সাংবিধানিক জটিলতা
আদলতের অবমাননা!! আইনের অবমুল্যায়ন বা আইন এর অপব্যবহার!! শব্দ গুলো শুধু ক্ষমতার কাছা কাছি মানুষের জন্য, বা রাজনীতির ট্যাগ সম্বলিত মানুষের জন্য। আমরা যারা প্রতি দিন আইন মেনে চলার চেষ্টা করি, এমন কি রস্তার ডানে হাঁটবো না বামে হাঁটবো, ট্রাফিক সিগনাল মেনে চলবো, নাকি চলবো না তা কয়েকবার চিন্তা করি, তাদের জন্য এই সব শব্দ প্রযোজ্য।
আমি একটা জিনিস বিশ্বাস করি, প্রতি টা কজে মানুষের মাথায় দুই ধরনের চিন্তা কাজ করে। বা আরও সহজ ভাবে বললে, নিজের উদ্দেশ্য আসিলের জন্য যে সব পথ মানুষ চিন্তা করে তার জন্য অনেক গুলো পথ ই খোলা থাকে। ন্যুনতম চিন্তাশিল মানুষের মাথায় এই পথ গুলোর কিছু হলে ও ধরা দেয়। এর মাঝে কিছু পথ থাকে কুপথ।ঃ আইনের চখে ফাকি দেয়া পথ, বিবেকের কাছে ফাকি দেয়া পথ। সেই সব পথ অধিকাংশ সময় ই short-way, high benefit. এখন সিদ্ধান্ত মানুষের ই নিতে হয়, সে কোন পথে যাবে, বা কোন পথটা বেছে নিবে।আমরা যারা সুযোগ এবং বুদ্ধি থাকা অবস্থায় ও আইন মেনে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে, কম লাভে খুশি থাকি এই ভেবে যে আমার কর্ম আমাকে ফাকি দিয়ে না, আইন কে ফাকি দিয়ে করা না, তাদের প্রতি ই আইন বেশি কঠোর। তাদের প্রতি সমাজ আরও রুঢ়। সমাজের ৬০% কালো বুদ্ধিমত্তা তখন আমাদের এই আইনানুগত টা কে দুর্বলতা ভাবে। তারা জানে, এতো বছরের অভ্যাসের কারনে হলে ও আমরা এই দর্শন থেকে বের হতে পারব না। তারা একে ব্যবহার করে নিজ স্বার্থ রক্ষায়, নিজের পথ সুগম করতে।
প্রতিদিন ব্লগাদের কেস নিয়ে টি ভি তে কথা বলছে। রাজনৈতিক টক শো গুলতে প্রতিদিন ই আসছে ব্লগারের ইস্যু। যারা টক শো তে আসেন এবং যারা এর পরিচালনা করেন সবাই সমাজের গণ্য মান্য ব্যাক্তি, সবাই বুদ্ধি বৃত্তিক জীবন যাপন করেন। কিন্তু আমার মনে হয় না ওনারা জাগ্রত বিবেকের মানুষ। হয় তারা আইনের ধার ধারেন না, বা বে আইনআনুগ কিছু বলতে ভয় পান। নইলে কেউ একবার ও প্রতিবাদ করলেন না যে, সঞ্চালক যে প্রতিনিয়ত বলে যাচ্ছে, হেফাযত এর দাবির মুখে সরকার ব্লগারদের ধরে হেফাজতের কথা অনুসারে ব্লগারদের বিরুদ্ধে কেস ঠুকে দিল ; এটা বেআইনি।
আজ জয়ের কথা ই ধরি, পদ্মা সেতু ও আবুল হসেন এর দুর্নীতি তে কেন মামলা করা হল না , এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, "তার বিরুদ্ধে কোন প্রমান পাওয়া জায়নি, যাতে মামলা করা যেতে পারে।" জী এমন টা ই হবার কথা ব্লগারদের বিষয়ে ও। তেমন কিছু পাওয়া যায়নি, তাও তারা দেড় মাস জেল খেটেছে।। এই কথা টা ব্লগারদের ক্ষেত্রে কেন সত্য হল না। কারন তারা শুধু ই ব্লগার। তাদের ধরতে আইন লাগে না। বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ৫৪ ধারায় রিমান্ডে নেয়া যায়। জেলে পুড়ে রাখা যায়।
আমি যদি রাসেল এর কথা ই ধরি, রাসেল যদি অপরাধী হতো, রাসেল যদি সামাজিক অশান্তি তৈরি করতো, রাসেল যদি কাউকে অস্মমান করতো, বি টি আর সি এর নজর তার উপর আগে ই পরত। তারা তো নেট কে নজরদারিতে ই রেখেছে। তারা সরকারের পক্ষ থেকে আগে ই সাবধান করতো বা আইনের আশ্র্য় নিত। কিন্তু তারা তা করেনি। যদিও রাসেল ব্লগিং করে ৭ বছর। ৭ বছরে রাসেল এর লিখায় কোথায় কোন সমস্যা হয়নি, এক রাতে বাংলাদেশের চিত্র পালটে দিল ওর লিখা। তারা এই কাজটা করেছে কখন, যখন হেফাজত বলেছে নাস্তিক ব্লগার ধরতে। হেফাজত কিন্তু জানে ই না ব্লগার কি, ব্লগ কি? তাও তাদের খুশি করতে ব্লগার ধরেছে। তারা কিছু লিখেছে কি লিখে নাই, বা তাদের ঐ রকম কোন লিখা আছে কি নাই, তার কোন তোয়াক্কা ই করে নাই। তারা বাসা থেকে রাজাকার বাহিনির মতো শেষ রাতে রীতি মতো তুলে নিয়ে গিয়েছে। ্নিয়ে গিয়ে তারা হিসাব করেছে তাদের কিভাবে ফাসাতে হবে।
এই অমানবিক বেআইনি আইনি ঘটনার কথা দেশে বিদেশে জানে না এমন কেউ নাই। তাও কিভাবে বাংলাদেশের বুদ্ধি চর্চাকারী রা অবলীলায় মেনে নেয়। টক শো গুলো দেখলে মনে হয়, অপরাধী ব্লগারদের ধরেছে এবং এটা তারা মেনে নিয়েছে কারন এটা ই সত্য। কিন্তু সত্য তো তা নয়, একটা ছেলে কে ধরে নিয়ে তারা অপরাধী ট্যাগ দিচ্ছে শুধু কিছু মানুষ কে খুশি করার জন্য। আর অন্তত যাই হোক, যেই মামলা বিচারাধীন, সেই মামলায় আসামিদের তারা এমন ভাবে উপস্থাপন করতে পারে না যে তারা অপরাধী, তাই তাদের ধরা হয়েছে। সংবিধানে নাস্তিকদের জন্য আলাদা কোন আইন নাই। দেশে নাস্তিক থাকতে পারবে না এমন আইন ও নাই। এই দেশের সংবিধান সব ধর্মীয় মত কে গ্রহন করেছে। আপনারা তো তা জানেন। তার পর ও কিভাবে একজন নিরপরাধ কে অপরাধী হিসাবে দেখান। আপনারা যারা মনে করেছেন, ধর্মীয় বিশ্বাস আর খারাপ কাজের সমালোচনরা জন্য কাউকে অপরাধী ভাবা যায়, সেই ক্ষেত্রে আপনার অবস্থান পরিস্কার করুন, সরকার কে বা আইন এর চর্চাকারী প্রতিষ্ঠান কে বলুন সরকার এবং ক্ষমতার পাশে থাকা মানুষ গুলো থেকে শুরু করতে। তাদের কথা, তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, ধর্মের চর্চা, কার্যকরণ নিয়ে খোলা মনেএবং চখে তাকিয়ে দেখুন। সংবিধান অবমাননা করার জন্য আইনি প্রতিষ্ঠান এর কথা টা ও বলুন।
যাদের কে খুশি করার জন্য ধরেছে তারা ও কিন্তু জানে তাদের হাতে ললিপপ ধরানো হয়েছে। তারা ও এই নাটকে মজা লুটেছে ব্লশফেমি আইন চেয়ে। কিন্তু আপনারা যারা বুদ্ধিজীবী শুধু তারা জানেন না। যেদিন আমাকে একজন বলল, গণজাগরণ মঞ্চ কে সরকার অনেক দিয়েছে, এবার আমার দেয়ার পালা। সেদিন ও বলেছিলাম, এই মঞ্চ আমার আবেগ নিয়ে যদি কিছু পেয়ে থাকে পেতে পারে, আমি পাইনি বা আনতে ও যাইনি। আমি এক লক্ষ্যে ওখানে গিয়েছি। তারপর ও যদি মনে করেন সরকার এতে লাভবান হবেন, এটা আপনাদের ভুল ধারনা, রাজনৈতিক অজগতা। আজ এই সময়ে এসে মনে হয়, আমি ই ঠিক ছিলাম। তারা লাভবান হয়নি।
এখানে ছোট রাস্তা বলে কিছু নাই, অনেক দূর যেতে হলে সততার বিকল্প নাই। আইনের শাসনের ও বিকল্প নেই। যে ছুরি তুমি আজ আমার গলায় ধরছ, সে ছুরি একদিন প্রজন্ম তোমার গলায় ধরবে। ৪২ বছর পর ও রাজাকারের বিচার এর জন্য আন্দোলন হয়, বিচারের রায় দিতে বাধ্য হয় আইন।





এখানে ছোট রাস্তা বলে কিছু নাই, অনেক দূর যেতে হলে সততার বিকল্প নাই। আইনের শাসনের ও বিকল্প নেই। যে ছুরি তুমি আজ আমার গলায় ধরছ, সে ছুরি একদিন প্রজন্ম তোমার গলায় ধরবে। ৪২ বছর পর ও রাজাকারের বিচার এর জন্য আন্দোলন হয়, বিচারের রায় দিতে বাধ্য হয় আইন।
সহমত।
এতো ভালো লেখায় এতো বানান ভুল পীড়াদায়ক
মন্তব্য করুন