কর্ণ - এক দূর্ভাগা যোদ্ধা অনাকাঙ্খিত সূর্য সন্তানের জন্মোপাখ্যান
যাদব বংশের রাজা সূরার রাজপুরী আলোকিত করেছিল এক অপূর্ব সুন্দর রাজকন্যা পৃথা, কালক্রমে যার রূপ গুণের ক্ষ্যাতি ছড়িয়ে পরে নিজ রাজ্য ছেড়েও আরো অনেক দূরে। রাজা সূরার নিঃসন্তান ভাই কুন্তীভূজার অনুরোধে সূরা তার কন্যা পৃথা কে কুন্তিভূজার কাছে দত্ত্বক দেন। সূরার ঘর আলোকরা পৃথা কুন্তীরূপে কুন্তীভূজার রাজ্য আলোকিত করতে থাকে। সেই সময়ে ধ্যান করতে করতে বিরক্ত হয়েগেলে মুনি-ঋষী রা বিভিন্ন রাজার আতিথ্য গ্রহণ করতেন। কুন্তীভূজার রাজ্যে কিছুদিনের জন্য আতিথ্য গ্রহণ করেন পরাক্রমশালী দুর্বাষামুনি। কুন্তীভুজার রাজপ্রাসাদে থাকাকালীন সময়ে কুন্তির সেবা ও ভক্তিতে সন্তুষ্ট ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা দুর্বাষা মুনি কুন্তিকে একটি মণ্ত্র দান করেন - সেই মণ্ত্র জপ করে কুন্তী যে কোন দেবতা কে স্মরণ করলে সেই দেবতার পুত্রের মা হবে কুন্তী।
রাজকন্যা খুবি কৌতুহল বোধ করতে থাক এমণ্ত্র আদৌ কাজ করে কিনা সেটা জানার জন্য। কৌতুহল আর সন্দেহে অধৈর্য্য রাজকন্যা কুন্তী মণ্ত্রের সত্যতা পরীক্ষা করার জন্য সূর্য্যদেব কেই বেছে নেয়। সেই রৌদ্র ঝলমলে দিনে কুন্তী যখন সূর্য্যদেব কে স্বরণ করে মণ্ত্র পড়ছিলো তখন আকাশ মেঘে ছেয়ে যায়, রাত্রির চেয়ে বেশি অন্ধকার হয়ে যা পৃথিবী আর কুন্তী তার সামনে দেখতে পায় এক দিব্যকান্তি পুরুষ। স্বর্গীয় অতিথির অসাধারণ ঔজ্জ্বল্যে বিভ্রান্ত কুন্তী তার পরিচয় জানতে চাইলে সূর্য্যদেব বলেন রাজকন্যা আমি তোমার ডাকেই এসেছি, তোমার পুত্রদান এর মণ্ত্র আমাকে এখানে আসতে বাধ্য করেছে।
অপ্রস্তুত ও লজ্জিত কুন্তী জবাব দেয় সে একজন অবিবাহিত কুমারী মেয়ে, সে সন্তান ধারণের জন্য প্রস্তুৎ নয় এবং তার সেরকম কোন ইচ্ছাও নেই, সে শুধু মণ্ত্রটা পরীক্ষা করছিলো। সে তার ছেলে মানুষীর জন্য লজ্জিত। সূর্য্যদেব ফিরে যেতে পারে। কিন্তু ইচ্ছে থাকলেও সূর্য্যদেব ফিরে যেতে পারছিলো না কারণ মণ্ত্র উপেক্ষা করার ক্ষমতা তার ছিলো না। সূর্য্যদেব কুন্তি কে নিঃশ্চিৎ করেন পুত্রজন্মানোর পর কুন্তী আবার কুমারী হয়ে যাবে, কোন গ্লানী তাকে স্পর্শ করবে না। কুন্তী সূর্যদেবের কথায় আস্বস্ত হয়।
সেই দিন ই জন্ম নেয় সূর্য্যদেব আর কুন্তী পুত্র কর্ণ, দশমাসের গর্ভধারণ ছাড়াই প্রথম মাতৃত্বের স্বাদ লাভ করে কুমারী কুন্তী, কথিত আছে কর্ণ প্রসব হয় কুন্তীর কানের (কর্ণের) ছিদ্র দিয়ে। কর্ণ জন্মায় সূর্য্যদেবের ঔজ্জ্বল্য নিয়েই এর সাথে সে জন্মেছিলো তার কানে সোনার কুণ্ডলী ও বুকে অভেদ্য বর্ম নিয়ে। ভীত কুন্তী তার ছেলেমানুষীর ফল লুকোনোর জন্য ব্যাস্ত হয়ে পরে। সে অনেক চিন্তা ভাবনা করে কর্ণ কে একটা বাক্সে বন্দী করে গঙ্গানদীতে ভাসিয়ে দেয়। ধৃতরাষ্ট্রের নিঃসন্তান রথ চালক আধিরথ নদীতে বাক্স ভেসে যেতে দেখে কৌতুহুলী হলে কর্ণকে খুজে পায় এবং এই আশ্চর্য্য সুন্দর শিশুকে তাদের নিঃসন্তান জীবনে বিধাতার উপহার হিসেবে গ্রহণ করে।রাজকুমারী কুন্তী ও স্বর্গের দেবতা সূর্যের পুত্র বেড়ে উঠতে থাকে আধিরথ ও রাধার ভালোবাসা ও মমতায়।
(কুন্তীর পরিণত বয়সে কুন্তীভূজা স্বয়ম্বর সভার আয়োজন করেন। সেই সময়ের সব যোগ্য রাজপুত্রই সেই সভায় উপস্থিৎ ছিলো। সবার মধ্যথেকে কুন্তী বরমাল্য দেয় হস্তিনাপুরের রাজা পাণ্ডুর গলায়। কুন্তি ও পান্ডুর সন্তানেরাই পঞ্চ পান্ডব - যুধিষ্টির, ভীম, অর্যুন, নকুল, সহদেব। পাণ্ডব - কৌরব এর যুদ্ধে কৌরব শিবীরের অন্যতম বীর যোদ্ধা ছিলেন কুন্তীপুত্র কর্ণ)





কর্ণ নিয়া অসাধারণ একটা কবিতা আছে। পড়েছেন সেইটা। কামরুল হাসান মঞ্জু ভাই সেটি আবৃত্তি করেছিলেন।
সব্যসাচী দেবের কর্ণ কবিতাটা পারলে পইড়েন। অসাধারণ।
কোন লিংক আছে পিডিএফ বা অডিও?
ধন্যবাদ ধন্যবাদ....অনেক...
আজকেও মোরাল নাই
কর্ণ কুন্তী সংবাদ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কর্ণ কুন্তী সংবাদ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কর্ণঃ
হোথা মাতৃহারা
মা পাইবে চিরদিন! হোথা ধ্রুবতারা
চিররাত্রি রবে জাগি সুন্দর উদার
তোমার নয়নে! দেবী, কহো আরবার,
আমি পুত্র তব!
কুন্তীঃ
পুত্র মোর!
কর্ণঃ
কেন তবে
আমারে ফেলিয়া দিলে দূরে অগৌরবে
কুলশীলমানহীন মাতৃনেত্রহীন
অন্ধ এ অজ্ঞাত বিশ্বে? কেন চিরদিন
ভাসাইয়া দিলে মোরে অবজ্ঞার স্রোতে
কেন দিলে নির্বাসন ভ্রাতৃকুল হতে?
রাখিলে বিচ্ছিন্ন করি অর্জুনে আমারে
তাই শিশুকাল হতে টানিছে দোঁহারে
নিগূঢ় অদৃশ্য পাশ হিংসার আকারে
দুর্নিবার আকর্ষণে। মাতঃ, নিরুত্তর?
লজ্জা তব ভেদ করি অন্ধকার স্তর
পরশ করিছে মোরে সর্বাঙ্গে নীরবে,
মুদিয়া দিতেছে চক্ষু- থাক থাক তবে।
কহিয়ো না কেন তুমি ত্যজিলে আমারে।
বিধির প্রথম দান এ বিশ্বসংসারে
মাতৃস্নেহ, কেন সেই দেবতার ধন
আপন সন্তান হতে করিলে হরণ
সে কথার দিয়ো না উত্তর। কহো মোরে,
আজি কেন ফিরাইতে আসিয়াছ ক্রোড়ে।
উফ... তিনবার মন্তব্য করার পর ভাগে যোগে গেলো। প্রথম দুইবার দেখি খালি কবি আর কবিতার নাম যায়, কবিতা নাই।
অনেক ধন্যবাদ নজরুল ভাই এত কষ্ট করে কবিতাটা দেবার জন্য ভালো থাকবেন
পোরাণিক কাহিনীগুলো এত সুন্দর।
হ্যা
মহাভারতের কাহিনী বরাবর আমার কাছে প্রিয় জিনিস। ইংরেজী উচ্চারনে , বিভিন্ন দেশের নাগরিক দের কে নিয়ে মহাভারতের মঞ্চনাটক দেখছিলাম কয়েক বছর আগে, দারুন লাগছিল।
মজারু সব রূপজাতীয় কথা আর অন্তর্নিহিত জ্ঞা ন
মজারু সব রূপজাতীয় কথা আর অন্তর্নিহিত জ্ঞা ন
এত এত চরিত্র, সব প্যাঁচঘোঁচ পাকায় যায় ...
ধন্যবাদ নাবালক অবিবাহিত মুকুল ও রুমন
আবারো বলছি অপূর্ব।
মোরাল হইলঃ কৌতুহল বেশি থাকা ভালো না, তাতে জীবন জটিল হয় এবং আজাইরা প্যাঁচ লাগে।
হা হা হা ; বল্গাহীন কৌতুহল ই কিন্তু মানুষকে এতদূর এগিয়ে এনেছে
সবাইকে ধন্যবাদ কমেন্টানোর জন্য
সবাই ভালো থাকবেন
আবারো মরালবিহীন পোস্ট
যাউগ্গা আজকের মরাল সাপ্লাই আমিই দেই
মরাল ১- ভাবিয়া করিও কাজ , করিয়া ভাবিওনা (মন্ত্র পইড়া সূর্যদেবতারে ডাইকা আনার পেক্ষিতে)
মরাল ২- বিলাড ইঝ থিকার দেন ওয়াটার, বাট নট অলওয়েঝ ( কর্ণ কৌরবদের পক্ষে লড়ছিল কিনা তাই
)
হা হা হা
মরাল গুলো ভালো হইছে
বিজি নাকি কাঁক্না? দেখিইনা যে আজকাল?
ঐ কাঁকনা, পোষ্ট দেও------
তুমি প্লট দাও; টাইপ কইরা দিলে আরো ভালো হয়
তোমাগো ঐখানে যে গাছে আম ঝুলতে দেখা যায়না, সেই নিয়া হাপিত্যেস পোষ্ট, আমাগো এইখানে এখনতো ধরো কাঁচা, আধাপাকা আর পাকা আমের পাশাপাশি গাছে ঝুলা আমও দেখতে পাইতাছি-------উমম, আমের যে সুন্দর ঘ্রান--
হাপিত্যেশ পোষ্ট, কি পাইলানা বৈদেশ গিয়া--------হা হা হা----যে কোনো আড্ডা পোষ্ট
এইখানে আম ঝুলেনা তোমারে কে কইলো; কাঠাল না ঝুলার জন্য অবশ্য হা পিত্যেশ করা যায়
হ, বিদেশে গাছ থেইকা আম ঝুলে? কৈলেই হৈলো?
হ এইখানে আম গাছে ঝুলে না; ফ্যাক্টরিতে তৈরী হয়; এক কোম্পানি আটি বানায়, এক কোম্পানি চামরা বানায়, এক কোম্পানি ভেতরের শাসালো অংশ বানায় আর অন্য আরেক কোম্পানি সব এসেম্বল করে । খুশি?
ও, ফ্রুটিকারে আম মনে করছো? আহারে, বেচারা, আমের আসল চেহারাই ভুইলা গেছে-----
হ....সব জুসের একরকম সাদ।।বোতল এর গায়ের খোসা পড়ে বুঝতে হইয় কোনটা মাংগো আর কোনটা অরেঞ্জি.।.।।।
কস্কি মমিন
হ কইছে তোমারে
মন্তব্য করুন