ইউজার লগইন

একজন লড়াকু নির্মল সেনের বেঁচে থাকার গল্পো

সত্যবাদীদের পক্ষে প্রিয় মানুষ হওয়া অনেক কঠিন। বিশেষত আমাদের তথাকথিত রাজনৈতিন সরকারের কাছে। অপ্রিয় হবার এই কাজটা সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই নিষ্ঠার সঙ্গে তিনি করে আসছেন। চট্টগ্রাম অঞ্চলে, বিশেষ করে গ্রামগুলোতে বিপ্লব সংগঠক ছিলেন তিনি। এই তিনি হচ্ছেন সূর্যসেনের অন্যতম সহযোগী, বিপ্লবী, কলম সৈনিক, মুক্তিযোদ্ধা, বাম রাজনীতিবিদ নির্মল সেন।

কৃষক- শ্রমিক সমাজবাদী দলের প্রধান নির্মল সেন বিপ্লবের পাশাপাশি সেসময় জোরদার সাংবাদিকও ছিলেন। ইত্তেফাকের সহকারী সম্পাদক হিসেবে শুরু। ৬৪ সালে যোগ দেন দৈনিক পাকিস্তানে। সেই থেকে কলম হয়ে উঠল তাঁর বিপ্লব আর প্রতিবাদের অন্যতম হাতিয়ার। এই ভূখন্ডের প্রতিটি বিপ্লবের অংশীদার তিনি। দৈনিক পাকিস্তান ইতোমধ্যে দৈনিক বাংলা। সরকার মালিকানাধীন পত্রিকার সহকারী সম্পাদক তিনি। উপসম্পাদকীয় লিখতেন অনিকেত ছদ্দনামে। ৭৪ সালে লিখেছেন সেসময়কার আলোড়ন সৃষ্টিকারী উপসম্পাদকীয়- স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই। আর সেজন্য বঙ্গবন্ধুর অপ্রিয় হতেও সময় লাগেনি নির্মল সেনের। তৎকালীন সরকার দৈনিক বাংলা বন্ধ করে দিলে সাংবাদিক-কর্মচারীদের বেতন ভাতার লড়াইয়ে একাই সামিল হলেন তিনি। টানা ৯ দিন অনশন করে, দাবী আদায়ের পর তবেই খাদ্য মুখে তোলেন। সেসব আজ কেবলি অতীত !

২০০৩ সালে ১১ নভেম্বর ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন মানুষটি। তাঁর বাম পাশটা মানে মাথা থেকে পা পর্যন্ত অবশ হয়ে যায়। জড়িয়ে যায় মুখের কথা। প্রথমদিকে লিখতে এবং পড়তে পারলেও পরবর্তীতে সেটা আর সম্ভব হচ্ছিল না। ধীরে ধীরে বাঁ চোখ তার কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ইদানীং ডান চোখেও তেমন দেখতে পান না। সেসময় প্রথমে পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে মগবাজার কমিউিনিটি হাসপাতালে। এরপর উন্নত চিকিৎস্বার্থে তাঁকে নেয়া হয় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে। সেখানে মাত্র ৩ মাস চিকিৎসা নেয়ার পর অর্থাভাবে আর চিকিৎসা নিতে পারেননি। ফিরে আসেন দেশে। তবে সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকরা বার বার করে বলেছিল, অন্তত আরও মাস দুয়েক যেন চিকিৎসা নিয়ে তবেই তিনি দেশে ফিরে যান। মাত্র দুটো মাস সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিতে পারলে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ না হলেও সাপোর্ট নিয়ে হাঁটতে এবং কথা বলতে পারতেন। অথচ কী অসহায় তিনি ! সামান্য কিছু টাকার জন্য চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রেখে ফিরে আসেন। এ যে কী কষ্টের !

সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরে আসার পর দীর্ঘ ৮ মাস সাভারের সিআরপিতে তাঁকে ফিজিওথেরাপি দেয়া হয়। এর পাশাপাশি প্রয়োজন ছিল নিয়মিত ওষুধ খাওয়ানো আর চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া। অথচ সে সুযোগ ছিলনা তাঁর। এত দামী দামী ওষুধ কেনার মত সামর্থ কোথায় ? হায় কপাল ! অর্থাভাবে সিআরপিতেও তাঁর ফিজিওথেরাপি বেশিদিন চালানো সম্ভব হয়নি। তারপর থেকে তাঁর চিকিৎসা বলতে গেলে বন্ধই। অর্থ সংকট এমন পর্যায়ে গেছে, একসময় তাঁকে ঢাকা ছাড়তে হলো। ফিরে গেলেন তিনি পৈত্রিক নিবাস গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ার দিঘির পাড় গ্রামে।
Image Hosted by ImageShack.us
দীর্ঘ ৭ বছর যাবৎ নির্মল সেনের ছায়াসঙ্গী ভাইপো কঙ্কন অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে বললেন, জানেন, অনেক বড় বড় নেতা, মন্ত্রী আর রাজনীতিবিদ এবং তাঁর এক সময়কার কাছের মানুষদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজে যোগাযোগ করি। কাকুর চিকিৎসায় সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করি। মৌখিকভাবে অনেকেই আশ্বাস দেন। অথচ কার্যত কেউ তাঁর চিকিৎসার সাহাযার্থে এগিয়ে আসেনি। কেউ আর পরে কথা রাখেনি। নাহলে আজ কাকুর এ অবস্থা হত না। বলতে বলতে গলাটা ভারী হয়ে যায় কঙ্কনের। পাশে সোফায় শুয়ে ৮০ বছরের কাকু সব শুনছিলেন। আবেগ আর ধরে রাখতে পারলেন না। শিশুর মত কেঁদে উঠলেন তিনি।

একসময় কঙ্কনের ব্যবসা ছিল। কাকুর সাথে ২৪ ঘন্টা থাকতে যেয়ে সে ব্যবসা আর দেখাশুনা করতে পারছিলেন না। ব্যবসার সবকিছু বেচে দেন কঙ্কন। সে টাকা থেকে বিভিন্ন সময়ে দেশে-বিদেশে কাকুর চিকিৎসা বাবদ মানুষের কাছ থেকে যে টাকা ধার করেছিলেন, সেটা পরিশোধ করেন। এখন একবারে সহায় সম্বলহীনভাবে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। কাকুর চিকিৎসা দুরের কথা, নিজের পরিবার আর কাকুর জন্য দুমুঠো খাবারের যোগাড় করতেই তার নাভীশ্বাস অবস্থা। নির্মল সেনের এক সময়কার সতীর্থরা প্রথম দিকে খোঁজ খবর নিলেও দীর্ঘদিন থেকে তারাও আর কোনো যোগাযোগ করছেন না। গোপালগঞ্জের স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক মাঝে মধ্যে এসে তাঁর খোঁজ খবর নেন।

সারাজীবন মানুষের জন্য, মানুষের কল্যানে কাজ করে গেছেন এই অকুতোভয় সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ। নিজের বা পরিবারের কারো কথা ভাবেননি কোনদিন। এমনকী, মানুষের জন্য কাজ করতে যেয়ে মানুষটি নিজে বিয়ে করে সংসারী হবার সময়ও পাননি। তাঁর স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই লেখাটি মনে হয় আজও ভুলতে পারেনি বর্তমান সরকার! যার কারনে হাসিনার সরকারও নির্মল সেনের চিকিৎসার জন্য কোনোরুপ উদ্যোগ বা আগ্রহ দেখায়নি। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, বর্তমান মহাজোট সরকারের মধ্যে নির্মল কাকুর অনেক বন্ধু রয়েছেন। এরমধ্যে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়–য়া থেকে শুরু করে রাশেদ খান মেনন আর হাসানুল হক ইনুও আছেন। অথচ...! সুনীলের সেই বিখ্যাত কবিতার মত কেউ কথা রাখেনি ! তাঁরা হয়ত বলতে পারেন, আমরাতো কোন কথা দেইনি। সত্যিইতো, তারাতো কোনো কথা দেননি। দেবেনই বা কেনো ? কথা দেবার মত সময় তাদের থাকলেতো ! ভয়ে আছি, কবে তারা বলে বসেন- নির্মল সেন যেনো কে ?
ss
অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না নির্মল সেন পত্রিকায় এ সংবাদ দেখার পর ল্যাবএইডের পক্ষ থেকে তাঁর চিকিৎসার সকল দায়িত্ব গ্রহন করা হয়। যতদিন তিনি সুস্থ না হবেন, ততদিন ধরে ল্যাবএইডের তত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলবে। এরকম পরিকল্পনা নিয়ে যোগাযোগ করা হয় কঙ্কনের সাথে। তিনি নির্মল সেনের সম্মতি নিয়ে আমাদের জানান। আমরা ৭ এপ্রিল কোটালিপাড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। গোপালগঞ্জ থেকে আমাদের সঙ্গী হয় স্থানীয় কিছু সাংবাদিক। কোটালিপাড়া পৌরসভা পেরিয়ে আমরা দিঘির পাড় গ্রামে পৌঁছাই দুপুর ২ টায়। অবাক হয়ে যাই তাঁর বাড়িতে ঢুকে। তিনি বর্তমানে তাঁর ভাইপো কঙ্কনের সাথে থাকছেন। পাশেই তাঁর জীর্ণ পাকা ভবনটি অযতœ আর অবহেলায় কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ভবনের গায়ে এখন শ্যাওলা আর বড় বড় গাছ। আর ভেতরে, পোকা মাকড়ের ঘর বসতি...।
Nromol1
শিউরে উঠলাম, যখন শুনলাম বিদ্যুৎ বিভাগের কীসব অপকর্ম নিয়ে পত্রিকায় লেখার কারনে সারা এলাকায় বিদ্যুতের লাইন দেয়া স্বত্তেও নির্মল সেনের বাড়িতে বিদ্যুতের লাইন দেয়া হয়নি। প্রচন্ড গরমের মধ্যে সোফার মধ্যে শুয়ে আছেন তিনি। মাঝে মাঝে এসে হাত পাখা দিয়ে বাতাস করে যাচ্ছেন তার ভাইপো। অস্পষ্টভাবে আমাদের সবার পরিচয় আর কুশলাদি জানতে চাইলেন। তাঁর কথা সামান্যই বুঝা যায়। শরীরের বা পাশ অবশ হয়ে যাবার পর থেকেই তাঁর এ অবস্থা। ভাইপো দোভাষীর মত আমাদের তা বুঝিয়ে দেন। আমাদের জন্য দুপুরের খাবার আয়োজন করেছেন। খেতে বসে চোখ গেল, তাঁর পুরোনো কাঠের আলমিরায় রাখা অসংখ্য বইয়ের দিকে। আলমিরার উপরে বেশ কটি সম্মাননা ক্রেস্ট সাজিয়ে রাখা। আজ সবই স্মৃতি ! অর্থাভাবে যে মানুষটার চিকিৎসা হচ্ছেনা দীর্ঘ সাতটি বছর, তাঁর ঘরে সাজানো এসব ক্রেস্ট মূল্যহীন মনে হল আমার।
Image Hosted by ImageShack.us
নির্মল সেনকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি ৭ এপ্রিল বিকেল বেলা। গোপালগঞ্জ হয়ে না এসে আমরা কোটালিপাড়া-রাজৈর রাস্তা ধরে রওয়ানা দেই। এ ২৮ কিলেমিটার রাস্তাটার সাথে নির্মল সেনের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তাঁর তদবিরের কারনে এ রাস্তাটি পাকা করার বাজেট পাশ হয়। অথচ, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই তা বন্ধ হয়ে যায়। এ রাস্তার বাজেট থেকে ১০০ কোটি টাকা অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়। এতে মনে আঘাত পেলেও দমে যাননি তিনি। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করে অবশেষে তাদের অর্থায়নে এ রাস্তাটি শেষ করতে পেরেছেন। এ রাস্তার মাঝে একটি ব্রিজের নাম পেট-কাটা ব্রিজ। প্রজেক্ট থেকে টাকা সরিয়ে নেবার পর ব্রিজের কাজও বন্ধ হয়ে যায়। এ ব্রিজটি করার জন্যও অনেক লেখালেখি করেন তিনি। অবশেষে এলজিআরডির অর্থায়নে সেটি একসময় নির্মিত হয়।
Image Hosted by ImageShack.us
৭ এপ্রিল ২০১০ রাত ৯ টার পর ঢাকাতে এনে তাঁকে ভর্তি করা হয় ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতালের ৫৫৫ নং কেবিনে। নিউরো মেডিসিনের প্রফেসর সিরাজুল হকের অধীনে। এ ছাড়াও অর্থপেডিক্সের প্রফেসর আমজাদ হোসেন এবং ইউরোলজিস্ট প্রফেসর জাহাঙ্গীর কবীর তাঁর চিকিৎসা করছেন। তাঁর সিটি স্ক্যান আর ইকো করা হয়েছে। দুটোর রিপোর্টই ভাল। আশার কথা হচ্ছে, তিনি সবকিছু মনে করতে পারছেন। এমনকী, সিঙ্গাপুরের ডাক্তারদের সাথে তার কথপকথনও মনে করতে পারছেন। লোকজনকে মোটামুটি চিনতে পারছেন। তাঁর হার্টের অবস্থা ভাল। ডায়াবেটিস নেই। অবশ হওয়া বা পা বললে তিনি নাড়াতে পারেন। এখন তাঁর প্রয়োজন, নিয়মিত ফিজিওথেরাপি দেয়া আর লম্বা সময় ধরে ওষুধ খাওয়া। পাশাপাশি ভাল নার্সিংসেবা। নিজের দু’পায়ে তিনি আর কোনোদিন হাঁটতে পারবেন না, এটা সত্যি। তবে কোনো কিছুর সাহায্য নিয়ে হাঁটতে পারবেন। আবার হাতে তুলে নিতে পারবেন, তাঁর ক্ষুরধার লেখনী। সমাজের অসংগতিগুলো চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে পারবেন আপসহীন এ কলামিষ্ট। এমন আশার কথাই শুনালেন তাঁর ডাক্তার নিউরোলজিস্ট প্রফেসর সিরাজুল হক।

৭ এপ্রিল নির্মল সেন ল্যাবএইডে ভর্তি হবার পর খবরের কাগজ এবং অনেক টিভি চ্যানেল গুরুত্ব সহকারে সংবাদটি প্রচার করে। সেখানে বলে দেয়া হয়েছে, তাঁর চিকিৎসার সকল ব্যয়ভার ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষ বহন করবে। তারপরও মজার ব্যাপার হচ্ছে, ৯ এবং ১০ এপ্রিল ২/৩ টি পত্রিকায় স্বনামধন্য কলামিস্ট এবং নির্মল সেনের সহকর্মীরা বিশাল বিশাল ২/৩ টি কলাম আর উপ সম্পাদকীয় লিখেছেন। যার শিরোনাম এরকম : আসুন, নির্মল সেনের পাশে দাঁড়াই। আমার প্রশ্ন হচ্ছে : এতদিন তাঁদের এই সহমর্মিতা কোথায় ছিল ? গত ৭ টি বছর তাঁরা কি এসব লেখা লিখতে পারতেন না ? তাহলে নিশ্চয়ই কেউ না কেউ নির্মল সেনের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতেন। আর এতদিনে তিনি সুস্থ হয়ে যেতেন। আজ সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে একটি প্রতিষ্ঠান যখন নির্মল সেনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে, তখন আর এইসব লিখে কী লাভ ? এখন কেন তারা সাহায্য চাইছেন ? এটা কী পরোক্ষভাবে তাঁকে অপমান করা নয় ? সবিনয়ে এসকল শ্রদ্ধাভাজন কলামিস্টদের কাছে জানতে চাই, সে অধিকার কি আপনাদের আছে ? নাকী নির্মল কাকু আপনাদের দিয়েছেন ?

প্রতিদিন রাতে অফিস শেষে নির্মল কাকুর সাথে দেখা করে বাসায় যাই। যথারীতি গতকালও নির্মল কাকুকে হাসপাতালের রুমে রেখে বেরিয়ে যাবার সময় তিনি আমার হাত টেনে ধরলেন। তাঁর ডান চোখ বেয়ে ক’ফোটা পানি গড়িয়ে পড়লো। কী ছিল তাঁর চোখের ভাষায়, জানিনা। সেটা কি ক্ষোভ, অক্ষমতা, অপমানের জ্বালা নাকী কৃতজ্ঞতা ? কেবল নির্মল কাকুই ভালো জানেন !!

তথ্য কৃতজ্ঞতা : নজরুল ইসলাম

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মামুন ম. আজিজ's picture


মন কাড়া লেখা

মেসবাহ য়াযাদ's picture


ধন্যবাদ পথিক

টুটুল's picture


বিদ্যুত বিভাগের নামে মামলা করা যায় না?

ধন্যবাদ মেসবাহ ভাই
নির্মলসেনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি

মেসবাহ য়াযাদ's picture


আমরা সবাই নির্মলসেনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি

নীড় সন্ধানী's picture


লেখাটা ছুঁয়ে গেল। ভাল হয়ে উঠুক নির্মল সেন।

সাঈদ's picture


উনার সম্পর্কে এত কিছু জানতাম না।

যাযাদ ভাই কে স্যালুট।

হাসান রায়হান's picture


ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা মেসবাহ ভাই।

নজরুল ইসলাম's picture


প্রথমে অশেষ শ্রদ্ধা আপনার প্রতি। আপনি উনার পাশে আছেন, এটা যেনে যারপরনাই নিশ্চিন্ত মনে আছি যে কাকুর জন্য আর কোনো চিন্তা করতে হবে না।

বিদ্যুত বিভাগের নামে মামলা করার বিষয়ে টুটুল ভাইয়ের লগে সহমত।

সেই বৃটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেকটা আন্দোলনে নির্মল সেন সোচ্চার ছিলেন। উনার একটাই ভুল [!] উনি কোনোদিন ক্ষমতাওয়ালারে তোয়াক্কা করেন নাই। যেখানে প্রতিবাদ করার দরকার, সেখানেই সোচ্চার হইছেন। কে কী মনে করে তার ধার ধারেন নাই। ক্ষমতার পালাবদলের লগে লগে নিজের রং বদলান নাই।

সেই ভুলের মাশুল তিনি এখন দিতেছেন!!

আওয়ামী লীগ নির্মল সেনের উপরে চেতিত। শুধু 'স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই' লেখার জন্যই না। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের শেষে জয় বাংলার পরে 'জয় পাকিস্তান' [বা এরকম কোনো একটা শব্দবন্ধ] বলেছিলেন, এই মতবাদের পক্ষে যে হাতে গোনা দুয়েকজন লোক আছেন নির্মল সেন অন্যতম। আহমদ ছফা ছিলেন আরেকজন।

মেসবাহ য়াযাদ's picture


আমি উপলক্ষ মাত্র ! আপনার জন্য কৃতজ্ঞতা। অনেক তথ্য পেয়েছি আপনার লেখা থেকে।

১০

অতিথি পাখি's picture


ধন্যবাদ এই পোস্টটার জন্য।
উনার সুস্থতা কামনা করছি।

আসলে অনেক কিছুই জানিনা আমরা।

১১

জেবীন's picture


ধন্যবাদ মেসবাহভাই .।.।

নির্মলসেনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি, জলদি ভালো হয়ে উঠুন উনি.।।

আর অনেক তথ্যের জন্য নজরুলভাইকেও ধন্যবাদ.।.। কতোকিছুই জানতাম না.।

১২

হাসান রায়হান's picture


গতকাল নির্মল সেনকে সামনাসামনি দেখে, কথা বলে আরো খারাপ লাগল। কেমন করে হাত জড়ায়ে ধরেন! সত্যের পথে সারাজীবন থেকে শেষ বয়সে এই কী পরিণতি! বছরের পর বছর এমন একটা মানুষের চিকিৎসা পর্যন্ত বন্ধ। কেউ না আগায় াসল কিন্তু নিজের গ্রামের লোকরা ওকে দেখল না?

১৩

নজরুল ইসলাম's picture


দিনে দিনে হারিয়েছি বিস্মিত হবার ক্ষমতা। এখন অনেক কিছুই গা সয়ে গেছে...
তাই অবাক হইনা আর...

১৪

মেসবাহ য়াযাদ's picture


মানুষ আর মানুষ নাইরে ভাই ! গ্রামের লোকদের অবস্থা আরো খারাপ

১৫

শওকত মাসুম's picture


দিনে দিনে হারিয়েছি বিস্মিত হবার ক্ষমতা। এখন অনেক কিছুই গা সয়ে গেছে...
তাই অবাক হইনা আর...

১৬

গৌতম's picture


ল্যাব এইড কর্তৃপক্ষ ও আপনারা যারা নির্মল সেনের পাশে আছেন, সবাইকে সালাম।

১৭

মেসবাহ য়াযাদ's picture


ওয়ালাইকুম সালাম...

১৮

জ্যোতি's picture


কতকিছুই জানতাম না। ধন্যবাদ মেজবাহ ভাইকে আর ল্যাব এইড কর্তৃপক্ষ কে।

১৯

মানুষ's picture


কিছুই বলার নাই

২০

রাফি's picture


আবারো শ্রদ্ধা মেসবাহ ভাই ও ল্যাবএইডকে...।।

কাউরে গালি দিলে নিজের গায়ের উপরেও পড়ে তাই আর দিলাম না।

২১

মাহবুব সুমন's picture


কি যে বলো বড় ভাই, বুঝতে পারছি না :(। শালার এই জীবনে এত কিছু দেখলাম - শুনলাম কিন্তু কাজের কাজ কিছুই দেখলাম না বা শুনলাম না। হ্যান করুংগা -- ত্যান করুংগা বলে অনেক বড় কথা শুনলেও কাজের কাজ কোনো শালাই করে না। একেক জনের কথা শুনলে মনে হয় পারলে পত্রিকার পাতাতেই আত্মহত্যা করে বসে কিন্তু এই চুতিয়ারা কিন্তু কিছুই করে না সময়ে। এক নির্মল সেনের কথা আমরা জানছি কিন্তু কত যে সব নির্মল সেনের কথা আমরা জানতে পারি না তাদের কি অবস্থা চিন্তা করেন ! মেজাজ টাই খারাপ হয়ে গেলো।

২২

মেসবাহ য়াযাদ's picture


আমারও মেজাজ খারাপ। এই শালার কলামিস্টদের লেখা দেখলে পিত্তি জ্বলে যায়। আমরা দায়িত্ব নেবার পর বলে কীনা, আসুন নির্মল সেনের পাশে দাঁড়াই... শালারা ! আল্লাহ এদর সব দিয়েছেন। শুধু লাজ লজ্জা দেয় নাই। এদেরকে বাঁশ দিয়ে একটা লেখা লিখেছি, কালের কন্ঠে।

২৩

helal's picture


Kora lakha! Lab Aid valo kam korchay, sokolkay srinimoto Salam.

২৪

তনুজা's picture


কৃতজ্ঞতা

২৫

নড়বড়ে's picture


য়াযাদ ভাই আর ল্যাবএইডের প্রতি কৃতজ্ঞতা। তবে নির্মল সেনের ভাইপো কঙ্কনের প্রতিও সশ্রদ্ধ সালাম, এ যুগে এরকমটা কয়জন করে?

২৬

তানবীরা's picture


ল্যাব এইড কর্তৃপক্ষ ও আপনারা যারা নির্মল সেনের পাশে আছেন, সবাইকে সালাম।

২৭

তানবীরা's picture


এই ঠাকুর দালানগুলো সংরক্ষন করা প্রয়োজন, পুরাকীর্তির রক্ষার্থে, সৌন্দর্ষ রক্ষার্থে

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মেসবাহ য়াযাদ's picture

নিজের সম্পর্কে

মানুষকে বিশ্বাস করে ঠকার সম্ভাবনা আছে জেনেও
আমি মানুষকে বিশ্বাস করি এবং ঠকি। গড় অনুপাতে
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি।
কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
কন্যা রাশির জাতক। আমার ভুমিষ্ঠ দিন হচ্ছে
১৬ সেপ্টেম্বর। নারীদের সাথে আমার সখ্যতা
বেশি। এতে অনেকেই হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরে।
মরুকগে। আমার কিসস্যু যায় আসে না।
দেশটাকে ভালবাসি আমি। ভালবাসি, স্ত্রী
আর দুই রাজপুত্রকে। আর সবচেয়ে বেশি
ভালবাসি নিজেকে।