তরুণীর ডানা বিষয়ক জটিলতা
#
আমার একটা ডানা ছিল। ডানাটি ছেঁড়া ছিল। একদিন উড়তে গিয়ে ঠাস করে পড়ে গিয়ে খেয়াল হলো, ডানাটি ছিড়ে গেছে, ভেঙে গেছে, কেউ এসে ভেঙে দিয়েছে।
আমি খুব শপিং করতাম। এটা-ওটা কিনতাম, শুধু শুধু দরদাম করতাম। কখনো কিছু না কিনে চলে আসতাম। মার্কেটে ডানা পাওয়া যেত না। আমার ডানাটি ভেঙে গিয়েছিল।
প্রায় একা একা হাঁটতাম, একা একা হাঁটি। তাকিয়ে মানুষ দেখি। ফুটপাতে ক্লান্ত পথচারীর পাঁজরভাঙ্গা নিঃশ্বাস দেখি, স্কুল ছাত্রদের চোখভরা আনন্দ দেখি, বেণী দোলানো তরুণীর হেঁটে যাওয়া দেখি। আমার দেখতে ভালো লাগে। কেবল, আমার মতো এক ডানা-ওয়ালা কাউকে দেখি না। আমি একটা ডানা খুঁজছি কিছুদিন ধরে। আমার ডানাটি কেউ এসে ভেঙে গিয়েছিল।
#
ধানমন্ডি থানায় ধুলো পড়া গাড়ির সাঁড়ি। পেরিয়ে এগিয়ে যাই। ঘর্মাক্ত পুলিশের চোখ খেলা করে- আমার মাথা থেকে নিচে। ওড়না পেঁচানো আমি, লোকটি কী দেখতে পাচ্ছে আমার ডানা নেই?
আমার ডানা হারিয়ে গেছে।
রিপোর্ট করে যান।
কয়েকমিনিটেই পের হয়ে আসি লোলুপ পুরুষের দৃষ্টি। আমার ডানাটি ছিড়ে গেছে। পুলিশ কী খুঁজে দেবে?
কয়েকদিন পার হয়ে যায়। পুলিশের কোনো খবর আসে না।
#
পত্রিকায় পরিচিত বন্ধুর কাছে যাই।
সে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, তার দাম্পত্য জীবনের দুর্দশার গল্প করতে লাগল। আর বলিস না, কি যে বিয়ে করলাম। বউ এর দেখাই পাই না। সারাদিন ঝগড়া লেগে আছে।
সব ঠিক হয়ে যাবে- আমি আড়ষ্ট ভঙ্গিতে বলি।
সত্যি ঠিক হয়ে যাবে? আমার হাতে পাই, তার হাতের উত্তাপ।
বন্ধুকে আমার ডানা খোঁজার কথা বলা হয় না, আর। যদিও আমার ইদানীং খুব উড়তে ইচ্ছে করে।
#
আমার বান্ধবীর বড় ভাই ডাক্তার, বিশাল বড় ডাক্তার। সিরিয়াল পাওয়া যায় না। বান্ধবী সিরিয়াল নিয়ে দিয়েছে। ডানা ভেঙে যাওয়ায় আমার কোনো শারীরিক সমস্যা হলো নাকি, সেই ব্যাপারে জানতে আসা।
বাহ! তুমি অনেক সুন্দর হয়ে গেছো।
আমার মুখে লজ্জার হাসি।
নাহ! কিছুই হয়নি তোমার। মন খারাপ করে আমি চলে আসি। সবাই আমাকে সুন্দর বলে, একটি ডানা কেউ খুঁজে দেয় না।
#
আমার খালাতো ভাই কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার।
তাকে গিয়ে বলি, আমার শরীরে ডানার সফট-ওয়্যার ফিট করে দিতে। সে অবাক হয়ে তাকায়। লজ্জা অবনত দৃষ্টি আমার।
সে কিছুক্ষণ হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে, সম্ভব না। সে হাত বুলাচ্ছিল অদৃশ্য কিছু জায়গায়।
ফেরার আগে আমাকে সাইকিয়াট্রিস্টের ঠিকানা দিয়ে সুন্দর করে হেসে বলে, বিদায়।
#
মুষলধারায় বৃষ্টি হচ্ছিল। তানজীর এসে পেছনে দাঁড়িয়ে বলেছিল, এসো তোমার ভেতর বৃষ্টি নামাই।
বৃষ্টি নেমেছিল, অঝোর ধারায় নেমেছিল। বৃষ্টি আর আসেনি, একফোটাও আসেনি।
পড়ে বুঝেছিলাম, এক ডানা দিয়ে ওড়া যায় না। দু’টো ডানা দরকার। সেই যে উড়তে গিয়ে পড়লাম, একটি ডানাও নষ্ট হয়ে গেল।
আমার উড়তে ইচ্ছে করে। আমার ডানা পেতে ইচ্ছে করে। পাখি হতে ইচ্ছে করে। সবুজ গাছে বাসা বানাতে ইচ্ছে করে।
আমি উড়তে পারি না। আমার ডানা ভেঙে গেছে। আমার একটি ডানা ছিল। পাখির দু’টো ডানা থাকে। সবুজ গাছে তাই আমার বাসা নেই।





চরম!
নিয়মিত আপনার লেখা পেয়ে ভালো লাগছে।
ইদানীং বিষণ্ণভাবে বেঁচে আছি। তাই হয়ত লিখছি ছোট ছোট গল্পের মতো কিছু একটা। আপনার লেখা ভালো লাগে। আপনার মন্তব্য পেলে ভালো লাগে।
প্রতিদিন একটা করে লিখে যান। জমতে থাকুক।
বিষন্নতা কাটলে লেখাগুলো পড়তে অনেক ভালো লাগার কথা।
কি যে লেখেন আপনি!
এত পরিণত ভাবনা.....গল্পগুলো অনেক ভাবায়।
ভাবানোর মতো লেখা না। এলোমেলো। অনেক এলোমেলো
এই কাজ আমি ও করি।কাল বিকালেও অনেকক্ষন করেছি।
এই কাজটা মনে হয়, অনেকেই করে
চমৎকার...
মীর এর মত বলতে হয়... নিয়মিত লিখুন... আমরা কিছু পড়ি...
নিয়মিত পারি না, হঠাৎ হঠাৎ লিখি। যখন লিখি এলোমেলো লিখি
ওয়াও... ঘোরগ্রস্ত হয়ে পড়লাম...
আমি আপনার লেখার মুগ্ধ পাঠক
বাহ ! বেশ ভাল লাগলো। আরেকজন ভাল লেখক পেলাম আমি (যে নিজে লিখতে পারিনা, কিন্তু মুই কী হনুরে ভাব আছে)। আরো ভাল লেখা পড়তে চাই...
ভালো লেখক হতে পারা সাধনার ব্যাপার। অনেক দেরি আছে
কৃতজ্ঞতা
ব্যাপক ।
থ্যাঙ্কস
আমার বলার কিছু নেই। আমি মুগ্ধ।
আমিও অনেকদিন পর এসেছি। আপনাকেও অনেকদিন পর দেখলাম তাই। কৃতজ্ঞতা
ভালো লেগেছে
এই কথাটা শুনতে কেন জানি, ভালো লাগে
বাহ! বাহ!
আপনার মন্তব্য প্রার্থিত
পছন্দ হইছে!
ভালো থাকুন,আপু
আমি মুগ্ধ। অসাধারণ
দূর্দান্ত
অসাধারণ একটা লেখার জন্য আপনাকে
থ্যাঙ্কস
মন্তব্য করুন