অলিখিত সব স্বপ্নগুলো ভেঙ্গেচুরে খানখান!
টানা দুই তিন সপ্তাহ লিখে একটা খানিকক্ষণ বিরতি দিলাম। বিরতি আরো লম্বা দেয়ার কথা ছিলো, ইচ্ছা ছিল বাড়ী থেকে ফিরে লিখবো আবার। কিন্তু তা আর হলো না। যে পিসি নষ্টের অযুহাত ছিলো তা আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলো সহজেই। পিসি ঠিক হয়ে গেলো একদিনেই। তাও গত দুইদিন না লিখে ভালোই করছি। পড়ার সময় পেলাম। এই সব লেখার চেয়ে পড়ার পিছনে সময় দিলে ভালো। কতো বই এখনো পড়া হলো না তা ভাবলে নিজেরই তীব্র মন খারাপ হয়। এখনও অজস্র বাংলা বইয়ের নামই জানা হলো না-পড়া তো দূরে থাক। এইসব ভাবলে মন উদাস হয়, তখন মনে হয় সারাদিন ফেসবুক ব্লগ না বসে থেকে, পড়েই দিন কাটাই। কারন বই পড়ার চেয়ে আনন্দময় কোনো কাজ হতে পারে না এই দুনিয়ায়। তবে আমার একটা বাজে অভ্যাস হইছে কিছুকাল ধরে। যে লাইন বাই লাইন মন দিয়ে পড়তে পারি না। বই শেষ করার নেশায় চটজলদি পড়ে যাই। এইভাবে বইয়ের সাথে অমনোযোগী সম্পর্ক মোটেও সুখের কথা না। আরো সিরিয়াস ভাব নিয়ে তাই এখন টেবিলে বই রেখে চেয়ারে বসে, পিসি অফ করে পড়তে বসি। কারন পাঠ্যবই/ শীট যদি ক্লাসের আগে লাইব্রেরীতে টেবিল চেয়ারে বসে গিলতে পারি তাহলে অন্য বইও সেইভাবেই আরো বেশি যত্নে পড়া ফরজ। তাই করে যাচ্ছি!
পড়া না হয় জরুরী তা বুঝি, বেচে থাকলে অনেক পড়া যাবে এই আশাবাদ নিয়ে বাঁচি। কিন্তু কেন লিখি? তা আমার কাছে সেরকম ভাবে ক্লিয়ার না। যদিও প্রতিটা লেখা শুরুর প্রথম দার্শনিক ভাবনাই হলো কেন লিখছি? প্রায় সব লেখকই কোন না কোন কারনে লিখে গেছে। কেন লিখছে তারও জবাব তাঁরা দিয়ে গেছে কোনও না কোনও ফর্মে। অনেক জনপ্রিয় লেখকই এর জবাবে আত্মহংকারে পঞ্চমুখ হয়ে জবাব দিয়েছেন- টাকার জন্য লিখি কিংবা অন্যের লেখা পড়তে পারি না তাই নিজেই লিখি। আবার অনেকে বলছেন আবেগের আতিসায্যে যে লেখালেখি নাকি শেষ আশ্রয়, লেখা ছাড়া আর কিছু পারি না কিংবা নিজের লেখার উপরে আস্থা হবার পর থেকেই লিখছি! নানান ভাবে নানান ফর্মে বিনয় কিংবা অহংকারের সাথে - কেন লিখি? এই প্রশ্নের জবাব দিয়ে গেছেন মনিষীরা!
আমি কেন লিখি? কেন ব্লগে অনবরত একি টাইপের দিনলিপি লিখে চলছি? এই প্রশ্ন আমার মনে বারবার আসে। কারন লেখালেখি তো আড্ডাবাজি না। যে লেখা শেষে আনন্দের ঢেঁকুর তুলে বলবো এই তো এমনি এমনি টাইমপাসের জন্য লিখি। আর আমি আবার সেরকম লেখকও না যে অজস্র পাঠকের জন্য লিখি বা চিন্তার খোরাকের জন্য লিখি! কিংবা নিজেকে বিশেষ কিছু প্রমান করার জন্যেও লিখি না। অনেক ভেবে এই সিদ্ধান্তে আসলাম যে আমি লেখি মুলত আর কোনো আর্টফর্মে নিজের ভাবনা, জীবনযাপন, দিনলিপি প্রকাশ করতে পারি না বলে। আগে গান গাইতে পারতাম- এখন সে প্রতিভাও নাই। কোনকালেই ছবি আঁকতে পারি নাই। তাই আমার ভরসার শেষ জায়গা এই লেখাটেখা। তা যতও ক্ষুদ্র পরিসরে, অর্বাচীনের মতো, অস্থিরতায় পরিপুর্ন ভুলে ভরা হোক এটাই আমার জায়গা। নিজের আবেগের প্রকাশ ও ঘটনা ঘনঘটার দিনগুলোর আনন্দ বেদনার গল্প আর কোথাও বলার উপায় জানি না বলেই। যে আবেগ ও অনুভুতি নিয়ে আমি প্রত্যেকটা সাধারন দিন পার করি তা বলার একমাত্র আশ্রয় হলো এই ব্লগে লেখালেখি। বানানভুল-বিরাম চিন্হে ভুলে তা হয়তো সফল ভাবে জানাতে পারি নাই, কিন্তু চেষ্টা তো করেছি। সব ভুলত্রুটি মুক্ত করে একদিন লিখবো এই স্বপ্নটাই দেখি, এই চেষ্টাটাই এই স্বপ্নটাই আমার লেখালেখির এক মাত্র কারন!
এই চেষ্টা করতে গিয়েই অনেকের অনুরাগের পাত্র হয়েছি। বিশ্রী রকমের স্নেহের মানুষ হয়েছি না চাইতেই। কেউ কেউ আমাকে ত্যাজ্য ঘোষনা করেছে। কেউ কেউ চুপচাপ পড়ে গিয়েছে। কেউ কেউ আবার আমার মামার মতো সোজাসুজি বলে দিয়েছে- একি ধরনের লেখা আর কতো পড়বো? তাই শুধু কে কি বললো তোমার পোষ্ট পড়ে মন্তব্যে তাই পড়ি। কেউ বলে একদিন তোমার লেখা না পড়লে মনে হয় মিস হয়ে গেলও কিছু- এই টাইপের। সব কথাই আমি মন দিয়ে শুনে যাই। এইসব কিছুই আমার প্রাপ্তি। আমার এক ব্লগ বন্ধু বলে বসলো- কমেন্টের জন্য কান্নাকাটি করছেন কেন? শুনে পিত্তি জ্বলে গেলো। আমি কিছু বললাম না উত্তরে। কারন উত্তর দেয়া, কথার পিঠে কথা সাজানো খুব সোজা কাজ। কঠিন হলো তা হজম করে। প্রিয় পারভীন আপু আমাকে বারবার মনে করায় শান্ত কখনই কারো বিদ্রুপাত্মক কথায় কিছু মনে করবা না। মানুষের কাজই হলো বলা। চুপচাপ হজম করে যাবা। আমি এখন তাই করি, পিত্তি-মন সব জ্বলে যায় তাও কিছু মনে করি না। কারন গন্ডায় গন্ডায় কমেন্ট পাওয়ার আশায় আমি লিখি না। যখন দেখি নুন্যতম রেসপন্সও পাচ্ছি না সাধারণ একেকটা লেখায় তখন অভিমানটুকু জানাই। আমার এই অভিমানের মুল্য সবাই দিবে সেই আশায় আমি বসে নাই। তবে জানানোই যদি কান্নাকাটি হয় তবে তাও জানাবো না। এতোকিছু চেপে যাই আর সামান্য অভিমান চাপতে পারবো না!
ইদানিং আমার তীব্র অহংবোধ জন্মাচ্ছে। যা মোটেও ভালো না। কেউ কিছু বললেই ছ্যাত করে উঠি। অবশ্যই তা মনে মনে। সব সময় তা প্রকাশ করা হয়ে উঠে না। তবে আস্তে আস্তে এক ধরনের দূরত্ব টানি তার সাথে। আমার এক বন্ধু ছিলো তার অনেক কথাতেই ছ্যাত করে উঠতাম, সেও আমার বেলায় তাই। এখন আর কথাই বলি না, কি দরকার খামাখা! বেকারদের একটা জিনিসই থাকে টনটন করে তা হলো আত্মসম্মানের স্টোর হাউজ। আমার এখন সেই জিনিসের বাম্পার ফলন। মাস্টার্সের শেষ হতে ইন্টার্ন সহ বাকী আর আট মাস। দিনের পর দিন শেষে আত্মসম্মানের বোঝা শুধু বেড়েই চলছে। পরিচিত জনদের অতি সাধারন অবহেলা সুচক কথাও বুকের ভেতরে তীব্র আগুন জ্বেলে দেয়। অল্প সময়ে তা হজম করি হয়তো, কিন্তু যে তীব্র বেদনার জন্ম নেয় তা বুঝি খালি আমি। এই বোঝা না বোঝার মন কষাকষির ভেতরেই চলে যায় একেকদিন।
বাড়ীতে যাবার আগে দিনগুলো সব সময়ই ভালো কাটে। তার ব্যাতিক্রম নয় এখনও। দুই সপ্তাহের লম্বা সময়ের জন্য আমি থাকবো না ঢাকা শহরে। এই গিঞ্জি ঢাকা শহরটার জন্য আমার খুব মায়া লাগে তখন। মনে হয় আর ফিরতে পারবো না। তাই ইচ্ছা মতো আয়েশী-বিলাসী-আনন্দে ঘুরে ফিরে দিন কাটাই। জামালপুর শহরে আমার যতই বাড়ী ঘর থাকুক। বাবা মা না থাকলে এতো লম্বা সময়ের জন্য কখনোই যেতাম না। লম্বা সময়ের জন্য কোথাও যদি যেতেই হয় তবে আমি যেতে চাই চিটাগাংয়েই। কারন এখনও সেখানে আমার অগনিত বন্ধু ও অসীম মায়াময় শৈশবের স্মৃতিগুলো ছড়িয়ে আছে। রোজার দিন আমি ঘুমিয়ে কাটাই এখন, অথচ এখন যদি চিটাগাং থাকতাম তবে ঘুম কি জিনিস তাই জানতামই না। তবে যেতে ইচ্ছা করে না। বেকার ছাত্রের সাইনবোর্ড টানিয়ে আর কোথাও যেতেই আমার এখন ইচ্ছা করে না। তা যতোই ভালোবাসা থাক। কারন আত্মসম্মানের চুড়ায় আমার অবস্থান তার পতন দেখতে চাই না কোথাও!
গত দুদিন বলার মতো, পোস্ট লেখার মতো মেলা কিছু করলাম। কিন্তু কিছু নিয়েই লিখতে বলতে ইচ্ছা করছে না এখন। আড্ডা মেরেছি, খেয়েছি, সিনেমা দেখেছি, গান শুনেছি এই সব আর কতোকাল বলে যাবো। তবে দারুন সব বই পড়ছি এখন। আরো পড়বো সামনে। অনেকদিন পর বাড়ীতে গিয়ে আজাইরা টিভি দেখে মেজাজ খারাপ করবো তাও একটা আনন্দের। আম্মুর এতো অসাধারণ রান্না খাবো আর বই পড়বো, গিফট পাওয়া ঈদসংখ্যাগুলো পড়ে যাবো উলটে পালটে এর চেয়ে আনন্দের কিছু নাই। ছোটোবেলা থেকেই আম্মুর রান্না খেতে খেতে বিরক্ত হয়ে ভাবতাম- মানুষ কিভাবে যে বলে মায়ের হাতের রান্না পছন্দের খাবার! নিঃসন্দেহে চাপা পিটায়। কিন্তু এখন বুঝি। মায়ের রান্না কতো স্বর্গীয়। আর নিম্ন মধ্যবিত্ত মা আমার রান্না-সেলাই-শরৎচন্দ্র- পত্রিকায় রোমহর্ষক খবর পড়েই যার জীবন গেছে উনাকে নিয়ে আসলে লেখার কিছু নাই। কারন শত লেখাতেও কিছুই বলা হবে না। আর লিখতে গেলে অযথা চোখের পানি খালি পড়বে তাই আর লিখছি না। কারন কত আশা ভরসা তাঁর স্বপ্ন আমাকে নিয়ে। তার প্রতিদানে খালি নিয়েই যাচ্ছি সমানে। দেয়ার বেলায় নাই। কারন এইসব বস্তাপচা আবেগের কোনো মুল্য নাই, শত আড্ডা মেরে আনন্দের দিন পালনের কোনো অর্থ নেই, ভালোমন্দ সিনেমা দেখে- স্বাদময় খাবার খেয়েও শান্তি নাই যদি বাবা মায়ের স্বপ্ন গুলোর কাছে ধারেও যেতে না পারি। আমার অলিখিত সেই স্বপ্নগুলোর ধারে কাছেও আমি নাই। প্রতিবার ঈদে বাপ ভাইয়ের টাকায় মোজ মাস্তিময় দিন কাটিয়ে, বাড়ী যাওয়ার আগে শপিং করি বা না করি একটা তীব্র মন খারাপ হয়। বারবার মনে হয় আর কতোকাল এভাবে খালি নিয়েই যাবো কবে আসবে পে ব্যাক পিরিয়ড, কবে আসবে সুদিন? লিখিত- অলিখিত, ছোট-বড় স্বপ্নগুলো শুধু ভেঙ্গেই চলছে খানখান করে। জানি এর শেষ কবে? মহীনের ঘোড়াগুলির সম্পাদিত গানের একটা লাইন আছে-
সুদিন কাছে এসো, ভালোবাসি একসাথে সব কিছুই!





অনেক আবেগ দিয়ে চিরাচরিত ভাবে শান্ত তার কথা বলে গেলো আজ ও। আর শান্ত'র লেখা পড়ে আমি কখনোই ক্লান্ত বা বিরক্ত হইনা। বরং অনেক আনন্দ পাই। নিজে কিছু লেখার আগ্রহ পাই। যদিও আমার সব লেখাই স্মৃতিচারন হয়ে যায়। আসোলে স্মৃতিচারন করতে আমার মহা শান্তি লাগে, তাই করি। আর হ্যাঁ শান্ত, আবারো বলি আপনার লেখা পড়েই আমার লেখার আগ্রহ হয়েছে। আপনি আমার অনুপ্রেরনা।
ধন্যবাদ ভাইয়া। এই ধরনের মন্তব্য একটু অসস্তিতে পড়ি। কারন আমার লেখা আমারই ভালো লাগে না। আর মানুষের এত ভালো লাগবে কি করে!
স্নেহে ধন্য হই তাও। ভালো থাকেন ভাইয়া!
লিখতে নিশ্চয়ই একটু হলেও ভালো লাগে?
যারা আপনার মত এমন স্বতস্ফুর্ত ভাবে লিখে যেতে পারেন,
তারা এই ভালোলাগাটুকুর জন্যই লিখতে থাকা উচিত্।
অভিমান এবং অন্যান্য বিষয় গুলার একটাই সমাধান, সময়।
সময়ে বা কিঞ্চিত অসময় শেষে
ঠিকই সব ঠিক হয়ে যায়।
আপনার বাড়ির সময়গুলো চমত্কার ভালোবাসায় অসাধারণ কাটুক।
ভালো থাকুন,
সুপ্রিয় শান্ত ভাই।
ধন্যবাদ!
লিখা চলুক তার আপন গতিতে কি দরকার তাকে আটকে রাখার। ভাল থাকো।
আপনিও ভালো থাকেন আপু। কষ্ট করে পড়ে যান!
অহংবোধ অনেক সময় ভালো দিকে চালিত করে। তবে সেটাকে কন্ট্রোল করতে হবে... হতাশ হইও না, সুদিন আসবেই...
ভালো থাকেন ভাইয়া। আনন্দে দিন কাটান, ছবি তুলেন!
উমম...
হুমম!~
লেখা বন্ধ করার কোন কারণ দেখিনা। তুমি লেখ বলেই আমরা এমন দিনলিপি পড়তে পারি। চলুক চলমান জীবনের কথামালা।
ভালো থেকো।
থ্যাঙ্কস বড় ভাই। আনন্দে যাক স্ত্রী কন্যা নিয়ে দিন!
জোড়া লাগুক স্বপ্ন গুলো!
জীবনটাকে ইচ্ছেমতো যাপন করে ফেলা করো পক্ষে সম্ভব, এটা আমি বিশ্বাস করতে চাই না কখনোই।
আমার সম্ভবই ছিলো এখন মনে হয় হুট করেই ট্রেন মিস করে ফেললাম!
আপনি লিখে যান ভাই। আপনার লেখা অনেক প্রানবন্ত।
থ্যাঙ্কু!
মন্তব্য করুন