ইউজার লগইন

এলোমেলো কথামালা

শেষ হতে চলল রোজা। সামনে ঈদ, শপিং মলগুলোতে কেনাকাটার ধুম লেগে গেছে। সারা বছরের সব কেনাকাটা যেন এই ঈদের সময়টাতে সেরে ফেলবে মানুষ। গিন্নির ঈদের শপিং এর লিস্ট দেখে কিছুটা ভয় পেয়ে হিসেবটা একবার মিলিয়ে নিলাম। ভয়ে ভয়ে বলি কিছুটা কাটছাঁট করা যায়না? প্রয়োজন হলে আমারটা থেকে করতে পারো, গিন্নির উত্তর শুনে দমে যাই। আমাদের মত মধ্যবিত্ত পরিবারের এই এক সমস্যা, নড়াচড়ার স্কোপ নেই। অনেকেই এই সময়টায় তাকিয়ে থাকে, দিতে না পারলে দু পক্ষেরই মন খারাপ! অতএব কি আর করা! বিভিন্ন খাত থেকে টেনেটুনে বাজেট বাড়ানো ছাড়া আর কোন গত্যান্তর নেই।

গিন্নিকে বললাম তোমার বাজেট ফুলফিল করে দিলাম, এবার তুমি একাই শপিংটা সেরে ফেলো। লাভ হলনা, তাকে সঙ্গ দিতে যেতে হল। মহিলাদের সাথে শপিংএ যাওয়াটাও এক বিড়ম্বনা। বিশাল শপিং লিস্ট কিন্তু সহজে যেন কিছুই পছন্দ হয়না। ব্যাপারটা পছন্দের না, আসলে তাদের সেরাটা চাই। এই সেরাটা খুঁজতে গিয়ে সময়ের দিকে কোন খেয়াল থাকে না। এই মার্কেট সেই মার্কেট করে শেষমেশ আড়ংই পছন্দের জায়গা। তবুও খুশি যে শেষমেশ এই পর্বটা শেষ হল!

মেয়ের স্কুল ছুটি তাই শনিবারে আমারও ছুটি। ছুটির দিনটা মনে হয় সবারই বেশ আনন্দেই কাটে, প্রথমত সকাল বেলার আদুরে ঘুমটুকু নস্ট না হওয়ার কারণে আর দ্বিতীয়ত অফিসে যেতে না হওয়ার স্বস্তিতে। অবশ্য দিনটিকে আমার একান্ত নিজের করে পাওয়ার কোন উপায় নেই, অফিস না থাকলেও গিন্নির নানা রিকুইজিশন যেন রেডিই থাকে আর সেই সাথে সবচেয়ে বেশি যার আবদার থাকে সে হল আমার একমাত্র কন্যা- রিয়াসা। ছুটির দিন মানেই তাঁর জন্য আমার সারাদিন বরাদ্ধ। সারাদিন তার চোখের আড়াল হবার কোন উপায় নেই। সকালে নাস্তা করানো, স্কুলে নিয়ে যাওয়া, গোসল করানো, দুপুরের খাবার খাওয়ানো, ঘুম পড়ানো- সবকিছু বাবাকেই করতে হবে। তাঁর মা তো খুশিতে আত্মহারা, মেয়ের কাছ থেকে তার ছুটি!

বৃষ্টি আমার অনেক পছন্দের। অনেকদিন পর সেদিন বৃষ্টিতে ভিজলাম। নিজের ইচ্ছেয় নয়, মেয়েকে খুশি করতে। মেয়ের স্কুল ছুটির পর থেকেই বৃষ্টি! সেই তখন থেকেই বায়না সে বৃষ্টিতে ভিজবে। বাবা, তুমি যে বলেছিলে- আমরা দুজন মিলে বৃষ্টিতে ভিজবো! প্রতিদিন বৃষ্টি হলেই বারান্দায় গিয়ে ভেজার চেষ্টা থামাতেই আমি একদিন বলেছিলাম একদিন তুমি আমি মিলে বৃষ্টিতে ভিজবো। তার মনের মধ্যে গেঁথে ছিল সেই কথাগুলো। সুযোগ পেয়েই পেয়ে বসলো আমাকে। আগত্যা কি আর করা! বাসায় এসে ড্রেস চেঞ্জ করে সোজা ছাদে। বাবা-মেয়ে মিলে কিছুক্ষণ ভিজলাম। অনেকদিন পর মেয়ের আনন্দ দেখে মনে পড়ে গেল আমার ছেলেবেলা। কি দুরন্ত ছিল সেইসব দিনগুলো! আর গ্রামে বৃষ্টি তো অন্যরকম! মনে আছে, বৃষ্টি নামলেই নেমে যেতাম সোজা উঠোনে! বৃষ্টি-কাদা গায়ে মেখে সে যে কি আনন্দ! পুকুরের পানিতে বড় বড় বৃষ্টির ফোঁটা পড়া, ভরা বৃষ্টিতে সাঁতার কাটা, কলা গাছের ভেলা নিয়ে চলে যেতাম বহুদূরে, শাপলা-শালুক তুলে ফিরতাম! সেই আনন্দের দিনগুলো যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছিলো! আমার মেয়ে আজ আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে গেল সেই দিনগুলোতে!

আজ অনেকদিন পর ভায়োলিনটা হাতে নিলাম। নানা ব্যস্ততায় এখন আর প্রাকটিস করা হয়ে ওঠে না, তারপর ঘরে একজন রুগী মানুষ বিছানায় শোয়া আর আমি সঙ্গীত চর্চা করব কেমন যেন অস্বস্তি লাগে। আজ হঠাৎ কি মনে করে যেন ইচ্ছে হল, ধুলো জমা বাক্সটা পরিস্কার করে ভায়োলিনটা বের করে হাতে নিলাম, বো টা চালাতেই দেখি টিউনিং ঠিক নেই, অনেক সময় ব্যয় করে টিউনিং ঠিক করে কিছুক্ষণ সুর তোলার ব্যর্থ চেষ্টা করলাম। তারপর আবার রেখে দিলাম সাধের ভায়োলিন বাক্সবন্দী করে। পেটের ক্ষুধা মেটাতে গিয়ে ইদানিং আর মনের ক্ষুধা আর মেটানো হয়ে ওঠে না। সখ পূরণের জন্য সেই যে শুরু করেছিলেম ভালমত শেখাই হলনা, তারপর অনেকদিনের প্রাক্টিসের অভাবে যেটুকু শিখেছিলাম তাও বোধ হয় ভুলে গেছি। কতদিন ধরে এটা বাজানো হয়না! আফসোস করে লাভ নেই, কতকিছুই তো করা হয়না আমাদের! কতকিছুই তো পাওয়া হয়না, জীবনের এতটা সময় পার করে এসে মনে হয় কিছুই করা হয়নি, কিছুই পাওয়া হয়নি! তবুও জীবন চলছে, চলবে এভাবেই।

নিভৃত স্বপ্নচারী
জুলাই ২৭, ২০১৩

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


এই তো জীবন..

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


হুম, জীবন তো এমনই। Smile

আরাফাত শান্ত's picture


সুন্দর!

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


তোমারে ধইন্ন্যা Big smile

সামছা আকিদা জাহান's picture


কে বলেছে কিছুই পাওয়া হয়নি, খুজে দেখুন এখানেও আছে কত মানিক রতন।

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


হ্যা, রত্ন একটা পেয়েছি। ওকে নিয়েই কাটছে জীবন। ধন্যবাদ Smile

টোকাই's picture


বাবা;র সাথে মেয়ের বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দের অনুভুতির সাথে আর ভাল কিছুর কি তুলনা চলে? শুধু একজন বাবা'ই এই অনুভুতির মুল্য বুঝে। আপনি অনেক ভাগ্যবান। সুখে থাকুন।

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


আমারও মাঝে মাঝে মনে হয় আমি অনেকের চেয়ে সুখী।

মীর's picture


একটি অসামান্য মায়ায় ভরা লেখা।

১০

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


ধন্যবাদ ব্রো Big smile

১১

আহসান হাবীব's picture


অনেক ভাল লাগল পোষ্টটা। কোনটা রেখে কোনটা বলব। পুড়ো টাই আবেগময়, উত্তম। মজা

১২

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


অনেক ধন্যবাদ। আপনার লেখা কই?

১৩

সাঈদ's picture


ভাই , একদিন ভায়োলিন শুনতে চাই ।

১৪

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


প্রাকটিসের অভাবে মরিচা ধরে গেছে, তবুও শুনাব কোন একদিন Big smile

১৫

রায়েহাত শুভ's picture


দারুণ দিনলিপি... আমিও একদিন ভায়োলিন শুনতে চাই...

১৬

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


ধন্যবাদ। একদিন শুনাব Big smile

১৭

টোকাই's picture


ভায়োলিন শুনলে বুকে ব্যথা লাগে Sad

১৮

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


আমার কাছে ভায়োলিনের সুর অসাধারণ লাগে।
এই লেখাটা পড়ে দেখুন, কিছু লিঙ্ক আছে, শুনতে পারেন Smile

১৯

দূরতম গর্জন's picture


আপনি কি ভায়োলিন বাজাতে পারেন?

২০

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


ধন্যবাদ ব্রো, অনেক পিছনে গিয়ে লেখাটা পড়ার জন্য। ভায়োলিন খুব পছন্দের ইন্সট্রুমেন্ট কিন্তু ঠিকমত শেখাই হয়নি! Puzzled

২১

তানবীরা's picture


একটি অসামান্য মায়ায় ভরা লেখা।

২২

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


Smile ধইন্যা পাতা

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture

নিজের সম্পর্কে

খুব সাধারণ মানুষ। ভালবাসি দেশ, দেশের মানুষ। ঘৃণা করি কপটতা, মিথ্যাচার আর অবশ্যই অবশ্যই রাজাকারদের। স্বপ্ন দেখি নতুন দিনের, একটি সন্ত্রাসমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের।