টেলিভিশনের ঈদ কিংবা ঈদে টেলিভিশন!
এই পোষ্টটা সবার জন্য না। প্রধানত তাদের জন্যই যারা কাচা হাতের সমালোচনা সহ্য করার মানসিক ক্ষমতা রাখেন, যারা তাদের পছন্দের তারকাকে বকা সহ্য করতে পারবেন, যাদের দেখতে পারেন না তাঁদের যদি আমার পছন্দ থাকে তবে তাঁদের নিয়ে ভালো কথাবার্তা শুনেও মন ঠিক রাখতে পারবেন আর শেষমেষ যারা টিভি দেখাকে পছন্দ করেন কিংবা এখন না দেখলেও খোজ খবর জানতে ভালোবাসেন তাদের জন্যই এই বিলম্বিত প্রয়াস। জর্নাল আকারে লিখলে তিন চার পর্ব করে লেখা যেত,সেরকমই ইচ্ছা ছিলো। কিন্তু এখন প্ল্যান চেঞ্জ। এক পোষ্টেই সব কিছু তুলে দেয়ার চেষ্টাতে আছি। তাই যা দেখছি তার অনেক কিছু নিয়েই লেখা হবে না। লেখার এক বিন্ধু ইচ্ছা নাই তাও মনে হলো আজ যদি না লিখি তাহলে আর লেখাই হবে না। বাড়ীতে দুই ব্যাটারীর রিমোটে কত হাজার বার টিপলাম সমানে তার ফিরিস্থি জানানোই গেল না। আমাদের বাড়ীতে সব চ্যানেল আসে না। বাংলা চ্যানেল গুলার ভেতরে এশিয়ান, ইন্ডিপেন্ডেন্ট, এস এ টিভি, এটিএন নিউজ এই সব আসে না। হিন্দী চ্যানেল তো রাশি রাশি আসে না, একটা হিন্দী গানের চ্যানেল পর্যন্ত নাই। তাও এই সীমিত সামর্থ্য দিয়েই দেখতে দেখতে হয়রান। তবে রাত সাড়ে দশটা এগারোটার পরে আর টিভি দেখি নি। কারন মফস্বলের নিশুতি রাতে পাড়া প্রতিবেশী ও বাবা মা কে পেরেশান করে টিভি দেখা আমার কাজ না। হেডফোনে গান শুনতে শুনতে কানে আস্তে সাউন্ড বুঝি না। তাই আমি টিভি দেখতেছি তার আওয়াজ বহুদুরে চলে যায় না চাইতেই! তবে ইদানিং দেশের চ্যানেল আসলেই খুব একটা দেখে না কেউ তা গ্রামে কিংবা শহরে! স্মরন করে করে লেখা তাই তথ্য বিভ্রাট স্বাভাবিক! কারন একি চ্যানেলে একি ধরনের নাটক একি সময়ে হয় তা স্বয়ং ভগবানের পক্ষেও সম্ভব না ঠিকঠাক মনে রাখা!
ঈদের আগের দিন রাতে চ্যানেল গুলাতে সাধারণত পুনঃপ্রচারই বেশী হয়। পুরোনো নাটক আর এ্যাওয়ার্ড প্রচারেই প্রাধান্য বেশি। বৈশাখী ও একুশে টিভিতে যেমন হলো পুরোনো পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান ২০১১ রটা। বলিউডী অশ্লীল গানের সাথে নাচ গান দেখা খারাপ না। বাংলাদেশ স্টার মডেলরাও বলিউডের মতো কোমর দুলিয়ে আইটেম গানে নাচতে পারে তা জানা যায় এই সব দেখলে। একুশে টিভিতেও একি টাইপের অনুষ্ঠান। তবে বলিউডেরা অনেক কসরত করে এইসব করে, কিন্তু বাংলাদেশে তেমনে কিছু নাই। কিছু মুখস্থ স্টেপেই নাচ দেখা যায় তাতে চোখের আরাম পেতে পারে আমজনতা কিন্তু মনের শান্তি নাই। আরটিভিতে সম্ভবত রুপংকরের গান হচ্ছিলো। শুনতে ভালোই। টানা অনেক গুলা গান শোনা গেল। তবে চেয়ারে বসে উপস্থাপিকা নওশীন মনে হয় আরাম পাচ্ছিলো না। তাই খালি হাস ফাস ও নড়াচড়া করলেন। তবে সংবাদের বিরতি আর এডের বিরতিতে মনে রেখে দেখাই দায়। তাও রুপংকরের গান শুনাতে আনন্দ। সময় টিভিতে ভালো একটা লাইভ টকশো হলো- শিল্পীর চোখে বাংলাদেশে। আমজাদ হোসেন, রনবী আর শিশিরের অংশগ্রহনে অনুষ্ঠানটা ডিপ। এরকম ডিপ অনুষ্ঠানের উপস্থাপককে আরেকটু প্রানবন্ত হতে হয়। তুষার সাহেবকে দেখলেই মনে হয় তাঁর ঘুমের সময়ে তিনি টিভিতে হাজির হয়েছেন। তার তুলনায় একাত্তর টিভিতে বারোটার টকশোটা ভালো। শাহাদুজ্জামান অতিথি, বিদেশে ঈদ উদযাপন নিয়ে স্কাইপ, ঈদসংখ্যা নিয়ে আলাপ, মিথিলা ফারজানা প্রানবন্ত উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটা দারুন। সন্ধ্যা বেলায় একি চ্যানেলে বিসিবি সভাপতি পাপনের ভালো একটা ইন্টারভিঊ দেখলাম রিমোট চালানোর ফাকে ফাকে। তবে মিথিলা ফারজানার অনুষ্ঠানে এক সাংবাদিক আসছিলো তেমন ধারনাই রাখে না তাও তিনি ঈদ সংখ্যা নিয়ে অযথা ত্যানা প্যাচাইলেন! তবে সব চেয়ে মজা পাইছি চান রাতের দিন বিভিন্ন চ্যানেলের সংবাদে তাঁদের নিজেদের অনুষ্ঠানের খবর সংবাদ শিরোনামে দিয়ে দেওয়া। এ যেন নিজের ঢোল নিজে সহ বাপরে দিয়াও পিটানো!
ঈদের দিন সকাল বেলা আমাদের ছোট ঈদগাতে নামায পড়া শেষে খাওয়া দাওয়া বাদে আমার কোনো কাজ নাই। বসে গেলাম টিভির সামনেই। নানা চ্যানেলে শাকিব খানের ছবি। শাকিব খানের ছবি গুলা এত কলকাতা ও তামিল প্রভাবিত কাহিনী দেখলেই মায়া লাগে। আর সাহারা নামের এক নায়িকা আছে সে গ্রাম বাংলার যাত্রার প্রিন্সেস হবারও যোগ্যতা রাখে না তাও এফডিসি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বিভিন্ন চ্যানেল ঈদের সিনেমা নিয়ে আলাপ অনুষ্ঠানে জলিলের গান দেখায়। সেই উদ্ভট গান বাজনা আর নিজের ছবি নিয়ে হম্বিতম্বি নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নাই। তবে ঈদের সকালটা নিসন্দেহে কেকা আন্টির। দিন ঘুরে বছর আসে কেকা আন্টির গেমশো অফ নাই ঈদে। গেমশো কি নাচানাচি আর উদ্ভট আইডিয়ার সব বাঁদরদের জন্য যেমন সব খেলা খেলায় ঐসব। এরচেয়ে উনি যদি ঈদের সকালে পাকিস্তানে যেয়ে কুলসন সেমাই রান্নার রেসিপি দিতেন আরো ভালো হতো। নোবেল বিন্দুর একটা নাটকের হাফ দেখলাম। বিদেশ দর্শন টুকুই সার আর গল্পের নেই কোনো মা বাপ! এডের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে টানা দুই মগ চা খেতে খেতে দেখছি চ্যানেল আইতে দেখলাম কাজলের দিনরাত্রী। মরহুম সজল খালেদের জন্য মন খারাপ লাগছিলো। ছবিটা ভালোই তবে পারফেক্ট না। যে সুইট একটা কিশোর উপন্যাস সেই বিচারে পর্দায় তা তেমন ভাবে আসে নাই। তবে তারিনের অসাধারণ অভিনয়। তারিনদের জেনারেশন কেন শখ সারিকাদের চেয়ে শতগুনে বেটার তা অনুধাবন করা যায় অভিনয় দেখলে। সিনেমা দেখার ফাকে ফাকে এনটিভিতে টেলিফিল্ম দেখছিলাম। সজল ও শিমুকে নিয়ে বানানো ফেরদৌস হাসান রানার বানানো নাম আনন্দ। রানা সাহেবের নাটক গেলাটা এখন খুব কষ্টকর। একটা সময় ইনারা ছিলো প্যাকেজ নাটকের বস আর তারা এখন নাটক বানায় ছাল বাকলার! আফজাল হোসেনের বহুল প্রচারিত সাত পর্বের নাটক ছোট কাকুর শুধু ফার্ষ্ট পার্টই দেখলাম। ওতো আগ্রহ পেলাম না। যত গর্জে তত বর্ষে না। ছোট কাকু হজম করার ফাকে ফাকেই বাংলাভিশনে সাগর জাহানের একটা সাত পর্বের কমেডী নাটকের প্রথম পর্ব দেখলাম। হাসির, মোশারফ করিমের ভালো অভিনয় কিন্তু ময়মনসিংয়ের ভাষা ঠিকঠাক বলতে না পারা ও অতি এডের ভাড়ে ভারাক্রান্ত। নাটকটা ঢাকায় এসে ইউটিউবে দেখলাম টানা। ভালোই বলা যায়। এনটিভিতেও রেদোয়ান রনির সাত পর্বের একটা নাটক ঢাকায় এসে ইউটিউবে দেখলাম খারাপ না। হানিফ সংকেতের একটা নাটক হলো এটিএনে। বেশী শিক্ষামুলক। এই ধরনের সুখী পরিবার বা সবার আগে শিশু মার্কা নাটক দেখলে মেজাজ খারাপ হয়। কিছু অংশ দেখছি। চ্যানেল আইতে শাওনের বানানো আংগুল নাটকটা এরচেয়ে ভালো। ভালো গল্প ভালো অভিনয়ে তবে সংবাদ বিরতিতেই দেখার আগ্রহ খেয়ে ফালায়। সময় টিভিতে মাহী আর শাকিব খানের ভালোবাসা আজকাল ছবি নিয়ে পাঁচ মিনিট কথা শুনলাম। শাকিব খানের বানিজ্যিক ছবির ক্যাটাগরি করার বহর দেখে হাসতে হাসতে শেষ। তবে এসিতে থাকা নায়কের শরীর আউটডোরে ঘেমে ঘেমে একাকার। রাত বাড়তে থাকলো আর লাইভ গানে সব বড় তারকারা। অনুপমের দুই তিনটা গান শুনলাম। জেমস ও বাচ্চুও নানান চ্যানেলে। দেখা হলো না। কারন মধ্যরাতে উচ্চস্বরে গান শুনে সবার ঘুমের বারোটা বাজিয়ে কোনো লাভ নাই! রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মনে পড়লো আহা বিটিভিতে এখন আর কেউ আনন্দ মেলা দেখে না! সময় কত দ্রুত বদলায়!
দ্বিতীয় দিন। শাকিব খানের দেবদাস যদি আপনি পুরোটা গিলতে পারেন তাহলে আপনে একটা বেডাই। আমি কিছু অংশ গিললাম। অপু বিশ্বাসের যে হিন্দী চুলের অভিনয় তা দেখে চুল বাল সব ছিড়তে হবে দেখে। একমাত্র দেখলাম শহীদুজ্জামান সেলিমই অভিনয়টা ধরতে পারছে। তাহসান আর মমর একটা নাটক দেখলাম খুব জনপ্রিয় নাকি হয়েছে। তবে কারন ছাড়াই তাহসানকে আমার ভালো লাগে না। ওর অভিনয়টাও ন্যাকা ন্যাকা। তবে সাজু খাদেম কিংবা মমের অভিনয় ভালো। শিহাব শাহীনের বানানো। ধারনা করি কোনো বিদেশী সিনেমা থেকে মেরে দেয়া। এয়ারটেলের টেকায় উনি যেগুলা টেলিমুভি বানাইছে সব নকল করে। চ্যানেল আইতে হচ্ছিলো চতুর্ভুজ পরকীয়ার নাটক, দেখি নাই। প্রেমে আমি বিশ্বাস করি তা বিবাহিত সময়েও হতেই পারে কিন্তু এরকম উদ্ভট যায়যায়দিন স্টাইলের পরকীয়া আমার দেখতে ভালো লাগে না। বিকালে একাত্তরে হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে টকশো হলো। আসাদুজ্জামান নুরের কান্না আসলেই মন খারাপ করে দেয়। শাওনের বানানো বাংলা ভিশনের জন্য বানানো নাটকটা চমৎকার হইছে। নাটকের নাম বীনার অসুখ। রহমাতুল্লাহ ও মৌটুসী নাকি কি নামের অভিনেত্রীর অভিনয়টা ভালো হইছে। তবে ওমর সানীর অভিনয় অনেক বেটার দেখলাম অনেকদিন পর। তবে জাম্বো সাইজের মোটকা সে! চ্যানেল আইতে রানার একটা নাটকের চার পাঁচটা সিন দেখলাম তাতেই মনে হইছে যুতের কিছু না। ইত্যাদি দেখলাম খারাপ না। যেমন হয় তেমনি। তবে বিদেশীদের দিয়ে করানো পর্বটা এখন খুব ভাড়ামো লাগে। তবে নাটিকা গুলো খারাপ না। হাসি পায়। মীরাক্কেল দেখে অশ্লীল জোকস শুনে হাসার চেয়ে এইসব দেখে হাসা অনেক ভালো।
ঈদের তৃতীয় দিন। খুব সকালে ঘুম থেকে উঠেই চা বানিয়ে টিভি নিয়ে বসা হলো। এনটিভির সংবাদ দেখলাম। ভালোই লাগে সকাল সকাল খবর শুনতে। আরমান ভাইয়ের আগের ঈদের নাটকগুলো হচ্ছে। যুত পেলাম না তেমন একটা দেখে। আরমান ভাই ফাইসসা গেছে এই প্রথমটাই আনন্দদায়ক। এরপরের গুলা সব জাহিদ হাসানের ছ্যাবলামী। মাসুদ সেজানের একটা নাটক না টেলিফিল্ম দেখলাম। দ্যা নিউ হাতেম আলী। ভালো, হাসির ও মানবিক মানুষের গল্প। মাসুদ সেজানের যেই জিনিসটা ভালো যে সে হাসাতে চায় আবার তাঁর গল্পের একটা শক্ত ভিত্তিও থাকে। নাটক শেষে দর্শক হাসতে হাসতে গল্পটাই মনে রাখে। ইসমাইল শো নামের এক ইত্যাদির কপিকেট হয় এটিএনে। ভালো না। এই ফরমেটে ইত্যাদি আর শুভেচ্ছা বাদে আর কোনটাই ক্লিক করতে পারে নাই। ফারুকীর ভাইয়ের নাটকের কিছু অংশ দেখলাম। আনিসুল হকের লেখা। গুড ট্রাই। এনটিভিতে দীপংকর দীপনের বানানো একটা নাটক দেখলাম। নাম কবির জন্য পাত্রী খোজা হচ্ছে। দেখে আনন্দ পাইছি, ইরেশের অভিনয় আমার ভালোই লাগে। আরেকটা নাটক দেখলাম এনটিভিতেই কবে দেখছি মনে নাই। নাম টকশো মাস্টার। অনিমেষ আইচের বানানো। এত দুর্দান্ত নাটক এই ঈদে আর দেখি না। অনিমেষ আইচের প্রতিভা আছে তাই উনি বানাতে পারে। প্রতিভাহীন বানানো জিনিস ভাল হয় না কখনো! আর টিভিতে একটা নাটক, ফাহমীর বানানো নাম ফুড চেইন। ভালোই। অনেকদিন পর তিশারে সহ্য করতে পারলাম! গিয়াস উদ্দীন সেলিমের একটা নাটক দেখলাম কবে তা ভুলে গেছি। ভালো বানায় নাই!
চতুর্থ দিন। সাজু খাদেমের উপস্থাপনায় দেশ টিভিতে কাঠগড়ায় আমি তুমি সে অনুষ্ঠানটা খুব উপভোগ্য। ভালো প্রশ্নে ভালো কনসেপ্টের অনুষ্ঠান। এরকম নিউ আইডিয়া দেখলে ভালো লাগে। এনটিভিতে থিম সং নামের এক টেলিফিল্ম হলো। গোলাম সোহরাব দোদুলের বানানো। এডের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়েও দেখলাম। কারন গোলাম সোহরাব দোদুল সততার সাথে নাটক বানায় এবং তা অযথা গল্প নিয়ে না। মুগ্ধ হলাম। এনটিভিতে সন্ধ্যায় পিলু আর নকীব খানের দারুন এক প্রোগ্রাম হলো। ছয়টা গান দুই ভাইয়ের। মনে খুব শান্তি পেলাম। বিশেষ করে পিলুর কন্ঠে সময় যেন কাটেনা আর জানি বলতে পারো শুনে মন ভালো হয়ে গেলো সহসাই। রাতের বেলা আনিসুল হকের গল্প নিয়ে নাটক দেখলাম। আনিসুল হক কত ভাগ্যবান ঈদসংখ্যার জন্য লেখা যেনতেন গল্প কত সহজে টিভি নাটক হয়ে যায় তাঁর ছোঁয়াতে। বাংলাভিশনে অপি আর মিলনের একটা নাটক দেখছিলাম, সেইটাও মোটামুটি মানসম্মত! লোপামুদ্রার দুই তিনটা গান শুনলাম দেশ টিভির লাইভে!
ঈদের পঞ্চম দিন। সকাল থেকেই দেখলাম রাতে মিস হওয়া নাটকের কিছু অংশ। একুশে টিভি ও মাছেরাঙ্গার নাটক গুলা পুরাই ক্লাস ছাড়া। রাতিফ ভাইয়ের মেসেজ পেয়ে দেখলাম বাংলা ভিশনে পার্থ তোওকীর ও তিশার টেলিফিল্ম ডাকাতিয়া বাশী। অসাধারন একটা টেলিফিল্ম। কাহিনীর বুননের গভীরতা দেখে হতবাক হইছি। গায়ক পার্থর চেয়ে আমার নাটকটা দেখার পর নায়ক পার্থকেই বেশী ভালো লাগছে। পারফেক্ট একটা টেলিফিল্ম। এত অসাধারণ জিনিস দেখে আমি মুগ্ধ। দেখে নিতে পারেন http://www.youtube.com/watch?v=eTRp99_2A0g নকুল কুমার বিশ্বাসের ইত্যাদি মার্কা অনুষ্ঠানটা আরো বোরিং। হুবহু একি টাইপ , খালি ছন্দে ছন্দে কথা বলে। মমতাজের সাবেক জামাইকে দিয়ে ছোটোখাটো এডই করে ফেললো গুনীজন বানিয়ে। জানি না চেয়ারম্যান রমজান সাব কত টাকা দিছে? শাওনের উপস্থাপনায় হুমায়ূনকে নিয়ে তিন পর্বের অনুষ্ঠান ছিল। কেমন জানি বেশি বেশী। বেশী জিনিস ভালো লাগে না।
ঈদের ৬ নাম্বার দিন। খালি সিনেমা সব চ্যানেলে তাই দেখি নি কিছুই। এনটিভিতে অপির এক টেলিফিল্ম দেখলাম। জেসমিন ও একটি ফুল, ভালো বানানো সাগর জাহানের। তাহসান অর্পনার এক ফালতু নাটক হজম করলাম আর টিভিতে। তিশাকে নিয়েও ওর একটা নাটক কবে জানি দেখলাম এনটিভিতে। সব হলিউডের রোমান্টিক কমেডী স্টাইলের। তবে এস্টন কুচারদের আমি সহ্য করতে পারি কিন্তু তাহসান তিশাদের ন্যাকামী সহ্য করার নয়। এনটিভিতে ভালো একটা নাটক হলো। সন্তান বিদেশে মারা গেছে এই ধারনা করে খবর বাবার কাছে গোপন রাখা হয়। পরে দেখা যায় সন্তান বেঁচে থেকে চিঠি লিখছে। সিম্পল গল্পের ভালো নাটক। কাতারে এক এ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান দেখলাম। হাবিব হৃদয় খানদের গানে এত মানুষ মনে হয় জনসমুদ্র গান গাচ্ছে!
শেষ করি আজ। অনেক চ্যানেল বাদ পড়লো, অনেক অনুষ্ঠান নাটক দেখি নি, অনেক কিছুই দেখছি যা নিয়ে লেখি নাই। অনেক বস্তাপচা আজাইরা নাটক হইছে সেগুলা নিয়ে বলে সময় নষ্ট করি নাই। ঈদ অনুষ্ঠান রিভিউ লিখতে গিয়ে পত্রিকায় দেখলাম সবাই এভারেজে কথা বলছে। এভারেজে কথা ভালো লাগে। তবে কষ্ট বিস্ট করে দেখে টেখে লিখলে ভালো।যে মান খুব খারাপ আমি তা মানি কিন্তু খারাপ মানের ভিতর থেকেই দু তিনটা ভালো জিনিস বের হয়। আপনি যদি আমার মতো ধৈর্যশীল হন তাহলেই তার সন্ধান পাবেন। কারন চারশো পাচশো অনুষ্ঠান নাটক থেকে ১০-১২ টা ভালো জিনিস খুজে পাওয়া আসলেই টাফ। হয়তো আমি কিছু কিছু ভালো খুজে পাই নি। তবে এত এডে টিভি যে দেখছি তাও শেষমেষ নিজেকে নিজেই দুইবার স্যালুট দেই। বেঁচে গেছি গত দশ মাস ধরে ঢাকাতে টিভি দেখি না। দেখলে আর এত চার্ম থাকতো না। তবে টিভি জিনিসটাই টাইম কিলিং। না দেখাই ভালো। আমি অবশ্য বাড়ীতে যত গুলা বই পড়ছি সাথে এত টিভি দেখার পরেও। অনেকে টিভি না দেখেও তবু অত কাজ করে নি। আমি আনন্দিত বাড়ীতে থাকার ১৪ দিন দারুন ভাবে উদযাপন করতে পেরে!





ধৈর্য আছে ভাই আপনের!
অকাজের ধৈর্য
ওরে বাবারে তুমিতো দেখি ভালই টিভি দেখেছ। ২৭ রোজার পর থেকে বাসায় দেখেছি একটি টিভি আছে।এই টিভি অদেখা ১৪ আগস্ট পর্যন্ত ছিল।এর পর টিভির দিকে তাকালেই দেখি চলে ডিসকভারি /এনিমেল প্লানেট/ন্যাশনাল জিওগ্রাফি। এ আমার ছেলের প্রিয় চ্যানেল।আর এটা আমার বেড রুমে বিধায় আমারও এই গতি। খাবার ঘরের টিভি চালু হলে বুঝি মেয়েরা টিভি দেখছে। ওদের এক জিনিস ইংলিশ মুভি চ্যানেল।(ছেলের জন্য আমার রুমে টিভি দেখতে পারে না)। তবে খাবার ঘরে ডাইনিং টেবিলে বসে মনিটরে টিভি দেখা পোষায় না। ইচ্ছে করেই দিয়েছি। টিভি দেখতে না করলাম না আবার দেখতেও পারে না বেশিক্ষন।:) আমি আর বাচ্চাদের বাপ বাতিলের খাতায়।
ধন্যবাদ আপু। টিভি না দেখাই ভালো
টিভি দেখিনা, ঈদের সময় দ্যা লাস্ট ঠাকুর দেখতে বসেছিলাম। শুরু হল, হইতে না হইতেই বিজ্ঞাপণ। বিজ্ঞাপণ দেখতে দেখতে ভুইলা গেছিলাম কী দেখতেছি। পরে মনে হইলো, তারও কিছুক্ষন পর সিনেমা শুরু হইলো। ঠিক ঠাক হয়ে বসতে না বসতেই আবার বিজ্ঞাপণ। তারপর শুরু হইলো সংবাদ । সংবাদ এর পর ঈদের ৩য়, ৪র্থ, ৫ম দিন কী হবে তাঁর বিজ্ঞাপণ। তারপর আবার বিজ্ঞাপণ। তারপর শুরু হইলো মুভি । ততক্ষনে দেখার ইচ্ছা গেল গিয়া ।
না দেখাই ভালো আপনারা কত কিছু নিয়ে বিজি~!
কারোই কোন কাজ নেই বলে ঈদ ব্যাপারটা আসলে বোরিং
টিভি দেখি না বহুদিন, দেশেও না বিদেশেও না। বাবা আর মেয়ে এতো দেখে যে টিভি ওপর থেকে রুচি উঠায় ফেলছে এই দুইজন।
তোমারে স্যালুট, দেখছো মনে রাখছো আবার লিখছো ও
টেলিফিলিম দেখে নিবো
অনেক কিছু লিখতে ভুলে গেছি

লেখা আরো ভালো হতে পারতো
সত্যি অসাধারণ হয়েছে। আরেকবার প্রমাণ হলো আমরাও ধৈর্যশীল।
থ্যাঙ্কস এ লট!
দুইটা নাটক খানিকটা ভাল লাগছিল, একটা হল মেয়েটি কথা বলিবে প্রেম করিবে না
আরেকটি নীলাঞ্জনা ধরণের একটা নাম, তাহসান (যে গান গাইতে পারে না সেই ছেলে) আর মম।
হুমম। একটু আগে নিউজ পেলাম একটা মম নাকি এখন শিহাব শাহীনের সাথে লাইন মারতেছে আর আত্মহত্যা করার চেষ্টায় হাসপাতালে এডমিট
শান্ত ভাই তুমি আস্ত একখান পাথথর!!
কেম্নে এত্তো দেখছো? 

এয়ারটেলের টেলিফিল্ম'রে নিয়ে ফেসবুকে যেই ধোলাই ঝড় উঠলো, মজাই লাগছে, আল্লাহ বাচাইছে এই জিনিস দেখা লাগে নাই বলে।
আমিও দেখি নাই তাই লিখিও নাই ঐ আজাইরা জিনিস নিয়ে!
আরো ভালো লেখতে পারতাম মিস করছি অনেক কিছু!
ঈদের সময় একটা নাটক দেখছিলাম কিন্তু নাম খেয়াল করি নাই। খারাপ লাগে নাই নাটকটা। তাহসান আর তিশার প্রথমে অ্যাফেয়ার ছিলো। ওরা ঢাকা ভার্সিটি আর বুয়েট এলাকায় ঘুরে বেড়াইতো সেই সময়। পরে দুই জনের ব্রেক হয়ে গেলো। এরপর তাহসান বিদেশে গেলো উচ্চশিক্ষা (অতো বড় একটা শিক্ষা পেয়েও শখ মিটলো না যাহোক) লাভের আশায়। এইদিকে তিশা জয়েন করলো সুমন পাটোয়ারির অ্যাডফার্মে রিলেশনশিপ ম্যানেজার হিসাবে।
ছয়-পাঁচ বছর পর তাহসান দেশে ফিরে হইলো একটা মাল্টি-কোম্পানির ব্র্যান্ড ম্যানেজার। আর তিশাদের অ্যাডফার্মটা শুরু করলো ওই কোম্পানির কাছ থেকে অ্যাডের কাজ পাওয়ার চেষ্টাচরিত্র। তারপরের কাহিনী তো বুঝতেই পারতেসেন।
নাটকটা ভাল্লাগছিলো ডায়লগগুলার পেছনে স্ক্রীপ্ট-রাইটারের করা মেহনত দেইখা। আজকাল আধুনিক বাংলা নাটকে যেটা খুব কম দেখা যায়।
নাটকটার নাম সম্ভবত মনের মতো মন! দেখছি। ভালোই কিন্তু লিখতে মনে নাই!
এই লেখাটার জন্য শান্তকে এক বস্তা ধইন্যা।
আমাদের বাড়ীতেও সব চ্যানেল আসে না। তার মধ্যে ঈদের ২ দিন ডিশ ছিলো না। তাই অনেক কিছু মিস করলাম। তা না হলেও আমিও তোমার মতো ধৈর্য্য নিয়ে ঈদের অনুষ্ঠান দেখি।
টকশো, গান দেখি নাই একদিনও। নাটক কিছু দেখছি। তবে এবার ভালো কিছু তেমন পাইনি। সত্যি এখন যারা অভিনয় করে এদের লাফালাফিই সার। তারিনদের মতো, বা আগের সবার মতো কিছুই নাই এদের।
তাহসান মমর নাটকটা দেখেছি। মেয়েটি কথা বলিবে প্রেম করিবে না এটাও দেখেছি।
টিভি না দেখাও একটা আশীর্বাদ
তোমার ধর্য্যের প্রশংসা না করে উপায় নাই!
টিভি দেখার সুযোগ হয়না তেমন, বউয়ের সাথে সিরিয়াল গেলা সম্ভব না তবে মাঝে মাঝে মেয়ের সাথে কার্টুন দেখা হয়।
টিভি ফ্রি পেলে খবরটা দেখা হয়।
তাই ভালো
প্রিভিউ অবশ্যই প্রশংসার দাবীদার
মন্তব্য করুন