসা থেকে হারিয়ে গেছে। সম্ভবত ১৯৯৪ সালে কেনা। জাফর স্যারের অটোগ্রাফ দেয়া বই। হারানোর পর বইটা অনেক খুঁজেও আর পাইনি। প্রতি বছর মেলাতে খুঁজি। কাল পেয়ে গেলাম। কিনে নিলাম, দুঃস্বপ্নের দ্বিতীয় প্রহর। নুশেরার বইটা নিলাম। আমাদের পুরোনো বন্ধূ মাইনুল.এইচ সিরাজীর প্রথম উপন্যাস বেরিয়েছে- সেটি নিলাম। ঘন্টাখানেক বাদে মেলায় পঙ্গপালের মত মানুষ ঢোকা শুরু হলো। ছেলের চাপাচাপিতে বেরিয়ে এলাম। বইমেলা থেকে টিএসসি হেঁটে মটর সাইকেলে চড়ে বাপ বেটা ছবির হাঁটে। আঁকা আঁকিতে বেজায় আগ্রহ ছেলের। কে কারনে আর্ট স্কুলেও পড়ছে ৩ বছর থেকে। ছবির হাঁটে সবাই বন্ধু আমার। রোদ্দুরকেও চেনে সবাই। সরা আর রং তুলি নিয়ে বসে পড়লো ছবি আঁকতে। ক্ষাণিক ভাবলো। তারপর আঁকা শুরু করলো। এর মধ্যে একবার শুধু বললো, বাবা কিছু খাবো। পাশের দোকান থেকে ভাজা মাশরুম আর আরুর চপ এন দিলাম। খেলো। আবার আঁকায় মনোযোগ দিলো। নিচে সবুজ ভূমি, উপরে আকাশ। একটা বাচ্চা ছেলের হাতে নাটাই। আকাশে রঙ্গীন ঘুড়ি উড়ছে...। আঁকা শেষ হলো। আমাকে বললো,
ক্যামোন হয়েছে বাবা ?
খুব ভালো হয়েছে...।
শুধু আমি নই, আমার বন্ধুদের অনেকেও উৎসাহ দিলো। আমার মনটা কেমন উদাস হয়ে গেলো। তাকিয়ে আছি ছেলের দিকে। মনটা অন্য কোথাও। আমার পরানের গহীনের স্বপ্নগুলো ওর হাতের পরশে বিশাল আকাশে উড়িয়ে দিলো রোদ্দুর। কোনো কারন নেই, চোখটা ভিজে উঠলো...





ঘুড্ডিবেলার কথায় মন খারাপ হলে দোষের কিছু নাই। আমার শেষ ঘুড়িটার কথা এখনো ভুলতে পারি না।
ভালো লাগা
লাইক্কর্লাম। কেমনে কেমনে বয়স চলে্যায়। এইতো সেদিন ঘুড্ডি উড়াইতাম।
বয়সটারে যাইতে দিয়েন্না বস। বয়সতো শরীরে না, মনে...
আজকেও চলেন বইমেলায়। জয়ি, টুটুল ও যাইতেছে।
আইতাছি
আমিও আইতাছি তাইলে...
দারুন
এইবারের ঘুড্ডি উৎসব কবে কোথায়?
৫ মার্চ যাইবো প্রথম দল, যারা ঘুড়ি বানাইবো।
পরবর্তী দল যাইবো ১১ মার্চ রাইতে, যারা ঘুড়ি উড়াইবো...
কক্সবাজারের ইনানী বিচে এইবারের উৎসব, যাইবেন ?
বইমেলার উপর নিয়মিতই একটা পোস্ট দিতে পারেন কিন্তু। অপেক্ষায় থাকলাম
ঘুড়ি উৎসবে যাইতে মঞ্চাইলো
ওইদিন এক সিনেমায় দেখলাম নায়ক-নায়িকা বেলুনে , পেছনে ব্যাকগ্রাউন্ডে পুরা আকাশ জুড়ে রংবেরঙ্গের বেলুন। ঘুড়ি উৎসবও মনে হয় ঐরকম কিছু একটা হয়। দেখা হইলো না 
....ঘুড্ডি উৎসবে যাবার ইচ্ছা আমারো হৈলো....
রোদ্দুর রে আদর, আর ভাবী ক্যাঙ্গারূ হবার শুভেচ্ছা জানইলাম....
এই মুহুর্তে পকেট গড়ের মাঠ,কাজেই বইমেলা থেকে আপাতত শত হাত দূরে আছি
..
ভাতিজার জন্য বিশেষ স্নেহ আর আদর রইলো। এক সময় আমিও আঁকা আঁকি করতাম তাই।
কোনো কারন নেই, চোখটা ভিজে উঠলো...
রোদ্দুরের ভাইএর নাম কি হবে? এইটা আমার মাথায় খালি ঘুরতাছে।
আপনের কোন সাজেশন আছে? নাকি আমরা একটা নতুন পোস্ট নাজেল করুম?
নাজেল করেন, সাজেশন নাই। তয় রোদ্দুরের ভাইয়ের নাম সেরম হওয়া উচিৎ
বইন হইলে "বরিষণ" হইতারে!!!
মেয়ের জন্য নাম ছিলো- রোদেলা, বিষ্টি, মেঘ, মেঘলা, গোধুলী, বরষা....
রোদ্দুরের পুরো নাম : সামিন মোহাম্মদ য়ানান (রোদ্দুর)
নতুনটার নামও ঠিক করা হয়েছে : রামিম মোহাম্মদ য়াযান.....
নিক নেমটা দরকার... কেই কী হেল্পাইবেন ?
আনকমন নাম হইলে বর্ষণ রাখবার পারেন...
ডেইট পড়ছে কোন মাসে? সেইটা জানাইলে আরো কিছু নাম প্রস্তাব করবার পারুম আশা রাখি...
ডাক্তার কৈছে ১ মার্চ ২০১০
তাইলে চোখ নাক আর কান বুইজা ফাগুন রাইখা দিতে পারেন...বা বসন্ত...
বস, ফাগুন বিশেষ বিবেচনায় রৈলো... থ্যাংকু
ঘুড়ি উৎসবে যাইতে চাই।
বিস্তারিত জানায়ে অবশ্যই পোস্ট দিবেন।
জানামু
বয়ান্দা, সামলাইয়া। তারিখটা দেখেন
মনটা কেমন যেন হয়ে গেল পড়ে।
জানি না কেন, লেখাটা খুব ভাল লাগলো ...
বইমেলার কথা আসলেই মনটা খারাপ হয়ে যায়, এত এত বছরের অভ্যাস ... বহু বহুদিন পরে বইমেলা যাচ্ছি না।
মিয়াবিবিকে অভিনন্দন। রোদ্দুরের ভাই সমুদ্দুর হতে পারে না?
চমৎকার লাগলো লেখাটা।
বইমেলা নিয়ে কেন যে আপনি সিরিজ করলেন না!
ভালো লাগলো লিখাটা
মাইনুল সিরাজী এতোদিন পর প্রথম বই বের করলেন! কী খবর উনার, কোথায় আছেন এখন?
সিরাজী কাপ্তাই কী একটা কলেজ পড়ায়... মাঝে মধ্যে কথা হয়
মাইনুল.এইচ সিরাজীর প্রথম উপন্যাসটা নোয়াখালী বইমেলাতেও আছে। মাইজদীতে ছোট পরিসরে এক
সপ্তাহব্যাপী বইমেলা চলতেছে।
আসল নাম যখন বিজাতীয় রাখছেন নকল নাম বাংলা রাখনের দরকরা কি। নাম রাখেন মোয়য্জিন।
সামিন মোহাম্মদ য়ানান (রোদ্দুর) আর নতুনটার নামও ঠিক করা হয়েছে : রামিম মোহাম্মদ য়াযান..... এরমধ্যে আপনে বিজাতীয় পাইলেন কৈ ? আপনের সমস্যা কী ? আইজকা বৈ মেলায় পাইয়া লৈ...
য়ানান সামিল যায়ান এগুলিকি বাংলা না আরবি? আমরা কি আরবি জাতি?
মারামারি করবেন?
আপনেরে না কইছি রোদ্দুররে কইবেন ভাই এর নাম রাখতে, দেখেন না ভাতিজায় কি নাম রাখে ।লাগলে আপনে হেল্পান।
এইবার বইমেলায় যাই নাই, মানে মানে কইরা আরেকদিন কাটায়া দিতে পারলেই হইল, আর যাওয়া লাগবে না ...
মন উদাস হওয়ার কি আছে মেসবাহ ভাই? যা আমরা পারিনি আমাদের সন্তানেরা তাইই পারবে, সেটাইতো আমাদের সুখ।
মন্তব্য করুন