আমার যে কি হবে!
কিছু লিখতে হবে। কিন্তু কি লিখবো ভেবে পাচ্ছি না আজ। আসলে প্রতিদিন একি জিনিস লিখতে চাইলেও লেখা আসে না। ভাবলাম সিনেমা নিয়ে লিখি তাও চিন্তা করলাম থাক, এইসব হিন্দী ছবি নিয়ে এতো লেখার কি-অন্য আরেকদিন লেখা যাবে। ভাবলাম মাহবুব মোর্শেদের সেলিম আল দীনকে নিয়ে লেখা বই গুরু চন্ডাল নিয়ে কিছু লিখি তাও ইচ্ছা করছে না। আবার ভাবলাম বিস্রস্ত জর্নাল থেকেই কিছু লাইন টুকে দেই তাতেও মন বসছে না। পেটে কেমন জানি খিদা খিদা। সেহেরীর জন্য অপেক্ষা। সেহেরী খেতেও ঢের দেরী। বাসায় হুমায়ূন আহমেদের দেয়াল আছে পড়তে ইচ্ছা করছে না। পড়তে ইচ্ছা করতেছে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী প্রবন্ধ সমগ্র ৬। পাচ পর্যন্ত আমার পড়া। কিন্তু তা পাবো কই? রোজার দিনে সকালে পাবলিক লাইব্রেরী যাওয়া হয় না। তাই পড়াও হচ্ছে না মনের মতো বই। সেদিন বিদিততে কামাল ভাইয়ের জনপ্রিয় একটা বই দেখলাম। আগেই পড়া, ঘরভরতি মানুষ অথবা নৈশব্দ। বইটা বাসাতেই আছে কোথাও কিন্তু আর খুজে পেলাম না। অনেক আগেই তা কিনে পড়া শেষ। আমার এমন হয় বারবার। বই পড়ি পড়া শেষে তা যেমন খুশি তেমন করে বাসার কোনো ব্যাগে বা কার্টুনে রাখি তা নিজেই খুজে পাই না। আবার বই যে নিয়ে জামালপুরে রাখবো তাও হয় না। জামালপুরে রাখলে খালি সুন্দর ভাবে শেলফে রাখা হবে। কাজের কাজ হবে না। আর এখানে থাকলে আছে জানবো কিন্তু কোথায় রাখছি আর খুজে পাবো না। আর মানুষকে এতো বই দিয়ে বেড়াইছি পড়া শেষে, যার জন্য এখন মাঝে মাঝে সেই বইয়ের কথা মনে করতে হলে স্মৃতিটুকুই সম্ভল। আম্মু ঢাকায় থাকলে নিশ্চয় এমন হতো না। আমার প্রত্যেকটা বই আম্মু খুব যত্নে রাখতো। দরকার হলে নতুন শেলফ কিনে আনতো বাসায়। মামাকে বলছিলাম শেলফের ব্যাবস্থা করতে। মামা বললো জায়গায় তো নাই রাখবা কোথায় শেলফ? আমি এমবিএর শিট টিট গুলাও বের করি না তেমন ব্যাগ থেকে। ভার্সিটিতেই পড়ি সেখানেই দান করে আসি। রুমে জায়গা নাই। টেবিলে পিসি তাই পড়ার জায়গা বিছানায়। বিছানায় পড়ার সিরিয়াস ভাবটা পাই না। কেনো জানি তখন মনে হয় একটু মোবাইলটা গুতাই, একটু ম্যাগাজিন উল্টাই, একটু অন্য কিছু নিয়ে ভাবি। সিরিয়াস পড়াটা কেমন জানি আগের মতো পারি না। তাও বই পড়ে যাই। তবে আগের মতো পড়ে আর মনে থাকে না তেমন। মনে থাকে খালি হিন্দী কলকাতার ছবি গানবাজনা আর নায়ক নায়িকা পরিচালকদের নাম তাদের রিসেন্ট আপডেট গুলান। ফালতু বলিউড টালিউডের গল্প চাইলেও মাথা থেকে ঝাড়তে পারি না। আগে বাংলাদেশে নাটক সিনেমারও অনেক আপডেট রাখতাম জানতাম। উঠতি পড়তি মডেল নায়ক নায়িকাদের নাম অনর্গল বলতে পারতাম। আট নয় মাস টিভি না দেখার কারনে তাও আর নাই। আগে পত্রিকা পড়তাম খুব মন দিয়ে এখন তাও পড়ি না। সম্পাদকীয় আর খেলার খবর ছাড়া এখন আর কিছুই পড়াই হয় না। সাধারণ জ্ঞানও আগে পারতাম অনেকের চেয়ে অনেক ভালো। এখন এইসব তথ্য রাখতে মেজাজ খারাপ লাগে খুব। ইংরেজী শব্দ শিখছিলাম প্রচুর তাও এখন চর্চার অভাবে ভুলে যাচ্ছি। শুক্রবার আসলে বিভিন্ন পত্রিকার সাহিত্য পাতা ও মাসিক কালিওকলম আগে পড়তাম সমানে। এখন আর ভালো লাগে না। খালি চোখ বুলিয়ে যাই। কি সব গল্প এখন ছাপায় পড়লে খালি গালি দিতে মন চায়। নিজেকে প্রবোদ দেই ভাগ্যিস গল্প লিখি না। এতো লেইম জিনিসপাতি কিভাবে যে পত্রিকায় যায়? তবে বিদিততে গেলে আমার অনেক কিছু পড়তে ইচ্ছা করে খুব। মনে চায় কিনে ফেলি এখনি লিটলম্যগ ও কলকাতার পত্রিকাগুলা। কিন্তু টাকার টানাটানি আর কেনা হয় না। সব টাকা অকাতরে রিক্সা ভাড়া আর চায়ের দোকানেই শেষ হয়ে যায়। তাও এখনো চাইলে অনেক পড়তে পারি কিন্তু সেই চাওয়া খালি পাবলিক লাইব্রেরীতে গেলেই জাগে, বইয়ের দোকানেই জাগে, রোজার কারনে এখন আর সেই সুযোগ হয় না। অবশ্য খুব যে মুমিন মুসলমান আমি তাও না। কোরআন শরীফ সবাই পড়ে এই মাসে, আমার পড়া হয় না। নামায মসজিদে পড়া হয় না আগের মতো। দায়সারা ভাবে নামায ঘরে পড়ে দিন কাটাই। আমার আম্মুর কতো আশা যে আমি খুব ধার্মিক জীবন যাপন করবো তাও হয় না। অন্তত মায়ের জন্য হলেও আমাকে আরেকটু মুমিন মুসলমান হওয়া উচিত। ফেসবুকে সমবয়সী এতো আলেম ওলামাদের ইসলাম বিষয়ক লেকচার যুক্তি নোট আকারে পড়ি তাতে মেজাজ খারাপ হয় আরো। এরা নিজেদেরকে কি যে ভাবে ভেবে পাই না! ফেসবুকে আগের মতো স্ট্যাটাস দেয়ার কিছু পাই না। খালি লাইক দেই আর টিকারের দিকে তাকায় থাকি। মানুষের কাজ কাম দেখি অনলাইনে। গালিগালাজ করি মনে মনে। আর ভাবি কোন কাজে যে এই মরার ফেসবুকে পড়ে থাকি। রায় নিয়ে মেজাজ খারাপ তো আছেই তার সাথে সাথে নানান সেলিব্রেটির কাজকারবার দেখে আজব লাগে। আজব এই বাংলাদেশ। এতো ছাগু ফেসবুকের পাতায় পাতায় দেখে মেজাজ খারাপ হয়। বাস্তব জীবনেও এতো ছাগু দেখে দেখে ক্লান্ত লাগে। প্রথম আলোয় আজ আবুল মকসুদের এক লেখায় কমেন্টে এতো ছাগু দেখে নিজেই ক্লান্ত হলাম।
কবীর সুমনের একটা কথা আছে 'এখনকার গান শুনতে উনার এতো অসহায় লাগে যে কানের সামনে যখন বাজে তখন নাকি আত্মারাম ছাড়া দশা, একেকটা গানের আওয়াজে উনার বারবার মনে হয় এইসব গান শুনার জন্যই কি এই বুড়ো বয়সে বেঁচে আছি। নিজের গান নিয়ে বিশ্বাস মুল্যবোধ সব নাকি প্রশ্নের মুখে পড়ে।' আমার অবশ্য দশা সেরকম না। খালি মনে হয় শোনার মতো একটা ভালো গান পাই না এখন আর। কিসব গান শুনলেই শিল্পীরে থাবড়াইতে ইচ্ছা করে। আজ ইউটিউবে কিছু নতুন নতুন মিউজিক ভিডিও দেখলাম বাংলাদেশের তরুন শিল্পীদের। গুপ্তকেশের সব গান। এর চেয়ে রিজিয়া-পলাশের হিন্দী গানের সুরের নকল গান শোনা ভালো। মনে ফুর্তি আসে শুনলে। দেশের অডিও শিল্প তো গেলো রসাতলে। জানি না কবে ঠিক হবে! একটা সময় আইয়ুব বাচ্চু জেমসদের ভালো মিক্সড এ্যালবাম আসতো, ভালো ব্যান্ডের এ্যালবাম আসতো, ভালো সলোও আসতো, এখন কিছুই আসে না। রাস্তা ঘাটে বিভিন্ন গানের এ্যালবামের পোস্টারে শিল্পীর খোমা দেখে মনে হয় গান গাইতে আসছে নাকি অভিনয় শুরুর আগে চেহারা দেখাতে আসছে। আর মেশিন সফটওয়ারের গান শুনলে মনে হয় খালি সায়ানের সেই গানের কথাটাই "ভেড়ার কন্ঠ বানায় যন্ত্র পারভীন সুলতানা"। তাই আগের মতো নতুন গান শুনাই বাদ দিছি। পুরানো ভালো লাগার গানই বেশী বেশী শুনি। আর শুনি হিন্দী গান। আজাইরা হিন্দী গান শুনলে মেজাজ ঠান্ডা হয়। মনে হয় হিন্দীওয়ালারা আর যাই পারুক না পারুক ভালো আজাইরা গান বানাতে পারে। এ আর রেহমান অবশ্য সব সময়ই ভালো লাগে। সাথে এখন ভালো লাগে অমিত ত্রিবেদী- অমিতাভ ভট্টাচার্যের লেখা মিউজিক ডিরেকশনের গান। মোহিত চৌহান, শ্রেয়া ঘোষাল, শিল্পা রাও, সুশিলা রমন, রাব্বী শেরগিল এদের গান ভালো লাগে। সবাই পুরানো দিনের হিন্দী গান খুব পছন্দ করে আমার তাও ভালো লাগে না। আমার পুরানো দিনের বাংলা গানই খুব ভালো লাগে। সাবিনা ইয়াসমীন, আব্দুল হাদী, লাকী আখন্দ, শাহনাজ রহমাতুল্লাহ, পাপিয়া সরোয়ার, মিতালী, মান্না দে, হেমন্ত, চিত্রা সিং এদের গান শুনি ইউটিউবে। আগের মতো মেটাল এখন আর শুনা হয় না। পোলাপান কি সব শুনে নাম শুনেই অবাক হই। একটা সময় খুব ইংলিশ মেটাল শুনতাম। এখন আর শুনি না। এখন বরং ইউটিউবে সিক্সটিজ সেভেন্টিজই বেশি শুনি খুজে খুজে। রোজা উপলক্ষে খোজাখুজি অফ রাখছি। নিজের প্রিয় অঞ্জন-সুমন-শিলাজিৎ-শুভামিতা-লোপামুদ্রা-মৌসুমী-নীল- ইন্দ্রদীপ- অনুপম মুগ্ধতা এখনো আছে। আর্টসেল-ক্রিপটিক ফেইট- ওয়ারফেইজ- অর্থহীন-নেমেসিস- সোলস-রেনেসা- সঞ্জীব-সায়ান শুনেই কাটে দিন। যাই হোক গান বাজনার ফিরিস্থি অনেক দিলাম। দুনিয়ায় গানের শেষ নাই। তাই সব গান শুনবো এই আশাতেও থাকি না। আর ভালো ভালো গান সব হয়ে গেছে আগেই। নতুন করে কিছু গাইবার নাই। কবীর সুমনের এই কথাটা আমি খুব ইমানের সাথে বিশ্বাস করি। তবে কবীর সুমনের প্রতিভা দেখে আমি খুব অবাক হই। প্রতি সপ্তাহেই তিনি নতুন নানান বিষয়ে তাঁর সাইটে নতুন নতুন গান গেয়েই আপলোড দিচ্ছেন। আবার পুরানো দিনের গান ব্যাঙ্গ করে সাম্প্রতিক বিষয়ের সাথে স্যাটায়ার করতেও ভুলেন না। কেন জানি শ্রীকান্ত আচার্য আমার ভালো লাগে না। এর কারন আমি আজও খুজে পেলাম না।
অনেক কথা লিখে ফেললাম অযথাই। আসলে নিজের উপরে আত্মভিমান করেই। নিজের আগে কিছু অসাধারণ গুন ছিলো তা হারাচ্ছি। আর যেইসব খারাপ অভ্যাস ছিলো তা খালি বিকশিত হচ্ছে। বিকাশমান এইসব আজাইরা অভ্যাস পালনে সময় কাটে কিন্তু খুব একটা সুখে নাই। পরিত্রান চাই তাও হচ্ছে না। আমার সমস্যা হলো আমি খুব একটা নিজেকে বদলাতে পারি না। বদলানোর প্রয়োজন অনুভব করি কিন্তু তাতে না পেরে, হতাশাই জন্ম নেয়। জানি না এই সার্কেল থেকে কবে মুক্তি পাবো? জীবন জীবিকাতে ব্যাস্ত হলে হয়তো কিছুটা মুক্তি পেতে পারি তার আগে হবে না। প্রতিদিন লিখে যাচ্ছি এইটাও ঠিক না। তাও আমার সব কিছু নিয়েই লিখতে ইচ্ছা হয় এই ক্ষুদার্ত মাঝ রাত্রিতেই। লেখার ফোকাস থাকেনা কিছুতেই। তাও লিখি কে পড়ে না পড়ে পরোয়া করি না মোটেও। তাই আমার লেখার যন্ত্রনা আপনাদের মেনে নিতেই হবে। কিচ্ছু করার নাই!





আত্মসমালোচনা ভালই হয়েছে। এভাবে কয়জন করতে পারে নিজের সমালোচনা।
আমাদের কষ্ট দিচ্ছ দাও আমরা হাসি মুখে মেনে নেই। তবে চুপিচুপি বলি লেখা কিন্তু মন্দ নয় ছন্দেই ভরা।
থ্যাঙ্কস আপু। নিয়মিত আইসেন এ পাড়ায়!
তোমার দিনলিপিগুলো পড়ে বুঝতে পারি, তুমি অনেক পড়ো। শান্ত মানে, দেশ-দুনিয়া সম্পর্কে সচেতন একটি ছেলে। তোমার বয়সী ছেলে/মেয়েরা জীবন-যাপনের মাধ্যম হিসেবে যেসব অনুসঙ্গকে তাদের জীবনে জড়িয়ে নিয়েছে সেসব দেখলে বিবমীষা জাগে। তুমি তোমার প্রজন্মের মাঝে দারুণ এক ব্যতিক্রম। একটি অল্প বয়সী ছেলের হুমায়ূন আহমেদ না পড়ে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর প্রবন্ধ পড়তে ভালো লাগে এই বিষয়টিই তো চমৎকার। সে আহমদ ছফার ওপর আলোচনা অনুষ্ঠান হলে সেখানে গিয়ে বসে থাকে ! আমার খুবই সন্দেহ, আমাদের চারপাশে ক'জন মানুষ এমন গভীর চিন্তাবোধ আর বাঙালি চেতনা ধারণ করে।
এভাবেই থাকো শান্ত। সবার মাঝে ব্যতিক্রম আর উজ্জ্বল হয়ে।
এবার একটু সমালোচনা। তুমি দ্রুত লেখো, দ্রুত পোস্ট করো। এই চঞ্চলতাটা দূর হোক। আরো সময় নিয়ে, আরেকটু বিষয়ে থেকে পোস্ট গুলো আসুক।
আর প্যারা যেন বেশি বেশি থাকে। পড়তে আরাম লাগে।
শেষের কথাগুলো মানার চেষ্টা করবো। নতুন পিসি পেলাম কাল, আশা করি ঠিকঠাক মতো লেখা যাবে। বিষয়ে থাকার ব্যাপারেও যত্নবান হবো। আর প্রতিদিন লিখে যাচ্ছি তাই লেখার মান নিজের কাছেই ভালো লাগে না। তাও এই ব্লগটার জন্য মায়া তাই পেজ ভরতে লিখে ফেলাই অযথা আস্তো পোস্ট।
থ্যাঙ্কস আপু। সেহেরীর পর ঘুমাতে যাই। দশটার আধো জাগ্রত অবস্থায় মোবাইলে খোজ নেই শুয়ে শুয়েই লীনাপু কমেন্ট করলো নাকি। একেকটা পোস্ট লেখি খুব অমনোযোগী হয়ে, কিন্তু আশায় থাকি মনোযোগের সাথে যে আপুর কমেন্ট কই? আপনাদের জন্যইতো লেখা!
যুগের তুলনায় সম্পুর্ন ব্যতিক্রম ছেলে শান্ত। আর তাই অনেক ভালবাসি শান্ত কে। সব সময় এমন থাকার চেশটা করবেন
ভালো কিছুই হবে
এখানে পাবে, আমি এখান থেকে পড়েছি http://www.boierdokan.com/2455248225092474.html
বুদ্ধিমানরাই আত্মসমালোচনা করে
মন্তব্য করুন