বুলডোজার
কাহিনী তেমন জটিল কিছু না।বিশাল বড় এক বুলডোজার সাথে দেড়শ পুলিশ একজন স্মার্ট ম্যাজিষ্ট্রেট এসে খাল উদ্ধারের নামে গুড়িয়ে দিয়ে গেলো খালের উপরে দখল করা কিছু স্থাপনা।আপাতত আগামী ৭-৮ দিন অভিযান বন্ধ তাই ভাবলাম এই নিয়ে কিছু লেখি।এই আর কি!
প্রথমেই বলি আমি শতভাগ আস্তিক একটা লোক।যে ফ্যামিলীতে আমার জন্ম সেইখানে আব্বু আম্মু ভাইয়া সবাই খুব ধার্মিক।আমার রক্তেও সেই ধারাটা আছে।যদিও খুব প্রাক্টিসিং মুসলমান আমি না।তবুও চেষ্টা করি সবসময় সময় থাকলে পাচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে।রোজা সব গুলো রাখি।ছোটবেলার শিক্ষার কারনে একটা ইসলামী লেবাস ধরতে পারি।এতে আল্লাহ পাক আমার উপরে কতটা খুশী তা আমার জানা নাই কিন্তু আমার আম্মু খুব খুশি।এর চেয়ে বড় আনন্দের আর কি যে সামান্য ধর্ম পালনেই আমার আম্মু আমার উপরে একটা ব্যাপারে সন্তুষ্ট।তা বলে যে আমি খুব মানি ইসলাম তা না।সারাদিন বলা যায় আমার নানান কিছিমের নানান কিছিমের নাস্তিক মনোভাবের লোকজনের সাথেই বেশী উঠাবসা।তাই সব কিছু নিয়েই আমার দিন যাপন।
সেই নামাজ পড়ার কারনেই এলাকার বিভিন্ন মসজিদে আমার যাতায়াত।মুহাম্মদপুর হাউসিং সোসাইটি বা লিমিটেড বা মুহাম্মদপুরেও সব মসজিদের সাথেই আমার একটা যোগাযোগ আছে।মুহাম্মদপুরের বেশির ভাগ বাড়িওয়ালাই এলাকার বিভিন্ন মসজিদ কমিটির নানান পোষ্টে থাকে।এদের ভিতরে বেশির ভাগই হয় সাবেক আমলা নয় ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার।আমার মনের ধারনা এদের সবাই না হলেও বেশির ভাগ কর্মজীবনে অসৎ ছিলো তা না হলে এতো বিত্ত বৈভব কিভাবে আসে?এদের সবাই আবার হাজী।এদের নামের লিস্টে আলহাজ বাদ দিলে উনারা মনক্ষুন্ন হন।তবে ব্যতিক্রম ছিলো লিমিটেড ৭ এর একটা মসজিদ সাথে বিশাল মাদ্রাসা।যদিও এই মাদ্রাসাটাও চালাতে বড়লোক বাড়িওয়ালাদের সাহায্য নেয়া হয় তবে তার চেয়েও বেশি সাহায্য করে এলাকার মানুষ যারা বেশিরভাগই নিম্ন আয়ের।এই মাদ্রাসা ও মসজিদের সাথে আমার বা আমার বন্ধুদের একটা নিবিড় সম্পর্ক।এই মসজিদের যেকোনো বিপদে আপদে আমি, তুহিন, পুলক শান্ত ভাই আমরা ঝাপায় পড়ছি।নিজেদের কাছে টাকা নাই দরকার হলে ধার করে আমরা সামান্য চেষ্টা করছি।কারন বেহেশতে যাবার আশায় না এইসব এতিম ছেলেদের আমরা খুব ভালোবাসি।তাই তাদের জন্য কিছু করতে পারলে মনটা ভালো হয়।আমার ভেতরে এত আগ্রহ ছিলো না উস্কে দিয়েছে তুহিন পুলক এরা।এরপর থেকে দেই কিংবা না দেই এই মসজিদের সবাই আমাদের তিন চারজনকে খুব ভালো পায়।যখন যেখানেই দেখা হোক না তাদের এই সম্মান আমাকে মুগ্ধতার খাতিরেই।এই মসজিদকে মনে ধীরে ধীরে এতো আমাদেরই।রমজান মাসে আমরা সবাই এক সাথে মসজিদে ইফতারী করছি।এইটা একটা অসাধারন অনুভুতি তা বলে বুঝানো যাবে। টানা ১০-১২ দিন ছোট বড় সবার সাথে একত্রে খাওয়ার যে শিক্ষা তা সারাজীবন মনে রাখার মতো।আমি শিখছি অঞ্জন দত্তের গানের মতো করেই যে 'আমি অন্য কিছু নই আমি সবাই"!সব সাধারন মানুষের অসাধারন জীবনের সাথেই আমাদের বেচে থাকা।কিন্তু ২৭ শে সেপ্টেম্বর সব কিছু বদলে গেলো।খালের পাশে ১০ ফিট জায়গা নাকি ওয়াসার তার সুবাধে ধুলায় মিশিয়ে দিলো মাদ্রাসা।মসজিদটা আপাতত আছে।সেটাও নাকি ভাঙ্গবে।কবে কে জানে?
মেলা দিন আগে কলকাতার বাংলা সিনেমায় দেখছিলাম হাস্যকর এক মারামারি।নায়ক প্রসেঞ্জিত হাত দিয়ে আটকে দেয় বস্তি উচ্ছেদের বুলডোজার এরপর সাইজ করে গুন্ডাদের।সেইদিন আমার খুব প্রসেনজিত হতে ইচ্ছে করছিলো।মনে হচ্ছিলো থামিয়ে দেই বুলডোজার।যার আঘাতে চুর্ন হচ্ছে আমাদের স্বপ্নের মসজিদ,খালের উপরে গড়ে উঠা নিম্ন আয়ের মানুষের বস্তি,আমাদের ভালোবাসার আড্ডামূখর চায়ের দোকান,ভুয়া বা শুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধাদের পুনর্বাসন প্রকল্পের ঘর বাড়ি আর কত কি।৭-৮ দিন পর হয়তো আরো অনেক কিছুই ধসে পড়বে বুলডোজারের আঘাতে।আমি জানি না কি বৈধ্য না অবৈধ্য?এতোটুকু জানি এ এক নির্মম বাস্তবতা।এই বাংলাদেশে কোন জিনিষটা নিয়ম মেনে হয়।জাপান গার্ডেনের সারি সারি ১৮ তলা বিল্ডিং এই সব কি সহী বা বিজিএমইয়ের খাল দখল করে বিশাল ভবন বানানো বা মুহাম্মদপুরেই নদী দখল করে যে ১০-১২ টা হাউজিং কোম্পানী আছে বা ৪২০ ব্যাবসায়ী শাহেদ আলম খাল দখল করে গড়ে উঠা বিশাল মীনা বাজারের গোডাউন।এই সবের কোনো উত্তর নেই।অনেক লোক বলতেছে বাল সরকার দেশে থাকলে নাকি দেশে মসজিদ ভাঙ্গা বেশি হয়।জানিনা কতটুকু সত্য।তবে ওয়াসা যে খুব আইনগত ভাবে জিনিষটা করতেছে না তা ওয়াসার কর্মকর্তারাই বলে।তবে বিষয়টা শেখ হাসিনার আদেশেই নাকি চলতেছে। নানক সাহেব ঘোষনা দিছিলো যে এই মাদ্রাসা কখনোই ভাঙ্গা হবে না! কিন্তু জনগনকে বুঝানো যে ঢাকা শহরএর দুই বড় কল্যানপুর খাল আর রামচন্দ্রপুর খাল আমরা দখল উচ্ছেদ করে ঢাকা শহরকে জলাবদ্ধতার হাত থেকে বাচাবো!কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হবে না।
আসলে আমি মানুষটা খুব আবেগতাড়িত।অকারনেই কিছু জিনিস ভালো লাগে আবার অকারনেই তীব্র ঘৃনা জন্ম নেয়।মেয়েদের মতো সামান্যতেই চোখে পানি আসে।তাই যুক্তিহীন ভাবেই অনেক কিছুই আমাকে আচ্ছন্ন করে রাখে।এই সব ঘটনায় তাই গত কিছু দিন ধরে মনটা ভীষন খারাপ।এই জন্যই এইটা লিখলাম!সবাই ভালো থাকবেন।শুভকামনা!





খাল উদ্ধার হচ্ছে বলে দূর থেকে বাহবা দেই। আসলে এখানেও কত গল্প থাকে। যাদের ক্ষমতা আছে তারা ঠিকই তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়েছেন।
খাল উদ্ধারের নামে কত কি যে হয়, কাজের কাজ কিছুই নাহ, সেই ছোটকাল থেকেই শুনি যে কল্যানপুরের খাল উদ্ধারে এটা সেটা হচ্ছে, কিছুই না। আর গরীবের মাদ্রাসা না সেটা উচ্ছেদেই বা কি আসে যায়, এটা তো আর কমিশনারের মদদ দেয়া কাজকারবার না, যে ম্যাজিস্ট্রেটরে আটকাতে তারা হাজির হবে।
আহা, যার কেউ নাই তার আল্লাহ ও নাই। এই খালে তার বাড়ি ভেঙ্গেছে যে তার স্বর্বস্ব দিয়ে দালালের ক্ষপ্পরে পরে এই জমিটা কিনেছে এবং স্বর্বস্ব দিয়ে বিল্ডিং তুলেছে। আবার এই খাল দখল হবে তারাই ঘর তুলবে যারা নিজেরাই নিজেদের ঈশ্বর ভাবে।
কিছু বলার নেই
(
যদি খাল উদ্ধারটাও ঠিক-ঠাকমতো হতো, তাহলেও বৃহৎ স্বার্থে ক্ষুদ্র ত্যাগ মেনে নেয়া যেতো। কিন্তু সেটাও হবে না। উদ্ধারের নামে চলবে এক নির্লজ্জ-দুঃসাহসী আইওয়াশ, যেখানে ফাইনালি কোনো কাজের কাজ হবে না, রাজ্যের টাকা গচ্চা যাবে এবং সঙ্গে যাবে কিছু গরীব মাদ্রাসা ছাত্রের ভবিষ্যৎ।
মাঝে মাঝে চাকু দিয়ে পোচাতে ইচ্ছে করে মন্ত্রীসভার এই উৎকট দামড়া পাঁঠাগুলোকে।
পরমানু বোমা বানাইতে পারলে, এত বড় করে একটা বোমা বানাইতাম, যাতে পুরা পৃথিবী থেকে বাংলাদেশী নামটা মুছে দিতাম, আমি সহ। কারণ আমরা এমন একটা হারামির জাত যে, কেউ কিছু বললে আমরা নিরবে সায় দেই, কিন্তু সবাই মিলে জোরসে হুঙ্কার দেই না, বেড়ালের মত নখ আচড়াই আর মিউ মিউ করি।
আমি অবৈধ জায়গা দখল করে মসজিদ-মাদ্রাসা করার চরম বিপক্ষে। তোমার মনের অবস্থা বুঝতে পারছি, কিন্তু আল্লাহর ঘর যদি দখল করা জায়গায় করা হয় সে ঘরে ইবাদাৎ করার মানেই নাই। আমি এটাও জানি যে এই উচ্ছেদ হয়ত আইওয়াশ, বা এর চেয়ে ঢের বেশি জায়গা প্রভাবশালীরা দখল করে রেখেছে, কিন্তু সেসবও অপরাধ আর একটা অপরাধের বিচার হয়না সেজন্য অন্য একটা অপরাধের বিচার হবে না সেটা কোন ভাল কথা না। তাছাড়া অবৈধ জায়গা দখল করে মসজিদ বানিয়ে আসলে মানুষকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার করা হয়। তবে এতিম ছেলেগুলার জন্য খারাপ লাগছে, তুমি যেহেতু তাদের সাথে অনেকদিন জড়িত, তাই তোমার খারাপ লাগাটা আরো অনেক বেশি, সেটা বুঝতে পারছি। আল্লাহ ছেলেগুলাকে ভবিষ্যতের পথ দেখাক, এই দোয়াই করতে পারি শুধু আমরা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এতিম ছেলেগুলার দায়িত্ব নেওয়া। আমরা একেকজনে যদি শুধু সারাজীবনে একজন এতিম ছেলের দায়িত্ব নিই, তাকে স্কুলে পাঠায় (মাদ্রাসায় না), তাহলে সেটাই হবে সবচেয়ে বড় ব্যাপার। সারাজীবনে একজন এতিম ছেলে মানুষ করা আমাদের সকলের পক্ষেই সম্ভব।
এ ব্যাপারে কোনই সন্দেহ নেই। ঢাকা শহরে মসজিদ কমিটির লোকজন বেহসিরভাগই দূর্নীতিবাজ আমলারাই। আমরা মিরপুরে যেখানে ছিলাম সেখানে ২০০২ সালের দিকে মসজিদের হুজুর/ইমাম এক লোক মারা যাওয়াতে কান্না আর দোয়া-মোনাজাতের পসরা বসিয়ে দিয়েছিল। আমি লোকটার প্রতি ইমামের এত ভালবাসা দেখে খবর নিয়ে জানতে পারলাম এই লোক মসজিদে সাহায্য করত কিন্তু তার সরকারি বেতন ছিল ৭০০০ টাকা, অথচ কয়েকটা বিল্ডিং করেছিল, ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা। দুঃখের বিষয় হলেও সত্যি যে মসজিদগুলোর বড় অংশের টাকা আসে অবৈধ টাকা থেকে, লোকজনে অবৈধ উপায়ে টাকা কামিয়ে তার কিছু অংশ মসজিদে দেয় নিজের পাপস্খলনের জন্য। আল্লাহকে বোকা বানাতে চায় সবাই খালি, হাহা।
তোমার অনুভূতি বুঝতে পারছি, ভাল থেক।
শান্ত হও শান্ত ।
নারুর কথাগুলোর সাথে একমত।
কি আর বলব! দুঃখজনক।মন শান্ত কর, আমরা তো আসলে শুধু দেখতে পারি, কিছু করতে পারি না, মগের মুল্লুকে থাকি যে তাই।
মন্তব্য করুন