সময় কেবল, সময় শুধু-সময় নিয়ে যাবে!
টেকনিক্যাল হিসেবে আজ, আমার হিসেবে কাল বাড়ীতে যাচ্ছি ট্রেনে। সকালের ট্রেন। এই ট্রেনটার নামটা অসাধারণ- অগ্নিবীনা। কিন্তু নাম যতো সুন্দর এই ট্রেনের সার্ভিস ততই বাজে। নয়টা চল্লিশে ছাড়ার কথা, কিন্তু ছাড়ে মাঝে মাঝে একটায়। কপাল সুপ্রসন্ন থাকলে সাড়ে দশটা কিংবা এগারোটায় ছাড়বে, ততক্ষণ বলদের মত প্লাটফর্মে বসে বসে পত্রিকা মুখস্থ করতে হবে কিংবা মানুষের দিকে চেয়ে থেকে থেকে উজবুকের মত প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। ভেবেছিলাম পাভেলরা এত দামী ফ্ল্যাট কিনলো কমলাপুরে, এখন গেলে সময় কাটবে আনন্দে আড্ডায়। কিন্তু কাল পাভেলের এক্সাম, তাই ফ্রি নাই। সেই সাত সকালে বাসে ঝুলতে ঝুলতে এসে খালি পেটে আমাকে একা একাই থাকতে হবে। তবে এত কিছুর ভেতরেও বাড়ী যাওয়ার আনন্দের কমতি নাই। আড়াই তিন মাস পর বাড়ীতে যাচ্ছি কিন্তু মনে হচ্ছে অনেক দিন পর বাড়ীতে যাচ্ছি। কারন নভেম্বরে যখন গিয়েছিলাম তখন মামার বিয়ে শাদী নিয়েই হন্তদন্ত, বাড়ী যাওয়ার ফিলই পেলাম না কোনো। আমার আবার ৯-১০ দিন বাড়ীতে বসে ভালো মন্দ খেয়ে, টিভি দেখে বোর না হলে বাড়ী যাওয়ার ফিলিংস পাই না। কী এক সমস্যা!
জন্মদিন চলে গেল এবার আট দশটা দিনের মতই, পরিচিত বন্ধুরা কেউ উইশ করে নাই। সবাই ভুলে গেছে। তাদের ভেতরে তিনজনের আবার মনে পড়ছে একুশ তারিখে এসে। যখন উইশ করলো তখন বললাম সব চেয়ে বাজে জন্মদিন গেল মনে হয় এবার। সাংসারিক ব্যাস্ততাতে আম্মুরও মনে হয় খেয়াল নাই। তাই ফোনে খাইছি কিনা কিংবা বুয়া আসছে কিনা এইসব প্রশ্ন করেও আমাকে উইশ করতে ভুলে গেছে। এর একটা কারন আমি জানি, তা হলো রিয়েল লাইফ ফ্রেন্ডরা আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড না, তাই তাঁরা কোনো হেডলাইন মার্কা নোটিফিকেশন ব্যানা্রে ঝুলে নাই। পুলক, আবীর কিংবা কামরুল পরাগরা কেন মনে রাখতে পারলো না তা অবশ্য বিস্ময়কর! অবশ্য এখন সবারই বয়েস বাড়ছে তাই হয়তো ব্যাস্ততায় আগের মত মাথা কাজ করে না। পুলক অবশ্য ব্যাখ্যা দিলো সারাদিন তাঁর না হওয়া প্রেম নিয়ে এত বেশী চিন্তায় থাকে তাই মনে না করায় দিলে মাথায় আসে না। তবে ভালোই হইছে। শরীয়তে জন্মদিন পালনের কোনো বিধান নাই আর আমারো সবাইরে ট্রিট দেয়ার ইচ্ছা ছিল না। বয়স বাড়তেছে সমানে তাই এখন জন্মদিন যত ভুলে থাকা যায় ততই ভালো। কষ্ট একটাই- আর ছোট মানুষ থাকা গেল না কোনো ভাবেই!
গতবারে অবশ্য জন্মদিন খুব সাড়ম্বরে পালিত হয়েছে। পুলক আগেই সবাইকে জানিয়ে দিয়েছিলো, তখন নান্নুর দোকান। কেক টেক কেটে ও টাউন হলে খাইয়ে দাইয়ে অস্থির অবস্থা। সেই প্রথম সেই শেষ, আমার আর কেক কাটার কোনো খায়েশ নাই কোনো! জন্মদিনের যদিও আদৌ কারো কোনো সুখের খবর থাকে তবে তা আমার বাবা মায়ের প্রাপ্য। উনারা না থাকলে আমি জন্ম নিতাম কিভাবে, আর ছাব্বিশ সাতাশ বছরের তাগরা বেটাই কেমনি হতাম? আমার আম্মু যে কেক বানাতো তা খেতে আমার খুব বোরিং লাগতো! খালি জন্মদিনের সময়ই সেই কেকই খেতাম ভালোবেসে, মিস্টি আনতো ও পছন্দের রান্না হতো তা খেয়ে দেয়ে ঘরোয়া আনন্দের দিন চলে যেত। তারপর বন্ধুরা জন্মদিনে খেতে চাইতো অভাবের পকেটে তখন সিঙ্গারা সমুচা কোক খাইয়েই পার করতাম, তাতেই সবাই খুশী। ভার্সিটিতে থাকতে সাধারনত জন্মদিনের দিন আসতামই না ক্লাসে, বাধ্য হয়ে আসলে কাউকে জানতেই দিতাম না যে আজ আমার পয়দা দিবস! ব্লগে ফেসবুকে এসে দেখলাম জন্মদিনে এলাহী কারবার, জীবনে যাদের সাথে হাই হ্যালো তো দূরে থাক কোনো যোগাযোগই নাই তারাও উইশ করে। আগে সামহ্যোয়ার ইনে খুব চমৎকার ভাবে অনেকেই জন্মদিনের পোষ্ট লেখতো, আমি মুগ্ধ হতাম ভালোবাসার প্রকাশ দেখে। আমিও কম বেশী প্রিয় মানুষদের জন্মদিন নিয়ে পোষ্ট লিখেছি। জানি না তাদের অনুভুতি কি? কিন্তু আমার খুব মজা লাগতো ভালোবাসার এই লৌকিক প্রকাশ দেখে। এখন দেখি আমার জন্মদিনেও সেরকম পোষ্ট আসে, এবার লিখলো তানবীরা আপু। আধো ঘুমে সকালে মোবাইল খুলে ব্লগ দেখতে গিয়ে দেখি আমাকে নিয়ে লেখা। যা এতদিনে স্টার হতে পারলাম!
বাড়ীতে গেলে আমার অনেক জিনিস নিতে হয়। পড়ি না পড়ি বই নিয়ে যাই, এক গাদা কাপড় চোপড়ও। ব্যাগ ছোট, এত সব ঠাসাঠাসির ভিতরে এবার ল্যাপটপও নিয়ে যাবো। জানি না গ্রামীণ নেটের কি অবস্থা? তবুও চেষ্টা করবো পোষ্ট লেখার। টিভি তো দেখাই হবে জোরসে। ভুড়ির ক্রমবর্ধমান বিকাশেও আশা করি আম্মুর অসাধারণ রান্না করা খাবার গিলে চলবো, কারেন্ট তো যাবেই তাই ফেসবুকে তা নিয়ে স্ট্যাটাস দিতেও কসুর হবে না। আশা করছি ফেব্রুয়ারীর ১ কিংবা দুই তারিখেই আসবো। বই মেলা মিস করা যাবে না, বিশদিনের উপরে যেতেই হবে। জানি না দাতা সংস্থার কি অবস্থা? তবে লবিং চালাবো, এভাবেই চলে যাবে সময়- আমার অতি সাধারণ দিনলিপি লিখতে লিখতে!





বাড়িতে সময় ভালো কাটুক। বাড়ী যাওয়ার, মায়ের কাছে থাকার আনন্দই আলাদা।
জন্মদিন যেমনই কাটুক, দোয়া করি সারাজীন যেন সুখে আনন্দে কাটে। শান্ত যত বড়ই হোক এমনই যেন থাকে। 
বড় হয়ে গেলে জন্মদিনগুলা পানসে হয়ে যায়, একটু শুভেচ্ছা পাওয়া এই আর কি! যদিও তাতে খুব মন খারাপ লাগে আমার। কারণ একমাত্র জন্মদিনই আমার কাছে স্পেশাল একটা দিন মনে হয়।
দারুণ কাটছে সময় আপু, আপনিও ঘুরে আসেন বাড়ী থেকে, খালি আরাম আর আরাম!
আল্লাহ তা' আলা আপনার মঙ্গল করুন।
আপনার জন্যেও শুভকামনা!
শুভকামনা থাকলো।
থ্যাঙ্কস ভাইয়া!
শুভকামনা
শুভকামনা টুউ!
কত দিন বাড়ি যাই না
সময় পেলে বেড়িয়ে আসেন!
বেড়াতে খুব ভাল লাগে তাই খুব বেড়াই।
তা আমি জানি:)
দিনগুলো অসাধারন কাটুক, শুভকামনা রইল।
লেখো না কেন?
তোমার জন্যেও শুভকামনা!
কত দিন বাড়ি যাই না
(
মাস ছয়েক পরেই তো আসতেছেন!
মন্তব্য করুন