কে শিকার আর কে শিকারী
সন্ধ্যার কিছুটা আগে অফিস থেকে ফিরছিলাম।আকাশটা কেমন মেঘলা হয়ে আছে।অথচ চারদিকে ভ্যাপসা গরম।হাসঁফাঁস অবস্থা।হঠাৎ দেখি চোখের সামনে মানুষের জটলা।সাথে থাকা অফিসের সহকারী কামাল বলল,আপা একটু দেখে আসি।নিউমার্কেটের দুপাশের রাস্তাগুলোতে কোনো ভদ্র মানুষের দাঁড়ানোর জো নেই।আর সে জায়গায় একটা মেয়ের অবস্থা কেমন হতে পারে সেটা নিশ্চয়ই সহজেই অনুমেয়।সিটি সার্ভিসের ৪নম্বর গাড়ির জন্যই মূলত দাঁড়িয়ে থাকা।কামাল ফিরে আসার আগে কানে এলো তীব্র চিৎকার।দূর থেকেই দেখছি তরুণ বয়সি একটা ছেলেকে মারছে অনেকগুলো মানুষ।কামাল এসে বলল,চোর ধরছে আপা।সবাই মিলে ইচ্ছা মতো পিটাচ্ছে।
কি চুরি করছে?
জুতা।ঐ যে ভ্যানের উপর রেখে জুতা বিক্রি করতেছে ঐ লোকের এক জোড়া জুতা নেয়ার সময় ধরা পড়ছে।প্রতিদিনই নাকি এরকম চুরি হয়।
এ ছেলেই প্রতিদিন চুরি করে?
জানি না।
তাই তো।কামাল জানবে কিভাবে?ও তো আর ঐ জুতা চোরের পার্টনার না।
৪ নম্বরের গাড়ি চলে আসে ততক্ষণে।গাড়িতে গাদাগাদি ভিড়। ভালো লাগে না।
ভাবনায় কেমন করে যেন জুতাচোর ছেলেটা চলে আসে।ভ্যানের উপর বিক্রি করা জুতাগুলোর দাম কত হবে? দু’শ,চার’শ কিংবা বড়জোড় পাঁচ’শ থেকে হাজার।হাজার আবশ্য হবে বলে মনে হয়না।
জীবনের বাঁকগুলো কেমন কঠিন!একজোড়া জুতা চুরি করতে গিয়ে পাকা চোর নয় বলেই হয়তো ধরা পড়েছে।ছেলেটার মলিন বেশই বলে দেয় নেহায়েত অভাবেই বোধহয় চুরি করতে গিয়েছে।অভাবের কারণেই চোর হয়েছে সে।কিন্তু অনেকে যে স্বভাবের কারণে চোর হয় তাদেরকে তো কেউ ধরে না।এমনকি ধরতে চায়ও না।এই যে হলমার্ক সোনালী ব্যাংকের ২৬০০কোটি টাকা আত্মসাৎ করে দিল ,এজন্য কি রাষ্ট্রের আমজনতা গিয়ে হলমার্কের এমডি তানভীর মাহমুদকে চোর চোর বলে পেটাচ্ছে।হলমার্কের এমডি আবার গলা ছেড়ে বলছে যে পরিমাণ টাকা ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছে তার ২০গুণ বেশি সম্পত্তি তার আছে। মৃত্যুর আগে অবশ্যই তিনি ব্যাংকের টাকে পাই পাই করে ফেরত দেবেন।কথায় বলে, চোরের মায়ের বড়গলা।এতই যদি ধোয়া তুলসী পাতা হয়ে থাকেন তবে টাকা আত্মসাতের কথা উঠল কেন?আগে ভাগে ঠিক সময়ে ফেরৎ দিলেই তো লেটা চুকে যেত।
অবশ্য এজন্য হলমার্ককে একা দুষে লাভ নাই। নো ম্যান্স ল্যান্ডে সবার ই অধিকার থাকে।কার আগে কে অধিকার বুঝে নিচ্ছে তাই হলো দেখার বিষয়।সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে তো নো ম্যান্স ল্যান্ডের মতো শুধুই দখলের রাজত্ব।সরকারি ব্যাংক নো ম্যান্স ল্যান্ডের আওতায় পড়ে কিনা আমি জানি না। কারণ ব্যাংক নামক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে যতটুকু জানি তাতে ব্যাংক হচ্ছে জনগনের আমানতকারী প্রতিষ্ঠান।
হলমার্ক এবং সোনালী ব্যাংকের এই যৌথ কেলেংকারীর কারণে ব্যাংকার হিসেবে পরিচিত মহলে বেশ টিপ্পনীর শিকার হচ্ছি।
হলমার্কের কেলেংকারীর কারণে সোনালী ব্যাংকের আভ্যন্তরীন দুর্নীতির যে ভয়াবহ চিত্রটা স্পষ্ট হয়েছে তাতে করে ব্যাংক ব্যবস্থাপনার উপর মানুষের কতখানি আস্থা অবশিষ্ট থাকে তাই এখন দেখবার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর মধ্যে আমাদের অর্থমন্ত্রী কি বলতে চায়,কেন বলতে চায় সেটাই বুঝি না আমি।সোনালী ব্যাংকের দুর্নীতির কারণে দেরীতে হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক যখন সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে দেয়ার জন্য অর্থমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন ,তখন অর্থমন্ত্রী বলছেন এ ব্যাপারে কথা বলার এখতিয়ার বাংলাদেশ ব্যংকের নেই।
বড় চোররা ধরা পড়ে না।তাদের সবাই চিনে, জানে কিন্তু কেউ চোর বলে ডাকার সাহস করে না।বরং দেখলে দাঁড়িয়ে সম্মান জানায়।হুজুর হুজুর করতে করতে জান যায়।৯৬এর শেয়ার বাজার কেলেংকারীর পর সালমান এফ রহমানের কি কিছু হয়েছিল?আচ্ছা ৯৬বাদ,হাল আমলের শেয়ার বাজার ধ্বস নিয়ে প্রতিদিন এত লেখালেখি,এত ক্ষোভ,বিদ্রহ,কই অবস্থার কি কোনো পরিবর্তন হয়েছে?
যদি কোনোদিন হবে এমন একটা ক্ষীণ আশাও দেখতে পেতাম কিছু সময়ের জন্য হলেও ভাল থাকার ভান করতাম।
এমনই অপদার্থ যে ভান করাটাও শিখতে পারলাম না।আর তাইতো নিশ্চিত জুতা চোর জানার পরেও চোরটার জন্য মায়া হয়। পাকা চোরও হতে পারলি না হতভাগা!!!





ঠিক কইছেন।
সহমত।
"চার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি বেশি কিছু নয়"
এরেই কয় জমিদার... দুই চার হাজারে কি যায় আসে? ফকিরা লোকজন নিয়া আর পারা গেল না
সহমত।
এই মালটা যে দেশের কি কাজে লাগতেছে কে জানে। ছাগুটারে কেন অপসারনের কথা কেউ বলে না
খাটিঁ কথা।
দারুন বলেছো।
বড় চোরদের কিছু হয়না, হয়নি, হবেওনা
ঠিক বলেছেন! বড় চোর গুলো দিব্যি ঘুরেও বেড়াচ্ছে, কোন সমস্যা হয়না তাদের!
মন্তব্য করুন