বদলি বিষণ্ণতার শব্দ
*
চোখ দুটোতে কাজলের বদলে বিষণ্ণতা মাখা।
আয়নায় কি দেখেছিলে নিজেকে আজ?
চুলে চিরুনী বোলাবার সময়?
নয়তো পথে আসতে তাকিয়েছিলে কি কোনো চকচকে সারফেসে?
আমি জানি,
যতবারই তুমি নিজের প্রতিচ্ছবি দেখেছিলে,
ততবারই নিজেকে লুকিয়েছিলে নিজের কাছ থেকে।
কেন,
বিষণ্ণতার সাথে এমন লুকোচুরি খেলে যাওয়া?
নিজের সাথে নিজের মিথ্যাচার?
আমি বুঝিনা তোমাকে,
আসলে বুঝতে চাইনা।
শুধু জানি তোমার বিষণ্ণতা আমাকেও স্পর্শ করে।
কুয়াশা যেভাবে আলতো স্পর্শে জড়িয়ে থাকে হলদে খড়ের স্তুপ
ভিজিয়ে দেয় নিজের অশ্রুতে।
তোমার বিষণ্ণতাও আমাকে ঘিরে ফেলে মন খারাপের কুয়াশায়।
মাঠ ফেলে রেখে আসি পিছনে,
বিষণ্ণতা লেপ্টে নিয়ে আমার দু'চোখে।





আরেব্বাহ্! দারুণ তো।
কেমন আছেন মীর? অনেকদিন পর আপনাকে আমার লেখায় দেখলাম
আরে বস্, কি যে কন! মাঝে-মইধ্যে দৌড়ের উপ্রে থাকি। কিন্তু লেখা পড়ি সবই। নিশ্চিত জাইনেন।
সেইবার ইনসেপশনের মধ্যে ফেলায় রাইখা গেসিলেন গা, মনে আছে এখনো।
আপনের খবরাখবর কি?
হা হা হা... ইনসেপশনের পর আরও তিনখানা লেখা আছে
আমার খব্রাখবর এজ ইউজয়ুয়াল। বেঁচে আছি...
বেঁচে থাকাই জিন্দাবাদ।
ভালো থাইকেন। শুভেচ্ছা।
লেখাটারে অনুভূতি হিসাবে পড়তে ভালোই লাগে। কিন্তু এমন কবিতা রায়েহাত শুভ'র মাথা থেইকা বের হইছে ভাবার চাইতে মহাদেব সাহা'র বইয়ে পড়তেছি এমন ভাবনাটাই যথার্থ ঠেকে। একটা লাইন ভালো লাগেতো পরের লাইনটাই মুখ থুবরাইয়া পড়ে ক্লীশে ইমেজ'এর ওজনে।
কবিতা'র উপাদান অবশ্য লেখাটার মধ্যে আছে, শুরুতে বিষন্নতার উপস্থিতি স্বীকৃত হইলেও পরে আবার বিষন্নতার সাথে লুকোচুরি'র কথা বলা হইতেছে। এই দুইয়ের সংঘাতে লেখকের ইনটেনশনটা টের পাইতে সমস্যা হয়...মনে হয় লেখক একা'ই কি তুমি'এর বিষন্নতাটারে ধরতে পারে? নাকি এই বিষন্নতা আসলে চারদিকেই ঘোরেফেরে?
লেখার শেষটাও একেবারে আধুনিক জমানার এক্সপ্রেশন। বিষন্নতারে কি লেখক উপভোগ করে, নাকি বিষন্নতারে বর্জনের কথা বলে সে...এইরম একটা অসমাপ্ত অনুভূতি ধরতে পারা যায় বড়জোর। মডার্ন সময়ে মডার্নিস্ট কবিতা হিসাবে লেখাটারে দূর্বল মনে হইলেও লেখকের অনুভূতিরে পাত্তা দিতে হয় খানিকটা...
কবিতা হিসাবে লেখাটা আমার নিজের কাছেও সেরকম গ্রহণযোগ্য হইয়া ওঠে নাই।
এখন কথা হইতেছে বিষণ্ণতার লুকোচুরি'র ফলে কি পাঠকের ভিতরে একটা স্পেস তৈরী হয় না? নিজের মতো কইরা ভাইবা নেওনের? এইটা কি পাঠকের সাথে ইন্টার্যাকশনের একটা পথ হিসাবে দেখার কোনো স্কোপ থাকে?
পাঠকের সাথে ইন্টার্যাকশন! বিষয়টা অনেক ইন্টারেস্টিং নিঃসন্দেহে। আপনার সাথে আমার কবিতা ভাবনার অমিল আছে সেই অর্থে। আমি কবিতা বিষয়টাতে আগ্রহ পাই কারণ এই কাঠামোয় গদ্যের মতোন সোজাসাপ্টা উপস্থিতি নাই। পাঠক আসলে অনেক। এক এক জন পাঠক এক এক রকমের বোঝাবুঝিতে যাইবো। আপনে কেবল একটা প্যারাডক্স তৈরী করতে পারেন, আমার সমালোচনায় এই প্যারাডক্সটার উল্লেখ করছি। প্যারাডক্স মানেই সংঘাতবর্তী প্রপঞ্চ। জীবনানন্দের একটা লাইন এই ধরনের প্যারাডক্সের উদাহরণ হিসাবে আমার চরম পছন্দ।
এইখানে সরোজিনী শুয়ে আছে, জানি না সে এইখানে শুয়ে আছে কীনা!
লাইনটার রিপ্রোডাকশনে ভুল থাকতে পারে যদিও। কিন্তু মূল প্যারাডক্সটা তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।
এখন আপনি লেইখা ফেলছেন, এইটারে অস্বীকার করনের জায়গা আর নাই। তবে এই রকম সোজাসাপ্টা অনুভূতি প্রকাশের ধরণ সম্পর্কে জানা থাকাটা তো বাস্তবিক দরকার। মডার্নিজমে ব্যক্তিগতভাবে আমার বিদ্বেষ থাকলেও মডার্নিজম সম্পর্কে জানার আগ্রহটাতো আর বিসর্জন দেই নাই...
আমি পাঠকের সাথে কবিতা দিয়ে ইন্টার্যাক্ট করতে চাই। একটা লাইন দিয়া আমি পাঠকের ভিতর একটা ধারণা দিতে চাই, আবার হয়তো অন্য আরেকটা লাইনে পাঠকের ভিতরে প্রথম যেই ধারণা হইছিলো সেইটারে আবার আঘাত করতে চাই। যাতে পাঠকের ভাবার অবকাশ থাকে, কিছু বলবার অবকাশ থাকে।
আমি বুঝি নাই, আপনার কবিতা ভাবনা কি এর ব্যাতিক্রম? আপনি কি কবিতার মাধ্যমে একটা কম্প্যাক্ট স্পেসে পাঠকেরে একটা পুরা গল্প উপহার দিতে চান? যেইটা নিয়া পাঠক চিন্তার ঝামেলায় যাইবো না। আপনার কবিতায় না বলা কিন্তু ধারবাহিকতার ভিতর দিয়া আসা লজিকাল কনক্লুসনটা বের কইরা লইবো।
আপনার আমার কবিতা ভাবনায় অমিলের কথাটা উল্লেখ করলেন বইলাই এই কনফিউশনটা আসছে।
ইন্টার্যাক্ট মানে পাঠকে দ্বৈত সংযোগের বিষয়টারে বেশ অসম্ভব মনে হয় আমার। কবিতার ভাষার মাধ্যমে আমি পাঠকরে হয়তো পরিচিত জায়গার পরিচিত অনেক ঘটনার কথা বলতে যাই...কিন্তু সেইটার বাইনারী অপজিটসে খেলাটা বেশি হয়। ডিফ্যামিলিয়ারাইজ হয় তার পরিচিত উপাদানগুলি। পাঠক তারমতোন কইরা যা ইচ্ছা তা ভাবুক, পাঠকরে হাতে ধইরা কবিতার শরীরে ট্যুর দেওয়ানোতে আমার সমর্থন নাই। আমার কবিতার তুমি যেই কারনে মুখোশ পরে। চোখের রূপকে জীবনেও হয়তো খড়ের গাদা ভালো রূপক না...কিন্তু আমি চোখটারে খড়ের গাদা'ই দেখতে ভালোবাসি। "মতোন" শব্দ আমার কাছে সিমিলি না, ঐটা একটা বাহন হয় মেটাফরের রহস্য আবরনে পৌছানোর প্রয়োজনে।
আমি একটা লেখা লিখনের পরেই মৃত্যুবরণ করতে চাই। পাঠক এরপর নতুন লেখক হিসাবে অ্যাপিয়ার করুক...
চোখের রূপকে পাখির বাসাও হয়তো ভালো না, কিন্তু তারপরেও আমাদের ক্লাসিক বনলতা সেন এর চোখ পাখির বাসার মতোই। সো রূপকের প্লেসমেন্ট নিয়ে কইবার মতো মনেহয় খুব বেশী কথা নাই।
আর "মতোন" শব্দটা সিমিলি হিসাবে না বাহন হিসাবে ব্যবহৃত হইতেছে সেইটা লেখকের নিজস্ব কারিশমা বইলাই মনে করি। আমার ক্ষেত্রে "মতোন" বেশীরভাগ সময়েই সিমিলি হইয়া যায়, যার দরুন আমি সচেতন ভাবেই শব্দটারে এভয়েড করনের চেষ্টা চালাই।
ব্লগ বা ইন্টারনেট মিডিয়ায় আমার সবসময়েই মনে হইছে পাঠকের সাথে দ্বৈত সংযোগের ব্যাপারটা রইয়াই যায়। সেইটা কবিতাই হউক আর গদ্যই হউক। কিন্তু এইখানে আপনি বলতেছেন লেখকের দায়িত্ব লেখা শেষ হওয়া পর্যন্তই (যদিও আপনার এইটা একান্ত ভাবনা) এইখানে আমার ভিউ অন্যরকম (হয়তো আমার লেখায় আরো ম্যাচিউরিটি আসলে ভিউ চেঞ্জ হইবো)...
পাখির নীড়...দেখতে খুব একটা জুইতের না। কিন্তু একজন কবি যখন সেইটা নিয়া রূপক তৈরী করে তারে আপনে দেখাদেখির বিষয় বানাইলেন ভাইবা খুব দুঃখ পাইলাম। পাখির নীড় মানে একটা শান্তির নীড়। পাখির কোমলতা শেষতক তার নীড়ে বা বাসাতেই শান্তিময় থাকে। পাখির বাসার একটা ক্ষণস্থায়িত্ব থাকে...যেই ক্ষণস্থায়িত্ব শান্তির সাথে যোগ হইলে এইটা নারীর চোখের আল্টিমেট রূপ বর্ণনা করে। আমি খুবই হার্ট হইলাম আপনে এমন একটা রূপকরে কেবলই ভিজ্যুয়ালি দেখলেন বইলা। গদ্য হয়তো এমন ভিজ্যুয়াল ইমেইজে দেখে অনেক সময় কিন্তু কবিতা স্পর্শ করে হৃদয়। শিশিরের শব্দের মতোন সন্ধ্যা নামে...এই যে নৈঃশব্দ সেইটারে তো আসলে ভিজ্যুয়ালি বা ইন্দ্রিয় অনুভূতি দিয়া বোঝা যায় না...এইভাবেই কবিতা হয়। আর খড়ের গাদা'র চোখ হইয়া ওঠায় কিন্তু এমন শান্তি নাই। খড়ের গাদা হইলো সংরক্ষিত বস্তুরাজি। যাই হোক কবিতা অনুভূতির দোলাচল দেয়...সেইটারে আক্ষরিক অর্থে বুঝতে গেলে ঝামেলা আছে মনে হয়; এইটাই কেবল বলতে চাইছিলাম।
বস, আপ্নে ভুল ভাবে বুঝলেন। দেখনের হিসাবে আমি কইলাম পাখির বাসা'র তুলনাটা আনি নাই।
খড়ের গাদার হয়তো ঐরকম শান্তি ইত্যাদি নাই, কিন্তু এর ক্ষণস্থায়িত্ব, অগোছালো ভাবে গোছানো ভাবটা কিন্তু বিষণ্ণতার সাথে যায়।
প্রথমে আমি ভাবতেছিলাম ফসল কাটার পর সেই মাঠের তুলনাটা আনবো কি না, কিন্তু পরে ভাইবা দেখলাম খড়ের গাদা দিলে একসাথে ফসল কাটবার পর উজাড় মাঠটার একটা টাচও চইলা আসে। সেজন্যই খড়ের গাদা আনছিলাম।
আপনার এই কবিতা টা বুঝলাম, ভালো ও লাগলো। কিন্তু
এখানে ''লেপ্টে'' শব্দটা পুরো কবিতার সাথে মানাচ্ছে না। লেপ্টানোর বদলে অন্য সুন্দর কোন শব্দ দিলে বেশী ভালো লাগতো।
যখন লিখছিলাম, তখন "লেপ্টে" ছাড়া অন্য কোনো শব্দ ভালো লাগছিলো না। এখন পড়তে পড়তে মনে হচ্ছে "লেপ্টে" বদলে অন্য শব্দ দিলেও খারাপ হবে না।
মেখে ?
মেখে তে আপত্তি নাই।
কিন্তু শুরুর লাইনের একাধিক শব্দরে শেষের লাইনে ব্যবহারে আমার খানিকটা কেমন কেমন লাগে।
লেপ্টে শব্দ নিয়া আমার কোনো সমস্যা হয় নাই...
ভাবের কবিতা
ভাব না গো আপু, ভাব না। ইহা একটা অভাব কিংবা ভাবনার কবিতা
মন্তব্য করুন