লাইভ ব্লগিং!
এই পোষ্টটা লিখছি সাহস করেই। জানি না পোষ্ট দিতে পারবো কিনা এতো জটিলতায়, তাও লিখছি। কালকেও একটা পোষ্ট দুই ঘন্টা ধরে লিখেও দিতে পারি নাই কারন লেখা শেষেই ঠিকমত মোবাইলটা করলো হ্যাং। রাগে দুঃখে সেটটা বেডরুমের দেয়ালের দিকে ছুড়ে মারলাম। খুব বেশী ক্ষতি হয় নি মোবাইলটা। দিব্যি সুস্থ আছে। যাই হোক পোষ্টটা লিখছি সিক্সটি পারসেন্ট চাদঁ জানালায় দেখতে দেখতে। খুব দ্রুত চলছে ট্রেন, সাড়ে তিন ঘন্টা লেট করে। শিডিউলের অবস্থা বারো টা। যতক্ষন ট্রেন জামালপুর থেকে ছাড়লো সেই অপেক্ষার সময় টুকুতে প্রাইভেট কারে ঢাকায় পৌছে যাওয়া যাবে জ্যাম না থাকলে। কিন্তু কি আর করার ব্যাক্তিগত গাড়ী নাই, বাসে যাওয়ার রুচি নাই তাই ট্রেন ছাড়া গতি নাই। আমাদের বেগতির যাত্রীরাই বাংলাদেশ রেলের সম্পদ। শত অব্যাবস্থাপনাতেও এই কু ঝিক ঝিক গাড়ীতে করেই ঢাকায় আসা যাওয়ার কাজটা করছি ফি বছর। এখন খুব চা খেতে ইচ্ছা করতেছে তাও আজ ট্রেনে চায়ের কোন ব্যাবস্থা নাই। উল্টা যাত্রায় ট্রেন সফরে যখন তাড়াকান্দিতে ইন্জিন বদল করে ঢাকা মুখী রওনা দিলো তখনই আটটায় দুই কাপ চা একত্রে মেরে দিলাম। মামাকেও খাওয়ালাম। অনেক দিন পর দুধ চা খেয়ে মন আহলাদিত। মামার সাথে আমার আরেক মামা ছিলো। ময়মনসিং যাবে। আমার আম্মুর চাচতো ভাই। জামালপুরের ডিস্ট্রিক্ট সেরা সুন্দরী মেয়ের সাথে নাকি উনার বিয়ের কথা প্রায় ঠিক হয়ে যাচ্ছে। বেচারা খুব উচ্ছসিত। সুন্দরী মেয়েকে বিয়ে করতে পারার যে এক ধরনের আনন্দ আছে তা উনার চোখে মুখে উদ্ভাসিত। কাল হবু শাশুড়ী নাকি উনাকে ডাকছিলো। বাসায় যেয়ে উনি লজ্জায় কম্পিত। ভাবতেছিলাম আহ এমন সুদিন আর আমার জীবনে আসবে না! বিয়ে তো দুরে থাক। লেটের ট্রেন চলছেই দোলাতে দোলাতে। ট্রেনের এই দোলটা খুব মজা লাগে আমার। অন্জন দত্তের গানের মত করেই বলি ' মায়ের কোলের সেই দোলাটা যায় মনে পড়ে যায় আমার'।
জামালপুর থেকে ফেরার টিকেটে কাটাতে আমার কখনোই অবদান থাকে না। সমস্ত অবদান পিতার। তিনি ভোরে জেগে স্টেশনে গিয়ে লম্বা লাইনে দাড়িঁয়ে টিকেটটা সংগ্রহ করে আনেন। প্রতিবার টিকেট এনে তিনি একটা ডায়লগ দেন যে 'মুখে তুলে আর কতদিন এভাবে খাওয়াবো? আমি হাসি এ কথা শুনলেই। বলি তুমি বললেই তো আমি টিকেট সংগ্রহ করার অভিযানে নেমে যাই। কিন্তু পিতা কখনোই তা করতে দিবে না। নিজেই যত্ন করে টিকেট কেটে আনবে। টিকেট পাওয়া অবশ্য ভেজাল। টিকেটের খুব চাহিদা তাই ছাত্রলীগের ছেলেরা আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ হয়ে টিকেট কালোবাজারির সিন্ডিকেট চালায়। ফোন দিলেই বেশী দামে টিকেট রাশি রাশি। ঈদের সিজন তাই একশো পারসেন্ট প্রফিটেই তারা টিকেট ছাড়ে। যাত্রার নয়দিন আগে ভোরে যেতে না পারলে টিকেট আর নাই। তখন কালোবাজার থেকেই ডাবল দামে কিনতে হবে। অপার্থিব স্নেহ আর আদরের কারনেই বাবা এই ঝামেলা নিজের কাধেই বহন করবে। এবার অবশ্য একসাথে মামারটাও কেটে দিছে। মামা তাই পাশে বসা। মামা থাকলে আর চিন্তায় নাই। মধ্যরাতে বাড়ী ফিরবো তাও কোনো টেনশন হচ্ছে না। ট্রেন থামলো গফরগাওতে। রাত বাড়ার কারনে গফরগাও শুনশান নীরব। ছোটবেলায় শুনতাম গফরগাও নাকি ডাকাতদের জায়গা। পাকিস্তান আমলে হুমায়ুন আহমেদ তার বাবার দেয়া ঘড়ি নাকি চোখের পলকে হাত থেকে টান মেরে ন নিয়ে চলে গেছে এইখানেই। তাতে উনার খুব কষ্ট হইছে। আমার অবশ্য গফরগাও খারাপ লাগে না। সবুজ শ্যামলিমা ভাব। ব্রেড আর সিদ্ধ ডিমের ফেরিওয়ালার হাক ডাক। গফরগাও আর ময়মনসিংয়েই থামে জামালপুরের আন্তঃনগর ট্রেন। সিট না পাওয়া যাত্রীরা রিলাক্সে বসে থাকে ফাকা সিটে। যাদের সিট তাদের ধাক্কা মেরে কথা বলার গুন থাকতে হবে। ভদ্রলোকের মত বললে তারা এমন এক ভাব নিবে যে আপনি এক ফেরিওয়ালার মতো লোক উনাকে বিরক্ত করতে আসছেন। তখনই পান্চ মেরে বলতে হবে চার শব্দে ভাই উঠেন, সিট আমার। আমি কখনোই দাড়িয়ে যাই নি। মামা গেছে। মামা বলে খারাপ লাগে না খালি পায়ে ব্যাথা করে তা সহ্য করে বসে থাকতে হয়। ট্রেন চলছে রাত বাড়ছে। আশা করছি দেড়টা দুইটায় পৌছবো। আপাতত এতটুকুই শেষ করি লাইভ ব্রগ রাইটিং!





লাইভ ব্লগে ফার্স্ট কমেন্ট
লাইক দুইটাও কিন্তু আমারই দেয়া। ভাল্লাগলো আপনার এই সুন্দর লেখার প্রচেষ্টা।
থ্যাঙ্কস ভাইয়া সাথে সাথেই এত দারুন কমেন্টের জন্য। আপনাদের এই অনুপ্রেরনা খুব ভালো লাগে!
সুনদর
থ্যাঙ্কস বস!
লাইভ ব্লগিং দারুণ ব্যাপার।
একদম ঠিক
তোমার লেখা নিয়ে বলার কিছু নাই।
শুধু জামালপুর থেকে ঢাকায় আসতেই যদি এই লেখার জন্ম হয় তবে আশা করি ঠাকুরগাঁ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত যাত্রা হলে একটি উপন্যাস ও পেয়ে যেতে পারি।
ঠাকুরগাও যাই নাই আপু কোনোদিন!
পৌছাইছো ঠিক মত? নাকি যানজটে পর্লা আবার?
সাড়ে তিন ঘন্টা লেইটে আসছে ট্রেন। রাত দেড়টায় এয়ারপোর্ট স্টেশনে নেমে দেখি পুরা দুনিয়া নীরব!
ওয়েলকাম ব্যাক। চমৎকার লাগলো তোমার লাইফ ব্লগিং!
বাবা-মা যতদিন আছে তাদের আদর স্নেহ নিয়ে নাও পুরোমাত্রায়।
হুমম!
অভিনন্দন
থ্যাঙ্কস!~
তোমার এই স্পিরিটটা আমার ব্যাপক লাগে। লেখালেখি ছেড়ো না কখনো।
সবুজ শ্যামলিমা ছেড়ে এসে কেমন লাগছে? আমার অসহ্য লাগছে, যদিও জানি থাকতে হবেই
খারাপ না। ভেকেশন কাটিয়ে ঢাকাতে আসলে ভালোই লাগে!
স্পিরিটে সুপ্পার লাইক...
অরডিনারী থ্যাঙ্কস!
ভাল লাগল
ধন্যবাদ!
শান্ত ইজ দি বেস্ট
ওরে বাবা! কাম সারছে
তোমার চাচাতো মামাকে অভিননদন

আইচ্ছা!
মন্তব্য করুন