ইউজার লগইন

ভালো বাসার আকাল পড়েছে

একটা ভালো বাসা খূঁজে হয়রান হয়ে যাচ্ছি গত দু’সপ্তাহ ধরে।এদিক হলে ওদিক হয় না।বাসার লোকেশন পছন্দ হলে বাসা পছন্দ হয় না।বাসা পছন্দ হলে গ্যাস সংযোগ থাকে না।গ্যাস সংযোগ থাকলে ভাড়া আকাশ ছোঁয়া।পানির সমস্যার কথা বিবেচনায় আনাই যায় না।কারণ কোনো বাসাতেই ২৪ ঘন্টা পানি দেয়ার ব্যবস্থা নেই।বেশির ভাগ বাসাতেই দু’বেলা পানি।আর যারা আরও আধুনিক তাদের একবেলা পানি।গত দু’সপ্তাহে ১২ টা বাসা দেখলাম।দুইটা মোটামুটি নেয়ার মতো পছন্দ হয়েছে।কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো একটা বাসাও নিতে পারিনি।দখিণের বারান্দা চাইনি।ঘরের দেয়ালে আকাশ রং চাইনি।চাইনি তেমন কোনো চাকচিক্য।তারপরও পাইনি।

দুই বেড রূমের একটা বাসার ভাড়া যখন ১৮ হাজার টাকা বলল,গ্যাস বিল,কারেন্ট বিল ছাড়া-আমার মনে হয়েছে আমার মাথার ভেতরে একটা চক্কর দিয়েছে।কেন যে বাসাটা পছন্দ হলো তা নিয়েই হা হুতাশ করছিলাম কিছুক্ষণ।
আর একটা বাসা-এক বেড,গ্যাস সংযোগ নাই,বারান্দা নাই,পানি একবেলা, ভাড়া ১২হাজার টাকা।এডভ্যান্স ৫০ হাজার টাকা।
বাড়িওয়ালাদের কথা শুনে মনে হচ্ছিল আমরা ইট কংক্রিটের বাসা না,হীরা জহরতের আস্তানায় এসে পড়েছি।টাকা কি গাছে ধরে?পরে অবশ্য মনে হলো টাকা বোধহয় গাছেই ধরে।কারণ আমাদের সামনেই আরেক ভদ্রলোক একই বাসার জন্য কোনো রকম বাক্য ব্যয় ছাড়াই এডভ্যান্স করে গেল।আর তখনই শামীম(আমার বর)বলল,“এরপর থেকে তোমাকে নিয়ে আর বাসা দেখা যাবে না।ভাড়া বাসায় যারা থাকে তাদের এত কিছু দেখতে হয় না।দেখলে তো চোখের সামনে বাসাটা কেমন হাত ছাড়া হয়ে গেল”।
আমি বলি,“এতগুলো টাকা এডভ্যান্স কিভাবে দিতাম আমরা?”
ও বলল,“কি আর করা?ডিপিএসটা ভাঙ্গাতাম”।
আমি ভীষণ হতাশ হয়ে পড়ি।ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে যে সামান্য সঞ্চয়ের চেষ্টা করছি তা যদি বর্তমানের চলতি চাহিদা মেটাতেই শেষ হয়ে যায় তাহলে কীভাবে আগামী দিনের স্বপ্ন দেখব?
শামীম বলে,“বর্তমান থাকলে তবেই তো ভবিষ্যতের স্বপ্ন।তোমার বর্তমানই তো চোখের সামনে হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে”।
অহেতুক তর্কে না গিয়ে চুপ করে থাকাই শ্রেয় মনে করি।
ইদানীং পরিচিত স্বজনদের দেখলেই বলছি আমার জন্য সাধ্যের মধ্যে একটা ভালো বাসা খোঁজেন।আর এই সুযোগে সবাই একই মজা করে যায় ঘুরে ফিরে।“ভালোবাসা কি এত সস্তা যে চাইলেন আর পেয়ে যাবেন।ভালোবাসার আকাল পড়েছে বুঝলেন।ধৈর্য ধরুন।সাধনা করুন”।
তাদের কথায় আমাকে হেসে জবাব দিতে হয়,“ভালো বাসা বাদ দেন,মোটামুটি মানের একটা বাসা হলেও চলবে”।
সত্যিকারের ভালোবাসা খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন একথা আগেই জানতাম।কিন্তু ইট কংক্রিটের একটা ভালো বাসা পাওয়া মনে হচ্ছে তারচেয়েও কঠিন।মিলবে কি একটা ভালো বাসা, ভালোবাসার ঘর বাঁধার মতো?

পোস্টটি ২৩ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মীর's picture


আপনার লেখনীর গুণে এই লেখাকে ডাবল লাইক।
কোন এলাকায় কি ধরনের কতোর মধ্যে বাসা দরকার জানান, দেখি কিছু করা যায় কিনা Smile

ভালো কথা, ফার্স্ট কমেন্ট কিন্তু Big smile

মোহছেনা ঝর্ণা's picture


ভাইজান যথারীতি ধইন্না।
আমি থাকি চট্টগ্রামে।লালখান বাজার অথবা নিউমার্কেট এলাকায় দুই বেড অথবা এক বেডের একটা বাসা হলেই চলবে।

মীর's picture


আহা চিটাগাং

মোহছেনা ঝর্ণা's picture


ভাইজান মাথা ফাটাইয়েন না। Glasses
কারণ বাসা ছাড়াও আর ও অনেক বিষয়ে ভাইজানদের প্রয়োজন হতে পারে। Wink

মোহছেনা ঝর্ণা's picture


মীর ভাই অবশেষে আমরা একটা বাসা খুঁজে পেয়েছি । Big smile
ভাড়াটা সাধ্যের মধ্যে।যদিও এডভান্স দিতে হয়েছে বড় অংকের( হয়তো আমাদের জন্যই অংকটা বড়)।
চট্টগ্রামে আপনাদের সবার দাওয়াত আমাদের ভালোবাসার ছোট্ট ঘরে। Smile

মীর's picture


ওকে বাডি। অবশ্যই যাবো। থ্যাংক য়ু ভেরী মাচ Smile

টুটুল's picture


ভালবাসার ম্যালা দাম Sad

মোহছেনা ঝর্ণা's picture


ঠিক কইছেন ভাইজান Sad

মেসবাহ য়াযাদ's picture


হায়রে ভালোবাসা আর ভালো বাসা ...

১০

শাশ্বত স্বপন's picture


barioalar jonno valo basa konodino hobe na!

১১

তানবীরা's picture


ভাল বাসা কেউ পায় আর কেউবা হারায় Sad(

১২

আরাফাত শান্ত's picture


বেশি ভালোবাসা ভাল নয়
অনেক ভাড়া দিতে হয়
এই লেখাটা দারুন
এ কথা মিথ্যা নয়!

১৩

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


হায় ভাল বাসা..

১৪

গ্রিফিন's picture


ভারা বাসার্ভেজালে
ঘর্বেদেচি পাতালে

১৫

অকিঞ্চনের বৃথা আস্ফালন's picture


ভালবাসাওয়ালারা যা শুরু করছে! সিজনে সিজনে ভাড়া বাড়ায়। মগের মুল্লুক হইছে। মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস এখন একটা থাকার বাসা।

১৬

|জনারণ্যে নিঃসংগ পথিক |'s picture


২৬ বছর কাটিয়ে এলাম যে শহরে, সে শহরের বাসাভাড়া শুনে গলা শুকিয়ে এলো! বলেন কী?
আমরা অবশ্য কলোনি আর কলোনি ( সরকারি আর বেসরকারি ) তে জীবন পার করে দিয়ে এলাম.।।।

১৭

মোহছেনা ঝর্ণা's picture


ঘটনার মুখোমুখি হওয়ার আগ পর্যন্ত বাসা ভাড়ার বর্তমান অবস্থানটা আমিও জানতাম না।
সব কিছুর দামই বাড়ছে।বাসা ভাড়া বাড়বে এটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু তাই বলে বিষয়টা এমন ভয়াবহ পর্যায়ে চলে যাবে চিন্তাও করতে পারিনি। Sad

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মোহছেনা ঝর্ণা's picture

নিজের সম্পর্কে

আমি খুব সাধারণ একজন।জীবন নিয়ে আমার তেমন কোনো অতৃপ্তি নেই।সেদিক দিয়ে সুখী মানুষ আমাকে বলা যায়। জীবনে আমি যা চেয়ছি ,তাই পেয়েছি।তীব্রভাবে চেয়েছিলাম ভালোবাসার মানুষটিকে।সৃষ্টিকর্তা যেদিন সত্যি তাকে শুধুই আমার করে দিয়েছে সেদিন আমি রবীন্দ্রনাথের মতোই মনে মনে বলেছিলাম,আমি পাইলাম,ইহাকে আমি পাইলাম।'বন্ধু ' শব্দটি ভীষণ প্রিয় আমার।আছে কিছু প্রাণের বন্ধুও।বই পড়তে ভালো লাগে।বেড়াতে ভালো লাগে।মাঝে মাঝে মনে হয় যদি ইবনে বতুতার মতো পর্যটক হতে পারতাম! লেখালেখির প্রতি বেশ দুর্বলতা আমার।লিখিও প্রচুর।যা মনে আসে।ওগুলো আদৌ লেখা হয়ে উঠে কি না ,তা আমি জানি না। আমি যখন লিখি নিজেকে আমার মুক্ত মানুষ মনে হয়।আমার মনে হয় আমার একটা উদার আকাশ আছে।লেখালেখিটা হচ্ছে সেই উদার আকাশে নিজের ইচ্ছে মতো ডানা মেলে উড়ে যাওয়া।উড়ে যাওয়া।এবং উড়ে যাওয়া।