বন্ধু বাৎসল্যের এই দিন রাত্রিতে!
মনটা কেমন জানি এলোমেলো। ভালো লাগছে না কিছুই। এরকম হবার কথা না কিন্তু হচ্ছে। এরকম হবার কথা না কারন খুব দারুন সময় গেছে আজ। তাও ভালো লাগছে না কিছুই। এশার নামায পড়তে ইচ্ছা করলো না তাই পড়া হয় নাই। আমি সবসময় এরকমই। ইচ্ছা ভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেই। হতে পারে এখন ইচ্ছে করেই মন খারাপ। খুজে টুজে মন খারাপের একটা কারনই পেলাম বন্ধু সোহেলে চলে যাওয়া। সাত আট দিন যে কিভাবে চলে গেলো টেরই পেলাম না। এমনই হয়। বন্ধুরা বারবার আসে থেকে যায়, যাবার সময় অনিবার্য মন খারাপ হয়। অথচ মন খারাপের কোনো কারন নাই। ঢাকাতে আসলে আমার এখানেই আস্তানা গাড়বে। আর নানান ব্যাংকের এক্সাম দিতে ঢাকাতে আসতেই হবে এখন। তাও প্রতিবারই যখন চলে যায় তখন তীব্র মন খারাপ হয়। তখন চিটাগাংয়ে না থাকতে পারার কস্ট মনে আকুপাকু করে। মনে হয় শ্যামলী নন এসি বাসে বন্ধুর সাথে রওনা দেই এক কাপড়েই। কিন্তু তা আর হয় না। হয় না তার কারন আর যেতে ইচ্ছা করে না বেহুদা। আর গেলে তো ফিরতে হবেই। অনন্ত ৩-৪ মাস না থাকলে চিটাগাংয়ের প্রতি বিরক্ত লাগবে না মনে হয়। কিন্তু এই ছয় সাত দিনের জন্যে যেয়ে অযথা মায়া বাড়ানো। এতো মায়া আর ভালো লাগে না। তাই আমার আর যাওয়া হয় না। এমন রোজার দিনে চিটাগাং অসাধারণ একটা জায়গা আমার জন্যে। তাও মনকে সান্তনা দেই বেকার টাকা নাই। খামাখা এতো আয়েশী ভাবনা ভেবে লাভ নাই। যেভাবে আছি সেখানেই থেকে দিন পার করো! তাও সব সময় কি আর এইসব সান্তনায় কাজ হয়। প্রতিটা বন্ধুর প্রতিবার বিদায়ে পান্থপথ থেকে বাসায় ফেরার সময় রিক্সায় আমার তীব্র মন খারাপ থাকে। মনে হয় এই বুঝি সব শেষ, সব কিছুর অবসান! ফাকা রাস্তায় রাত এগারোটার দিকে সাই সাই করে রিক্সা যখন ছুটে তখন মনে হয় মিশে যাচ্ছি অনন্ত কালে।
বাসায় এসেই অবশ্য নিজের এই আধ্যাত্মিকতা থেকে ফেরত আসি। মনে হয় ওতো ভেবে কাজ কি? যেভাবে চলছে চলুক। আমি যেখানে আছি সেখানেই হয়তো থাকার কথা ছিলো। আর আমাদের নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষদের আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সহায় নাই। নিজেদের সব অক্ষমতার টেকসই জবাব আল্লাহ আর নিয়তির উপরেই ছেড়ে দেই। এই ছেড়ে দিয়েই মনের শান্তি খুজে পাওয়ার চেষ্টা। যেমন আমার এক চেনা হুজুর ছিলো। তিনি সব সময় বলতেন আমাদের সব দিন ঈদ। আমি জিগেষ করতাম কিভাবে? উনি বলে উঠতেন দেখেন না সব সময় আমরা পাঞ্জাবী পড়ে হাসিমুখে দিন কাটাই, মানুষ তো ঈদেই পাঞ্জাবী পড়ে এমন আতর লাগায় শুধু ঈদেই। আমি ব্যাপারটা শুনে খুব হাসতাম। এখন বুঝে যাই মনের শান্তি আসল। তার জন্য উদ্ভট লজিক দিতেও কারো কার্পণ্য নাই। দিনশেষে সবাই তো শান্তিটুকুই খুজে। ভাঙ্গারী ব্যাবসায়ী বিল্লাল সাহেব সেদিন আমাকে দেখে বলে উঠলো শান্ত মামা আপনাদের কত সুখ। রোজা রাখেন, ঘুমান, ইফতারী সেহেরী খান। আমরা রোজা রাখতে পারি না। সারাদিন এই পিটাপিটি আর ভাঙ্গারী কেনা বেচা করেই কাটে। দুনিয়াতেও রোজা নামায করলাম না আবার এদিকে টাকা পয়সাও নাই। গরীবের তাই কোনো কালেই শান্তি নাই। ব্যাপারটা আমাকে খুব চিন্তায় ফেলছিলো। আসলেই বিত্তহীনদের কিছুই নাই। না আছে ধর্ম পালনের বাহাদুরি, না আছে দুনিয়ার বিত্ত বৈভব। তাই শুধু বেঁচে থাকাই একমাত্র কাজ। তবে বিত্তহীনদের বেঁচে থাকলেই চলে আমাদের মতো নিম্ন মধ্যবিত্তদের বেঁচে থাকলেই চলে না। জীবনের কতো অর্থ খুজতে হয় সমানে। আনন্দ বেদনার গল্প সাজাতে হয় দিনের পর দিন। আর ব্যার্থতা ও অপ্রাপ্তির হিসেব গুলো আল্লাহ খোদার উপরে চাপাতে হয়। নিয়তির কাধে দায় চাপিয়ে সুখ খোজা এর নামই মনে হয় জীবন!
এই মাঝ রাতে দার্শনিকতা নিয়ে ভাবতে আর ইচ্ছা করতেছে না। এরচেয়ে কয় ছটাক দিনলিপি লিখে যাই অল্প কথায়। আজ শুক্রবার। রমজান মাসের শুক্রবার তাই পাবলিকের ইমান আমল মাথায় উঠছে। ঘুম থেকে উঠলাম দশটায়। তবে ঘুম ঘুম চোখ। সেই ঘুম ঘুম চোখেই ব্লগ ফেসবুক গুতানো মোবাইলে। দেখলাম লীনাপু জ্যোতিপুর কমেন্ট। দেখে শান্তি। এই সব ব্লগ টগ লিখে আমি কয়েকজনের কমেন্টের আশায় বসে থাকি। এই কয়েকজনের ভেতরে অর্ধেক আবার বিরতিতে আছে। বাকী অর্ধেকে কারোর কমেন্ট পেলে শান্তি পাই। এমন যে এখন তিন চারটা হলেও কমেন্ট তো পাচ্ছি। আর আমি আমার কাজটা করে যাই। একদিন নিশ্চই সবার সময় হবে ব্লগিংয়ের ও পোস্ট পড়ার। তখন হয়তো আমি থাকবো না। তাই এখন যা ইচ্ছে তা লিখে ফেলাটাই কাজ। প্রত্যেকটা পোস্ট লিখতে গিয়ে অনেকগুলা কথা মাথায় ভীড় করে। একই কথা আগেও বলা হইছে জানি তাও লিখতে গিয়ে সেই কথাগুলোই বারবার লিখে ফেলা। এই একই চেনাজানা কথাগুলো যারা প্রতিদিন পড়ে ভালো লাগা ও খারাপ লাগা জানায়, তাদেরকে আমার আসলেই ভালো লাগে। আর ভালো লাগে লিখে যেতে। যাই হোক ঘুম থেকে উঠে যখন হালি খানেক কমেন্ট দেখি তখন মনটা ভালো হয়ে যায় অযথাই। শুক্রবার তাই জুম্মার নামায পড়তে হবে। জুম্মার নামায পড়তে যাবো কিন্তু চায়ের দোকানের ওদিক যাবো না এখন। তাই বাসার পাশেই সুচনার পাশে বিশাল মসজিদে চলে গেলাম। গিয়ে দেখি জায়গা নাই। খালি মানুষ আর মানুষ। আসছে তো আসছেই থামাথামি নাই। তুমুল রোদে বসে থাকলাম। পুরা শরীর মনে হয় ছাই হবে তাপে। তার ভেতর চিনি না জানি না একলোক তার বাবা মৃত্যুবার্ষিকী তাই কি কি আয়োজন তা নিয়ে আলাপ শুরু করলো। প্রথমে বিরক্ত হলাম এরকম আজাইরা আলাপে। পরে উৎসাহ নিয়ে শুনলাম এই ভেবে বেচারা হয়তো তেমন গল্প করার কাউকে পাচ্ছে না। তাই নিজের বাবার প্রতি তার এই আয়োজনের ফিরিস্থি অচেনা আমাকেই শুনাচ্ছে। আর খুতবার ভেতরেই ফোন রিসিভ করে তার আপডেট নিচ্ছে। এই ক্রমাগত ফোন রিসিভের উসিলায় আমার পিছনের থেকে এক লোকের খেলো ঝাড়ি। মসজিদে আসলে ঝাড়ি দিতে সবাই ওস্তাদ। কাতার ঠিক করেন, ফোনে কথা কিসের, জুতা বাইরে রাখেন হাবিজাবি কতো বয়ান। এতো কর্তব্যপরায়ন এই মুসলমানের দেশে মাথার উপরে চড়ে বসে আছে এরশাদ খালেদা হাসিনা শফী হুজুর, তা ভাবলেই হাসি পায়। নামায শেষে বাসায় ফিরলাম। দেখি এক মেহমান আসছে। মামার গ্রামের বন্ধু। দেখে ভাল লাগলো। কি অকৃত্রিম হাসি! এরকম হাসি শহরের মানুষ হাসে না। আমি কি করবো বসে ভাবছিলাম। কিছু সময় নেটে পত্রিকা দেখলাম তারপর এক আজাইরা সিনেমা দেখতে বসলাম ইউটিউবে। টাইম পাসের জন্য। হিন্দী ছবি নাম আনজানা আনজানি। ছবিটা কেনো জানি আমার দেখা হয় নি। নায়িকা প্রিয়াংকার সার্জারী করা মুখে ঢং দেখে মেজাজ খারাপ হলো। তাও দেখলাম। কাহিনী হলিউড রোমান্টিক কমেডী ধাচের। তার ভেতরেই নাচ গানের সয়লাভ। আর আমেরিকা দেখানো। আমেরিকা দেখতে অবশ্য ভালো লাগে। আমেরিকা বলতেই বলিউডি ধারনা যে এখানে শুধু বার আর তুমুল প্রেম এইসবই চলে। এর বাইরে আমেরিকার কোনও জীবন নাই। যাই হোক আছরের সময় হলো। নামায পড়লাম। মামা বাইরে থেকে ইফতারী আনলো মেলা। ব্যাপক ইফতারী খাওয়া হলো। সংযমের মাসে আমি ইফতারী কোনো সময়ই সংযমের সাথে খাই না। শেষ না করা পর্যন্ত শান্তি নাই। ইফতারী খেয়ে নামায তারপর দুই বন্ধু একত্রে গেলাম চায়ের দোকানে। নান্নু দেখি ভাবে আছে ডাক দেই শুনে না। শেষে কিভাবে জানি শুনলো! চা পেলাম আহ কি শান্তি দিনের প্রথম চা পানের। মনে হয় ডাইরেক্ট বেহেশত থেকে আগত। সোহেল যাবে চিটাগাং, আর মুফতী ভাই চলে যাবে একেবারে রংপুর। খুব হাসি ঠাট্টাময় আড্ডা হলো। শান্ত ভাই, আমি, আদনান, পুলক চার বন্ধু মিলে মুফতী ভাইকে রেমন্ড থেকে প্যান্টের পিস ও শার্টের পিস গিফট দিলাম। বাচ্চা মানুষের মতো চার বন্ধু হাতাহাতির মশকারী করলাম। এইসব দুষ্টুমি ক্লাস নাইন টেনের পিচ্চিরা করে। নিজ ভুবনে আমরাও পিচ্চি। মুফতি ভাইয়ের এগারোটায় বাস। আবেগঘন বিদায়বেলা। ছোটো ভাই সাইফ ফেসবুকে স্টেটাস দিলো তা মাথার উপর থেকে নাকি একটা ছায়া সরে গেলো। আমরা এই জিনিস পড়ে হেসেই কুল পাই না। সোহেলও বিদায় নিবে। বিল দিয়ে পান্থপথ বরাবর রিক্সা নিলাম। দুই বন্ধুর আলাপ। কি কি সামনে করা যায় তা নিয়ে ভাবনা এইসব করতে করতে দেখি পান্থপথ। শ্যামলীর ননএসিতে তুলে দেয়া। তারপর আবার রিক্সায় বাসা ফেরত। দিন চলে যায় এইভাবে বন্ধুবাৎসল্যে!





শুক্রবার কি বৃহষ্পতি আমার জীবনের চাকা একই ছন্দে কখনই ঘোরে না। আর বন্ধুবত্তসল জীবন বহুদিন পাওয়া হয় না।
খুবই ভাল আছ ভাই। জীবন ও জীবিকার চাপে ভুলেই যাই আমারও একটা ভূবন বড় দরকার। পোষ্টটা পড়তে পড়তে
আমার চারপাশে ঘুরে ঘুরে খুজে বেড়ালাম বন্ধুদের সাথে সেই গত রোজার পর আর দেখাই হয়নি। সময় চলে গেছে তার মত আমি টেরও পাইনি।
ধন্যবাদ আপু। ব্লগে নিয়মিত আইসেন। ভালো সময় কাটুক!
কমেন্ট যে ই করুক বা না করুক তোমার পোস্ট পড়া হয় । একদিন পোস্ট না দেখলে মনে হয় শান্তর হলো কি!!তুমি লেখা বাদ দিও না ।
নায়িকা প্রিয়াংকাকে দেখে এখন চোখের রোজা হালকা কইরো না ।
বন্ধুবাৎসল্যে কাটুক তোমার দিন ।
ঠিক আছে। আপনে নিয়মিত এসে কমেন্ট মেরে যায়েন। মন ভালো থাকলে লেইখেন! কতোদিন লিখেন না!
তোমার পোস্ট মোবাইল দিয়েই পড়েছি কাল।
বাসায় নেট উৎপাত করছে।
বন্ধুতা তো চমৎকার জিনিস, তা লালন করা আরো চমৎকার। সবাই তা লালন করতে পারে না। যেমন আমি পারি না। আমার কাছে বন্ধুতা একশ ভাগ সরল সত্য হতে হবে। কোনো জটিল জাল আমি নিতে পারি না। তখন বন্ধুতা ছাড়াই থাকি।
পোস্ট দিয়ে কমেন্ট না পাওয়া বেদনাদায়ক। প্রতিটি পোস্ট একেকজন ব্লগারের কাছে সন্তানসম। আমি জানি তোমার বেদনাটা। এ-ব্লগে কত ভালো লেখক এলো-গেল। তাদের লেখার যোগ্য মূল্যায়ণ পায়নি বলেই তারা আর এদিকে আসে না। এর দায় যেমন আমার, তেমন সবাইরই। ব্লগটাকে বাঁচিয়ে রাখতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপও চোখে পড়ে না। তবু, শান্ত নিয়মিত লেখে বলে, আরো কয়েকজন বন্ধু লেখে বলে এখানে আসি।
থ্যাঙ্কস আপু। আপনার এই রকমের বড় কমেন্ট পাইলে খুব শান্তি লাগে। এই জটিল দুনিয়ায় নস্ট দেশে একশো ভাগ সরল সত্য বন্ধু কিভাবে পাবো কিভাবে? তাও যারা আমার বন্ধু আমার চোখে তারা অসাধারণ। আর আপনার মতো বন্ধু/আপু পায়া আমি আনন্দিত!
একমত
আপাতত কেবল মন্তব্য
ঠিকাছে
পোষটটা অনেক কিউট হয়েছে।
মন্তব্য করুন