রোদ্দুর থেকে সমুদ্দুর
১ মার্চ কী টেনশন আমার ! ১২ টার দিকে রোদ্দুরের মাকে হাসপাতালে ভর্তি করালাম। প্রথমবার অপারেশনের পর ৭ ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছিলো। এবারও প্রস্তুতি ছিলো। ২ জন বন্ধু ছিলো স্ট্যান্ডবাই। রক্ত লাগবে জানি কিন্তু কত ব্যাগ লাগতে পারে সেটার ধারনা ছিলো না। অনেকেই বলেছে, প্রয়োজন হলে জাস্ট একটা ফোন করলেই হবে। চলে আসবে তারা। রক্তের ব্যাপারে নিশ্শ্চিন্ত থাকলেও টেনশন কমছিলোনা। আমাকে দেখে অফিসের লোকজন অবাক হচ্ছিল। ঘামছিলাম আমি।
ডাক্তার আপা এলেন ৩.৩০ মিনিটে। আমাদের পরিবারের অনেক ভরসা ডাঃ রওশন আরার প্রতি। আমাদের প্রায় ৮/৯ টি বাচ্চা তার তত্বাবধানে হয়েছে। ৩.৪৫ মিনিটে আমাদের পরিবারে দ্বিতীয় অতিথি এলো। রোদ্দুরের ভাই হলো। শিশু ডাক্তার ওটির বাইরে উঁকি দিয়ে জানালেন, শিশুর ওজন একটু কম। এছাড়া আর কোনো সমস্যা নেই। চিন্তার কিছু নেই। শিশু আর শিশুর মা ভালো আছে। আরো ৩০ মিনিট পর ডাক্তার আপা বেরিয়ে আসলেন। হিমোগ্লোবিন ভালো আছে, রক্তের দরকার পড়বে না- বললেন, ডাক্তার আপা। হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। পরিবারের ১২/১৪ জন হাসপাতালে...।
ছোট ভাই অনেকগুলো মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে এল। দুটো প্যাকেট আপার গাড়ীতে তুলে দিলাম। শিশুকে নিয়ে যাওয়া হল এনআইসিইউ-তে। ঘন্টা দুয়েক সেখানে থাকবে। আমারা ৬ ভাইবোন হাসপাতালে। আমার কীযে ভালো লাগছে !
বিকেল নাগাদ আত্মীয়-স্বজন আর বন্ধু বান্ধবরা আসা শুরু করলো। শিশুর মা পোস্ট অপারেটিভে। মাঝে-মাঝে শিশুকে নিয়ে গিয়ে খাইয়ে আনছে। মিষ্টিতে মিষ্টিময় আমার অফিস...। বন্ধুরাও বাদ যায়নি। এদিকে মিষ্টি কিনতে কিনতে আমি দেউলিয়া...। ভুত থেকে ভুতের মত আমার সকল আত্মীয় আর বন্ধুমহলে জেনে গেছে । মোবাইলে একটার পর একটা ম্যাসেজ আসছে। কল আসছে। আমিও অনেককে জানালাম।
পরদিন শিশুর মাকে রুমে দেয়া হলো। ভিজিটর কমিয়ে দিলাম। এসময় বেশি ভিজিটর আসলে ইনফেকশনের সম্ভাবনা থেকে যায়। যা হয়েছিলো প্রথমবার। রোদ্দুরতো মহা খুশি। তার খেলার সাথী পাওয়া গেছে...। ছবি তুলছে একের পর এক। বাসায় পাঠানো যাচ্ছেনা রোদ্দুরকে। সারাক্ষণ হাসপাতালে থাকতে চায়। সবাইকে বিদায় করে হাসপাতালে রয়ে গেলাম আমি আর আমার শ্বাশুড়ি। আর রইলো শিশু আর শিশুর মা। সারারাত না ঘুমিয়ে থাকি। পরদিন সকালে আবার অফিস করতে হয়। এভাবে ৩ দিন কাটলো। প্রতিদিন একবার করে ডাক্তার আপা আসতেন। শেষদিন এসে বললেন, আর হাসপাতালে থাকার দরকার নেই। বাসায় চলে যান। ৪ তারিখ দুপুরের পর বাসায় চলে গেলাম শিশু আর তার মা'কে নিয়ে। ৭ তারিখে এসে ড্রেসিং করিয়ে নিতে বললেন-ডাক্তার।
এরপরের সমস্যা ছেলের নাম নিয়ে। অনেকে অনেক নাম বলেছে। অবশেষে রোদ্দুরের পছন্দের নামটাই রাখা হলো। সমুদ্দুর (কৃতজ্ঞতা : নুশেরা)।
যারা অস্থির সময়টাতে আমাকে মানসিকভাবে সাপোর্ট দিয়েছেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা রইলো। সবার ভালোবাসা আর আল্লার অশেষ মেহেরবানীতে সমুদ্দুর, রোদ্দুর আর রোদ্দুরের মা ভালো আছে....। ভালো আছি আমিও...





খবরটা আগেই পেয়েছি। শুভ কামনা রইল সবার জন্য।
হুমম...সব কইলেন তো?
কিছু কি বাদ পড়লো ?
ডাক্তার আপা এলেন ৩.৩০ মিনিটে। আমাদের পরিবারের অনেক ভরসা ডাঃ রওশন আরার প্রতি। আমাদের প্রায় ৮/৯ টি বাচ্চা তার তত্বাবধানে হয়েছে।
মেজবাহ ভাই'র রোদ্দুর সমুদ্দুর নিয়ে দুইটাইতো বেবী, ৮/৯ কইথেইক্কা আসলো
মিষ্টি কিনতে কিনতে দেউলিয়া হয়ে গেলেন, আমার কপালে একটাও জুটলোনা
প্রত্যু , আদ্বদীন- আপার ছেলে
অন্যতমা , বর্ণমালা- শিপুর মেয়ে
মোস্তাকিম- মাহমুদের ছেলে
আবদুল্লাহ- রেজা য়ারিফের ছেলে
প্রতীতি- কাজিন মিলনের মেয়ে
রোদ্দুর- আমাদের ছেল
কয়টা হলো ??? মিষ্টি পাওনা রইলা
ওওওওওওওও বুজছি বুজছি, আসলে না বোঝার ভান করছিলাম।
য়ারিফও ছেলের বাবা হয়ে গেছে.......মেঘে মেঘে জল কমতো গড়ায়নাই।
আবারো রোদ্দৃর এবং সমুদ্দৃর এর জন্য অনেক শুভ কামনা...........
ত্যাংকু ত্যাংকু
মিষ্টি ত খাইছিলাম। সমুদ্দুর রে আদর দিয়েন।
মিষ্টি খাইতে মন্চায়।
আমারও মিষ্টি খাইতে মঞ্চায় কিন্তু কারো বিয়া বা পোলাপাইন হয়না ক্যান ? সবতেরে মাইনাস !!
সবার জন্য শুভকামনা রইল। আর অতি অবশ্যই মিষ্টি খাইতাম চাই।
সমুদ্দুর টাইপের কঠিন নামের সমস্যা আছে। আমার এক ভাগ্নের নাম শ্রেষ্ঠ রাখা হয়েছিল। পরে কাজের মেয়েদের মুখে মুখে সে নাম হইয়া গেল শেষটু। পোলা নিজের নাম বলে শেষটু। নাম পাল্টায় শেষে প্রান্ত রাখা হইছে। দেখি এখন প্রানটু হয় নাকি
রোদ্দুর সমুদ্দুর মিলছে ভাল। একটু জানার খায়েশ ছিল, মেয়ে হলে কি নাম রাখতেন?
মেঘ, রোদেলা, বরষা, মেঘলা, বিষ্টি টাইপের কিছু একটা...
কদ্দূর...
ছুডুবেলায় মায় কৈতো,
একে মেনমেন
দুইএ পাঠ
তিনে গন্ডগোল
চাইরে হাঁট...
অনেক শুভ কামনা সমুদ্দুরের জন্য
রোদ্দুর সমুদ্দুর অনেক ভাল থাকুক
ত্যাংকু ত্যাংকু
আমারে মিষ্টি খাওয়ান নায়। এইটা কেমনে ভুলি?
সমুদ্দুর সমুদ্দুরের মতন বিশাল হৃদয়ের অধিকারী হোক
যখন শিশু ডাক্তারের কথা লেখলেন, আমি ভাবলাম সমুদ্দুর কি এখনি ডাক্তার হৈয়া গেলো??
রোদ্দুর সমুদ্দুর দুইজনই অনেক আনন্দে বড় হোক....ভালোবাসায় ভৈরা থাকুক...
(দোয়া হৈছে, এলা আমার মিষ্টি?)
আরেকবার কংগ্রাটস আজাদ ভাই
আমিও মিষ্টি খাই নাই।
অনেক অনেক শুভ কামনা রইলো........
মিষ্টি খাইতে পারি নাই। কাইলকা নিয়া আইসেন মনে কইরা।
সমুদ্দুর, রোদ্দুর, ভাবি, আপনি, আপনার পরিবার.. সবার প্রতি শুভকামনা।
শুভকামনা
শুভকামনা।
আমার মিষ্টি পাওনা আছে। দেখামাত্র খাওয়াইতে হইপে।
ইয়েএএএএএএএএ!!!!!!!!!!!!!!!!!
আমার দেয়া নাম রাখা হইছে ভাতিজার
ইয়ে মানে নির্বাচিত নামের জন্য পুরস্কারের ঘোষণা ছিলো না?
অনেক শুভ কামনা সমুদ্দুরের জন্য ....
মিষ্টি খাইতে মন্চায় .....
মন্তব্য করুন