চোখ
আমাকে একটা চোখ ধার দিবে? আমার চোখ দিয়ে কেবল রক্ত পড়ে। লাল লাল তাজা মানুষের রক্ত। আমার হাত এখন জীর্ণ-শীর্ণ আর বৃদ্ধ। আমি রক্ত মুছতে পারি না। রক্ত গাল বেয়ে বেয়ে পড়ে আমাকে ভিজিয়ে দেয়, আমার গাল,ঠোঁট,গলা এখন রক্তস্নাত। এমনকি তোমার দেয়া শার্টগুলো ভিজে ভিজে যখন শক্ত হয়ে যায়,আমি কেবল ব্যথিত চোখে দেখি তাদের নীরব মৃত্যু। আসলে দেখি না। যখন দেখতে যাই,শক্ত হয়ে যাওয়া শার্ট আবার ভিজতে শুরু করে।
আমাকে নতুন কিছু শার্ট দিবে? তোমার দেয়া শার্ট ছাড়া আমি কিছু পড়তে পারি না। পুরোনো হয়ে যাওয়া শার্টগুলো কত জায়গায় ছিড়ে গেছে,ধুতে ধুতে হয়ে গেছে ঘর মোছার কাপড়ের মতো। একদিন তো ভুল করে কাজের ছেলেটা একটি শার্ট দিয়ে ঘর মুছতে শুরু করল। আমি নীরবে শুধু চেয়ে দেখি, শার্টগুলোর অপমৃত্যু। আসলে চেয়ে দেখতে পারি না। আমার চোখ দিয়ে কেবল রক্ত পড়ে।
মা এসে বলে,কষ্ট হচ্ছে অনেক? আমি বলি,কষ্ট কী মা? দেখি মা’র চোখে জল। আমি জল দেখে জলস্নাত হতেও পারি না। চোখ দিয়ে কেন শুধু রক্ত পড়ে?
আমার মা’র চোখের জল মুছে দিবে? আমি হাত বাড়ানোর শক্তি পাই না। জানো, আমার ছোট ভাইটা কেমন জানি হয়ে যাচ্ছে দিনদিন। রাত করে বাড়ি ফেরে,মা’র সাথে বিশ্রী বিশ্রী কথা বলে। রাগ করে,ধমক দিয়ে তাকে কিছু বলতেও পারি না। আমার রক্ত ভেজা গলা,রক্তাক্ত হতে থাকে। দিবে না,আমাকে একটা চোখ?
তোমার বাপ্পীর কথা মনে আছে? আমার বন্ধু বাপ্পী। চিনতে পেরছ এখন? বাপ্পী এসে বলল, তোমার নাকি বিয়ে হয়েছে। তুমি নাকি এখন অনেক ভালো আছো। হতচ্ছাড়া আমি,এখন হাসতে পারি না। পৃথিবীর শুদ্ধতম মানবীর জন্য হাসতেও পারি না! হাসলে রক্ত ঢুকে যায় মুখের ভেতরে। রক্ত কি খাওয়া যায় বলো? চোখের দাবি নিয়ে এসেছি,ফিরিয়ে দিবে?
আমি প্যারালাইসড হবার পর থেকে জানো অপেক্ষায় থেকেছি, একটিবার তুমি আসবে। এসে আমার হাত ধরবে। ধরে বলবে, ধুর বোকা ভয় পেতে নেই। ভয় পেতে নেই। তুমি আসো নি। ভেবে নিয়েছি এসেছ। ভয় পাই নি। তোমার কথা না শুনে কই যাব আমি? আমার ঘাড়ে কয়টা মাথা? শুধু চোখ দিয়ে রক্ত পড়ে। তোমার দেয়া শার্টগুলো নষ্ট হতে থাকে।কেন যে রক্ত পড়ে। যদি তুমি কোনোদিন ভুল করে এসে বলো,এই উদাসীন ছেলে, দেখি আমার দেয়া জিনিষগুলো কিভাবে রেখেছ? জবাব দেয়ার কিছু থাকবে বলো? তোমার চোখের দিকেও তাকাতে পারব না। চোখ দিয়ে যে কেবল রক্ত পড়ে।
একটা চোখ আমার ভীষণ দরকার,ভীষণ। শার্টগুলো বাচাঁতে হবে,হবেই। এককাজ করলে কেমন হয়? আমার চোখ দু’টো তুলে ফেলি। আমার শার্টগুলোতো বাচঁবে। ধ্যাত হাতগুলো হয়ে যাচ্ছে শক্তিহীন। তুমি আমার চোখ তুলে দিবে?
আমার চোখ দিয়ে শুধু রক্ত পড়ে। কেন যে পড়!
(উৎসর্গঃ প্রিয় গল্পকার আহমাদ মোস্তফা কামাল। যদিও তার অশ্রু ও রক্তপাতের গল্পের সাথে এটির কোনো মিল নেই। থিম পেয়েছিলাম,সেখান থেকেই)





জটিল!
ধন্যবাদ,অনেক!
বাহ! বাহ! বাহ!
এটি যদি শুধুই গল্প হয় তাহলে তো হলোই কিন্তু যদি লেখকের জীবনের ঘটণাজাত- ভাবনাজাত লেখা হয় তবে বলতে হয় দু:খবোধ মানুষকে লেখক হতে সহায়তা করে এতে কোন ভুল নেই।
এটা শুধু গল্প-ই। অনেক ধন্যবাদ,আপু
প্রেজেন্টেশনের স্টাইল ভালা লাগছে।
আপনার মন্তব্য পেয়ে আমারো ভালো লাগল
লেখা হিসাবে পইড়া ভালো লাগছে...কিন্তু ছোটগল্প ট্যাগটা নিয়া একটু অস্বস্তি আছে। বেসিক্যালি গল্পের অনুপস্থিতিটা চোখে লাগছে। যদিও একজন প্যারালাইজ্ড মানুষের সময় ফুরাইয়া আসার ঘটনাটা টের পাওয়া যায় তবু ক্যানো জানি তাতে কোনো গল্প থাকে না। মানুষটার অনুভূতির কথা আছে, অক্ষমতার বর্ণনা আছে কিন্তু এই অক্ষমতা একেবারেই ব্যক্তিগত অনুভূতি ছাড়া আর কোনো গল্পের শরীর নির্মান করে না। চোখ দিয়ে রক্ত পড়ার জন্য সে চোখ দুটোকে খুবলে নিয়ে যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চায় কিন্তু এই দিকে তার হাতদুটিও অসার হয়ে আছে...এই পরিস্থিতিতে কেনো জানি মনে হয় এই লেখার একটা গল্প হয়ে ওঠার সম্ভাবনা ছিলো, কিন্তু সম্ভাবনাটারে লেখক অঙ্কুরেই যেনো থামাইয়া দিলো।
আমি নিজে গল্প লেখারে অনেক কঠিন কাজ মনে করি। একজন সচেতন পাঠক হিসাবে লেখক এই লেখার একমাত্র চরিত্র বা প্রোটাগনিস্টের অক্ষমতার গল্প হয়তো বলতে চাইছেন বইলা অনুমান করি। কিন্তু এই অক্ষমতার রূপ সম্পর্কে আমরা ধারণা পাইলেও অক্ষমতার গল্পটা জানতে পারি না। বা এই অক্ষমতার জন্য সৃষ্ট গল্পটাও এই লেখনীতে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ভূমিকা রাখে না। আমি জানি না সেই গল্প লেখক কিভাবে কইবেন...কিন্তু আমার মনে হয় যেই গল্প এইখানে বলা হয় নাই তারে বিবৃত করা হইলে এই ভালো লেখাটা একটা ছোটগল্প হইয়া উঠবো নিশ্চিত।
আরিশ ময়ূখ রিশাদ, আপনের লেখার ক্ষমতা আছে এই বিশ্বাস জন্মাইছে বইলাই আসলে পোস্টে মন্তব্য লিখতেছি। ছোটগল্পে একটা গল্প থাকলে পরিপূর্ণতা আসে বইলা মনে করি আমি। আপনি আসলে একটা গল্পের প্রেক্ষাপট তৈরী হইতে পারে এমন একটা লেখা নামাইয়া ফেলছেন...এখন গল্পটা নামাইয়া ফেলাটাও আপনের পক্ষে সম্ভব...
ধন্যবাদ।
্ছোট গল্প ট্যাগটা নিয়ে আমিও কিছুটা বিভ্রান্ত ছিলাম। আপনার মন্তব্য পড়ে বুঝলাম গলদটা কোথায় হচ্ছিল। অনেক ধন্যবাদ,এত দারুণ একটা মন্তব্যের জন্য। ভালো থাকুন।
খুব ভালো লাগলো। চমৎকার।
ধন্যবাদ
ভাস্করদা চমৎকার কিছু কথা বলেছেন এই লেখাটির গল্প হয়ে উঠবার জন্য। সেগুলো মাথায় রাখতে পারেন।... তবে গল্পের মধ্যে 'গল্প' না থাকলেও গল্প হয়ে উঠতে পারে, যদিও কাজটি খুব কঠিন। তাছাড়া, আমরা সাধারণত গল্পের মধ্যে একটা আখ্যান খুঁজি, ওটাই গল্পের প্রচলিত রীতি; সেই রীতির বাইরে যেতে চাইলে একটু প্রস্তুতি দরকার। কোনো কোনো গল্পকার কখনো কখনো নিরীক্ষামূলক ভাবে প্রচলিত রীতির বাইরে গেছেন। যেমন আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের 'নিরুদ্দেশ যাত্রা' বা শাহাদুজ্জামানের 'কাগজের এরোপ্লেন' প্রভৃতি গল্পে প্রচলিত অর্থে কোনো 'গল্প' বা আখ্যান নেই; সবই বুঝে নিতে হয়! অনুভূতি নিয়ে খেলা আর কি! আপনিও সেটাই করেছেন, এবং সেই অনুভূতির জগৎ আমাদেরকে স্পর্শও করেছে! এরকম কোনো গল্প তাই হতেই পারে, তবে আরেকটু গুছিয়ে নিয়ে।
ও হ্যাঁ, উৎসর্গের জন্য ধন্যবাদ।
আপনার মন্তব্য আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। আসলে গল্প কিভাবে লিখতে হয়,সেগুলো আমি জানি না। এখনো আমি স্টুডেন্ট,তাই পড়াশোনার ফাঁকে যতটুকু সময় পাই,হই লিখি না হয় পড়ি। আশা করি সময়ের সাথে বুঝতে পারব।
আপনার এবং ভাস্কর দা'র মন্তব্য তাই মাথায় থাকবে পরবর্তীতে।
আবারো অনেক অনেক ধন্যবাদ
ভাল লাগছে লেখাটা
ধন্যবাদ, ভাইয়া
ভাল লেগেছে লেখাটা
আপু, অনেক ধন্যবাদ
মন্তব্য করুন