ছলকে ওঠা স্মৃতি; তলানিতে পড়া ভাবনা
সাপ ও ব্যাঙ সমাচার:
"ম্যা তেরি দুশমন দুশমন তু মেরা
ম্যা নাগিন তু সাপেরা"
শ্রিদেবীর নাগিন আমার শিশু বয়ষে দেখা হয়নাই। আমার মায়ের আবার হিন্দিতে ব্যাপক এলার্জি ছিলো এখনো আছে কিন্তু একটা বয়সের পর আর বাবা-মা তাদের এলার্জি ছেলেমেয়ের ওপর চাপায় না বা পারে না। কিন্তু নাগিন না দেখলেও শুক্রবারের বই (তখন বাংলা সিনেমারে লোকে কেন জানি বই বলতো)এর আসরের নিয়মিত দর্শক হবার কারনে নাগ-নাগিনীর প্রেম,নাগরাজ,জেলের মেয়ে রোশনী, নাগিন কন্যা, বিষ কন্যার প্রেম ইত্যাদি সিনেমা দেখার কারনে নাগ-নাগিনী সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান ছিলো।মৎস-কন্যা,নেকড়ে মানব, সুপারম্যান, ব্যাটম্যান এরা শিশু মহল সমানে দাপিয়ে বেড়ালেও সম্পূর্ন উপমহাদেশীয় সর্প কন্যা অবহেলিতই রয়ে গেলো; আফসোস। যাই হোক এই বিষ কন্যার প্রেম ছবিটা আমারে খুব চিন্তায় ফেলসিলো কারন নায়িকা ছিলো মাত্র ২ টা আর নাম ২০ কন্যার প্রেম; কেমনে কী? অনেক দিন পরে বুঝছিলাম এই বিষ সেই বিশ না এই বিষ হইলো জেহের।
ক্লাস টেনে আমরা বায়োলোজি টিচারকে ধরলাম ব্যাঙ প্র্যাকটিক্যালি কাটবো, উনি রাজি হলেন ডেট দিলেন সবাইকে জানাতে বললেন আর আমাদের ক্লাস ক্যাপ্টেন ব্যাঙ আনার দায়িত্ব নিলো। নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট ক্লাসে সে জানালো ব্যাঙ পায়নাই, সে খাটের নিচে তোষকের নিচে সব যায়গায় দেখসে ব্যাঙ পায় নাই, ব্যাঙ পায় নাই ভালো কথা কিন্তু তার তোষকের নিচে কেন ব্যাঙ থাকবে এইটা নিয়া তারে কি পরিমান যন্ত্রনা দিসিলাম বুঝতেই পারেন। নিয়মিত সবাই তারে একটা প্রশ্নই করতো ব্যাঙের খবর কি? তার অধরের স্পর্শে ব্যাঙ কি রাজকুমার হইছে না এখনো ব্যাঙ ই আছে.... ব্লা ব্লা ব্লা
এর পরে টিচার ই ব্যাঙ জোগার করছিলেন, প্র্যাকটিক্যাল করসিলাম ব্যাঙের ব্যাবচ্ছেদের পরো হৃৎপিন্ডটা লাফাচ্ছিলো সেই ছোট্ট হৃৎপিন্ড দেখে মনে হচ্ছিলো ব্যাঙের অভিশাপেই বায়োলজিতে ফেল করবো।
বড় হবার সাধ বা বড় সাজার খেলা
"এলো মেলো বাতাসে উড়িয়েছি শাড়ির আঁচল"
ছোট বেলায় নাকি আমি একটা ওড়না নিয়ে টেবিল ফ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে গাইতাম "এলো মেলো বাতাসে উড়িয়েছি শাড়ির আঁচল" -- যদিও গানটা ওড়াবো না আমি নাকি উড়িয়েছি গাইতাম। আন্টি আমাকে অনেক শখ করে "ফুলে ফুলে ঢোলে ঢোলে" শিখিয়েছিলো কিন্তু কেউ গান গাইতে বললেই আমি এলো মেলো বাতাসে গাইতাম।
আমার বাবার শেভ করার সময় আমার ছোটভাই সব সময় বলতো আমাকেও শেভ করায় দাও বাবা কিছুটা ফেনা তার গালে মাখিয়ে দিত, একদিন দেখাগেলো সে বাথরুমে ব্লেড দিয়ে নিজের গাল শেভ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে শেভ করলে তার তারাতারি দারি-গোফ হবে সে তারাতারি বড় হবে বড় হয়ে বাড়ি থেকে পালাবে। কিসের দুঃখে সে বাড়ি থেকে পালাবে কিছুতেই বলে না অনেক মূলামূলির পর যা বললো সেটা হোলো বাবা-মায়ের বিয়ের ছবিতে সে নাই তারা একা একা বিয়ে করসে তারে রাইখা -- তারে কেউ ভালোবাসে না।
গভীর গোপন
"খুঁজে পাওয়া বই জানতে চায় বান্ধবী আছে কে কোথায়......"
তখন ক্লাস ৭/৮। স্কুলে আমাদের ৫ জনের একটা গ্রুপ ছিলো কিন্তু একজন ধরি তার নাম সিঁথি সেই ছিলো নিউক্লিয়াস, আমরা সবাই তাকে আমাদের শ্রেষ্ঠ বন্ধু মনে করতাম কিন্তু সে যে কাকে সবচেয়ে পছন্দ করতো বোঝা যেত না। তো একদিন আমাদের চার জনের একজন বললো সিঁথি তাকে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে কারন সে তাকে একটা গোপন কথা বলসে এবং বলসে আমাদের কাউকে না বলতে কিন্তু সে আমাদের সাথে শেয়ার না করে পারতেসে না বলে সে গোপন কথাটা আমাদের বলে দিলো গোপন কথাটা শুনে আমরা চারজনি থ কারন সে আমাদের তিনজনকেই আলাদা আলাদা ভাবে এই গোপন কথাটা বলে বলসে অন্যদের না বলতে সে শুধু আমাকেই বিশ্বাস করে বলসে। সে দিন এর সেই প্রতারিত(!!) হবার স্মৃতি আজকে নির্মল আনন্দ দেয়।
"একটা গোপন কথা ছিলো বলবার ; বন্ধু সময় হবে কি তোমার......."
আমি তখন ছোট ছিলাম আমার বান্ধবীও বয়সে ছোটই ছিলো কিন্তু কাউকে কাউকে বয়সের চেয়ে বেশি বড় হতে হয়। সে আমায় এক গোপন কথা বলেছিলো; বলেছিলো কাউকে না বলতে । গোপন কথাটা ছিলো সে তার মাকে তার কাকার সাথ শুতে দেখেছে। এই কথার মানে বোঝার বয়স বা জ্ঞান তখনো আমার হয়নি, কে কার সাথে ঘুমুতে পারে বা পারে না (ঘুম ছাড়াও যে শোয়ার অন্য কোন মানে হয় কে জানতো) এটা নিয়ে মাথা ঘামাইনি এবং এ কথাটার কোন মূল্য ছিলো না বলেই অতি বিশ্বস্ততার সাথে সেই গোপন কথাটা গোপন ই রেখেছি আজ ব্লগে লিখছি সেদিন এ কথার মানে জানলে এত বড় কথা গোপন রাখা সম্ভব হোতো না, গোপন কথা গোপন রাখার ব্যাপারে আমার দুর্নাম ছাড়া সুনাম নেই।আমার সেই বান্ধবী খুব অদ্ভুৎ ভাবে তার বাবা-মায়ের ওপর প্রতিশোধ নিয়েছিলো (অন্তত আমার তাই ধারনা), নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ ।একটা দারুন সম্ভাবনাময় মেধাবী মেয়ের নিদারুন অবক্ষয়ের সম্ভব-অসম্ভব কারন নিয়ে স্যার রা প্রায় ই দু:খ করতেন ব্যাচে পড়ানোর সময়।অংক স্যার তার সামর্থ মতন সবি করেছিলেন ফেরাতে........ আমি শুধু জানতাম ক্ষয়ে যাবার কারন, হয়তো তখন আমার কিছু করার ছিলো হয়তো চেষ্টা করতে পারতাম কিছুই করিনি কে জানে হয়তো প্রতিদ্বন্দী কমায় খুশিও হয়েছিলাম, এখন খুব খারাপ লাগে, অপরাধী অপরাধী লাগে.........





শুরুতে বোঝা যায়নি শেষটা এতো কষ্টের হবে...
গোপনীয়তা এক বিরাট বোঝা, সারাজীবন একা একা বহন করা যায় না...
ভালো থেকো কাঁকন
ভালো আছি আপু;
ওকে নিয়ে একটা গল্প লিখা শুরু করেছিলাম এগুতে পারিনি, তাই এখানে দিয়ে দিলাম । আপনিও ভালো থাকবেন
সিনেমাকে এখনে ছবি আর বই বলা হয়.....কেনো ..জানি ..অদ্ভুত ...
গোপপনীয়তা ফাসের অপরাধে আপনি অপরাধী হলেন...
এ হলো কঠিন সত্য।ইহা গেটিসের মত।
কাঠের দোকানে দেখবেন ভাল কাঠটারে ফুটো করে গেটিস দেয় ...
এইসব সত্য মানব জগতে গেটিসের কাজ করে.....তার মানে জগত প্রকৃতি তার কাহিনী সমৃদ্ধতায় টিকে থাকার চেষ্টা করে এইসব ঘটনার গাটিসের উপর ভর করে।
আপনার বান্ধবীর বতমান খুব সুখময় না মনে হচ্ছে।
সেই গোপন আবার ফাঁস করবে না নাকি?
দেখি সেটাও ফাস করে দিতে পারি
ভালো থাকবেন। গোপন কথা শোনা থেকে বিরত থাকবেন
গোপন কথায় কান দেয়া ভালো , মন দেয়া ভালো না ।
ইয়ে কাঁকন, লেখায় না হোক অন্তত সুন্দর শিরোনামটা ঠিকঠাক বানানে আসুক... "পড়া" হবে
করলাম আপু
ছোট ভাইয়ের গল্পে উত্তম ঝাঝা!
ঝাঝাকিল্লাহ খায়রন
হাসির শেষে কি সব সময় কান্না থাকে?
পোস্টের শুরুটায় মজায় ছিলাম... শেষে আইসা কষ্ট পাইলাম
আপনি তো কিছু লিখেন না।
কাহিনী কি?
টাইম পাইনারে বইন

সুময় চ্রম খ্রাপ
ব্যাস্ততা প্রতুদাকে দেয় না পোস্ট লিখার সুযোগ
ঘটনা সইত্য
তুমার ঘটনা কি? শুরু কর আনন্দ দিয়া, শেষ কর বিষাদে ডুবাইয়া?
জীবন তো এইরকমি অবিচ্ছিন্ন সুখ ও না দুঃখ ও না
ছোটভাইয়ের কাহিনী পড়ে হাসতে হাসতে শেষ
।
কিন্তু শেষটা বিষাদের।
(প্যারাগ্রাফগুলা একটু আলাদা আলাদা করে দিলে পড়তে আরাম লাগত।)
প্যারাগ্রাফ গুলো তো আলাদা। আরো বেশি স্পেস দেব দুটো প্যারাগ্রাফের মাঝে?
প্রথম দিকে হাস্যরস নিতে নিতে গল্পে সেঁধে গিয়েছিলাম।
শেষের দিকে এসে মনটা খুবই বিষর্ম করে দিলেন
লেখাটা দারুন লাগলো।
প্রিয় অপশনটা মিস করছি
আপনার মন্তব্য পড়ে ভালো লাগলো খুব; ভালো থাকবেন
মানুষের কত রকমের গোপন কথা যে আছে, বড় হবার পর শেয়ার করার বন্ধু পাওয়া কঠিন! বুড়ো হবার পর তো অসম্ভব
আমার নিজের অবশ্য ধারনা বয়স বারার সাথে সাথে মানুষের গোপন কথা কমে যায়; জীবন এক্টা সিস্টেমে পড়ে যায়; গোপন অগোপন কিছু থাকে না
একদম ঠিক। এমনিতেই আমার গোপন গোপন ভাবটা কম, তার ওপর আজকাল মনে হয় লুকানোর আবার কি আছে? দুর্ঘটনা বা দুঃখজনক ঘটনাতো মানুষের জীবনেই ঘটে থাকে।
সেটাই তবে ছোটদের আবার অনেক গোপন কথা থাকে যেগুলা আবার তারা মোটামোটি সবাইরেই বইলা বলে কাউরে না বলতে
সবার মতই শেষে এসে মনটাই খারাপ করে দিলান।
"সব কথা কইতে পারি না রে, বুকে থাই সাগরের রোলিং লাগে..." শেষটা পড়ে হাত হদাই নাটকের এই সংলাপটা মনে পড়ে গেল।
হাত হদাই নাটক টা দেখিনি তবে ডায়লগ টা ভালো লাগলো; আসলেই সব কথা বলা যায় না বলা হয় সব সময় কত কথা যে হারিয়ে যায়
শুরু থেকে শেষ পযর্ন্ত উপস্থাপনা দারুন..
ধন্যবাদ আপু; আপনার ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো
শেষে আইসা ইরাম মন খারাপ করাই দেওয়ার লিগ্গা মাইনাস।
মাইনাস বাটনটা নাই কেন?
যদি এই পোস্টের কথা মনে থাকে মুক্ত তাহলে এই মন খারাপ করা কাহিনীর জন্যই মনে থাকবে
...প্রথমাংশ পৈড়া অনেক মজার মজার কমেন্ট তৈরী করছিলাম....কিন্তু শেষে আইসা....
ভাবছিলা, এত সিঁথি সিঁথি কেনো....বুঝলাম.....
বাই দ্যা ওয়ে, এলোমেলো বাতাসে উড়িয়েছি শাড়ির আচঁল....?খিক খিক...ছোটোবেলায় অনেক পাকনা ছিলা...
বিলাই পাক্না হওয়ার পর আর জন সমক্ষে এই গান গাওয়ার ইচ্ছা জাগে নাই এইটা থিকা প্রমান হয় ছোটবেলায় ও পাকনা আছিলাম্না
এমনিতেই মন খারাপ , আরো মন খারাপ হয়ে গেসে ...
বিষে বিষক্ষয়ের মতন মন খারাপেমন খারাপে কাটাকাটি করে ফেলেন
মন্তব্য করুন