টাইগার প্রতিদিন শিকার করে না!
আজকাল আর মন ভাল রাখতে পারছি না। নানা কারনে নানা সমস্যায় জীবনটা অনেকটা তেজপাতার মত হয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে একটা অর্থিক সমস্যায় পড়ব বুঝা যাচ্ছে! আয় ব্যয়ের হিসাব মিলছে না মোটেই! কি করব বুঝতে পারছি না। কোন পথে গেলে ‘গুরুধন’ পাব বুঝতে পারছি না। চারপাশের অনেকের অবস্থা দেখে আরো ভয়ে পড়ছি দিনকে দিন! কেমন যেন একটা অদৃশ্য গ্যাড়াকলে পড়ে যাচ্ছে আমাদের সামাজিক অবস্থা। রাষ্ট্রের পরিচালন পদ্বতির উপর আমাদের সাধারন মানুষের কোন হাত না থাকলেও সাধারন মানুষ যাদের পরিচালক হিসাবে নিযুক্ত করে, তাদের আচরন ও কর্ম পদ্বতি সঠিক না হলে সাধারন মানুষকেই তার ভার বহন করতে হয়! আমার মনে হয় আমরা সেই রকম একটা অবস্থার মধ্যে আছি এইসময়ে। যাক যা হবার তা তো হবেই! আমার মত আদার ব্যাপারী জাহাজের খবর নিয়ে কি লাভ! কিন্তু সব আদার ব্যাপারী এক হয়ে গেলে জাহাজ ব্যাপারী যাবে কই! কত কত জাহাজ ব্যাপারী এই দুনিয়ায় আসলো আর গেল! কত আদমের এই দুনিয়া!

অফিসে আসার পথে দেখলাম দেয়ালে দেয়ালে ‘আদমশুমারী ২০১১’ এর পোষ্টার সাটা। সরকার বাহাদুর আগামী ১৫ই মার্চ থেকে ১৯শে মার্চ ২০১১ পর্যন্ত দেশে আদমশুমারী করতে যাচ্ছে। ব্যাপারটা আশাজনক। সরকার বাহাদুর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন (!) নিয়ে ভাববে এবার! গননাকারীকে সঠিক তথ্য প্রদান করে আমাদের সবার উচিত সরকারের কানে/নাকে তেল ঢালা। গননা থেকে যেন কেহ বাদ না পড়ে সে দিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। বাদ পড়েছে এমন দেখলেই সাথে সাথে গননাকারীকে জানাতে হবে! শোনা যায় দেশে আমরা এখন নাকি ১৭ কোটি মানুষ আছি! এবার আমরা সঠিক সংখ্যা জনবো বলে আশা করছি!

আমাদের অফিস থেকে নেমেই একটু এগুলে একটা ত্রিভুজমার্কা রাস্তার মাথা চোখে পড়ে। ত্রিভুজ জায়গাটা একটা ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করে। সারা বছর ফুল লাগিয়ে জায়গাটা দৃষ্টিনন্দন করে রাখে। বাজধানী শোভাবর্ধনে তাদের ভুমিকা খাট করে দেখার উপায় নাই। ঠিক এখানেই একটা ম্যানুয়েল স্কোর বোর্ড লাগিয়েছে ক্রিকেট বোর্ড! আগের দিনে ক্রিকেট মাঠে যেমন থাকত ঠিক সে রকমই! আমি দিবা রাত্রীর ম্যাচের অনেক খেলা এখানে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে দেখেছি, অফিসে নেটে কতক্ষন থাকা যায়। আসলে খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলার স্কোর জানাও বিশাল আনন্দের। আমি একা নই। অনেকেই দেখি আমার মত! লাফালাফি, হাত তালির মত কান্ড কারখানাও আমি এই স্কোর বোর্ডের সামনে করেছি। ভিতরে বসে ওরা ছোট টিভি দেখে দেখে স্কোর বদলাতে থাকে। খেলা শেষ হলে এবং পরদিন পর্যন্ত স্কোর ঝুলে থাকে! আজ বারটায় অফিসে আসার পথেও এমন দেখলাম! গতকাল খেলা দেখতে যেতে হয় নাই!

আমার ছেলে খেলাধুলা তেমন করে না। সাইকেল চালাতে ভালবাসে। আমি ওকে খেলাধুলায় নিয়ে আসতে চাই কারন এতে বাপবেটা একসাথে বসে টিভি দেখতে পারব। খেলাধুলা পশ্চন্দ না করায় একসাথে বসে টিভি দেখা যায় না। রিমোট নিয়েই কার্টুনে চলে যায়! কি আর করা! এবার চান্স পেয়ে ওকে ক্রিকেটে নিয়ে আসলাম। বাসার খোলা জায়গায় আমি বলিং করি আর ছেলে ব্যাটিং করে। ব্যাটিং করে ভাল মজা পাচ্ছে। সাকিব ভক্ত বনে গেছে। বেতন পেলে একটা বাংলাদেশ জার্সি কিনে দিতে হবে! ক্রিকেটের স্কোর/ নিয়ম কানুন ভাল বুঝে উঠতে পারে নাই তবে খেলার মজা বুঝে গিয়েছে! ভাল বাংলাদেশ সাপোর্টার বনে গেছে। গতকাল রাতে বাসায় ফিরে ওকে বলি, কিরে বাবা, বাংলাদেশ হেরে গেল! ও আমাকে অবাক করে বলে, বাবা টাইগার প্রতিদিন শিকার করে না!





ভাতিজা ঠিকই কইছে।।
কাকা নাজমুল ভাই আসার আগে শিরোনামের আর শেষ লাইনের বানানের ভুলটা ঠিক করেন।
হাসেন! আরো হাসেন! গরীবের দুঃখে ধনীরা হাসেই!!
কাকা, নাজমুল ভাইয়ের সাথে আমার একটা অলিখিত চুক্তি হয়েছে। তিনি আমার বানান ভুল ধরবেন না!
(
লাইকড দ্যা স্পিরিট।
গুরু, আজ সারাদিন অফিসে এই একই আলোচনা চলছে।
]
মজবাজারে পাইবেন, গুরু কে তা আপনি জানেনই।
মাসুম ভাই, আপনার ভয়ে জান প্রান অস্থির থাকে! পোষ্টে এত শব্দ থাকতে "গুরুধন" এ চোখ পড়ল! আপনাকে অন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই, খাঁটি জায়গায় হিট করেছেন!
আপনার মন্তব্য আসলেই খুশি হই! মন দোলা খেয়ে যায়!
আহেম আহেম।
মডু মামা বা ডেভু মামা, মগবাজারের ওভারব্রিজ এর একটা ইমো বানাইয়া দেন
মগবাজারের ওভারব্রিজ এর ইমো?
বোন, মগবাজার ওভারব্রিজ প্রেমিক আমি একা নই! আরো অনেকেই আছে! গুরুত্বপুর্ন এ স্থাপনার একটা ইমো জরুরী হয়ে পড়ছে। একটু বলে যদি করে দিতেন তবে খুশি হতাম
ডেভু ব্যাটারে জোড়ছে কানমলা দেয়া লাগবে.।.।.।

উদ্রাজি মামা রক্স ।
আরো সাঈদ ভাই যে! আজকাল এত কম লেখা কেন? নূতন নূতন গবেষণা কই?
সেটাই, দ্যাটস দ্যা স্পিরিট!
ধন্যবাদ নরাধম ভাই। এছাড়া আমাদের আর কি ভাবার আছে। আমরা এখনো প্রেডিক্টেবল দল হতে পারি নাই। আমাদের উপর এখনো নুন্যতম আস্থা রাখা যায় না।
আশা করি আগামীতে ওরা ভাল করে আমাদের মন ভরিয়ে দেবে। অন্তত ভাল খেলে হেরে(!) আমাদের জানিয়ে দেবে, ওরা টাইগার! লড়তে জানে।
টাইগার না এগুলো, বিলাই। বাঘের মাসি
(
না বোন, এমন করে বলা ঠিক না! আমার মনে হয় আগামীতে ওরা আবার জ্বলে উঠেবেই! আমাদের ওদের সাথেই থাকতেই হবে।
আপনার জীবন তো তেজপাতা হয়ে গেল। আবার বললেন আদার ব্যাপারী! এদিকে আবার গুরুধনের সন্ধান! অন্যদিকে দেখি মগবাজারের ওভারব্রীজ! নিজে সব কিছু করায়ত্ব করবার তালে আছেন। আমাকে বানানের ব্যাপারী ভেবে সবাই থাকে ভয়ে ভয়ে, আপনি বেশ আছেন - অলিখিত চুক্তির দোহাই দিয়ে। তবে ভুলে যাবেন না "টাইগার প্রতিদিন শিকার করে না" তাই বলে সবদিন কিন্তু অভূক্ত থাকেনা।
পোস্ট মজারু! ব্যাপক আরাম পেলাম পড়ে।
হুদা ভাই, গত কিছু দিন দেখলাম না। বেড়াতে গিয়েছিলেন
শুশুরবাড়ী!
আপনাদের সংগেই আছি। এই বুড়াকালে কেউ আবার শ্বশুর বাড়ি যায় নাকি?

কয়টা বই পড়লাম ক'দিনে, এই আর কি!
শেষ শিকারের প্রতীক্ষায়, টাইগাররা
আরে ভাবী নাকি! সালাম নিবেন। গরিবের বাড়িতে হাতির পা। কেমন আছেন?
লিটু আজকাল আর লিখছে না কেন। আমরা বন্ধুতে রেজিঃ করে ফেলুন। ফেইসবুকের চেয়ে বাংলা ব্লগ গুলো মজাদার। মজার মজার কিচ্ছা কাহিনী লিখতে থাকুন।
মন্তব্য করুন