কুয়োর ব্যাঙের স্বর্গ ভ্রমন- ২
রিসোর্টটি কাঠের বটে..তবে এতো সুন্দর করে সাজানো গোছানো। ঠিক যেন নীল রঙের মাঝে কাঠ আর সবুজের ছিটেফোঁটার আকিবুকি।
বিকেলে লাঞ্চ (!) শেষে একটু বিশ্রাম..ফের ঘুরে বেড়ানো।এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ানো- পায়ে বালুতে মাখামাখি..জামা-কাপড় যা যেমন ইচ্ছে তেমন। পশ্চিমাদের ভীরে আমরা একটু বাদামী। তবে দ্বীপবাসীর কাছে আমরা সমান। মিনিবারের মতো একটা ছোট্ট খাবারের দোকান কোরাল ভিউ থেকে একটু দূরে। সেখানে মৌজমাস্তিতে মত্ত কয়েকজন।আমরা হেঁটে ফেরার পথে প্রিয় ফলের রস, স্যুভেনির ভরা দোকান আর "ইন্টারনেট হাউজ" নিয়ে কিছু সময় কাটাতে থামলাম।

এর মাঝে আমাদের একজন ড্রাইভার ঠিক হয়েছে যে আমাদের তিন ঘন্টায় দেখাবে দ্বীপের আদ্যপান্ত। ড্রাইভার মানে হলো ওয়াটার ট্যাক্সির মাঝি। আর ওয়াটার ট্যাক্সি হলো ইঞ্জিন চালিত চমৎকার একটি বোট।
এই আমাদের ড্রাইভার সাহেব..
পরদিন সকালে চমৎকার নাস্তা সারতেই না সারতেই ড্রাইভার সাহেব খুঁজে নিল তার যাত্রীদের।রওনা হলাম। আমি মোটামুটি নিশ্চিত যে আমি সমুদ্রে নামছিনা। মাঝ সমুদ্র আর আমি হাতুঁড়ে সাঁতারু। বয়েই গেছে বিদেশ বিভুঁয়ে এসে জীবন দিতে! হাসিব তৈরি। আর ড্রাইভার সাহেব বেজায় বিরক্ত আমি নামবোনা বলে। প্রথম শার্ক বে'তে হাসিব নেমে গেল ভুস করে। তার পিছন পিছন ড্রাইভার সাহেব। আমি উপরে বসে বসে দেখছি। প্রায় আধা ঘন্টা পর যখন হাসিব মাথা তুললো তখন খালি বলতে লাগলো, কোরাল দেখেছি, শার্ক দেখেছি, নিমো ফিশ দেখেছি..গড়গড় করে বলে চলেছে..আমার তখন অন্তর জ্বলে পুড়ে ছাই! তারপরও মৃত্যু ভয় বলে কথা। সেখান থেকে উঠে এরপর গেলাম কোরাল বে। এবার ড্রাইভার আমাকে বললেন, আই ওয়ান্ট ইউ টু সুইম..হাসিব বললো, আর যাই হোক লাইফ জ্যাকেট থাকলে ভয় নেই। এর পরের দৃশ্য ছিল মাঝ সমুদ্রে আমার ঝাপিয়ে পরার দৃশ্য! এবং আগ্রহের সাথে হাত পা ছুড়ে সাঁতার (কতটুকু সাঁতার কে জানে!) কেটে স্নর কেলিং করা। কি যে অদ্ভুদ সুন্দর সেই পৃথিবী! সূর্যের আলোর সাথে পরিবর্তিত হয় সেই পৃথিবীর ছবি। নানা রঙের কোরাল। মাছগুলি ঠিক মুখের সামনে...কয়েকটা কোরালকে দেখে মনে হলো এই বুঝি কাছে এলো.. আসলে না। কোনটা ফুলের মতো..কোনটা ঠিক ক্যাকটাস। কখনো মনে হচ্ছে কারো ড্রয়িংরুম কখনো মনে হচ্ছে কারো সাজানো বাগান। মাছ গুলো এতো স্পষ্ট আর কাছের মনে হচ্ছে বসে আছি অ্যাকুরিয়ামের ভিতর।চোখের নিমেষে কেটে গেল একটি ঘন্টা।..





ভদ্রমহিলা এবং মহাদয়, ইহা নিমো!!!

এরপর বাকী ছিল টারটেল মানে কচ্ছপ দেখা।সেদিন হয়তো কচ্ছপগুলোর অভিমান দিবস ছিল। কিছুতেই কেউ কচ্ছপ দেখতে পাচ্ছিল না। মজার ব্যাপার হলো, চার পাঁচটি নৌকার ড্রাইভার একসাথে কচ্ছপ খুঁজে বেড়াচ্ছিল।নৌকার উপর বসে।উপর থেকেই দিব্যি প্রায় ত্রিশ-চল্লিশ ফুট নীচের কচ্ছপ আছে কি নাই তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল।পানি এতোটাই পরিষ্কার! অবশেষে হার না মানার পাত্র আমাদের ড্রাইভার একটু দূরে এসে খুঁজে পেল কাঙ্খিত কচ্ছপটিকে। বললো লাফ দাও। দিলাম। দেখলাম। কি আদুরে! বাবা! আমরা খুঁজে পেতেই অন্য নৌকা এদিকে আসতে থাকলো।আমাদের ড্রাইভার খুশি যে আমরা দেখতে পেয়েছি..কারণ এতো নৌকা এলে কচ্ছপ আবার সটকে যাবে।হলোও তাই।চোখের নিমিষে পানির নীচের রহস্যে হারিয়ে গেল এতো বড় একটা খোলশ ওয়ালা প্রাণী।আমি যখন আনন্দে আত্মহারা তখন ভালো করে অনুভব করলাম, আমি সমুদ্রের মাঝে ভাসছি..ভয় কেটে গেল।


এরপরে যা দেখলাম আমার ট্যুরের খরচ উশুল হওয়ার জন্য যথেষ্ট। টারটেল বে- একটি ছিমছাম, ছবির মতো, সৃষ্টিকর্তার নিজ হাতে আঁকা সমুদ্র সৈকত। মুগ্ধতায় কিভাবে যেন কেটে গেল বাকি সময় টুকু।
ফিরে দুপুরের মহা ভোজ।তারপর আবার ওয়াটার ট্যাক্সিতে করে দ্বীপভ্রমণ। এবার লং বিচ।এই সৈকতে কোলাহলটা একটু বেশি।সব ব্যগ-প্যাকারস এখানে এসে ঘাটি তৈরি করে। দল বেঁধে বন্ধুরা যেমন আসে, তেমন আসে জুটি বেঁধে তুরন তরুনীরা।সৈকতে বসে চলে আনন্দ বিনোদন।

সেদিন ছিল বোনাস পৃর্নিমা। এমন একটি নিশ্চুপ দ্বীপে জোছনার আলোয় বিশাল সমুদ্রের পানি আছড়ে পরার যে শব্দ তা বোঝানোর মত ভাষা এখনো জানা নেই..। সাথে মাছের বারবিকিউ, টমইয়াম স্যুপ..সামুদ্রিক খাবার..যথার্থ রাতের যথার্থ আয়োজন..





এই বার কন খরচাপাতির হিসাব.।।।
ফালতু জায়গা, এইটা কোনো সুন্দর হইলো? তারচেয়ে আমার ঘরটা কতো সুন্দর। কতো আরামের। স্বর্গের মতো।
বু-উ-উ-উ-উ................ >)
কি কন নজু ভাই??????আংগুর ফল আসলেই টক।আমিও অনেকক্ষন চিন্তা কইরা দেখছি এর চাইতে আমার ৮ ফুট বাই ৮ ফুট রুমডা অনেক বালা.।।
হ... আর আমি তো বুঝিই না, এরা এতো বোকা কেন? এতো কষ্ট কইরা গিয়া দেখার কিছু আছে? এতো টাকা খরচ কইরা?

আমি তো ঘরে বইসা বইসা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতেই দেইখা লই
[আঙ্গুল ফল আসলেই টক]
বাহ্ মুগ্ধ হয়ে দেখলাম। ছবিগুলো ছবির মতো সুন্দর!
নিমো ফিশসহ অন্যান্য সবগুলো ছবিই সুন্দর। একটা ছবি আপনার বলে সন্দেহ করছি। সেটাও ভালো।
আরেকটু বিস্তারিক বর্ণনা তো দিলেন না। দিলে যে কি হইতো।
তবে অদ্ভূত জায়গাটার সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য ধন্যবাদ।
প্রথম পর্বে কিঞ্চিৎ পরিচিতি আছে..ধন্যবাদ..
এ জায়গাটা কি বাই এনি চান্স পাতায়া বীচের আশে পাশে? পানির রঙ, কোরালের রঙ সেরকম লাগলো অনেকটা।
খুব সুন্দর সব ছবি হয়েছে।
আপু এটা কোটা ভারুতে..ধন্যবাদ..
হিভি হৈছে।
ব্যপক
ব্যাপক...কবে যে চাক্রি-বাক্রি করমু আর দুই হাতে ট্যাকা কামামু!
বাহ্ মুগ্ধ হয়ে দেখলাম।
কি হলো আপ্নার কোনো খোঁজ-খবর নাই ক্যান? বুঝলাম, ঘুরাঘুরির মধ্যে মজায়-ই আছেন। তাই বলে পোস্ট-টোস্ট দিবেন্না মাঝে-মইধ্যে? বন্ধু-বান্ধবগো লগে আনন্দ ভাগ না করলে কিন্তুক বাড়ে না, কৈয়া দিলাম।
আয় হায়..আমি বেশ নিয়মিত সবার ব্লগ পড়ি..লিখতে পারিনা..তাই লিখিনা..
কিন্তু আছি সবার সাথে
এহহহ্। লিখি না, দেখা দিই না, খালি সঙ্গে আছি! একটা দাবী করলেন আর হয়ে গেলো?
আর লিখতে পারেন না বলছেন, তাহলে আপনার এই লেখাটা পড়ে আমার চোখে পানি আসছিলো ক্যান?
যাহোক, শুভেচ্ছা নিরন্তর। ভালো থাকুন সবসময়।
এটা পড়ে পানি আসছে চোখে? তাই!!..ক্যান!
আমার খুবই পছন্দের একটা ছবিপোস্ট। মাঝে মাঝে এসে দেখে যাই।
দারুন সুন্দর একটা ছবিপোষ্ট!!!
নিমো'রে দেখে খুবই মজা লাগছে!!...
মন্তব্য করুন